Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাশিয়ার ক্রুড তেল ভারতে স্বাভাবিকভাবে আসছে — “প্রেসার সত্ত্বেও প্রবাহ রুদ্ধ হয়নি

রাশিয়ার তেল প্রবাহ অব্যাহত — ভারতের দিকে জ্বালানির পথ এখনো খোলা নয়াদিল্লি, নভেম্বর ২০২৫: রাশিয়া থেকে ভারতের ক্রুড তেল আমদানি এখনো অব্যাহত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতের তেলবাহী জাহাজগুলো রাশিয়ান বন্দর থেকে স্বাভাবিকভাবে যাত্রা করছে। ভারতের সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত রাশিয়ান তেলের সরবরাহে কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা যায়নি। বরং নভেম্বর মাসের শুরুতেই বেশ কয়েকটি ট্যাংকার রাশিয়ার বন্দর থেকে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেল ভারতের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎসে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় বাজার সীমিত হলেও, ভারত সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে তুলনামূলকভাবে কম দামে ক্রুড আমদানি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন "সেকেন্ডারি স্যাংশন" বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— তেল ক্রয় আন্তর্জাতিক মূল্যসীমা মেনে করা হচ্ছে, তাই এতে কোনো আইনি বাধা নেই। রাশিয়ান তেল কেনার মাধ্যমে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো যেমন উৎপাদন খরচ কম রাখছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকের জ্বালানি খরচও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ডিয়ান অয়েল, BPCL, HPCL — এই চারটি সংস্থা এখনো রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল কিনছে। বর্তমানে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া থেকে আসে। তেল পরিবহনে কোনও বড় বাধা না থাকলেও, ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর হলে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তবুও, নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট— দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে। সস্তা তেলের উৎস হারানো মানে জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, যা সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই ভারত আপাতত রাশিয়ার সঙ্গে এই জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রাখতেই আগ্রহী। রাজনৈতিকভাবে ভারত এখন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথে হাঁটছে— একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব। সবশেষে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন— “যতদিন পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল পাওয়া যাবে, ভারত সেই সুযোগ নেবে।” কারণ রাশিয়ান তেল আজ ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার ক্রুড তেল ভারতের পথে অবাধ — নিষেধাজ্ঞার ছায়াতেও জ্বালানি প্রবাহ অব্যাহত

নয়াদিল্লি, নভেম্বর ২০২৫:
আন্তর্জাতিক বাজারে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিষেধাজ্ঞার ঘূর্ণাবর্তের মধ্যেও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি এখনো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরও ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রাশিয়ান ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ করেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে আমদানির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় সামান্য বেড়েও গেছে।

ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে রাশিয়া থেকে আগত তেল পরিবহন কোনো বড় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে না। রাশিয়ার একাধিক বন্দর থেকে তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে ভারতমুখী যাত্রায় রয়েছে। ফলে নভেম্বর মাসেও ভারতীয় বাজারে রাশিয়ান ক্রুডের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।


 পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ভারতের অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে। বিশেষত মার্কিন প্রশাসন “সেকেন্ডারি স্যাংশন” বা secondary sanctions-এর হুমকি দিয়েছে—যাতে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়ে। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত সেই চাপে মাথা নত করেনি।

নয়াদিল্লি বারবার পরিষ্কার করে বলেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। দৈনিক প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির মধ্যে এখন প্রায় ৩০–৩৫% আসে রাশিয়া থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেলের দামে যে বড় ধরনের ছাড় পাওয়া যায়, তা ভারতের আমদানি ব্যয় কমাতে বিশাল ভূমিকা রাখে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের অবস্থান “সতর্ক কৌশলগত ভারসাম্য”র ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিমা চাপের মধ্যেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ভারত একদিকে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হিসেবেও দেখা দিতে চায় না।


 রিফাইনারি ও বাজার পরিস্থিতি

ভারতের প্রধান রিফাইনারিগুলি—রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)—সবাইই রাশিয়ান ক্রুড আমদানিতে অংশ নিচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত তেল আমদানিতে কোনো জাহাজ আটকে পড়েনি বা পেমেন্টে বাধা সৃষ্টি হয়নি।

রাশিয়া থেকে ক্রুড তেল আমদানি মূলত দু’টি পথে হয়—
1️⃣ সরাসরি রাশিয়ান বন্দরে লোড করা জাহাজে, যা ভারতীয় উপকূলে আসে।
2️⃣ তৃতীয় দেশের মাধ্যমে, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার কোম্পানির মাধ্যমে “re-labelled” তেল হিসেবে আসে।

এই দ্বিতীয় পদ্ধতি এখন রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের বড় অংশ দখল করে আছে। ফলে, এমনকি যদি সরাসরি রাশিয়ান রপ্তানিতে কিছু চাপ পড়ে, মধ্যস্থ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে।


 মার্কিন চাপ ও কূটনৈতিক ভারসাম্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব সংস্থা রাশিয়ান তেল বা তেলবাহী জাহাজের বীমা, অর্থায়ন বা পরিবহনে সাহায্য করবে, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হতে পারে। কিন্তু ভারতের অবস্থান দৃঢ়—তারা এখনো আন্তর্জাতিক আইন ভাঙছে না, কারণ রাশিয়ান তেল ক্রয় “মূল্যসীমা নির্ধারণ” (price cap)-এর মধ্যে থেকেই হচ্ছে।

news image
আরও খবর

ভারত সরকার মনে করে, এই কেনাকাটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ, এবং এর ফলে ভারতীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের পেট্রোল-ডিজেলের দাম যাতে স্থিতিশীল থাকে, তার জন্য রাশিয়ান তেলের ছাড় অমূল্য।

কূটনৈতিক মহল বলছে, ভারত এখনো মার্কিন ও রাশিয়ার মধ্যে “স্ট্র্যাটেজিক ব্যালান্স” বজায় রাখছে। একদিকে ভারত আমেরিকার সঙ্গে কোয়াড মিত্রতার সদস্য, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্ক বহুবর্ষজীবী ও ঐতিহাসিক।


 ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

তেল ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কিছু মধ্যস্থ সংস্থা রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে অংশ নিতে ভয় পেতে পারে। ফলে জাহাজ চলাচল বা পেমেন্ট সিস্টেমে কিছু দেরি হতে পারে।

তবে ভারত ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির পথে এগোচ্ছে। তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আমদানির সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ছাড়ে তেল পাওয়ার মতো লাভ অন্য কোথাও মেলে না।

অর্থনীতিবিদ সুব্রত সেনগুপ্তের ভাষায়,

“রাশিয়ান তেল ভারতের জন্য শুধু জ্বালানি নয়, এটি এক অর্থনৈতিক ঢাল। এর মাধ্যমে ভারত জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে।”


 সার্বিক বিশ্লেষণ

বর্তমান অবস্থা বলছে — রাশিয়ার ক্রুড তেলের প্রবাহ ভারতের দিকে এখনো সম্পূর্ণ সক্রিয়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেলবাহী ট্যাংকার গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে, আর ভারতীয় রিফাইনারিগুলো নিয়মিতভাবে উৎপাদন বজায় রাখছে।

তবে এই নির্ভরতা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি রাশিয়া আরও গভীর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ে, বা আন্তর্জাতিক জাহাজ বীমা ও ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থেকে বাদ পড়ে, তখন ভারতের আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ভারতের অবস্থান “অর্থনৈতিক বাস্তববাদ”-এর ওপর দাঁড়িয়ে। দেশ নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে।

Preview image