Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অতীতের শিক্ষা নিয়ে কর্ণ জোহরের জীবনে বড় পরিবর্তন যমজ সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা

যমজ সন্তান যশ এবং রুহি নিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকেন কর্ণ জোহর। তাঁর শৈশবের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। প্রযোজক নিজেই শেয়ার করলেন তাঁর সন্তানদের প্রতি অটুট ভালোবাসা এবং তাদের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা।

কর্ণ জোহর, বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযোজকদের মধ্যে একজন, সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাঁর জীবনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর যমজ সন্তান যশ এবং রুহি, যাদের নিয়ে তিনি সব সময় চিন্তিত থাকেন। কর্ণের শৈশবের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে স্কুলজীবনে তাঁর দেহের বাড়তি ওজন নিয়ে কটাক্ষ, আজও তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি আজ নিজের সন্তানদের ওজন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন।

কর্ণের জীবনের এই দুশ্চিন্তার মূল কারণ, তাঁর শৈশবকাল। তিনি নিজে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় শরীরের অতিরিক্ত ওজনের জন্য তাঁকে নানা রকম কটাক্ষ শুনতে হয়েছে, যা আজও তাঁর মনে এক ধরনের ভীতি তৈরি করে। সেই ভীতির প্রভাব থেকেই তিনি তাঁর সন্তানদের ওজন এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তিত। কর্ণ বলেন, ‘‘শৈশব নিয়ে আমি এতটাই ভয় পাই যে, এখন আমার সন্তানদের ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়।’’ তাঁর অতীতের অভিজ্ঞতা তাঁকে সচেতন করে তোলে, যাতে তাঁর সন্তানরা যেন সেই পরিস্থিতিতে না পড়েন।

অন্যদিকে, কর্ণ তাঁর সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চার প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তিনি তাঁর সন্তানদের মিষ্টি খাবার এবং চিনি খাওয়ার প্রতি যথেষ্ট সতর্ক। তাঁর নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এখন তাঁর সন্তানদের খাবারের ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নশীল। ‘‘আমি ওদের সব সময়ে বলি, ‘চিনি খেয়ো না’। আমি সব সময়েই চাই, ওরা যাতে চিনি থেকে দূরে থাকে।’’ কর্ণের এই সতর্কতা তার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্ণ জানিয়েছেন যে, শৈশবে তার শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাঁকে ফুটবল খেলতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চান, তাঁর সন্তানরা যেন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে। ‘‘এখন যদি দেখি তারা ফুটবল ক্লাস কামাই করছে, তা হলে আমার খুব রাগ হয়।’’ এই কথাগুলি থেকে স্পষ্ট, কর্ণ যতটা শৈশব নিয়ে চিন্তা করেন, ততটাই তাঁর সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে নজর রাখেন। তিনি চান, তাঁর সন্তানরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকুক এবং খেলাধুলায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করুক, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করবে।

এছাড়া, কর্ণ তাঁর সন্তানের স্ক্রিন টাইমও নিয়ন্ত্রণ করেন। আজকের ডিজিটাল যুগে যেখানে অনেক শিশুরা মোবাইল ফোন এবং ট্যাবলেটের প্রতি অত্যধিক আগ্রহী, সেখানে কর্ণ তাঁর সন্তানদের সঙ্গেও সেই নিয়ম মেনে চলতে চেষ্টা করেন। তিনি জানেন, আজকাল সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু তিনি চান, তাঁর সন্তানরা যেন তা কম ব্যবহার করে। ‘‘ওদের যাতে এখন স্কুলে কোনও কাটাক্ষ না শুনতে হয়, তার জন্য আমি আমার পোশাক নির্বাচনও বদলে ফেলেছি। কারণ আমি ওদের লজ্জার কারণ হতে চাই না।’’ কর্ণের এই চিন্তা তাঁর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, কারণ তিনি জানেন যে একজন বাবা হিসেবে তাঁর পোশাক বা আচরণও সন্তানদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কর্ণ জোহরের সন্তানদের প্রতি তাঁর অটুট ভালোবাসা এবং তাদের প্রতি তিনি যে দায়িত্বশীল, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে যশ এবং রুহির জন্ম হয়েছিল। সেদিন থেকেই কর্ণের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তিনি জানেন, একজন বাবা হিসেবে তাঁর সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, কর্ণ জানেন যে, তাঁর সন্তানদের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের নানা প্রভাব তাদের উপর পড়বে। একারণে, তিনি চান যেন তার সন্তানরা কখনও কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়। তাঁর পোশাক নির্বাচন এবং আচরণে এমন কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করছেন যাতে তাঁর সন্তানরা সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার না হয়।

এছাড়া, কর্ণের এই অভিভাবকত্বের দিকে মনোযোগ শুধু তার সন্তানদের শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, তাদের মনোভাব এবং ভবিষ্যত উন্নয়নেও প্রভাব ফেলে। তিনি চান, তাঁর সন্তানরা যেন খোলামেলা, স্বাধীনচেতা এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হয়।

কর্ণ জোহর, বলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজক এবং পরিচালক, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে কখনোই ভয় পান না। তাঁর জীবন, পেশাগত এবং ব্যক্তিগত, সব দিক থেকেই প্রভাবিত। তবে, কর্ণের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর সন্তান যশ এবং রুহি, যারা সারোগেসির মাধ্যমে ২০১৭ সালে পৃথিবীতে এসেছে। কর্ণ জানেন যে, একজন বাবা হিসেবে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন তা শুধুমাত্র তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং সমাজের দৃষ্টিতে তাদের পরিচিতি এবং সম্মানও তৈরি করবে।

কর্ণের অভিভাবকত্বের দৃষ্টিকোণ খুবই প্রশংসনীয়। তিনি মনে করেন, একজন ভালো বাবা হতে হলে শিশুর শৈশবকাল থেকেই তাদের প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া উচিত। তার সন্তানদের জন্য তিনি সবকিছু পরিকল্পনা করে রেখেছেন, যাতে তারা একটি সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। বিশেষ করে, কর্ণ তাঁর সন্তানের শারীরিক স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। তিনি নিজেই শৈশবে অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন, যা তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চান তাঁর সন্তানরা যেন শৈশবকালেও সঠিকভাবে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। তিনি সব সময়েই চেষ্টায় থাকেন যাতে তার সন্তানরা মিষ্টি ও চিনি খাওয়া থেকে দূরে থাকে এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে।

news image
আরও খবর

কর্ণ তাঁর সন্তানদের ওজন এবং শারীরিক চর্চা নিয়ে যে চিন্তা প্রকাশ করেছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন বাবা হিসেবে নয়, একজন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকেও দায়িত্বশীল। শৈশবের অভিজ্ঞতা তাকে সচেতন করে তোলে যে, ভাল অভিভাবক হতে গেলে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক ও সামাজিক উন্নয়নও প্রয়োজন। তিনি চান, তাঁর সন্তানরা যেন নিজের পরিচিতি তৈরি করতে পারে, যাতে তারা কখনও সমাজে কোনো ধরনের কটাক্ষ বা বৈষম্যের শিকার না হয়। কর্ণ নিজে যখন স্কুলে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন, তখন তিনি বুঝেছেন, শিশুর আত্মবিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

কর্ণ তাঁর সন্তানের প্রতি যেমন দায়িত্বশীল, তেমনি সমাজে তাঁর নিজস্ব ভূমিকা নিয়েও সচেতন। তিনি নিজের আচরণ এবং কাজের মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে চান। তিনি মনে করেন, সন্তানেরা যে শিক্ষা পাবে, তা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তিনি যতটা সম্ভব তাদের ভালো অভিভাবক হতে চান, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারে।

কর্ণ জোহরের জীবন, বিশেষত তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বাবার দায়িত্ব পালন, তাঁকে শুধুমাত্র একজন সফল প্রযোজক বা পরিচালক হিসেবে নয়, বরং একজন আদর্শ বাবা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার প্রভাব, যেগুলো তিনি তার সন্তানদের জন্য সতর্কতার সাথে ব্যবহার করেন, তা তাঁকে একজন দায়বদ্ধ বাবা হিসেবে পরিচিত করেছে। কর্ণ জানেন, তাঁর সন্তানের ভবিষ্যত কেবলমাত্র তার পেশাগত সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের শৈশব, সামাজিক শিক্ষা এবং মানসিক বিকাশের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তাই তিনি সবসময় চেষ্টা করেন যে, তাঁর সন্তানেরা যেন সুখী এবং সুস্থ থাকে।

কর্ণ তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা প্রায়শই উল্লেখ করেন। ছোটবেলায় অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক কটাক্ষের কারণে তিনি কষ্ট পেতেন। সেই সময়ের অস্বস্তি আজও তাঁর মনে স্পষ্ট। কর্ণ এই অভিজ্ঞতাকে নিজের দায়িত্বশীলতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি চান, তাঁর সন্তানেরা যেন সেই একই সমস্যার মুখোমুখি না হয়। এই কারণে তিনি যশ এবং রুহির স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন। তিনি তাঁদের মিষ্টি এবং চিনি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন, যেন তারা শারীরিকভাবে সুস্থ এবং সক্রিয় থাকে।

তবে কর্ণের দায়িত্বশীলতা শুধু শারীরিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি মনোযোগ দেন তাঁদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশেও। কর্ণ তাঁর সন্তানদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে চান যেখানে তারা আত্মবিশ্বাসী এবং লজ্জিত না হয়ে বড় হতে পারে। তিনি চান, সমাজে যখন তার সন্তানদের পরিচিতি তৈরি হবে, তারা যেন নির্ভয়ে এবং গর্বিতভাবে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারে। কর্ণের মতে, শৈশবের স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা তার সন্তানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে কোনো ধরণের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

কর্ণ তাঁর সন্তানের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য সবসময় তাদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে চান। তাঁর এই সচেতনতা এবং সঠিক অভিভাবকত্বের চিন্তা তাকে শুধুমাত্র একজন আদর্শ বাবা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করে না, বরং তিনি সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেন। তাঁর কাছে সন্তানের মানসিক শান্তি, শারীরিক সুস্থতা এবং সামাজিক সম্মান সবই অগ্রাধিকার পায়।

কর্ণ জোহর শুধু তাঁর সন্তানদের জন্যই ভালো বাবা নয়, বরং তিনি নিজের জীবন ও কাজের মাধ্যমে সকল বাবা-মায়েদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানেন, একজন বাবা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শুধু তাঁর সন্তানের ভবিষ্যত উন্নতি এবং সুখেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের ভবিষ্যতকে সঠিকভাবে গড়ে তোলারও একটি অংশ। তাঁর সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা তাকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, এবং তাঁর প্রভাব কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যেই নয়, পুরো সমাজের ওপর পড়বে।

 

 

Preview image