ভারতের অর্থনীতিতে নতুন গতি — ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিজনেস প্রতিবেদনে উদঘাটিত প্রবণতা ভারতের অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তনের পথে। The Indian Express-এর “Business” বিভাগে প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলি দেখাচ্ছে যে দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও আর্থিক ক্ষেত্র এখন এক নতুন রূপান্তরের যুগে প্রবেশ করেছে। প্রথমত, বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও সক্রিয় হয়েছে। SEBI (Securities and Exchange Board of India) বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কেট ম্যানিপুলেশনের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন সংস্থা Jane Street-কে পুনরায় ট্রেডের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা বাজারে আস্থা ফিরিয়েছে। দ্বিতীয়ত, রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতে ভারত বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে। কৃষিপণ্য ও ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিতে নতুন বাধা তৈরি হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নতুন Free Trade Agreement (FTA) আলোচনায় আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব চুক্তি সফল হয়, তবে ভারতের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে। তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) প্রবাহ সামান্য কমলেও সরকার আশাবাদী। Make in India, PLI Scheme এবং Digital India Mission-এর মতো কর্মসূচি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো GST 2.0 — নতুন কর কাঠামো যা ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এর পাশাপাশি, ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিনিয়োগ ভারতের শিল্প উন্নয়নে গতি দিচ্ছে। SBI, HDFC ও ICICI-এর মতো ব্যাংক নতুন ডিজিটাল লোন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, আর শক্তি খাতে Green Hydrogen Mission বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিজনেস বিভাগের রিপোর্ট দেখাচ্ছে যে ভারতের অর্থনীতি এখন এক “ব্যালান্সড গ্রোথ মডেল”-এর পথে এগোচ্ছে—যেখানে নীতি সংস্কার, শিল্প উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।
ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে এক উত্তরণের সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে সরকার নতুন নীতি ও কর কাঠামো প্রণয়ন করছে, অন্যদিকে কর্পোরেট সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। The Indian Express-এর “Business” বিভাগে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিতে ভারতের বাণিজ্য, শিল্প, অর্থনীতি ও বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ভারতের শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI (Securities and Exchange Board of India) সম্প্রতি একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কেট ম্যানিপুলেশনের অভিযোগে নিষিদ্ধ মার্কিন সংস্থা Jane Street-কে পুনরায় ট্রেডিং শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাজারে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে—যে, নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ন্যায্য ব্যবসার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে SEBI একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে, যারা কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর প্রভাবিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ ভারতের শেয়ারবাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা (Market Transparency) বাড়াবে।
The Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের রপ্তানি খাত বিশেষ করে কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও ফার্মাসিউটিক্যালস ক্ষেত্রে কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান Trade Dialogue-এ কৃষি রপ্তানির উপর নীতিগত মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ভারত এখন এমন এক অবস্থানে, যেখানে দেশীয় কৃষক ও আন্তর্জাতিক বাজার—দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন Free Trade Agreement (FTA) আলোচনাও চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই চুক্তিগুলি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতীয় পণ্যের জন্য বিশ্ববাজারে আরও সুযোগ তৈরি হবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি যত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ (Foreign Direct Investment বা FDI) ততটা বাড়ছে না।
বিশেষ করে টেক ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক মনোভাব নিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে —
1️⃣ নীতি অনিশ্চয়তা (Policy Uncertainty) এবং
2️⃣ বিশ্বব্যাপী সুদের হারের ওঠানামা।
তবে সরকারের মতে, FDI প্রবাহ এখনও স্থিতিশীল এবং আগামী প্রান্তিকে তা বাড়বে। বিশেষ করে, Make in India, PLI Scheme এবং Digital India Mission এই প্রবণতাকে গতি দিতে পারে।
ভারতের কর কাঠামোতে নতুন যুগের সূচনা করেছে GST 2.0। The Indian Express-এর বিশ্লেষণ বলছে, GST 2.0 মূলত কর পরিশোধ ও ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট প্রক্রিয়াকে সহজ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি।
এটি ব্যবসায়ীদের জন্য আরও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করেছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে রাজস্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াও সহজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, GST 2.0 ভারতের Formal Economy-কে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষত MSME (Micro, Small & Medium Enterprises) খাতে।
অর্থনীতিবিদ আর্থি মেহতা বলেন,
“GST 2.0 কেবল কর সংস্কার নয়, এটি এক অর্থনৈতিক রিসেট। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে।”
ব্যাংকিং খাতেও দেখা যাচ্ছে বড়সড় রূপান্তর। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যাংকই এখন ডিজিটাল পরিষেবা ও ফিনটেক সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহকসেবা বাড়াচ্ছে।
SBI, HDFC, এবং ICICI Bank একাধিক নতুন ডিজিটাল লোন ও ফাস্ট-পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।
এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion) আরও দ্রুত ঘটছে।
শক্তি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির (Renewable Energy) গুরুত্ব বাড়ছে।
সরকার Green Hydrogen Mission এবং Solar Park Initiative-এর মাধ্যমে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ আহ্বান করছে।
Adani, Tata Power ও Reliance New Energy-এর মতো বড় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এতে যুক্ত হয়েছে।
এর পাশাপাশি, শিল্পক্ষেত্রে Production Linked Incentive (PLI) স্কিম বড় ভূমিকা রাখছে।