লখনউয়ের পিচ সাধারণত স্পিনারদের সহায়ক হলেও শিশিরের প্রভাব ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। সেই কারণেই টস হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর ভারতের প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের চতুর্থ ম্যাচে নামছে ভারত। বুধবার লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সিরিজ়ে বর্তমানে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ফলে এই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ় নিশ্চিত হয়ে যাবে সূর্যকুমার যাদবদের। এমন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে যাবেন না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ। বরং জয়ী একাদশে আস্থা রেখে সিরিজ় জয়ের দিকেই নজর থাকবে ভারতীয় শিবিরের।
এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু সিরিজ় জয়ের দিক থেকেই নয়, বরং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দলের কম্বিনেশন ও মানসিক প্রস্তুতির নিরিখেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতীয় দলে যে স্পষ্ট কৌশলগত ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তা হল স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ। সেই নীতিতেই লখনউয়ের ম্যাচে নামতে চাইবে ভারত।
চতুর্থ ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। অলরাউন্ডার অক্ষর পটেল অসুস্থতার কারণে আগেই সিরিজ় থেকে ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতি স্পিন অলরাউন্ডার বিভাগে কিছুটা ঘাটতি তৈরি করেছে। অন্য দিকে, পারিবারিক সমস্যার কারণে বুধবারও খেলতে পারবেন না জসপ্রীত বুমরাহ। বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ পেসারের না থাকা নিঃসন্দেহে ভারতের বোলিং আক্রমণে প্রভাব ফেলবে। তবে এখনও পর্যন্ত যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের উপর ভরসা রেখেই এগোতে চান গম্ভীর।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। প্রথম তিন ম্যাচেই দুই দল একে অপরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভারত যেখানে নিজেদের ব্যাটিং গভীরতা ও স্পিন শক্তির উপর ভরসা রেখেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সেখানে আগ্রাসী ব্যাটিং এবং গতির মিশেলে পাল্টা আঘাত হেনেছে। ফলে সিরিজ়ের এই পর্যায়ে এসে মানসিক চাপ দুই শিবিরেই থাকবে।
এই ম্যাচে আলাদা করে নজর থাকবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটিং ফর্মের দিকে। বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাঁর ব্যাট থেকে প্রত্যাশিত বড় ইনিংস আসেনি। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট প্রকাশ্যে উদ্বেগের কথা স্বীকার না করলেও, ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে অধিনায়কের ফর্ম নিয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সময় দ্রুত কমে আসছে, ফলে সূর্যকুমারের ফর্মে ফেরা এখন অত্যন্ত জরুরি।
লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামের পিচ সাধারণত স্পিন বোলারদের সহায়ক বলে পরিচিত। ২২ গজে বল ধীরে আসে, ফলে ব্যাটারদের জন্য শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলা সহজ নয়। এখানে ইনিংস গড়তে সময় নেওয়া জরুরি, পাশাপাশি মাঝের ওভারে সঠিক স্ট্রাইক রোটেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের উইকেটে স্পিনাররা বড় ভূমিকা নিতে পারেন, বিশেষ করে যদি তাঁরা সঠিক লাইন ও লেন্থ বজায় রাখতে পারেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে শিশিরের প্রভাব। সন্ধ্যার পর মাঠে শিশির পড়লে বোলারদের জন্য বল গ্রিপ করা কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। তাই এই ম্যাচে টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যে দল টস জিতবে, তারা পরিস্থিতি বিচার করে বোলিং বা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে। লখনউয়ের কন্ডিশন অনুযায়ী দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে।
এই সব দিক বিবেচনা করেই ভারতের প্রথম একাদশে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে একটি কৌশলগত বদল দেখা যেতে পারে। এক জন সিমার অলরাউন্ডারের জায়গায় স্পিন অলরাউন্ডার খেলানো হতে পারে, যাতে পিচের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা ও শুভমন গিলই শুরু করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগ্রাসী অভিষেক এবং টেকনিক্যালি শক্তিশালী গিল—এই জুটি পাওয়ারপ্লেতে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
চতুর্থ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও তা পরিকল্পনায় বড় বদল আনছে না। অসুস্থতার কারণে আগেই সিরিজ় থেকে ছিটকে গিয়েছেন অক্ষর পটেল। অন্য দিকে, বুধবারও পারিবারিক সমস্যার কারণে খেলতে পারবেন না জসপ্রীত বুমরাহ। বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ পেসারের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভারতের বোলিং আক্রমণে প্রভাব ফেলবে, তবে এখনও পর্যন্ত যাঁরা খেলছেন, তাঁদের উপর ভরসা রেখেই এগোতে চান গম্ভীর।
পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ়ের প্রতিটি ম্যাচই আলাদা আলাদা গল্প তৈরি করেছে। প্রথম তিন ম্যাচে দুই দলই একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতা ভালোভাবে বুঝে ফেলেছে। ভারত যেখানে নিজেদের ব্যাটিং গভীরতা এবং স্পিন আক্রমণের জোর দেখিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সেখানে মাঝেমধ্যে আগ্রাসী ব্যাটিং এবং গতির উপর ভর করে ম্যাচে ফিরেছে।
এই মুহূর্তে ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল কখনওই হাল ছেড়ে দেয় না। এডেন মার্করামের নেতৃত্বে প্রোটিয়ারা লখনউয়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া থাকবে। সিরিজ় বাঁচাতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফলে মানসিক চাপ থাকবে দুই শিবিরেই, তবে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা ভারতের পক্ষে কাজ করতে পারে।
গৌতম গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দল গঠনে একটি স্পষ্ট দর্শন দেখা যাচ্ছে—স্থিতিশীলতা ও নির্দিষ্ট ভূমিকার উপর জোর। সিরিজ়ের এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি জয়ী একাদশ ভাঙতে চাইবেন না বলেই ধারণা। বিশেষ করে যখন সিরিজ় জয়ের সুযোগ সামনে, তখন অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদি বুধবার ভারত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারে, তখন পঞ্চম ম্যাচে কিছু নিয়মিত ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সেই ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে গম্ভীরের লক্ষ্য একটাই—সিরিজ় নিশ্চিত করা।
যদিও ভারতীয় শিবির প্রকাশ্যে বিষয়টি মানতে চাইছে না, তবে ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার হলেও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাঁর ব্যাট থেকে প্রত্যাশিত বড় ইনিংস আসেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অধিনায়কের ফর্মে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত দিক থেকে নয়, গোটা দলের আত্মবিশ্বাসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচেও তাই সূর্যকুমারের ব্যাটিংয়ের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। মিডল অর্ডারে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন, সেটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামের ২২ গজ সাধারণত স্পিন বোলারদের সাহায্য করে। উইকেট তুলনামূলক ধীরগতির, বল ব্যাটে এসে সহজে ওঠে না। ফলে স্ট্রোক খেলতে হলে ব্যাটারদের ধৈর্য ও সঠিক শট নির্বাচন প্রয়োজন। এই মাঠে বড় স্কোর করতে হলে মাঝের ওভারে রান তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ।
এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শিশিরের সমস্যা। সন্ধ্যার পর মাঠে শিশির পড়লে বোলারদের জন্য বল গ্রিপ করা কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়। তাই টস এই ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যে দল টস জিতবে, তারা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে—প্রথমে ব্যাটিং না বোলিং।
সবকিছু মিলিয়ে ভারতের প্রথম একাদশে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে লখনউয়ের পিচের কথা মাথায় রেখে একটি কৌশলগত বদল হতে পারে। এক জন সিমার অলরাউন্ডার কমিয়ে স্পিন অলরাউন্ডার খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে অভিষেক শর্মা ও শুভমন গিলকে। আগ্রাসী শুরু দেওয়ার ক্ষমতা দু’জনেরই রয়েছে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারেন ফর্মে থাকা তিলক বর্মা, যিনি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। চার নম্বরে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাইবেন।
পাঁচ নম্বরে ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলানোর সম্ভাবনা প্রবল। লখনউয়ের উইকেটে তাঁর অফ-স্পিন কার্যকর হতে পারে, পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করতে পারেন। এই কারণে শিবম দুবের পরিবর্তে তাঁকে খেলানো হতে পারে। ছ’নম্বরে সম্ভবত হার্দিক পাণ্ড্য থাকবেন, যিনি ব্যাট ও বল—দু’দিক থেকেই ম্যাচের রাশ ধরতে পারেন।
উইকেটরক্ষক হিসেবে জিতেশ শর্মার খেলা প্রায় নিশ্চিত। সাত নম্বরে ব্যাট করবেন তিনি। তাঁর দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা শেষের দিকে কাজে লাগতে পারে।
বোলিং বিভাগে আট থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত থাকবেন মূলত বোলাররাই। হর্ষিত রানা পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলাবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন অর্শদীপ সিংহ, যিনি ডেথ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। স্পিন বিভাগে বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব লখনউয়ের উইকেটে বড় অস্ত্র হতে পারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের কাছেই লখনউয়ের মাঠ পরিচিত। আইপিএল খেলার সুবাদে এই মাঠে তাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এডেন মার্করাম, হেনরিখ ক্লাসেন বা ডেভিড মিলারের মতো ব্যাটাররা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন।
প্রোটিয়ারা জানে, এই ম্যাচ হারলে সিরিজ় শেষ। ফলে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই তারা মাঠে নামবে। ভারতের বোলারদের জন্য তাই পরীক্ষা সহজ হবে না। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকানো এবং উইকেট নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে লখনউয়ের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুধু আর একটি ম্যাচ নয়, সিরিজ়ের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই। ভারত চাইবে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্ত মাথায় খেলতে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা মরিয়া হয়ে উঠবে সমতা ফেরাতে। পিচ, শিশির, টস এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে এই ম্যাচে উত্তেজনার কোনও ঘাটতি থাকবে না।