টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার। মোট ১৫৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রোহিত। সেই বিশ্বরেকর্ড ভেঙে গেল।রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙবার জন্যই। ভেঙে গেল রোহিত শর্মার একটি বিশ্বরেকর্ডও। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দেশের কউ নন, রোহিতের রেকর্ড ভাঙলেন আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার।
আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে রোহিতের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরকের্ড ভেঙে দিলেন। সংযুক্ত আরব আমিশাহির বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সঙ্গে সঙ্গে রোহিতের রেকর্ড ভাঙেন স্টার্লিং। তিনি ১৬০টি ম্যাচ খেললেন। রোহিতের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের সংখ্যা ১৫৯।
বৃহস্পতিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল। দুই ম্যাচের এই সিরিজ়ে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করছেন স্টার্লিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটিই তাদের শেষ প্রস্তুতি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে।
২০০৯ সালে অভিষেক হওয়া স্টার্লিং মোট ১৬০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছেন। ৪৫তম ম্যাচে তিনি জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এ বারের বিশ্বকাপ স্টার্লিংয়ের নবম। এর আগে তিনি ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলেননি। এ বারের বিশ্বকাপ খেললে তিনি রোহিত এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসাবে ন’টি বিশ্বকাপ খেলার নজির গড়বেন।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে স্টার্লিং এখন চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৬০ ম্যাচে ২৬.৫৩ গড়ে তিনি ৩৮৭৪ রান করেছেন, যার মধ্যে একটি শতরান রয়েছে। রানের দিক থেকে কেবল বাবর আজ়ম, রোহিত এবং বিরাট কোহলি তাঁর উপরে রয়েছেন।
আইরিশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হল বৃহস্পতিবার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড নিজের দখলে নিলেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক পল স্টার্লিং। এতদিন এই নজির ছিল ভারতের প্রাক্তন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রোহিত শর্মার দখলে। রোহিত খেলেছেন ১৫৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক, আর স্টার্লিং সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে পৌঁছে গেলেন ১৬০ ম্যাচে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সূচনা নয়, বরং বিশ্বক্রিকেটে এক নিরলস যোদ্ধার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক হয়ে রইল। কারণ, পল স্টার্লিংয়ের এই রেকর্ড শুধু ম্যাচসংখ্যার হিসেব নয়—এটি ধারাবাহিকতা, ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা এবং একটি উদীয়মান ক্রিকেট জাতিকে টানা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার গল্প।
দুই ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটি আয়ারল্যান্ডের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাদের শেষ আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ। আয়ারল্যান্ড এবারও নিজেদের জায়গা পাকা করতে চায়, আর সেই লক্ষ্যে অভিজ্ঞ স্টার্লিংয়ের নেতৃত্বই তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে সিরিজটি তুলনায় ছোট হলেও আয়ারল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট এটিকে কার্যত ‘ড্রেস রিহার্সাল’ হিসেবে দেখছে। ব্যাটিং অর্ডার, বোলিং কম্বিনেশন এবং ফিল্ডিং সেটআপ—সব কিছুর চূড়ান্ত পরীক্ষাই হচ্ছে এই সিরিজে।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল পল স্টার্লিংয়ের। তখন আয়ারল্যান্ড এখনও পূর্ণ সদস্য নয়, বিশ্বক্রিকেটে তাদের পরিচিতি সীমিত। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত, প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট মানচিত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম স্টার্লিং।
১৬০টি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি তিনি জাতীয় দলের হয়ে ৪৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, ব্যাটার হিসেবেও তিনি দলের মেরুদণ্ড। ওপেনার হিসেবে ইনিংস শুরু করা থেকে শুরু করে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব—সবই সামলেছেন তিনি।
রোহিত শর্মা ভারতীয় ক্রিকেটের এক আইকন। তাঁর রেকর্ড ভাঙা মানেই যে কোনও ক্রিকেটারের জন্য বিরাট সম্মান। তবে স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি কোনও ‘বিগ থ্রি’ দেশের হয়ে খেলেন না। আয়ারল্যান্ডের মতো তুলনামূলক ছোট ক্রিকেট শক্তি হয়েও এত দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে টিকিয়ে রাখা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
“রোহিতের মতো ক্রিকেটারের রেকর্ড ভাঙা মানে স্টার্লিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং ফিটনেসের এক অসাধারণ উদাহরণ। বিশেষ করে সহযোগী দেশ থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের জন্য এটি অনুপ্রেরণা।”
এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্টার্লিংয়ের নবম। এর আগে তিনি খেলেছেন ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে। ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলেননি, কারণ তখন তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেননি।
ন’টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজির গড়লে তিনি রোহিত শর্মা এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করবেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এত দীর্ঘ উপস্থিতি যে কোনও ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই বিরল।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে স্টার্লিং এখন চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৬০ ম্যাচে ২৬.৫৩ গড়ে তিনি করেছেন ৩৮৭৪ রান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে একটি শতরান এবং অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস। রানের নিরিখে তাঁর উপরে রয়েছেন কেবল বাবর আজ়ম, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি—যাঁরা তিনজনই আধুনিক ক্রিকেটের সুপারস্টার।
এই তালিকায় স্টার্লিংয়ের নাম থাকা নিজেই এক বিরাট কৃতিত্ব। কারণ, তিনি নিয়মিত শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হন না ঠিকই, কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে সীমিত সুযোগে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ তাঁর ক্ষেত্রে অনেক বেশি।
স্টার্লিংয়ের নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দল ধীরে ধীরে আরও সংগঠিত হয়েছে। তাঁর অধিনায়কত্বে দল শুধু লড়াই করতে শেখেনি, বরং বড় দলের বিরুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখতেও শিখেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের পাশে রেখে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখাই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
এক প্রাক্তন আইরিশ ক্রিকেটারের কথায়,
“স্টার্লিং শুধু অধিনায়ক নয়, সে গোটা দলের অভিভাবক। নতুন ছেলেরা ওর কাছ থেকে শিখে বড় হচ্ছে।”
পল স্টার্লিং মানেই আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট ব্র্যান্ড। আইসিসি মঞ্চে, বিভিন্ন লিগে বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে—সব জায়গায় তিনি আয়ারল্যান্ডের মুখ। তাঁর পারফরম্যান্সের উপরই অনেকাংশে নির্ভর করে বিশ্বক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, যেখানে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি, সেখানে স্টার্লিংয়ের অভিজ্ঞতা অমূল্য।
১৬০ ম্যাচ খেলার পরেও স্টার্লিং যে থামতে চান না, তা স্পষ্ট। তাঁর ফিটনেস, আগ্রাসী মানসিকতা এবং খেলার প্রতি ক্ষুধা এখনও অটুট। বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের এই রেকর্ড আরও দূরে নিয়ে যেতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
“যদি ফিট থাকেন, স্টার্লিং ১৭০ বা ১৮০ ম্যাচও খেলতে পারেন। এই রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যতে যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন হবে।”
পল স্টার্লিংয়ের রেকর্ড গড়া শুধুমাত্র সংখ্যার খেলা নয়। এটি এক ক্রিকেটারের দীর্ঘ লড়াই, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। রোহিত শর্মার মতো তারকার রেকর্ড ভেঙে তিনি প্রমাণ করে দিলেন—বড় দেশ নয়, বড় মানসিকতাই একজন ক্রিকেটারকে ইতিহাসে জায়গা করে দেয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারও আয়ারল্যান্ড বড় চমক দিতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই—পল স্টার্লিং থাকলে আয়ারল্যান্ড কখনও লড়াই না করে হার মানবে না।
স্টার্লিংয়ের এই কৃতিত্বের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর ধারাবাহিকতা। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ফর্মের ওঠানামা খুবই স্বাভাবিক, সেখানে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখা বিরল। ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লে-তে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়ে নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। অনেক সময় দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে দলের হাল ধরেছেন স্টার্লিংই।
তাঁর নেতৃত্বে আইরিশ দলের মানসিকতাও বদলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। আগে বড় দলের বিরুদ্ধে নামার আগেই যে মানসিক দুর্বলতা দেখা যেত, এখন তার জায়গায় এসেছে আত্মবিশ্বাস। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ডের লড়াইয়ের নেপথ্যে স্টার্লিংয়ের অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা নেয়।
এছাড়াও, সহযোগী দেশগুলির ক্রিকেটারদের কাছে স্টার্লিং এখন একটি রোল মডেল। সীমিত সুযোগ, কম ম্যাচ এবং তুলনামূলক কম অবকাঠামোর মধ্যেও কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাঁর কেরিয়ার তারই উদাহরণ। এই কারণেই স্টার্লিংয়ের রেকর্ড শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডের নয়, গোটা বিশ্বক্রিকেটের জন্যই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।