Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অস্কারের দৌড়ে বাংলা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা ছবির মনোনয়ন পেল পথের পাঁচালী ২ ০ এবং বিশ্বমঞ্চে বাঙালির নবজাগরণ

৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাঙালির সিনেপ্রেমীদের জন্য আজ এক গর্বের দিন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে ঘোষিত হলো ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের মনোনয়ন তালিকা। আর সেই তালিকায় বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরিতে ভারতের হয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন ছিনিয়ে নিল বাঙালি পরিচালকের ছবি পথের পাঁচালী ২ ০। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই ছবিটি ইতিমধ্যেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন পাম জিতেছে। এবার লক্ষ্য সোনালি ট্রফি।

লস অ্যাঞ্জেলেস এবং কলকাতা ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ থেকে ঠিক ৭০ বছর আগে ১৯৫৫ সালে এক দীর্ঘদেহী বাঙালি পরিচালক হাতে ক্যামেরা তুলে নিয়েছিলেন এবং তৈরি করেছিলেন এমন এক চলচ্চিত্র যা বিশ্ব মানচিত্রে ভারতীয় সিনেমাকে এক নতুন পরিচয় দিয়েছিল। সেই ছবির নাম ছিল পথের পাঁচালী। আর আজ ২০২৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি সেই ইতিহাসের এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি ঘটল। তবে এবার প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন প্রযুক্তি আধুনিক কিন্তু আবেগ সেই একই। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটার থেকে যখন ঘোষক বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরির মনোনয়ন ঘোষণা করছিলেন তখন কলকাতার ঘড়িতে ভোর সাড়ে পাঁচটা। শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন মাইকে উচ্চারিত হলো ফ্রম ইন্ডিয়া পথের পাঁচালী ২.০ তখন কলকাতার নন্দন চত্বর থেকে কফি হাউস উত্তর থেকে দক্ষিণ পুরো বাংলা যেন এক লহমায় জেগে উঠল।

সত্যজিৎ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তরুণ বাঙালি পরিচালক ঋক সেনের তৈরি পথের পাঁচালী ২.০ আজ অস্কারের চূড়ান্ত পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। এটি কেবল একটি সিনেমার মনোনয়ন নয় এটি বাংলা সিনেমার পুনর্জন্ম এক আন্তর্জাতিক নবজাগরণ।

অস্কারের দৌড়ে বাংলা এবং স্বপ্নের উড়ান

ভারত থেকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো ছবি অস্কারের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু মূল পর্বে বা ফাইনাল নমিনেশনে জায়গা করে নেওয়াটা সব সময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ। এর আগে লগান মাদার ইন্ডিয়া এবং সালাম বোম্বে এই সম্মান পেলেও বাংলা ছবি হিসেবে পথের পাঁচালী ২.০ এর এই সাফল্য নজিরবিহীন। গত কয়েক মাস ধরেই জল্পনা ছিল যে এই ছবিটি অস্কারের দৌড়ে অনেক দূর যাবে। কারণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবিটি যখন দেখানো হয়েছিল তখন টানা ১৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন বা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিলেন বিচারকরা। তখনই বোঝা গিয়েছিল ঋক সেন কোনো সাধারণ ছবি তৈরি করেননি।

কী আছে পথের পাঁচালী ২.০ এ

অনেকেই নামের কারণে ভাবতে পারেন এটি হয়তো সত্যজিৎ রায়ের ছবির রিমেক। কিন্তু পরিচালক ঋক সেন বারবার স্পষ্ট করেছেন এটি রিমেক নয় এটি এক আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি বা স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল। সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ২০২৬ সালের গ্রামীণ বাংলাকে কেন্দ্র করে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে অপু নামের এক ১০ বছরের বালক যে তার পরিবারের সাথে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে থাকে। কিন্তু এই নিশ্চিন্দিপুর ১৯৫৫ সালের সেই গ্রাম নয়। এখানে ফাইভ জি টাওয়ার আছে স্মার্টফোন আছে কিন্তু পানীয় জল নেই। এখানে কাশবনের ওপর দিয়ে ট্রেন যায় না বরং যায় হাই স্পিড বুলেট ট্রেনের লাইন যা গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে কিন্তু স্টেশনে থামে না।

সিনেমায় দেখানো হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে অপু তার ভাঙা স্মার্টফোনে বিশ্বের সব খবর দেখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে স্বপ্ন দেখছে আর অন্যদিকে তার দিদি দুর্গা এখানে নাম রাখা হয়েছে উমা বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছে। ১৯৫৫ সালের দুর্গা মারা গিয়েছিল নিউমোনিয়ায় আর ২০২৬ সালের উমা লড়ছে দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এক অজানা জ্বরের সাথে।

সিনেমার সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্যটি হলো পুরনো সেই ট্রেনের দৃশ্যটিকে নতুন করে তৈরি করা। ১৯৫৫ সালে অপু দুর্গা কাশবনে ট্রেন দেখতে গিয়েছিল। আর এই ছবিতে অপু আর উমা ড্রোন ওড়াতে যায়। কাশবনের বদলে এখন সেখানে প্লাস্টিকের জঞ্জাল। ড্রোনটি যখন আকাশে ওড়ে তখন তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে গ্রামের করুণ দশা। এই দৃশ্যটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের চোখে জল এনে দিয়েছে।

পরিচালকের ভিশন এবং সত্যজিতের ছায়া

পরিচালক ঋক সেন যার বয়স মাত্র ৩২ তিনি বলেন আমি সত্যজিৎ রায়কে নকল করার ধৃষ্টতা দেখাইনি। আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি ৭০ বছরে অপুদের জীবন কতটা বদলেছে নাকি আদৌ বদলায়নি। দারিদ্র্য শুধু তার রূপ বদলেছে। আগে অভাব ছিল ভাতের এখন অভাব স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যেও অসহায়তার। এই ছবি রায় সাহেবের প্রতি আমার প্রেমপত্র।

সিনেমায় সাদা কালো এবং রঙের এক অদ্ভুত ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানের দৃশ্যগুলো শুট করা হয়েছে রুক্ষ ধূলিমলিন রঙে কিন্তু যখনই অপু স্বপ্ন দেখে বা তার দিদির সাথে গল্প করে তখন স্ক্রিন হয়ে যায় ঝকঝকে সাদা কালো ঠিক যেমনটি ছিল মূল পথের পাঁচালীতে। এই সিনেম্যাটোগ্রাফিক এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষা নিরীক্ষা অস্কার জুরিদের মন জয় করেছে।

অভিনয় এবং কুশীলব

ছবিতে অপুর চরিত্রে অভিনয় করেছে পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা শিশুশিল্পী সুবল। তার চোখের ভাষা এবং নীরব অভিনয় মনে করিয়ে দেয় সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অপলক দৃষ্টি। উমার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগতা ঐন্দ্রিলা যার অভিনয় দেখে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে একুশ শতকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।

মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। সর্বজয়ার সেই শাশ্বত সংগ্রামের রূপটি তিনি আধুনিক প্রেক্ষাপটে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাবা হরিহরের চরিত্রে দেখা গেছে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে যিনি একজন হতাশ ফ্রিল্যান্সার লেখক যার লেখা কেউ ছাপে না যে চ্যাটজিপিটির যুগে নিজের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

সংগীতের জাদু এবং রবিশঙ্করের সুরের নবায়ন

পথের পাঁচালীর কথা বললে পণ্ডিত রবিশঙ্করের সেই কালজয়ী সুরের কথা আসবেই। পথের পাঁচালী ২.০ এ সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান এবং বিক্রম ঘোষের জুটি। তারা মূল ছবির থিম মিউজিকটিকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে নতুন করে সাজিয়েছেন কিন্তু তার আত্মা বা সোল অবিকৃত রেখেছেন। বাঁশির সেই করুণ সুর যখন ডলবি সারাউন্ড সাউন্ডে বাজে তখন দর্শকের গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে যখন উমার মৃত্যু হয় তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো মিউজিক নেই শুধু হাই স্পিড ট্রেনের চলে যাওয়ার শব্দ এই নীরবতাই সিনেমার সবচেয়ে বড় মিউজিক।

বিশ্বমঞ্চে প্রচার এবং ক্যাম্পেইন

news image
আরও খবর

অস্কারের মনোনয়ন পাওয়া কেবল ভালো সিনেমা তৈরির ওপর নির্ভর করে না এর জন্য প্রয়োজন সঠিক লবিং এবং প্রচার। ছবির প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ এবং হলিউডের এক নামী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মিলে গত তিন মাস ধরে আমেরিকায় ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস নিউইয়র্ক এবং লন্ডনে বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। মার্টিন স্করসেসি এবং ক্রিস্টোফার নোলানের মতো কিংবদন্তি পরিচালকরা ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন। স্করসেসি টুইট করে বলেছেন সত্যজিৎ রায় যেখানে শেষ করেছিলেন এই ছেলেটি সেখান থেকেই শুরু করেছে। ভারতীয় সিনেমার এক মাস্টারপিস।

প্রতিযোগীরা কারা

অস্কারের এই ক্যাটাগরিতে ভারতের লড়াই কিন্তু সহজ নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নে পথের পাঁচালী ২.০ এর সাথে রয়েছে ফ্রান্সের দ্য লাস্ট সাইলেন্স দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের কান্না ইরানের বোরখা এবং মেক্সিকোর রিভার অফ টিয়ার্স। প্রতিটি ছবিই নিজ নিজ গুণে সমৃদ্ধ। তবে আন্তর্জাতিক বাজি বা বেটিং সাইটগুলোতে পথের পাঁচালী ২.০ এগিয়ে আছে। কারণ এই ছবির আবেগ বা ইমোশনাল কানেক্ট বিশ্বজনীন।

কলকাতায় উৎসবের মেজাজ

আজ সকাল থেকেই কলকাতায় উৎসবের মেজাজ। নন্দন চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন সিনেপ্রেমীরা। সবার মুখে একটাই কথা এবার অস্কার আসবেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে পরিচালক এবং পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার ফল আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। ঋক এবং তার দলকে অনেক ভালোবাসা। আমরা গর্বিত।

টলিউডের তারকারাও শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দেব আবির পরমব্রত সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। প্রসেনজিৎ লিখেছেন বাংলা সিনেমা যে মরে যায়নি বরং ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে এই মনোনয়নই তার প্রমাণ।

সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন বাবা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। নতুন প্রজন্ম যে তার কাজকে ভুলতে দেয়নি বরং নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে এনেছে এটা দেখে ভালো লাগছে। আমার আশীর্বাদ রইল।

বক্স অফিসের সাফল্য

শুধু সমালোচকদের প্রশংসা নয় বক্স অফিসেও ছবিটি ঝড় তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে ছবিটি সুপারহিট। এমনকি জাপানেও ছবিটি হাউজফুল চলছে। জাপানিরা সত্যজিৎ রায়কে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন তাই এই সিক্যুয়েল নিয়ে তাদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। ছবির প্রযোজকরা জানিয়েছেন অস্কার মনোনয়নের পর এবার ছবিটি আমেরিকা এবং ইউরোপের আরও ৫০০টি হলে মুক্তি পাবে।

সমালোচকদের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ফিল্ম ম্যাগাজিন ভ্যারাইটি লিখেছে পথের পাঁচালী ২.০ হলো নিও রিয়ালিজমের এক আধুনিক সংস্করণ। পরিচালক দেখিয়েছেন উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তির ঝলকানি কীভাবে মানুষের মৌলিক চাহিদাকে ব্যঙ্গ করে। এটি একটি সিনেমা নয় এটি একটি দলিল।

দ্য গার্ডিয়ান এর সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ এই ছবিকে ৫ এর মধ্যে ৫ স্টার দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন শেষ দৃশ্যে অপুর চোখের জল যখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে পড়ে তখন মনে হয় পুরো মানবজাতি কাঁদছে। এটি এমন এক ছবি যা আপনাকে হল থেকে বের হওয়ার পরও অনেকদিন ভাবাবে।

বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ

এই মনোনয়ন বাংলা সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা সিনেমা আঞ্চলিকতার গণ্ডিতে আটকে ছিল। বাজেট কম ভালো স্ক্রিপ্টের অভাব এমন নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু পথের পাঁচালী ২.০ প্রমাণ করল যে কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু যদি শক্তিশালী হয় তবে বাজেট কোনো বাধা নয়। এই সাফল্য নতুন পরিচালকদের সাহস জোগাবে। তারা এখন আর শুধু লোকাল মার্কেটের কথা ভাববে না তারা গ্লোবাল অডিয়েন্সের কথা মাথায় রেখে ছবি বানাবে।

ফাইনাল কাউন্টডাউন

এখন সবার চোখ আগামী মাসের অস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের দিকে। রেড কার্পেটে ধুতি পাঞ্জাবি পরে হাঁটবেন পরিচালক ঋক সেন এবং তার টিম। যদি তাদের হাতে সেই সোনালি ট্রফি ওঠে তবে তা হবে ভারতীয় সিনেমার ১০০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। এ আর রহমান যখন জয় হো বলে অস্কার জিতেছিলেন তখন পুরো ভারত নেচেছিল। এবার যদি পথের পাঁচালীর জন্য অস্কার আসে তবে তা হবে বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক জয়।

১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায় যখন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অস্কার পেয়েছিলেন তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে অস্কার হাতে নিয়েছিলেন। আজ তার মানসপুত্ররা সুস্থ শরীরে সগর্বে সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার নেবে এই স্বপ্নই দেখছে সারা বাংলা।

উপসংহার

পথের পাঁচালী মানেই পথের গান। সেই পথ চলা ১৯৫৫ সালে শুরু হয়েছিল কিন্তু শেষ হয়নি। ২০২৬ সালে এসে সেই পথ বাঁক নিল বিশ্বমঞ্চের দিকে। অপুর সংসার এখন আর ছোট নেই তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই ঝকঝকে মঞ্চে যখন বাংলা ভাষা উচ্চারিত হবে তখন নিশ্চিতভাবেই আকাশের কোনো এক কোণ থেকে মুচকি হাসবেন এক দীর্ঘদেহী মানুষ যার হাতে থাকবে একটি স্কেচবুক আর মুখে জ্বলন্ত চুরুট। তিনি বুঝবেন তার সৃষ্টি হারিয়ে যায়নি তা বেঁচে আছে এবং বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

Preview image