বেআইনি জমি চুক্তি ও স্ট্যাম্প ডিউটি ফাঁকির অভিযোগে পুণেতে দায়ের হয়েছে দু’টি এফআইআর। যদিও অজিত পওয়ারের পুত্র পার্থের নাম নেই তাতে, যা নিয়ে সরগরম মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন।
পুণের জমি কেনাবেচা ঘিরে বিপাকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের পুত্র পার্থ পওয়ার। অভিযোগ, তাঁর সংস্থা ‘আমেডিয়া এন্টারপ্রাইজ’ বেআইনি ভাবে সরকারি জমি কিনেছে এবং স্ট্যাম্প ডিউটি ফাঁকি দিয়েছে। যদিও অজিত পওয়ার দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি কেনার চুক্তি ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের দাবি, চুক্তি বাতিল করলেও পার্থের সংস্থাকে দিতে হবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা অতিরিক্ত শুল্ক হিসেবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জমি কেনার সময় পার্থের সংস্থা জানিয়েছিল, সেখানে একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। সেই কারণেই তারা স্ট্যাম্প ডিউটির ছাড় পায়। কিন্তু পরে যখন চুক্তি বাতিলের আবেদন জানানো হয়, রাজস্ব দফতর জানায় — চুক্তি বাতিলের আগে মূল মূল্যের উপর ৭ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে। যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রার এপি ফুলাওয়ারে নির্দেশনামায় উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত শুল্ক না দেওয়া পর্যন্ত দলিল বাতিল করা সম্ভব নয়।
পুরো ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বেআইনি চুক্তি ও কর ফাঁকির অভিযোগে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এফআইআরে পার্থ পওয়ারের নাম নেই, যদিও তাঁর সংস্থায় তাঁর ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি ১ শতাংশ অংশীদারিত্ব তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী দিগ্বিজয় পাটিলের নামে, যাঁর নাম রয়েছে অভিযোগে। এই নিয়েই শিবসেনা (ইউবিটি) ও কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।
বিরোধীদের অভিযোগ, পুণের মুন্ধওয়ার বিতর্কিত ওই জমির বাজারমূল্য ১,৮০০ কোটি টাকা, অথচ তা বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকায়, এবং ২১ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি মকুব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস অবশ্য জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না।” তবে তাঁর দাবি, এফআইআরে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিক্রেতা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে নয়। এদিকে, জমি দুর্নীতি মামলায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে।