গত রবিবার বর্ধমান শহরে বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী এসআইআর-এর পক্ষ থেকে একটি মহা মিছিল ও সমাবেশ করেছিলেন। এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, আজ মঙ্গলবার, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল আয়োজন করেছে। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা বড়ো নীলপুর মোর থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত মিছিল বের করেন। প্রতিবাদ সভায় পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “এই বাংলায় এসআইআর হতে দেবোনা।” তিনি আরও বলেন, এসআইআর-এর চাপে বহু গরীব মানুষ নথি খুঁজতে গিয়ে হতাশায় মারা গেছেন। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন, তারা কি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন, বা ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ যাবে। এদিনের প্রতিবাদ সভায় স্নেহাশীষ চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল হক এবং জেলার একাধিক বিধায়ক ও নেতা নেত্রীরা। এটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র প্রতিবাদ, যেখানে জেলার মানুষজনের দুর্ভোগ ও অব্যাহত সমস্যা নিয়ে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভা: এসআইআর এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ
গত রবিবার বর্ধমান শহরে বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী এসআইআর-এর পক্ষে একটি মহা মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছিলেন। এর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, আজ মঙ্গলবার, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর (Social Impact Assessment Report) এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ সভা পূর্ব বর্ধমানের বড়ো নীলপুর মোর থেকে শুরু হয়ে কার্জন গেট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এতে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “এই বাংলায় এসআইআর হতে দেবোনা।” তিনি বলেন, এসআইআর-এর কারণে অনেক গরীব মানুষ অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করেছেন, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সরকারি নথি ও কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে মারা গেছেন। ২০০২ সালের পর, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন যে, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে এবং তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে যাবেন। এই কারণে মানুষজন চরম অবশাদে ভুগছেন।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় স্নেহাশীষ চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল হক সহ জেলার একাধিক বিধায়ক ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। এই সভা ছিল এক দিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, যা কেবল এসআইআর নয়, রাজ্যের অন্যান্য বিভিন্ন জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছে।
এসআইআর বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিশেষত সরকারী জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা জমি অধিগ্রহণের আগে, অধিগ্রহণের প্রভাব সমাজের ওপর কেমন হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, এসআইআর বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে করা হয় না, এবং এর ফলে স্থানীয় গরীব মানুষের উপর চাপ পড়ে। বিশেষ করে, ভূমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক কৃষক পরিবার তাদের জমি হারিয়ে, চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, এসআইআর-এর কারণে সরকারের নানা নীতির ফলে বহু গরীব মানুষ যে শুধু জমি হারিয়েছেন তা নয়, তারা ভয় পাচ্ছেন যে তাদের সরকারি সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক এবং এসআইআর-এর মাধ্যমে সরকারের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতির ফলে এক বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে।
বিরোধী দল বিজেপি এসআইআর-এর পক্ষে মহামিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছিল, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী এসআইআর-কে সমর্থন করে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনভাবেই এসআইআর-এর মাধ্যমে বাংলার মানুষের ওপর এই চাপ সহ্য করবে না।
এছাড়াও, তিনি ভোটার তালিকা সংশোধন এবং জমির অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় যাতে গরীব ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সরকারের কাছে ন্যায্য দাবির কথা জানান। তিনি আরও বলেন, যেসব গরীব মানুষ এসআইআর-এর কারণে নথি খুঁজতে গিয়ে অবসাদে ভুগছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তুত রয়েছে।
এই প্রতিবাদ সভা শুধু এসআইআর-এর বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি ক্ষোভ এবং বিরোধী দলের বিক্ষোভ বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এই শক্তিশালী প্রতিবাদ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা জনগণের অধিকার রক্ষা এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
এদিনের সভা এবং মিছিল থেকে স্পষ্ট যে, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মোকাবিলায় কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই, বরং তাদের নিজস্ব নীতি ও দাবির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলের চাপে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং এই প্রতিবাদ সভা তাদের লক্ষ্য অর্জনে আরো দৃঢ়তর হয়েছে।
এসআইআর এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভা এক নতুন রাজনৈতিক দিক নিয়ে এসেছে, যেখানে দলটি সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং তাদের প্রয়োগের উপর প্রশ্ন তুলছে। যদিও এই প্রতিবাদ সভা প্রধানত এসআইআর এর বিরুদ্ধে, তবুও এটি এক নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনগণের স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।