এসআইআর-রাজনীতি এখনও চলছে, একের পর এক মৃত্যু। শুক্রবার হুগলির শেওড়াফুলিতে এক যৌনকর্মীর অকাল মৃত্যুতে ফের প্রশ্ন উঠল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা নিয়ে।
এসআইআর-রাজনীতি এখনও চলমান, আর একের পর এক মৃত্যু তা ঘিরে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। শুক্রবার হুগলির শেওড়াফুলিতে ৪৯ বছর বয়সী যৌনকর্মী বিতি দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীদের দাবি, সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে। বিতির পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কিত ছিলেন।
শেওড়াফুলির ঘটনায় আরও তিন জেলায় মৃত্যু ঘটেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে ৪৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন পাইক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এবং স্ত্রীর নাম না থাকার কারণে দীর্ঘদিন উদ্বেগে ছিলেন। বীরভূমের সাঁইথিয়ায় বিমান প্রামাণিক এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে লালুরাম বর্মণও এসআইআর-আতঙ্কের কারণে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, অনেকেই ভোটার তালিকায় ভুল বা অনুপস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের দিকে দোষ চাপানো হচ্ছে, কিন্তু আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি রাজ্যজুড়ে প্রকট। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করছে।
শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়েছেন, পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্ক এবং ভুল তথ্যজনিত মৃত্যু বিষয়টি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।