পুণেতে কোটি কোটি টাকার জমি বিক্রির ঘটনায় শিবসেনা (ইউবিটি) ও কংগ্রেস অভিযোগ, খাতায়কলমে মূল্য কম দেখানো হয়েছে; পার্থের সংস্থাকে মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতি একবারে সরগরম হয়ে উঠেছে পুণের জমি বিক্রির বিতর্কে। অভিযোগ উঠেছে, মুন্ধওয়ায় সরকারি ৪০ একর জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। জমিটি কিনেছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের পুত্র পার্থ পওয়ারের সংস্থা। শিবসেনা (ইউবিটি) ও কংগ্রেস অভিযোগ করেছেন, এই জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা, কিন্তু খাতায়কলমে তা কম দেখানো হয়েছে। পার্থের সংস্থাকে মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং ২১ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটিও মকুব করা হয়েছে।
এফআইআরে পার্থ পওয়ারের নাম না থাকায় বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এফআইআর-এ নাম রয়েছে পার্থের ব্যবসায়ী অংশীদার দিগ্বিজয় পাটিল ও বিক্রেতাদের হয়ে শীতল তেজওয়ানি, পাশাপাশি রাজস্ব দফতরের দুই আধিকারিক— সাব-রেজিস্টার রবীন্দ্র তারু এবং পুণের তহশিলদার সূর্যকান্ত ইয়েওয়ালের। অভিযোগ, তারা স্ট্যাম্প ডিউটি না নিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া এফআইআরে মোট ২৭২ জনের নাম রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস জানিয়েছেন, তদন্তে আরও কেউ যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যখন এফআইআর রুজু হয়, তখন মামলায় জড়িত সকলের নাম থাকে। যাঁরা নথি সই করেছেন, বিক্রি করেছেন বা নথি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের নামই এফআইআরে থাকবে। অজিত পওয়ারও দাবি করেছেন, পার্থ জানতেন না যে জমিটি বেআইনিভাবে বিক্রি হয়েছে।
এ ঘটনায় পুনের রাজনৈতিক ও সামাজিক মঞ্চে সরগরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জমি ছিল মাহার সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ, স্বাধীনতার পর সরকারের হাতে চলে আসে। অভিযোগ, সরকার বা সংস্থা অনুমতি ছাড়া এই জমি বিক্রি করেছে। পার্থ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এবং এই মামলা রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।