গত ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন বারাসতের দুই নার্স। তাঁদের মধ্যে একজন পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
নয়াদিল্লি, ৩০ জানুয়ারি:
নিপা ভাইরাসকে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই স্বস্তির খবর মিলেছে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে। গত ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন দুই নার্স। তাঁরা দু’জনেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একজন পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং শুক্রবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মহিলা নার্সের অবস্থাও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হলেও এখনও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়। তাই তাঁকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজ্যে বা দেশে নতুন করে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মাঝেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শাখার তরফে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ জানানো হয়েছে, ভারত থেকে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ভারতের ওপর কোনও ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রশ্নই ওঠে না।
WHO-এর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমন্বিতভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। দ্রুত পরীক্ষা, নজরদারি, সংক্রমণের উৎস খোঁজা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতর উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে।
WHO জানিয়েছে, নিপা আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা মোট ১৯৬ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সকলের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি চালানো হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কেউই নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নন বলে রিপোর্টে ধরা পড়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিপা ভাইরাস একটি অত্যন্ত মারাত্মক জুনোটিক ভাইরাস, যা সাধারণত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝে মাঝে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে।
নিপা ভাইরাসের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
উচ্চ জ্বর
মাথাব্যথা
বমি ও বমি ভাব
শ্বাসকষ্ট
খিঁচুনি
চেতনা হারানো
গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস)
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এই ভাইরাসকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়।
গত ডিসেম্বর মাসে বারাসতের দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা শুরু হয়।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, দুই নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা চালানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং তাঁদের উপর নজরদারি চালানো হয়।
এই ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও সতর্ক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নিপা ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সংক্রমণের উৎস খুঁজতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাদুড় পরীক্ষা করা হয়।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী—
কুবেরপুর, কাজিপাড়া, বারাসত, আলিপুর, দমদম, বিজয়পুর এবং নদীয়া—এই সাতটি রোস্টিং সাইট থেকে মোট ৪৯টি বাদুড় সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ওই বাদুড়গুলির মধ্যে একটি বাদুড়ের শরীরে নিপা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর ফলে নিশ্চিত হয়েছে যে বাদুড়ের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই ভাইরাস এখনও মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
নিপা সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। স্বাস্থ্য দফতর, প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শুরু করে।
গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে—
দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্তকরণ
আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা
সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা
এলাকাভিত্তিক নজরদারি
জনসচেতনতা বৃদ্ধি
ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধান
WHO-এর মতে, ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করেছে, তা প্রশংসনীয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।
তাঁদের মতে—
নতুন কোনও সংক্রমণের খবর না পাওয়া ইতিবাচক লক্ষণ
সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে
নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে
WHO-এর বক্তব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার ইঙ্গিত দেয়
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সতর্কবার্তা জারি করেছে—
অসুস্থ অবস্থায় বাদুড় বা বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
অজানা ফল বা খাবার গ্রহণের আগে সতর্ক থাকুন
জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
গুজব বা ভুয়া খবর এড়িয়ে চলুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস ভবিষ্যতে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে কম। কারণ—
দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে
সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে
মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ হয়নি
WHO-এর মতে ঝুঁকি খুবই কম
তবে তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে কখনওই অসতর্ক হওয়া উচিত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই নার্সের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং নতুন সংক্রমণের খবর না পাওয়া ইতিবাচক দিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত থেকে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ভারতের ওপর কোনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজন নেই।
তবে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ভবিষ্যতে কোনও ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও সতর্কতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই নার্সের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং নতুন সংক্রমণের খবর না পাওয়া ইতিবাচক দিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত থেকে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ভারতের ওপর কোনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজন নেই।
তবে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ভবিষ্যতে কোনও ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও সতর্কতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত শনাক্তকরণ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ। পশ্চিমবঙ্গে যে ভাবে দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিপা ভাইরাসের মতো জুনোটিক রোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি দেখা দিতে পারে। কারণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, নগরায়ণ এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ বাড়ার ফলে এই ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ছে। তাই শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও সতর্কতা জরুরি।
স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব বা ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নিপা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, প্রশাসনের তরফে নজরদারি শিথিল করা হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কোনও ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আরও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ না থাকলেও সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই এই ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।