ফল খাওয়া শুধু অভ্যাস নয়, তারও আছে কিছু সঠিক নিয়ম। প্রতিটি ফলের ভেতর লুকিয়ে থাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। কিন্তু ঠিক সময় ও উপায়ে না খেলে সেই পুষ্টিগুলি শরীর পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। তাই ফল খাওয়ার আগে জানা জরুরি— কখন, কীভাবে এবং কোন ফল খেলে তার উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
ফল খাওয়ার নিয়ম নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা— “ভরাপেটে ফল খাওয়া সবচেয়ে ভালো”। সকালের প্রাতরাশের পর বা দুপুরের ভরপেট ভাত-ডাল-তরকারি শেষে ফল খাওয়ার অভ্যাস বহুদিনের। কিন্তু এই নিয়ম কি আদৌ ঠিক? শরীর কি তাতে ফলের সব পুষ্টিগুণ গ্রহণ করতে পারে?
দিল্লির পুষ্টিবিদ গুঞ্জন তানেজা জানাচ্ছেন, ফল খাওয়ারও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সঠিকভাবে না খেলে ফলের পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি হজমের সমস্যাও হতে পারে।
ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
1️⃣ রস নয়, পুরো ফল খান:
ফল ব্লেন্ড করে জুস বানালে অনেক পুষ্টিগুণ ও ফাইবার হারিয়ে যায়। তাই শাঁসসহ গোটা ফল চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
2️⃣ একসঙ্গে অনেক ফল নয়:
বিভিন্ন ফলে আলাদা এনজাইম থাকে। একসঙ্গে অনেক ফল খেলে হজমের সমস্যা বা পেটফাঁপা হতে পারে। সর্বাধিক ২–৩ ধরনের ফলেই সীমাবদ্ধ থাকুন।
3️⃣ অতিরিক্ত পাকা ফল এড়িয়ে চলুন:
অতিরিক্ত মিষ্টি ফলের পুষ্টি কমে যায় এবং হজমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই মাঝারি পাকা বা তাজা ফল বেছে নিন।
4️⃣ খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে ফল নয়:
“ভরাপেটে ফল খাওয়া” ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। খাবারের পর অন্তত এক ঘণ্টা বিরতি রেখে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
5️⃣ দুধ বা দইয়ের সঙ্গে টক ফল নয়:
যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল, তাঁদের জন্য টক ফল ও দুগ্ধজাত খাবারের মিশ্রণ বিপজ্জনক হতে পারে। ফলের রায়তা বা ক্রিম দেওয়া ফ্রুট সালাড এড়ানোই ভালো।
ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কিন্তু ভুল সময়ে বা ভুলভাবে খেলে এর উপকারের বদলে ক্ষতিই হতে পারে। তাই নিয়ম মেনে ফল খেলে তবেই শরীর পাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টির পূর্ণতা।