আপনি জানেন কি, শুধু জলের বোতল দিয়েও পুদিনাগাছ বড় করা সম্ভব? আর এর জন্য মাটি খোঁড়া বা বড় বাগানের ঝক্কি নেই! শুধু এই সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলেই পুদিনার টাটকা পাতা আপনি পেতে পারবেন বছরের প্রতিটি ঋতুতেই। ধাপে ধাপে শিখে নিন কীভাবে আপনার কিচেনে বা ছোট বারান্দাতেই পুদিনার বাগান গড়ে তুলবেন।
সব খাবারে পুদিনা ব্যবহার বাঙালিরা যে নিয়মিত করে তা নয়। তবে মাঝে মাঝে শরবত, মকটেল বা জনপ্রিয় পানীয় ‘মোহিতো’-তে পুদিনার স্বাদ দিলে একদম চমৎকার লাগে। তাছাড়া, কার্বনযুক্ত ঠান্ডা পানীয়েও যদি টাটকা পুদিনা পাতা থেঁতলে দিয়ে সামান্য সৈন্ধব নুন এবং পাতিলেবু মিশিয়ে দেন, তবে দারুণ রিফ্রেশিং পানীয় তৈরি হয়।
তবে সব সময় ফ্রিজে পুদিনাপাতা সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। হাতের কাছে টাটকা পাতা পেতে চাইলে সহজ একটি উপায় আছে। পুদিনা যেমন মাটিতে বড় হয়, ঠিক তেমনই জলেও এই গাছ বৃদ্ধি পায়।
পদ্ধতি খুবই সহজ: পুদিনার কয়েকটি সতেজ ডাঁটি বেছে নিয়ে সুতো দিয়ে হালকা করে বেঁধে নিন। তারপর প্লাস্টিক বা কাচের বোতলে জল ভরে ডাঁটিগুলি ভিজিয়ে রাখুন। ডাঁটির কিছু অংশ জলের নিচে থাকবে, কিছু অংশ উপরের দিকে থাকবে।
বোতলটি হালকা রোদে রাখলেই কয়েক দিনের মধ্যেই শিকড় গজাতে শুরু করবে। প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর জল বদলাতে হবে, তবে সাবধান—শিকড় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
দিন কয়েকের মধ্যেই পুদিনার ডাঁটি থেকে নতুন ডালপালা বের হতে শুরু করবে। শিকড় খুব লম্বা হয়ে গেলে মাঝে মাঝে জল থেকে বের করে কাঁচি দিয়ে তার তলদেশ ছেটে আবার জলে রাখুন।
প্রচুর পরিমাণে পুদিনাপাতা পেতে ‘প্রুনিং’ বা ডাল ছাঁটা অত্যন্ত জরুরি। গাছের ডাঁটিগুলি উপরের দিকে প্রায় ২ ইঞ্চি মাপে ছেটে দিন। উপরের ডালপালা ছেঁটে দিলে গাছ আরও ঘন এবং শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিতে আপনি বছরের প্রতিটি ঋতুতেই আপনার হাতের কাছে টাটকা পুদিনাপাতা রাখতে পারবেন, আর তাজা পানীয় ও রান্নায় ব্যবহার করতে পারবেন স্বাচ্ছন্দ্যে।