Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বর্ধমানের কার্জন গেটে পৌর স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়ন বা আশা কর্মীদের বিক্ষোভ: মোবাইল কেনার বাধ্যবাধকতা এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

গতকাল বর্ধমানের কার্জন গেটে পৌর স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়ন বা আশা কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে মোবাইল কিনতে ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে, তবে আশা কর্মীদের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই নিজের মোবাইল ব্যবহার করছে। তাদের মতে, যাদের নতুন মোবাইলের প্রয়োজন, তারা সেটা কিনবে, কিন্তু সরকার জোর করে তাদের মোবাইল কিনতে চাপ দিচ্ছে। এই কারণে তারা আজ সি এম ও এইচ অফিস এবং জেলা শাসকের কাছে তাদের স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। আশা কর্মীরা বলছেন, সরকার তাদের কাজের জন্য মোবাইল দেয়ার পরিবর্তে চাপ সৃষ্টি করছে, যা তারা মেনে নিতে পারছে না।

রাজনীতি

বর্ধমানের কার্জন গেটে পৌর স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়ন বা আশা কর্মীদের বিক্ষোভ: মোবাইল কেনার বাধ্যবাধকতা এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

গতকাল, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের কার্জন গেটে এক বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পৌর স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়ন বা আশা কর্মীরা সরকার কর্তৃক মোবাইল কেনার জন্য নির্ধারিত ১০,০০০ টাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশাকর্মীদের মোবাইল কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আশা কর্মীদের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই নিজের মোবাইল ব্যবহার করে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করছে। তাদের মতে, যাদের নতুন মোবাইলের প্রয়োজন, তারা নিজেদের প্রয়োজনে নতুন মোবাইল কিনতে পারবেন, তবে সরকার কেন তাদের মোবাইল কেনার জন্য বাধ্য করছে, সেটি তাদের কাছে এক ধরনের চাপের মতো মনে হচ্ছে।

এ কারণে আশা কর্মীরা আজ সি এম ও এইচ (Chief Medical Officer of Health) অফিস এবং জেলা শাসকের (District Magistrate) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন, যেখানে তারা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের মতামত এবং আপত্তি জানিয়েছেন। তারা সরকারের প্রতি নিজেদের আবেদন রেখেছেন, যাতে তারা মোবাইল কেনার এই বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পায় এবং তাদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বজায় থাকে। আশাকর্মীরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন এবং আশা করছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি দেখানো হবে।

আশা কর্মীদের কাজের পরিপ্রেক্ষিত

আশা কর্মীরা ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার অগ্রভাগে কাজ করে আসছেন। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে শিশুদের টিকাদান, গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচার, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, এবং আরও অনেক জরুরি স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী এই কর্মীরা মূলত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। মোবাইলের মাধ্যমে তারা রোগী সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রেরণ, টিকাদান কার্যক্রম মনিটরিং এবং আরও অনেক জরুরি কাজ করে থাকেন।

এমন পরিস্থিতিতে, আশা কর্মীরা বলছেন যে, তারা যেহেতু ইতিমধ্যেই নিজের মোবাইল ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছেন, তাদের জন্য নতুন মোবাইল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা দাবি করছেন, যাদের নতুন মোবাইল কেনার প্রয়োজন, তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই টাকা ব্যবহার করে মোবাইল কিনবেন। কিন্তু, সরকার কেন তাদেরকে জোর করে নতুন মোবাইল কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, সেটি তাদের কাছে এক ধরনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে মনে হচ্ছে।

সরকারের পদক্ষেপ এবং আশার কর্মীদের প্রতিক্রিয়া

সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে, তবে আশা কর্মীরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ তাদের কাজের পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, যদি সরকার তাদের কাজের জন্য মোবাইল প্রদান করত, তাহলে সেটা একটি স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তা হতো। কিন্তু, সরকারের চাপ প্রয়োগে মোবাইল কেনার বাধ্যবাধকতা তাদের পছন্দের বাইরে একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এছাড়া, আশাকর্মীরা বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজের মোবাইল ব্যবহার করে আমাদের কাজ করেছি। আমাদের কাজের জন্য মোবাইল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে মোবাইলের জন্য সরকার আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে, এমন প্রত্যাশা আমাদের নেই। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন আমাদের এই স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো হয়।"

আশাকর্মীরা আরও বলেন, যাদের নতুন মোবাইলের প্রয়োজন, তারা অবশ্যই নিজেদের প্রয়োজনে ওই টাকা দিয়ে মোবাইল কিনবেন। কিন্তু তাদের জন্য কেন এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে? তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের স্বাধীনতা এবং আর্থিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আন্দোলনের লক্ষ্য এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা

news image
আরও খবর

আজকের বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো যে, আশাকর্মীদের ওপর এই ধরনের চাপ প্রয়োগ না করে তাদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তারা চাইছেন, সরকার যেন তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায় এবং এই মোবাইল কেনার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেয়। আশা কর্মীরা বলছেন, "আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখি, তবে এই সিদ্ধান্তটি আমাদের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা চাই, সরকার আমাদের কাজের জন্য সঠিক সহায়তা প্রদান করুক, তবে আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে।"

আন্দোলনের পর, আশাকর্মীরা সি এম ও এইচ অফিস এবং জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানানো হয়। আশা কর্মীরা আরও জানিয়েছেন, তারা আগামীদিনে যদি এই পরিস্থিতি সমাধান না হয়, তবে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন করতে প্রস্তুত।

আশা কর্মীরা ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার অগ্রভাগে কাজ করে আসছেন। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে শিশুদের টিকাদান, গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচার, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, এবং আরও অনেক জরুরি স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী এই কর্মীরা মূলত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। মোবাইলের মাধ্যমে তারা রোগী সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রেরণ, টিকাদান কার্যক্রম মনিটরিং এবং আরও অনেক জরুরি কাজ করে থাকেন।

এমন পরিস্থিতিতে, আশা কর্মীরা বলছেন যে, তারা যেহেতু ইতিমধ্যেই নিজের মোবাইল ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছেন, তাদের জন্য নতুন মোবাইল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা দাবি করছেন, যাদের নতুন মোবাইল কেনার প্রয়োজন, তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই টাকা ব্যবহার করে মোবাইল কিনবেন। কিন্তু, সরকার কেন তাদেরকে জোর করে নতুন মোবাইল কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, সেটি তাদের কাছে এক ধরনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে মনে হচ্ছে।

সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আশার ভবিষ্যত

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান খোঁজা হবে এবং আশাকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব গ্রহণ করা হবে। তবে, আশাকর্মীরা সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝতে পারবে এবং একটি কার্যকর সমাধান বের করবে।

এদিকে, আশাকর্মীদের এই আন্দোলন একটি বার্তা দেয় যে, সরকার যদি কর্মীদের স্বার্থে এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, তবে তা শুধু তাদের কাজের পরিবেশকেই প্রভাবিত করে না, বরং পুরো সমাজের স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আশাকর্মীরা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং তাদের কাজের পরিবেশ এবং স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখা উচিত।

আশা কর্মীরা সরকারের এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, মোবাইল কেনার জন্য যে ১০,০০০ টাকা সরকার প্রদান করছে, সেটা শুধুমাত্র তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ তারা ইতিমধ্যেই মোবাইল ব্যবহার করে তাদের কাজ করছে। আশাকর্মীরা বলেন, "যাদের নতুন মোবাইল প্রয়োজন, তারা অবশ্যই কিনবেন। তবে কেন আমরা নতুন মোবাইল কেনার জন্য বাধ্য হবো, যখন আমাদের নিজেদের মোবাইলেই কাজ চলে?" তারা আরও বলেন, "এটি আমাদের আর্থিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, এবং এটা আমাদের পছন্দের বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত।"

মোবাইলের মাধ্যমে আশা কর্মীরা টিকাদান, রোগী মনিটরিং, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণ এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন মোবাইল কেনার নির্দেশনা তাদের কাজের পরিবেশকে সমস্যায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। আশাকর্মীরা মনে করছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত তাদের আর্থিক অবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ অনেকেরই নতুন মোবাইল কেনার প্রয়োজন নেই এবং এই টাকা তাদের পরিবার ও অন্যান্য জরুরি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

উপসংহার

এই আন্দোলন শুধু আশাকর্মীদের জন্য নয়, বরং সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্য একটি শিক্ষা হতে পারে। সরকারী সিদ্ধান্তের আগে কর্মীদের মতামত এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত, যাতে কোনো কর্মী অযথা চাপের মধ্যে না পড়ে। আশাকর্মীদের এই প্রতিবাদ, সরকারের নীতির প্রতি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যে তারা একত্রিত হয়ে কাজ করছেন। তাদের আন্দোলন সরকারের কাছে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে কর্মীরা তাদের স্বাধীনতা বজায় রেখে সেবা প্রদান করতে পারে।

Preview image