টিকটকের মালিক ByteDance ২০২৫ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার লাভ করতে পারে এমনই দাবি করেছে এক রিপোর্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন কোয়ার্টারেই কোম্পানির নেট ইনকাম প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে, যা ByteDance এর জন্য রেকর্ড গতির ইঙ্গিত। এই সাফল্যের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে TikTok এর আক্রমণাত্মক সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ, এবং বিশেষ করে ই-কমার্স ও লাইভস্ট্রিম শপিং-এ জোরদার উপস্থিতি। TikTok শুধু ভিডিও প্ল্যাটফর্ম নয় এখন দ্রুত শপিং কনটেন্ট একসঙ্গে মিশিয়ে একটি নতুন ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেম তৈরি করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্ব প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি TikTok—আর TikTok-এর পেছনে যে কোম্পানি, সেই ByteDance নাকি ২০২৫ সালে লাভের হিসাবে এমন এক জায়গায় পৌঁছতে চলেছে, যা টেক ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে বড়সড় মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, TikTok-এর প্যারেন্ট কোম্পানি ByteDance ২০২৫ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রফিট করতে পারে—যা কোম্পানির জন্য রেকর্ড বছরের ইঙ্গিত।
এই সংখ্যাটা শুনতে যেমন বিশাল, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ রিপোর্ট বলছে, বছরের প্রথম তিন কোয়ার্টারেই ByteDance-এর নেট ইনকাম প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে এবং তারা নাকি নিজেদের ইন্টারনাল টার্গেটও ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে।
এখন প্রশ্ন—কেন এত বড় লাভ? ByteDance কি শুধু TikTok-এর ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে এত টাকা তুলছে? নাকি এর পেছনে আরও গভীর ব্যবসায়িক কৌশল কাজ করছে—যেমন ই-কমার্স, লাইভস্ট্রিম শপিং, নতুন বাজারে এক্সপ্যানশন, আর AI-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? পাশাপাশি আরেকটা বড় প্রশ্ন—আমেরিকায় TikTok-এর ভবিষ্যৎ। জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগে ByteDance-এর ওপর চাপ দীর্ঘদিনের, এবং সেই চাপের ফলেই এখন TikTok-এর US অপারেশন নিয়ে বড়সড় পুনর্গঠন/জয়েন্ট-ভেঞ্চারের আলোচনা তুঙ্গে।
আজকের এই দীর্ঘ রিপোর্টে আমরা দেখব—ByteDance-এর রেকর্ড প্রফিটের গল্প, TikTok-এর ই-কমার্স ও নতুন বাজারে আগ্রাসী প্রবেশ, এবং মার্কিন রাজনৈতিক-রেগুলেটরি চাপ সামলে কীভাবে ByteDance “টিকে থাকার” কৌশল সাজাচ্ছে।
টেক ইন্ডাস্ট্রিতে লাভের হিসেবে ৫০ বিলিয়ন ডলার মানে শুধু “সফল” হওয়া নয়—এটা এমন এক স্কেল, যেখানে পৌঁছতে পারে হাতে গোনা কয়েকটি জায়ান্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ByteDance-এর সম্ভাব্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের প্রফিট তাদের এমন এক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে তারা Meta (Facebook/Instagram-এর মালিক)-এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। কারণ রিপোর্টে বলা হয়েছে Meta-র ২০২৫ সালে প্রজেক্টেড আর্নিং প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ ByteDance যদি ৫০ বিলিয়ন ছুঁয়েই ফেলে, তাহলে বিশ্ব টেক মুনাফার দৌড়ে তারা একেবারে টপ লাইনে উঠে আসবে—চীনা টেক জগতের জন্যও এটা বড় বার্তা, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের টেক কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রণ, জিওপলিটিক্স, ও অর্থনৈতিক চাপ—সব দিক দিয়েই নানা রকম চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল।
আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই প্রফিট আসছে এমন সময়ে, যখন TikTok-কে ঘিরে আমেরিকায় সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ফলে ByteDance-এর লাভের গল্পটা শুধু “ব্যবসায়িক সাফল্য” নয়; একই সঙ্গে “রাজনৈতিক ঝুঁকি সামলে এগিয়ে যাওয়ার” গল্পও।
প্রফিটের পাশাপাশি আরেকটি বড় ইন্ডিকেটর হলো রাজস্ব বা বিক্রি (sales/revenue)। রিপোর্ট অনুযায়ী, ByteDance ২০২৫ সালের জন্য প্রায় ২০% সেলস গ্রোথ টার্গেট করেছিল, যার অঙ্ক দাঁড়ায় ১৮৬ বিলিয়ন ডলার।
এত বড় সেলস গ্রোথ আসবে কোথা থেকে? রিপোর্টে ইঙ্গিত—TikTok-এর গ্লোবাল এক্সপ্যানশন, ই-কমার্স, লাইভস্ট্রিম শপিং, এবং নতুন বাজারে আগ্রাসী প্রবেশ—এই চারটি দিকই বড় অবদান রাখছে।
এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখা জরুরি—ByteDance একটি “শুধু TikTok কোম্পানি” নয়। তারা চীনের ভেতরে Toutiao এবং Douyin-এর মতো জনপ্রিয় সার্ভিস তৈরি করেছে। Douyin হলো মূলত চীনের বাজারের জন্য TikTok-এর ভার্সন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে Douyin-এর গ্রোথ নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথাও রিপোর্টে আছে—যা আমরা পরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব।
অনেকেই এখনও TikTok-কে শুধুই ভিডিও অ্যাপ হিসেবে দেখেন—শর্ট ভিডিও, নাচ-গান, কমেডি, ট্রেন্ডিং সাউন্ড, ফিল্টার, ভাইরাল চ্যালেঞ্জ—এইসব। কিন্তু বাস্তবে TikTok এখন শুধু এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাপ নয়, এটি একটি কমার্স ইকোসিস্টেম বানানোর দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী TikTok ই-কমার্স ও লাইভস্ট্রিম শপিং-এ খুব আগ্রাসীভাবে ঢুকেছে। শুধু তাই নয়—তারা বড় মার্কিন টেক কোম্পানির সঙ্গেও পার্টনারশিপ করছে, যার মধ্যে Amazon-এর নামও উল্লেখ আছে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ একসময় Facebook/Instagram যেমন বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক মডেলে দারুণ বড় হয়েছে, TikTok এখন সেই বিজ্ঞাপন মডেলের পাশাপাশি “কমার্স-কেন্দ্রিক” রাজস্ব তৈরি করতে চাইছে।
লাইভস্ট্রিম শপিং মানে—ক্রিয়েটর বা সেলার লাইভে এসে পণ্য দেখাচ্ছেন, মানুষ লাইভেই অর্ডার দিচ্ছেন, ডিসকাউন্ট কুপন দিচ্ছেন, রিয়েল টাইমে কাস্টমার প্রশ্ন করছে—একটা আধুনিক টিভি শপিং + সোশ্যাল মিডিয়া মিশ্রণ। চীনের বাজারে এই মডেল ইতিমধ্যেই বিশাল, আর ByteDance সেই অভিজ্ঞতাকে গ্লোবাল মার্কেটে স্কেল করতে চাইছে—এমন ইঙ্গিত রিপোর্টে স্পষ্ট।
শুধু কমার্স নয়—TikTok এখন বড় ইভেন্ট, সেলিব্রিটি, এবং ব্র্যান্ড কালচারের সঙ্গেও নিজেকে আরও “মেইনস্ট্রিম” করতে চাইছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে—TikTok-এর CEO Shou Chew যখন “চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে” বলে ঘোষণা করেন, সেই একই দিন TikTok লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজন করে তাদের প্রথম অস্কার-স্টাইল রেড কার্পেট শো: “The TikTok Awards”।
এটা একটা শক্তিশালী সিগন্যাল—TikTok কেবল অ্যাপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা নিজেদের একটি বড় সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এই ধরনের ইভেন্ট বিজ্ঞাপনদাতা, বড় ব্র্যান্ড, মিডিয়া, এবং সেলিব্রিটিদের কাছে TikTok-কে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ফলাফল? বিজ্ঞাপনের দাম বাড়ে, ব্র্যান্ড ডিল বাড়ে, কমার্সও বাড়ে—সব মিলিয়ে রাজস্বের চাকা আরও দ্রুত ঘোরে।
রিপোর্টে আরেকটা বিশাল তথ্য—ByteDance তাদের অ্যাপগুলোর সম্মিলিত হিসেবে ৪ বিলিয়ন+ মাসিক অ্যাক্টিভ ইউজার থাকার দাবি করেছে, যা Meta-র স্কেলের কাছাকাছি।
এটা একটা “টেক পাওয়ার” এর চিহ্ন। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া দুনিয়ায় ব্যবহারকারী সংখ্যা মানেই ডেটা, ডেটা মানেই অ্যালগরিদম উন্নতি, অ্যালগরিদম মানেই আরও বেশি এঙ্গেজমেন্ট, আর এঙ্গেজমেন্ট মানেই বিজ্ঞাপন ও কমার্স—এটাই এই ইন্ডাস্ট্রির মূল চক্র।
এবার আসি সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তায়—US বাজারে TikTok-এর ভবিষ্যৎ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, TikTok-এর সাফল্য এখন “স্ক্রুটিনি”-র মধ্যে, কারণ Biden প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে TikTok-কে US থেকে ব্যান/বাধ্যতামূলক ডাইভেস্টমেন্টের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই চাপ সামলাতে ByteDance এখন এমন একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার দিকে, যাতে TikTok US-এ টিকে থাকবে, কিন্তু চীনা মালিকানার নিয়ন্ত্রণ আলগা হবে—অর্থাৎ “loosen the Chinese company’s control।”
কিন্তু এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত? এখানে আইনগত ব্যাকগ্রাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ।
White House-এর প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, US-এ একটি আইন আছে—Protecting Americans from Foreign Adversary Controlled Applications Act—যেটি “foreign adversary controlled applications” বিষয়ে বিধিনিষেধ তৈরি করে এবং ByteDance/TikTok-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর তা কার্যকর হতে পারে।
এই নথিতে উল্লেখ আছে—আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী TikTok/ByteDance-সম্পর্কিত “foreign adversary controlled application” গুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে এনফোর্সমেন্ট ডিলে করা হয়েছে—যেমন প্রথমে এপ্রিল ৫, ২০২৫ পর্যন্ত, পরে জুন ১৯, ২০২৫, তারপর সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫, এবং শেষে ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ পর্যন্ত বিলম্বের উল্লেখ রয়েছে।
এই অংশটা সাধারণ দর্শকের জন্য একটু কঠিন শোনাতে পারে, কিন্তু এর মানে খুব সহজ:
US সরকার TikTok-কে একেবারে বন্ধ করতে চাইলে যেমন আইনি জটিলতা আছে, তেমনি TikTok-কে টিকিয়ে রাখতে চাইলে রাজনৈতিক-নিরাপত্তা শর্ত মানতে হয়।
এজন্যই ByteDance এখন এমন একটি কাঠামোর দিকে যাচ্ছে—যেখানে TikTok-এর US অপারেশন একটি নতুন US-ভিত্তিক জয়েন্ট ভেঞ্চারের অধীনে যাবে, যাতে সেটি আর “foreign adversary controlled” হিসেবে গণ্য না হয়—এমনটাই ওই White House নথিতে ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এখন আসি সবচেয়ে “ব্রেকিং” অংশে। Reuters রিপোর্ট অনুযায়ী, TikTok-এর চীনা মালিক ByteDance বাইন্ডিং এগ্রিমেন্ট সাইন করেছে যাতে TikTok-এর US অপারেশনের নিয়ন্ত্রণ একটি নতুন জয়েন্ট ভেঞ্চারে যায়—যেখানে Oracle, Silver Lake, এবং আবু ধাবি-ভিত্তিক MGX—সহ আমেরিকান ও গ্লোবাল ইনভেস্টররা ৮০.১% স্টেক রাখবে এবং ByteDance থাকবে ১৯.৯%-এ।
এখানে কয়েকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ:
এই নতুন সত্তার নাম হিসেবে Reuters উল্লেখ করেছে—TikTok USDS Joint Venture LLC।
TikTok CEO Shou Zi Chew কর্মীদের বলেছেন—এই জয়েন্ট ভেঞ্চার হবে একটি independent entity, যার অধীনে থাকবে US ডেটা প্রোটেকশন, অ্যালগরিদম সিকিউরিটি, কনটেন্ট মডারেশন, সফটওয়্যার অ্যাসিওরেন্স।
Oracle-কে “trusted security partner” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং বলা হয়েছে US ইউজার ডেটা US-এর ভেতরে Oracle-এর ক্লাউড এনভায়রনমেন্টে সুরক্ষিতভাবে থাকবে।
ডিলটি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ নাগাদ ক্লোজ হওয়ার কথা Reuters রিপোর্টে রয়েছে।
বোর্ড কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ—ByteDance নাকি নতুন সত্তায় ৭ জন বোর্ড মেম্বারের মধ্যে ১ জন মনোনয়ন দিতে পারবে, এবং বাকিদের মধ্যে আমেরিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে।
অর্থাৎ, US পক্ষ বলতে চাইছে—“অপারেশনাল কন্ট্রোল আমাদের কাছে থাকবে, আর ByteDance-এর মালিকানা সীমিত হবে।” কিন্তু ByteDance/চীনপক্ষের দৃষ্টিতে বিষয়টা—“TikTok ব্র্যান্ড ও গ্লোবাল ইকোসিস্টেম টিকে থাকুক; তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া না হোক”—এই টানাপোড়েন।
TikTok-এর আসল শক্তি তার অ্যালগরিদম—কোন ভিডিও আপনি দেখবেন, কতক্ষণ দেখবেন, কোন কনটেন্ট ভাইরাল হবে—সবকিছুর পেছনে অ্যালগরিদম। Reuters রিপোর্টেই উল্লেখ আছে, এই ডিল নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে—অ্যালগরিদম কি সত্যিই ট্রান্সফার হয়েছে, লাইসেন্স হয়েছে, নাকি ByteDance/বেইজিং-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এই ধরনের অনিশ্চয়তার কথাও রিপোর্টে এসেছে।
এখানেই রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ার সম্ভাবনা। কারণ যদি অ্যালগরিদমের ওপর ByteDance-এর প্রভাব থাকে, US আইনপ্রণেতারা বলবেন—“নিয়ন্ত্রণ তো আসলে এখনও বিদেশি শক্তির কাছে!” আবার যদি ByteDance দাবি করে—“অ্যালগরিদমের নিরাপত্তা ও ডেটা সিকিউরিটি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে”—তাহলে তারা বলবে—“আমরা নিয়ম মেনে চলছি।”
রিপোর্টে আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ লাইন আছে—ByteDance-এর গ্রোথ আগের মতো দ্রুত নাও থাকতে পারে। কারণ তাদের প্রধান রেভিনিউ ড্রাইভার Douyin চীনের অর্থনীতিতে কমে যাওয়া কনজাম্পশন ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে। ফলে টপলাইন গ্রোথের ভার আরও বেশি করে TikTok-এর ওপর পড়ছে।
এটা গ্লোবাল ব্যবসার একটা বাস্তবতা—চীন বাজারে চাপ মানেই আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হওয়া। আর TikTok সেই আন্তর্জাতিক “গ্রোথ ইঞ্জিন”।
ByteDance প্রাইভেট কোম্পানি হওয়ায় তাদের ফাইনান্সিয়াল ডিটেইলস সবসময় পাবলিক হয় না, কিন্তু ইনভেস্টরদের “ভ্যালুয়েশন” থেকে একটা আন্দাজ পাওয়া যায়। Livemint/Bloomberg রিপোর্ট অনুযায়ী:
SoftBank-এর Vision Fund ByteDance-কে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রিভ্যালু করেছিল (গত বছর)।
Fidelity এবং T. Rowe Price যথাক্রমে ৪১০ বিলিয়ন ও ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ভ্যালু করেছে।
আরও সাম্প্রতিক সময়ে এক চীনা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ByteDance-এর শেয়ার ব্লক কিনেছে ৪৮০ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশন-এ—যা শক্তিশালী ইনভেস্টর ইন্টারেস্ট দেখায়।
এখন প্রশ্ন—টিকটক নিয়ে US চাপ থাকা সত্ত্বেও ইনভেস্টররা কেন এত আশাবাদী?
কারণ TikTok-এর ইউজার স্কেল, কমার্স সম্ভাবনা, বিজ্ঞাপন বাজার, এবং AI ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে ByteDance-কে তারা একধরনের “মেগা-ইন্টারনেট প্লেয়ার” হিসেবেই দেখছে।
রিপোর্টে উল্লেখ আছে, ByteDance শুধু ভিডিও বা কমার্স নয়; তারা AI-তেও বড় খেলোয়াড় হতে চাইছে। তারা large language models, chatbots এবং নানা AI সার্ভিস ডেভেলপ করছে, এবং এই ক্ষেত্রে তারা Alibaba ও Tencent-এর মতো চীনা জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
এটা ভবিষ্যতের আরেকটা বড় দিক:
যদি AI-ভিত্তিক কনটেন্ট সাজেশন, বিজ্ঞাপন টার্গেটিং, কমার্স রিকমেন্ডেশন আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে TikTok-এর রেভিনিউ স্কেল আরও বড় হতে পারে—কারণ AI যত নিখুঁত হবে, তত বেশি সময় মানুষ অ্যাপে থাকবে, তত বেশি কেনাকাটা করবে, আর বিজ্ঞাপনদাতার ROI বাড়বে।
এখন দর্শকের বড় প্রশ্ন—US জয়েন্ট ভেঞ্চার হলে লাভ কার? ক্ষতি কার?
(ক) TikTok ইউজারদের দিক থেকে:
যদি ডেটা US-এর ভেতরে সুরক্ষিতভাবে থাকে, কনটেন্ট মডারেশন US নিয়মে হয়, তাহলে TikTok বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে। Reuters-এ Oracle-কে ডেটা সুরক্ষার “trusted security partner” বলা হয়েছে।
(খ) ক্রিয়েটর ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দিক থেকে:
TikTok বন্ধ হয়ে গেলে মার্কেটিং ইকোসিস্টেমে বড় ধাক্কা লাগত। জয়েন্ট ভেঞ্চার হলে প্ল্যাটফর্ম সচল থাকবে, ব্র্যান্ড ডিল, অ্যাড ক্যাম্পেইন চালু থাকবে।
(গ) ByteDance-এর দিক থেকে:
ByteDance ১৯.৯% রেখে প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। কিন্তু “কন্ট্রোল” কমে গেলে তাদের স্ট্র্যাটেজি, অ্যালগরিদম ও প্রোডাক্ট সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই যায়।
(ঘ) রাজনীতির দিক থেকে:
ডিলটি নিয়ে US আইনপ্রণেতাদের একাংশ সন্তুষ্ট হলেও, অন্য অংশ প্রশ্ন তুলতে পারে—অ্যালগরিদম কাদের হাতে, ByteDance-এর প্রভাব কতখানি, এবং “ব্যাকডোর ইনফ্লুয়েন্স” আছে কি না। Reuters রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট সেনেটর Elizabeth Warren এই ডিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রিপোর্ট বলছে, Washington-এর scrutiny সত্ত্বেও TikTok দ্রুত গতিতে বিশ্বজুড়ে এক্সপ্যান্ড করেছে—US-এও।
এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ TikTok-এর ব্যবহারকারীর বড় অংশ US-সহ ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। TikTok-এর প্ল্যাটফর্ম যদি গ্লোবাল মার্কেটে আরও গভীর হয়—তাহলে ByteDance-এর “নতুন বাজারে ইনরোড” স্ট্র্যাটেজি বাস্তব রূপ পায়।
এখানে ভারতীয় দর্শকের জন্য কয়েকটি দিক আছে:
গ্লোবাল টেক ট্রেন্ড: TikTok-কে ঘিরে যে রাজনৈতিক-নিরাপত্তা বিতর্ক, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য অ্যাপ, AI প্ল্যাটফর্ম, ডেটা-হোস্টিং নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ই-কমার্স ও লাইভ-শপিং ট্রেন্ড: ভারতে শর্ট ভিডিও, রিলস-ভিত্তিক কমার্স দ্রুত বাড়ছে। TikTok যদি গ্লোবালি লাইভ-শপিং মডেল স্ট্যান্ডার্ডাইজ করে, ভারতীয় ইকোসিস্টেমও তার প্রভাব অনুভব করবে।
ক্রিয়েটর ইকোনমি: TikTok-এর স্কেল দেখায়—ক্রিয়েটর ইকোনমি কত বড় ব্যবসা হতে পারে। ByteDance-এর লাভের গল্প ক্রিয়েটরদের জন্য সুযোগ ও প্রতিযোগিতা—দুটোই বাড়াবে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সামনে নজর রাখতে হবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে:
চীনা রেগুলেটররা ডিল অনুমোদন করবে কি না—কারণ Livemint রিপোর্ট অনুযায়ী এটি “key requirement”।
জয়েন্ট ভেঞ্চার বাস্তবে কতটা “ইন্ডিপেন্ডেন্ট” হয়—ডেটা, কনটেন্ট, অ্যালগরিদম—সব দিক থেকেই।
ডিল ক্লোজিং (২২ জানুয়ারি ২০২৬)—এই সময়সীমা ধরে রাখতে পারবে কি না।
US কংগ্রেস/হিয়ারিং—Reuters রিপোর্টে ২০২৬-এ শুনানির প্রসঙ্গ এসেছে।
এবং সবশেষে—ByteDance-এর প্রফিট “প্রায় ৫০ বিলিয়ন” ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফাইনাল অডিটেড ফিগারে কত দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে ByteDance-এর ২০২৫-এর লাভের সম্ভাব্য রেকর্ড—একদিকে যেমন টেক ইন্ডাস্ট্রির শক্তি, প্ল্যাটফর্ম ইকোনমি, ও ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ দেখাচ্ছে—অন্যদিকে TikTok-কে ঘিরে US জাতীয় নিরাপত্তা-রাজনীতি, ডেটা সার্বভৌমত্ব, এবং অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের লড়াইও সামনে আনছে।