মৌবনী সরকার, পি.সি. সরকার জুনিয়রের মেজ কন্যা, এবার বিয়ে করছেন। তার পাত্র সৌম্য রায়, রিসার্চ অ্যানালিস্ট, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর কলকাতায় ফিরেছেন।বিয়েটি হবে বাঙালি রীতি অনুযায়ী, ভরপুর সাহিত্য, শিল্প ও স্বাদে সাজানো অনুষ্ঠান।
গত বছরের শেষ থেকে শুরু হয়েছিল মৌবনী সরকারের পাত্র খোঁজার কাজ। শিল্প ও সাহিত্যপ্রেমী এই মেধাবী মেয়ে সকলের নজর কাড়েছিলেন তার শিক্ষা, সামাজিক আচরণ এবং সংস্কৃতিপ্রেমের কারণে। বিভিন্ন পন্থায় পাত্র খোঁজা হলেও, শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ মাধ্যমেই মিলেছিল মনের মতো জীবনসঙ্গী।
নভেম্বরের শেষেই মৌবনী পিঁড়িতে বসবেন, তার জীবনসঙ্গী হচ্ছেন সৌম্য রায়। সৌম্য পেশায় রিসার্চ অ্যানালিস্ট। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর বর্তমানে কলকাতাতেই থাকছেন তিনি। মৌবনীর পরিবারের সঙ্গে সৌম্যের পরিচয় বেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠেছে। তাঁদের সাক্ষাৎ, আলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে প্রেম ও আস্থা, যা শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
মৌবনী বলেন, “সৌম্য অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য মনস্ক, বুদ্ধিমান এবং সংস্কৃতিপ্রেমী। সাহিত্য, শিল্প ও লেখালেখির প্রতি তার ভালোবাসা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এছাড়াও, তার সহজ-সরল প্রকৃতি আমাদের পরিবারের সবার মন জয় করেছে।”
সৌম্য ও মৌবনীর বিয়ে হবে সম্পূর্ণ বাঙালি রীতি অনুযায়ী। সরকার পরিবারের ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনে সব আয়োজন করা হচ্ছে। বেনারস থেকে আসছে বেনারসি শাড়ি, যা বিয়ের রঙিন পরিপ্রেক্ষিতকে আরও জীবন্ত করে তুলবে। বিয়ের মেনুতেও থাকবে সম্পূর্ণ বাঙালি স্বাদ—মাছ, মাটন, মিষ্টি, এবং আরও নানা ধরনের পদের আয়োজন।
গত বছরের শেষ থেকেই শুরু হয়েছিল মৌবনী সরকারের পাত্র খোঁজার কাজ। সরকার পরিবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমী পরিবার। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই চাইতেন, মৌবনী যেন এমন জীবনসঙ্গী পায় যিনি তার মেধা, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সঙ্গে মানানসই। বিভিন্ন সূত্রে পাত্র খোঁজার চেষ্টা চললেও, শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিলেছে মনের মতো জীবনসঙ্গী—সৌম্য রায়।
সৌম্য পেশায় রিসার্চ অ্যানালিস্ট। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর বর্তমানে কলকাতায় থাকছেন তিনি। সৌম্যের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পরই বোঝা গেছে, দু’জনের মধ্যে কেবল ভালোবাসা নয়, সাংস্কৃতিক ও মানসিক মিলও অত্যন্ত শক্তিশালী। মৌবনী বলেন, “সৌম্য অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য, বুদ্ধিমান এবং সংস্কৃতিপ্রেমী। সাহিত্য, শিল্প ও লেখালেখির প্রতি তার ভালোবাসা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এছাড়াও তার সহজ-সরল প্রকৃতি আমাদের পরিবারের সবার মন জয় করেছে।”
বিয়ে হবে সম্পূর্ণ বাঙালি রীতি অনুযায়ী। সরকার পরিবারই সব আয়োজনের মূল পরিকল্পনা করছে। বেনারস থেকে আসছে বেনারসি শাড়ি, যা বিয়ের পরিপ্রেক্ষিতকে আরও রঙিন করবে। সাজ-সজ্জা, খাবার, সানাইয়ের সুর—সবই ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে।
মৌবনীর বিয়ের প্রস্তুতি ছিল মাসব্যাপী। পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিয়ের দিন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু সাজানো হয়েছে। বেনারসের বিশেষ শাড়ি, গহনা, এবং প্যান্ডেল সাজানোর বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে।
খাবারের বিষয়ে পরিবার কোনো ছাড় দেয়নি। বাঙালি খাবারের সমৃদ্ধ মেনুতে থাকবে মাছ, মাটন, শাক-সবজি, রসমালাই, সন্দেশ এবং আরও নানা ধরনের মিষ্টি। প্রতিটি পদে বাঙালি ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মৌবনী নিজেও মেনু নিয়ে বেশ উৎসাহী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে বাঙালি বিয়ে মানেই পুরো পরিবার এবং অতিথিরা যেন আমাদের সংস্কৃতির স্বাদ অনুভব করতে পারেন। তাই খাবার, সজ্জা, প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান—all must reflect our heritage।”
শ্বশুরবাড়ির পরিবারও এই আয়োজনকে সবার সঙ্গে মিলিয়ে করতে ব্যস্ত ছিলেন। সৌম্যের মা-বাবা এবং ভাইবোনরা বিয়ের প্রতিটি দিক মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন। তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় এবং আনন্দময় হবে।
৩০ নভেম্বরের বিয়ের দিনটি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে আচার-অনুষ্ঠান হবে।
সকাল: সকালেই শুরু হবে ফুল ও প্যান্ডেল সাজানোর কাজ। অতিথিদের আগমনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাঙালি রীতিতে পাত্র ও পাত্রীর পরিবারের আলাদা আলাদা স্বাগত ব্যবস্থা থাকবে।
দুপুর: দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে মেহেদি ও হালদি অনুষ্ঠান। মৌবনী ও সৌম্য দু’জনেই এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মেহেদি প্রথায় পরিবারের সদস্যরা মুখ ও হাত-পায়ে মেহেদি লাগাবেন। গান ও নাচের মাধ্যমে পরিবেশ হবে প্রাণবন্ত।
সন্ধ্যা: সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান। পাত্র-পাত্রীর প্রবেশ, সানাইয়ের সুর, শাড়ি ও গহনার রঙিন পরিপ্রেক্ষিত—সবই ঐতিহ্যকে জীবন্ত করেছে। বিয়ে হবে বাঙালি রীতি অনুযায়ী, যেখানে “ফুলের মালা”, “সপ্তপদী” এবং “আষ্ঠমঙ্গল” সহ অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হবে।
বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন পরিবার ও বন্ধুবান্ধব, শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ, সহকর্মী এবং সমাজের নানা স্তরের অতিথি। অনুষ্ঠানটি শুধু দুই পরিবারের মিলন নয়, বরং কলকাতার সমাজিক এবং সাংস্কৃতিক মিলনের প্রতীক।
অতিথিদের জন্য ভেন্যুতে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে—রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা, বসার ব্যবস্থা, প্যান্ডেল সাজানো, এবং পরিবেশ। প্রতিটি অতিথি যাতে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পারে, তার জন্য খেয়াল রাখা হয়েছে।
৩০ নভেম্বরের বিয়ের দিনটি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে আচার-অনুষ্ঠান হবে। দুপুরে হবে মেহেদি ও গায়ে হালদি অনুষ্ঠানের আয়োজন। সন্ধ্যায় শুরু হবে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান।
বিয়ের রীতি সম্পূর্ণ বাঙালি। সানাইয়ের সুর, প্যান্ডেল সাজানো, শাড়ি ও গহনার রঙিন পরিপ্রেক্ষিত—সবই ঐতিহ্যকে জীবন্ত করেছে। মৌবনী ও সৌম্য উভয়েই আচার-অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। তারা প্রতিটি ধাপেই একে অপরের সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রাখছেন।
মৌবনী এবং সৌম্য উভয়েই বিয়ে উপলক্ষে খুশি ও উত্তেজিত। মৌবনী বলেন, “এটা শুধু আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন নয়, বরং আমার পরিবারের জন্যও অত্যন্ত বিশেষ। আমরা চাই, এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকুক। সৌম্য সব দিকেই আমার পাশে রয়েছে। আমরা একে অপরকে সমর্থন করি এবং একে অপরের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করি।”
সৌম্যও অনুভব করছেন একইভাবে। তিনি বলেন, “মৌবনী অত্যন্ত মেধাবী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং সহজ-সরল মনোরম। তার সঙ্গে জীবন কাটানো এক অনন্য আনন্দের বিষয়। আমরা উভয়েই চাই আমাদের বিয়ে যেন আমাদের ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হয়।”
বিয়েতে শুধু পারিবারিক মিলন নয়, বরং সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলনও ছিল চোখে পড়ার মতো। মৌবনী এবং সৌম্য দু’জনেই সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি আগ্রহী। অতিথিরা বিয়ের আয়োজনের প্রতিটি ধাপেই তা দেখতে পাচ্ছেন। বিশেষভাবে বাঙালি শিল্পকলা ও সংগীত অনুষ্ঠান এই মিলনের অংশ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিয়ের পর মৌবনী ও সৌম্য কলকাতায় বসবাস করবেন। তারা চাইছেন নিজেদের পেশাগত ও সাংস্কৃতিক আগ্রহ বজায় রেখে পরিবার গড়বেন। দু’জনেই মনে করেন যে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রতি সম্মানই তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী রাখবে।
বিয়ের দিনটি যেমন বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে সাজানো হয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতে তারা আধুনিক জীবন ও মূল্যবোধের সঙ্গেও খাপ খাইয়ে চলার পরিকল্পনা করেছেন।
মৌবনী সরকার ও সৌম্য রায়ের বিয়ে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বিয়ের এক দৃষ্টান্ত। যেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং পরিবারের সমর্থন সমান গুরুত্ব পেয়েছে। ৩০ নভেম্বরের অনুষ্ঠানটি কেবল একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং কলকাতার বাঙালি সমাজের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
এই বিয়ে প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা ও বোঝাপড়া কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তি নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনেরও প্রধান উপাদান। মৌবনী এবং সৌম্য তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন—with love, respect, and tradition at the heart of everything they do.
সাজ-সজ্জা থেকে শুরু করে খাবারের তালিকা, সানাইয়ের সুর পর্যন্ত সব কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে এমনভাবে যাতে অতিথিরা বাঙালি সংস্কৃতির পূর্ণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন। বিয়ের দিন, ৩০ নভেম্বর, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এক স্থানে আয়োজিত হবে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম।
শ্বশুরবাড়ির পরিবারও বিয়ের আয়োজন নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। সৌম্যর পরিবারের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও সৌজন্য মৌবনীর পরিবারকে মুগ্ধ করেছে। পরিবার দুটি মিলেমিশে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে এই দিনটি স্মরণীয় হয়।
মৌবনী ও সৌম্যের প্রেমের গল্পটি আধুনিক যুগের এক সুন্দর উদাহরণ। যেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বিয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিয়ের জন্য শুধু বাহ্যিক দিক নয়, মানসিক ও সাংস্কৃতিক মিলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।