Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নোকিয়া ৭৭১০: ২০০৪ সালেই স্মার্টফোন যুগের ভবিষ্যৎ দেখিয়ে দিয়েছিল যে ফোন

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া Nokia 7710 ভারতের মোবাইল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় তৈরি করেছিল। এটিকেই ভারতের প্রথম বড় টাচস্ক্রিন ফোন হিসেবে ধরা হয়। ৩.৫ ইঞ্চির বিশাল ওয়াইড টাচস্ক্রিন, সেই সময়ের জন্য অবিশ্বাস্য ৯০ এমবি ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং ন্যাভিগেশনের মতো আধুনিক ফিচার নিয়ে ফোনটি ছিল সত্যিকারের অগ্রদূত। যখন সাধারণ মোবাইল ফোনে শুধু কল আর মেসেজই ছিল প্রধান কাজ, তখন Nokia 7710 ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনের স্বাদ দিয়েছিল। এর ডিজাইন ও প্রযুক্তি আজকের স্মার্টফোন যুগের অনেক আগেই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিল। প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে Nokia 7710 আজও একটি কিংবদন্তি মাস্টারপিস হিসেবেই স্মরণীয়।

Nokia 7710: ভারতে টাচস্ক্রিন বিপ্লবের পথপ্রদর্শক

মোবাইল ফোনের ইতিহাসে এমন কিছু যন্ত্র আছে যারা তাদের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিল। Nokia 7710 ঠিক এমনই একটি কিংবদন্তি ডিভাইস যা ২০০৪ সালে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে মোবাইল প্রযুক্তির জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। যখন বেশিরভাগ মানুষ কীপ্যাড সহ সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করত, তখন Nokia 7710 হাজির হয়েছিল একটি বিশাল টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে নিয়ে যা সেই সময়ের জন্য ছিল একদম বিপ্লবী।

এই ফোনটি শুধুমাত্র একটি যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। Nokia 7710 ছিল সেই বিরল ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি যা প্রমাণ করেছিল যে মোবাইল ফোন শুধুমাত্র কল করা বা এসএমএস পাঠানোর যন্ত্র নয়, বরং এটি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে।

Nokia 7710 এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশাল ৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এই স্ক্রিন সাইজ ছিল অভাবনীয়। বেশিরভাগ মোবাইল ফোনে যেখানে দেড় থেকে দুই ইঞ্চির ছোট স্ক্রিন থাকত, সেখানে Nokia 7710 এর ওয়াইড স্ক্রিন ছিল একটি দৃষ্টিনন্দন অভিজ্ঞতা। এই স্ক্রিনটি শুধু বড়ই ছিল না, এর রেজোলিউশন ছিল ৬৪০ বাই ২০০ পিক্সেল যা সেই সময়ের মানদণ্ডে অত্যন্ত উন্নত। ওয়াইড ফরম্যাটের এই ডিসপ্লে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট দেখার জন্য, যা ভিডিও দেখা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি উপভোগ্য করে তুলেছিল।

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে Nokia 7710 ছিল সত্যিকারের অগ্রদূত। এটি রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি ব্যবহার করত যা স্টাইলাস বা আঙুলের চাপে সাড়া দিত। যদিও আজকের ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের তুলনায় এটি কম স্পর্শকাতর ছিল, তবুও সেই সময়ে এটি ছিল অত্যাধুনিক। Nokia বিশেষভাবে ডিজাইন করা একটি স্টাইলাস পেন প্রদান করেছিল যা ফোনের সাথে সংযুক্ত থাকত এবং নির্ভুল নেভিগেশনের সুবিধা দিত। এই টাচ ইন্টারফেস ব্যবহারকারীদের একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ইন্টারঅ্যাকশন অভিজ্ঞতা প্রদান করেছিল যা সেই সময়ের কীপ্যাড ভিত্তিক ফোনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক এবং সহজ ছিল।

স্টোরেজ ক্ষমতার দিক থেকেও Nokia 7710 ছিল যুগান্তকারী। এতে ছিল প্রায় ৯০ মেগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ যা সেই সময়ের জন্য ছিল বিশাল পরিমাণ। যখন বেশিরভাগ ফোনে মাত্র কয়েক মেগাবাইট মেমোরি থাকত এবং ব্যবহারকারীরা হাতেগোনা কিছু ছবি বা রিংটোন সংরক্ষণ করতে পারতেন, তখন Nokia 7710 এর ব্যবহারকারীরা শত শত ছবি, ডজনখানেক মিউজিক ফাইল এবং বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারতেন। এছাড়াও ছিল মাল্টিমিডিয়া কার্ড স্লট যার মাধ্যমে স্টোরেজ আরও বাড়ানো যেত। এই বিশাল স্টোরেজ ক্ষমতা Nokia 7710 কে একটি পোর্টেবল মাল্টিমিডিয়া সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

Nokia 7710 এর অন্যতম আকর্ষণীয় ফিচার ছিল এর বিল্ট ইন নেভিগেশন সিস্টেম। এটি ছিল সম্ভবত প্রথম ভারতীয় বাজারে আসা মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে একটি যাতে GPS ভিত্তিক নেভিগেশন সুবিধা ছিল। যদিও তখনকার নেভিগেশন সিস্টেম আজকের Google Maps এর মতো উন্নত ছিল না, তবুও এটি ব্যবহারকারীদের দিক নির্দেশনা এবং লোকেশন ট্র্যাকিং এর সুবিধা প্রদান করত। এই ফিচারটি বিশেষত ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। ফোনটিতে Nokia Maps সফটওয়্যার প্রি ইনস্টল করা থাকত যা সেই সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত উন্নত।

ক্যামেরার ক্ষেত্রেও Nokia 7710 পিছিয়ে ছিল না। এতে ছিল একটি ভিজিএ ক্যামেরা যা মোটামুটি ভালো মানের ছবি তুলতে পারত। যদিও আজকের মেগাপিক্সেলের যুগে এটি খুবই সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু ২০০৪ সালে এটি ছিল যথেষ্ট। ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশনটি বিশেষভাবে টাচস্ক্রিনের জন্য অপটিমাইজ করা ছিল এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভিন্ন সেটিংস পরিবর্তন করতে পারতেন। ছবি তোলার পর সেগুলো সরাসরি ইমেইলে পাঠানো বা মাল্টিমিডিয়া মেসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে শেয়ার করা যেত যা সেই সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক।

Nokia 7710 চলত Series 90 অপারেটিং সিস্টেমে যা ছিল Symbian OS এর একটি বিশেষ সংস্করণ। এই অপারেটিং সিস্টেমটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল টাচস্ক্রিন ডিভাইসের জন্য এবং এতে ছিল একটি সুন্দর ইউজার ইন্টারফেস যা ব্যবহার করা ছিল অত্যন্ত সহজ। Series 90 OS এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে পারতেন এবং ফোনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারতেন। অফিস ডকুমেন্ট ভিউয়ার, পিডিএফ রিডার এবং বিভিন্ন গেমস প্রি ইনস্টল করা থাকত। এছাড়াও Nokia এর অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে আরও অনেক অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার সুবিধা ছিল।

কানেক্টিভিটির দিক থেকে Nokia 7710 ছিল অত্যন্ত উন্নত। এতে ছিল GPRS এবং EDGE সাপোর্ট যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা যেত। যদিও আজকের 4G এবং 5G এর তুলনায় সেই ইন্টারনেট স্পিড অত্যন্ত ধীর ছিল, তবুও সেই সময়ে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর। ফোনটিতে একটি ফুল ফিচার্ড ওয়েব ব্রাউজার ছিল যা HTML পেজ রেন্ডার করতে পারত। এছাড়াও ছিল Bluetooth সাপোর্ট যার মাধ্যমে ওয়্যারলেসভাবে অন্যান্য ডিভাইসের সাথে ডেটা শেয়ার করা যেত এবং হ্যান্ডস ফ্রি ডিভাইস ব্যবহার করা যেত।

news image
আরও খবর

ইমেইল ফাংশনালিটির ক্ষেত্রেও Nokia 7710 ছিল অগ্রণী। এতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইমেইল ক্লায়েন্ট ছিল যা POP3 এবং IMAP উভয় প্রোটোকল সাপোর্ট করত। ব্যবসায়ীরা এই ফোনের মাধ্যমে যে কোন স্থান থেকে তাদের ইমেইল চেক করতে পারতেন এবং রিপ্লাই দিতে পারতেন। বড় স্ক্রিন এবং টাচ ইন্টারফেস ইমেইল পড়া এবং লেখাকে অনেক বেশি সহজ করে তুলেছিল। এছাড়াও ছিল ক্যালেন্ডার, টু ডু লিস্ট এবং নোট নেওয়ার সুবিধা যা এই ফোনকে একটি পূর্ণাঙ্গ পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টে পরিণত করেছিল।

মাল্টিমিডিয়া ক্ষমতার দিক থেকে Nokia 7710 ছিল ব্যতিক্রমী। এতে ছিল একটি শক্তিশালী মিউজিক প্লেয়ার যা বিভিন্ন ফরম্যাটের অডিও ফাইল সাপোর্ট করত। বড় স্পিকার এবং হেডফোন জ্যাক থাকায় মিউজিক শোনার অভিজ্ঞতা ছিল দুর্দান্ত। ভিডিও প্লেয়ারও ছিল যথেষ্ট সক্ষম এবং বিভিন্ন ফরম্যাটের ভিডিও ফাইল চালাতে পারত। ওয়াইড স্ক্রিনের কারণে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। এছাড়াও ছিল এফএম রেডিও যার মাধ্যমে লাইভ রেডিও স্টেশন শোনা যেত।

ডিজাইনের দিক থেকে Nokia 7710 ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এর ইউনিক ওয়াইড বডি ডিজাইন এবং বড় স্ক্রিন এটিকে অন্যান্য ফোন থেকে আলাদা করে তুলেছিল। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে ভারী এবং বড় ছিল, কিন্তু বিল্ড কোয়ালিটি ছিল চমৎকার। Nokia এর ঐতিহ্যবাহী মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি এই ফোনেও বজায় রাখা হয়েছিল। ফোনটির পিছনে ছিল একটি স্ট্যান্ড যা ডেস্কে রেখে ব্যবহারের সুবিধা দিত। এই স্ট্যান্ডের মাধ্যমে ফোনটিকে একটি ছোট মনিটরের মতো ব্যবহার করা যেত যা ভিডিও দেখা বা প্রেজেন্টেশন দেখার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক ছিল।

ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে Nokia 7710 মোটামুটি ভালো পারফরম্যান্স দিত। বড় স্ক্রিন এবং উন্নত ফিচারগুলো সত্ত্বেও ফোনটি একবার চার্জে প্রায় একদিন ব্যবহার করা যেত। অবশ্য ভারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যেত কিন্তু সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল গ্রহণযোগ্য। Nokia একটি অতিরিক্ত ব্যাটারির অপশনও দিয়েছিল যা ভারী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী ছিল।

Nokia 7710 এর মূল্য ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি কারণ এটি ছিল একটি প্রিমিয়াম ডিভাইস। ভারতীয় বাজারে এর দাম ছিল প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে যা সেই সময়ের জন্য ছিল বিশাল অঙ্ক। কিন্তু যে সব প্রযুক্তি প্রেমী এবং আর্লি অ্যাডপটাররা ছিলেন তারা এই মূল্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন কারণ এটি ছিল একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। Nokia 7710 মূলত টার্গেট করা হয়েছিল ব্যবসায়ী এবং প্রফেশনালদের জন্য যারা একটি সর্বাঙ্গীন মোবাইল সলিউশন খুঁজছিলেন।

তবে সব ভালো দিকের পাশাপাশি Nokia 7710 এর কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিন সব সময় খুব স্পর্শকাতর ছিল না এবং কখনো কখনো স্টাইলাস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ত। ফোনটির আকার এবং ওজন এটিকে পকেটে রাখা কিছুটা অসুবিধাজনক করে তুলেছিল। এছাড়াও ইন্টারনেট স্পিড এবং নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি সেই সময়ের ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কারণে সব সময় সন্তোষজনক ছিল না। কিন্তু এই সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও Nokia 7710 ছিল একটি যুগান্তকারী ডিভাইস যা মোবাইল প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিল।

আজকের প্রেক্ষাপটে পেছনে তাকালে বোঝা যায় যে Nokia 7710 ছিল সত্যিকারের একটি ভিশনারি প্রোডাক্ট। এটি যে ধারণাগুলো নিয়ে এসেছিল সেগুলো পরবর্তীতে স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বড় টাচস্ক্রিন, মাল্টিমিডিয়া ক্ষমতা, নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি এই সব ফিচার আজকের স্মার্টফোনের মূল ভিত্তি। Nokia 7710 প্রমাণ করেছিল যে মোবাইল ফোন শুধুমাত্র একটি কমিউনিকেশন ডিভাইস নয় বরং এটি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ পকেট কম্পিউটার।

দুর্ভাগ্যবশত Nokia 7710 বাণিজ্যিকভাবে খুব বেশি সফল হয়নি। এর উচ্চ মূল্য এবং কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু প্রযুক্তির ইতিহাসে Nokia 7710 এর স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছিল সেই পথপ্রদর্শকদের মধ্যে একটি যা আজকের স্মার্টফোন যুগের পথ তৈরি করেছে। যখন Apple iPhone ২০০৭ সালে বাজারে এসে টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন বিপ্লবের সূচনা করেছিল তখন Nokia 7710 ইতিমধ্যে তিন বছর আগে সেই ধারণার প্রদর্শনী করে গেছে।

Nokia 7710 এর উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে। এটি প্রমাণ করেছিল যে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া এবং ঝুঁকি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই ঝুঁকি সব সময় বাণিজ্যিক সফলতা নাও আনতে পারে কিন্তু এটি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আজ যখন আমরা আমাদের স্মার্টফোনের বড় টাচস্ক্রিনে সোয়াইপ করি তখন Nokia 7710 এর মতো পথপ্রদর্শক ডিভাইসগুলোর অবদান মনে রাখা উচিত যারা এই যাত্রা শুরু করেছিল অনেক আগে।

Preview image