পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসিতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর আজ সকালে এক বড়সড় পথ দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল একটি যাত্রীবাহী বাস। চলন্ত অবস্থায় বাসের সামনের টায়ার ফেটে গেলেও চালকের অসামান্য দক্ষতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির জেরে বাসে থাকা প্রায় ৫০ জন যাত্রী সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর নেই।
পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের (যা পূর্বে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক বা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে নামে পরিচিত ছিল) ওপর আজ সকালে এমন এক চাঞ্চল্যকর এবং উৎকণ্ঠাপূর্ণ ঘটনা ঘটল, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের মনে দীর্ঘ সময়ের জন্য এক গভীর রেখাপাত করে গেল। প্রতিদিনের মতো আজও জাতীয় সড়কের এই ব্যস্ত অংশ দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন প্রবল গতিতে ছুটে চলছিল। কিন্তু সকালের ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে যেতে পারত এক মর্মান্তিক এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। আসানসোল থেকে ছেড়ে আসা এবং বর্ধমানগামী একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের সামনের টায়ার চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে সজোরে ফেটে যায়। সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পাল্টি খেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে, প্রাণ যায় অসংখ্য নিরীহ মানুষের। কিন্তু আজকের দিনটি ছিল এক অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার দিন। বাসের চালকের অসামান্য দক্ষতা, অসীম সাহস এবং মুহূর্তের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বাসে থাকা প্রায় ৫০ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ অক্ষত এবং সুরক্ষিত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি তো দূর, কারোর শরীরে একটি সামান্য আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি। এই জাদুকরী বাঁচার ঘটনা সমগ্র জেলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এবং বাসের চালক আজ সকলের কাছে এক প্রকৃত হিরো বা নায়ক হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ। আসানসোল থেকে যাত্রীতে ঠাসা বাসটি বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বাসের ভেতরে ছিলেন অফিস যাত্রী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং বহু সাধারণ মানুষ। গলসি বাজার সংলগ্ন এলাকায় যখন বাসটি পৌঁছায়, তখন তার গতি ছিল যথেষ্ট স্বাভাবিক। কিন্তু আচমকাই বিকট একটি শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা বাস। সামনের ডানদিকের চাকার টায়ারটি মাঝরাস্তায় প্রচণ্ড শব্দে ফেটে যায়। টায়ার ফাটার সাথে সাথেই বাসটি তীব্রভাবে ডানদিকে হেলে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাতীয় সড়কের ডিভাইডারের দিকে ধেয়ে যেতে শুরু করে। বাসের ভেতরের যাত্রীরা আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে নিজেদের সিট থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হন এবং চারদিকে এক চরম আতঙ্ক ও কান্নার রোল ওঠে। যাত্রীরা নিশ্চিত ছিলেন যে বাসটি এবার ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উল্টে যাবে এবং এক ভয়াবহ মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হবে তাদের।
কিন্তু ঠিক সেই মৃত্যুভয় এবং আতঙ্কের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসের চালক, বছর পঁয়তাল্লিশের অভিজ্ঞ ড্রাইভার শেখর দাস, নিজের স্নায়ুর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। তিনি বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত না হয়ে স্টিয়ারিং হুইলটি প্রচণ্ড শক্তিতে চেপে ধরেন। তিনি জানতেন, এই মুহূর্তে যদি তিনি জোরে ব্রেক কষেন, তবে গতির কারণে বাসটি মাঝরাস্তাতেই ডিগবাজি খাবে এবং পেছনের দিক থেকে আসা অন্যান্য দ্রুতগামী গাড়িগুলো বাসের ওপর এসে আছড়ে পড়বে, যার ফলে একটি চেইন অ্যাক্সিডেন্ট বা শৃঙ্খল দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। তাই তিনি ব্রেক না কষে, বাসটিকে অত্যন্ত ধীরেসুস্থে এবং দক্ষতার সাথে ডিভাইডারের দিক থেকে বাঁদিকে ঘোরাতে শুরু করেন। ইঞ্জিনের গিয়ার কমিয়ে তিনি গাড়ির গতি ধীর করে আনেন এবং জাতীয় সড়কের বাঁদিকের মাটির রাস্তার ওপর, যেখানে একটি ফাঁকা ঘাসে ঢাকা নরম প্রান্তর ছিল, সেখানে বাসটিকে নামিয়ে নিয়ে যান। নরম মাটিতে চাকা বসে যাওয়ার কারণে বাসটির গতি সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ হয় এবং একটি বড় গাছের মাত্র কয়েক হাত আগে গিয়ে বাসটি সম্পূর্ণ নিরাপদে দাঁড়িয়ে পড়ে।
বাসটি পুরোপুরি থেমে যাওয়ার পর কয়েক মুহূর্তের জন্য ভেতরে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। যাত্রীরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে তারা বেঁচে আছেন। এরপরই বাসের দরজা খুলে যায় এবং চালক শেখর বাবু নিজে যাত্রীদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। স্থানীয় গলসি এলাকার মানুষজন, যারা এই রোমহর্ষক দৃশ্য নিজেদের চোখে দেখেছেন, তারা সব কাজ ফেলে ছুটে আসেন বাসটির দিকে। তারা আতঙ্কিত যাত্রীদের হাত ধরে অত্যন্ত সাবধানে বাস থেকে নিচে নামিয়ে আনেন। স্থানীয় যুবকরা এবং মহিলারা যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করেন, তাদের চোখেমুখে জল দেন এবং পানীয় জল পান করতে দেন। অনেক বয়স্ক যাত্রী এবং মহিলারা ভয়ে কাঁপছিলেন, স্থানীয় মানুষজন তাদের সান্ত্বনা দেন এবং পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গলসি থানার ট্রাফিক পুলিশ এবং হাইওয়ে পেট্রলিং ভ্যান ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
পুলিশ এসে প্রথমেই যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। দেখা যায়, কয়েকজন যাত্রীর আকস্মিক ব্রেক কষার কারণে সামান্য পেশিতে টান বা ঘাড়ে সামান্য ব্যথা অনুভূত হচ্ছে, কিন্তু তা ছাড়া কারোরই কোনো রক্তপাত বা গুরুতর আঘাত লাগেনি। সুরক্ষার খাতিরে পুলিশ তবুও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রাথমিক চিকিৎসার দল ডেকে পাঠায়। চিকিৎসকরা এসে যাত্রীদের পরীক্ষা করেন এবং নিশ্চিত করেন যে সকলেই সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত। এই খবরে যাত্রীদের পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক বিশাল স্বস্তির আবহ তৈরি হয়।
বাসের যাত্রীরা, যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, তারা চালক শেখর দাসকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় স্কুল শিক্ষক অতনু বিশ্বাস, যিনি ওই বাসের সামনের দিকের সিটেই বসেছিলেন, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি নিজের চোখে দেখেছি কীভাবে টায়ার ফাটার পর বাসটি ডানদিকে ছিটকে যাচ্ছিল। আমি চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের নাম জপতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার দাদা যেভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্টিয়ারিং ধরে রেখে আমাদের নরম মাটিতে নামিয়ে আনলেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। উনার হাতের জোর এবং উপস্থিত বুদ্ধি না থাকলে আজ আমরা কেউ এই সূর্য দেখতে পেতাম না। উনি আমাদের কাছে আজ সাক্ষাৎ ঈশ্বরের রূপ।" অন্যান্য যাত্রীরাও চালকের এই অসামান্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চালক শেখর দাস, যিনি গত কুড়ি বছর ধরে এই রুটে বাস চালাচ্ছেন, তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান, "টায়ার ফাটার পর আমার মাথাতেও কয়েক সেকেন্ডের জন্য ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুরছিল যে, আমার পেছনে পঞ্চাশটা প্রাণ বসে আছে। এদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমার। আমি যদি ঘাবড়ে গিয়ে ব্রেক মারতাম, তাহলে বাস পাল্টি খেয়ে যেত। আমি শুধু স্টিয়ারিংটা সোজা রাখার চেষ্টা করেছি আর বাঁদিকের ফাঁকা মাঠটা খুঁজছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় আমি বাসটাকে নিরাপদে থামাতে পেরেছি। যাত্রীদের কারোর যে কোনো ক্ষতি হয়নি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি।" গলসি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক চালক শেখর দাসের পিঠ চাপড়ে দেন এবং তার এই দায়িত্বশীল আচরণের জন্য তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাটি যদিও কোনো মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনেনি, কিন্তু এটি জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, চলন্ত বাসের টায়ার ফেটে যাওয়ার বিষয়টি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেনেন্স নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। পরিবহন দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসের টায়ার, ব্রেক এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। টায়ারের গ্রিপ ক্ষয়ে গেলে বা পুরনো হয়ে গেলে তা অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু অনেক বাস মালিক বেশি লাভের আশায় এবং খরচ কমানোর জন্য পুরনো এবং ক্ষয়প্রাপ্ত টায়ার দিয়েই দিনের পর দিন বাস চালান। গ্রীষ্মকালে যখন পিচের রাস্তার তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, তখন দ্রুতগতিতে চলা অবস্থায় এই পুরনো টায়ারগুলো অতিরিক্ত গরমে প্রসারিত হয়ে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। আজকের ঘটনাটি হয়তো চালকের দক্ষতায় বেঁচে গেছে, কিন্তু সব দিন সমান হয় না। তাই পুলিশের উচিত এই ঘটনার পর বাসের মালিককে তলব করা এবং টায়ারের ফিটনেস সার্টিফিকেট যাচাই করা। যদি দেখা যায় যে টায়ার পুরনো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে, তবে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরিবহন ব্যবসায়ী যাত্রীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পান।
দ্বিতীয়ত, জাতীয় সড়কের পরিকাঠামো এবং ইমার্জেন্সি লেন বা জরুরি অবস্থার রাস্তার বিষয়টি এই ঘটনায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে। আজ বাসের চালক বাঁদিকে ফাঁকা নরম মাটির প্রান্তর পেয়েছিলেন বলে বাসটিকে নিরাপদে নামাতে পেরেছিলেন। কিন্তু ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের অনেক জায়গাতেই রাস্তার ঠিক পাশেই গভীর খাদ, অবৈধ নির্মাণ বা বড় বড় দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। যদি আজ এই ঘটনাটি এমন কোনো জায়গায় ঘটত যেখানে বাঁদিকে ঘোরার কোনো উপায় নেই, তবে ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারত। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এনএইচএআই এর উচিত জাতীয় সড়কের দুই ধারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপের জায়গা সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা, যাকে হার্ড শোল্ডার বা ইমার্জেন্সি লেন বলা হয়, যাতে যেকোনো গাড়ি যান্ত্রিক গোলযোগের সময় নিরাপদে রাস্তার পাশে দাঁড়াতে পারে। এর পাশাপাশি, হাইওয়ের ডিভাইডারগুলোতে ক্র্যাশ ব্যারিয়ার বা আঘাত প্রতিরোধক ইস্পাতের বেড়া আরও উন্নত মানের হওয়া প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনাটি আমাদের চালকদের প্রশিক্ষণের গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয়। শেখর দাসের মতো অভিজ্ঞ চালকরা জানেন কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক তরুণ এবং অনভিজ্ঞ চালক ভারী যাত্রীবাহী বাস চালাচ্ছেন, যাদের এই ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার কোনো বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণ নেই। পরিবহন দপ্তরের উচিত প্রতিটি ভারী যানের চালকের জন্য বছরে অন্তত একবার সিমুলেটর বেসড বা কৃত্রিমভাবে তৈরি জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা। চলন্ত অবস্থায় ব্রেক ফেল করলে, টায়ার ফাটলে বা রাস্তায় হঠাৎ কিছু চলে এলে কীভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয়, তার বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ থাকলে বহু দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
গলসি থানার পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করে এবং উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অত্যন্ত নিরাপদে তাদের গন্তব্যস্থল বর্ধমানের দিকে রওনা করিয়ে দেয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং জাতীয় সড়কের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা হয়। স্থানীয় মানুষজন, যারা এই পুরো উদ্ধারকাজে পুলিশকে সাহায্য করেছেন, তাদের মানবিকতাও আজ প্রশংসার দাবি রাখে। যেকোনো বিপদের সময় সাধারণ মানুষ যদি এভাবেই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তবে অনেক বড় বিপর্যয় সহজেই মোকাবিলা করা যায়।
আজকের এই দিনটি গলসি এবং বর্ধমানবাসীর কাছে এক বিশাল স্বস্তির দিন হিসেবে মনে থাকবে। যেখানে প্রতিদিন আমরা খবরের কাগজে পাতা খুললেই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং কান্নার খবর দেখি, সেখানে এমন একটি খবর সত্যিই মনে এক ইতিবাচক আশার সঞ্চার করে। এটি আমাদের বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা যেকোনো নিশ্চিত মৃত্যুকেও হারিয়ে দিতে পারে। শেখর দাসের মতো চালকরাই হলেন সমাজের আসল হিরো, যারা প্রতিদিন নীরবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। আমরা আশা করি, পরিবহন দপ্তর এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর আরও বেশি জোর দেবে। সাধারণ যাত্রীদেরও উচিত গাড়িতে ওঠার সময় চালককে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে বারণ করা এবং নিজেদের সুরক্ষার প্রতি সচেতন থাকা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং সতর্কতায় আমাদের রাস্তাগুলো একদিন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং দুর্ঘটনা মুক্ত হয়ে উঠবে, এটাই আমাদের একান্ত কাম্য।