Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রীতি সরকার ‘পরিণীতা’ হিন্দি রিমেকে অভিনয় শুরু করলেন: টুসু চরিত্রে আত্মপ্রকাশ

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় প্রীতি সরকার এবার ওটিটি স্ক্রিনে, পরিণীতা হিন্দি রিমেকে টুসু চরিত্রে।প্রীতি সরকার অডিশনের মাধ্যমে পেলেন অভিনয়ের সুযোগ, প্রথম দিনের সেটে পরমব্রতকে দেখে উচ্ছ্বসিত।কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পাশাপাশি এবার নিয়মিত অভিনয়ে হাতেখড়ি নিলেন প্রীতি।রাজ চক্রবর্তী পরিচালনায় প্রীতির অভিজ্ঞতা মধুর সহজভাবে শিখিয়েছেন পরিচালক, অভিনয়ে উচ্ছ্বাসিত প্রীতি।

বাংলার সোশ্যাল মিডিয়া দুনিয়ায় অনেকেই পরিচিত ‘প্রীতি শি ইজ’ নামে। অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে শুরু করে নিজের ক্লোদিং ব্র্যান্ড, প্রীতি সরকার সম্প্রতি সেই সব পরিচয়কে ছাড়িয়ে নতুন দিগন্তে পা রাখলেন। সম্প্রতি তিনি রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘পরিণীতা’-র হিন্দি রিমেকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। বাংলা সংস্করণে যে চরিত্রে অদ্রিজা রায় অভিনয় করেছিলেন, সেই ‘টুসু’ চরিত্রে এবার দেখা যাবে প্রীতিকে।

প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন নানা ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন দিয়ে। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, কমেডি, ট্রেন্ডি চ্যালেঞ্জ—সবকিছুতেই তাঁর ভক্তদের ভালোবাসা। এমন একটি অবস্থায়, প্রীতির অভিনয় জগতে পা রাখা নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও ভক্তদের কাছে এটি যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়। প্রীতি জানালেন, “অফার পাইনি, আমি অডিশন দিয়েছিলাম। পরে লুক টেস্ট হয়, সেখান থেকেই সুযোগ এসেছে।”

প্রথম দিন সেটে গিয়ে প্রীতি এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে সহ-অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে দেখার মুহূর্তে তিনি হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। প্রীতি বলেন, “পরমদা জানিয়েছিলেন, উনি আমার ভিডিও দেখেন! সেটা শুনে তো আমার আনন্দের সীমা ছিল না।” এই মুহূর্তটি প্রীতির জন্য মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা তাকে অভিনয় জগতে পথ দেখাতে সাহায্য করেছে, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় কাজ করা প্রীতির জন্য এক অভিজ্ঞতা ছিল। “রাজদা ভীষণ কুল, একদম ঠান্ডা মাথার মানুষ। খুব যত্ন নিয়ে শিখিয়েছেন,” প্রীতি জানালেন। পরিচালক প্রীতিকে কেবল তার স্ক্রিপ্টের চরিত্রের জন্য নয়, বরং অভিনয় কলার দক্ষতাকে আরো উন্নত করার জন্যও সাহায্য করেছেন।

প্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে প্রীতি ইতিমধ্যেই একটি বিশাল ভক্তপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সঙ্গে একটি নেটিভ সংযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। তবে, ওটিটি জগতে প্রবেশ করা মানে শুধু ভক্তদের জন্য নতুন কনটেন্ট তৈরি নয়; এটি একটি নতুন আঙ্গিক, যেখানে দক্ষতা, সংলাপ এবং অভিনয় কৌশল ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

প্রীতি জানালেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও এবং ওটিটির জন্য অভিনয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সময়ের সাথে চরিত্রের আবহ তৈরি করতে হয়, যা আগে আমি শিখিনি। তাই শুরুটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হলেও খুবই আনন্দদায়ক।”

টুসু চরিত্রটি বাংলা সংস্করণে অদ্রিজা রায়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত। হিন্দি রিমেকে প্রীতি এই চরিত্রে নতুন জীবন দেবেন। টুসু হলো একটি সাধারণ, মানবিক চরিত্র, যার সঙ্গে দর্শক সহজেই সংযোগ করতে পারেন। প্রীতি চরিত্রটি নিয়ে বলেন, “টুসু চরিত্রটি খুব মানবিক এবং মিষ্টি। এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি নিজেই চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছি। আমার লক্ষ্য হলো দর্শকরা চরিত্রের সঙ্গে আবেগগতভাবে সংযোগ অনুভব করুক।”

প্রতি দৃশ্যে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করা প্রীতির জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা শুধু অভিনয় নয়, বরং সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি শিক্ষা। প্রীতি বলেন, “পরমদা খুবই সহায়ক। তিনি শুধু আমার জন্য নির্দেশনা দেন না, বরং অভিনয় করতে উৎসাহিত করেন। এটি আমার জন্য এক বিশাল প্রেরণা।”

news image
আরও খবর

ওটিটি জগতে কাজ করা মানে শুধুই বড় পর্দায় অভিনয় নয়। এটি এমন একটি মাধ্যম, যেখানে চরিত্রের গভীরতা, সংলাপের নান্দনিকতা এবং দৃশ্যের দীর্ঘায়ু সমান গুরুত্ব পায়। প্রীতি জানালেন, “ওটিটি রিমেকে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম যে, প্রতিটি ছোট ইমোশনাল মুভমেন্টও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা এতটা গভীরভাবে বোঝার সুযোগ নেই।”

প্রীতি আশা করছেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে নিয়মিত অভিনয়ের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “ইচ্ছা তো রয়েছে, দেখা যাক কী হয়। আমি চাই নিয়মিত অভিনয় করব। তবে এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং ক্লোদিং ব্র্যান্ডও চলবে।”

প্রীতি শুধুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নয়। তার নিজের ক্লোদিং ব্র্যান্ডও রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি নতুন ট্রেন্ড দেখান এবং তার ভক্তদের সাথে ফ্যাশন সংক্রান্ত টিপস শেয়ার করেন। এবার সেখানে যুক্ত হলো ওটিটি অভিনয়। এই তিনটি ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “সবকিছু সামলানো সহজ নয়। তবে আমি চেষ্টা করি প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার সেরাটা দিতে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভক্তরা আমাকে সমর্থন করেন, যা আমাকে নতুন জায়গায় কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।”

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রীতি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তা তাকে নতুন কাজের সুযোগ এনে দিচ্ছে। কিন্তু এই ভক্তদের সমর্থনই তাকে সবচেয়ে প্রিয়। প্রীতি জানালেন, “আমি সব সময় চাই আমার ভক্তরা আমাকে ভালোবাসুক, কারণ তাদের সমর্থন ছাড়া এই সব সম্ভব নয়। ওটিটি অভিষেকের সময় তাদের সাপোর্টের কথা মনে পড়ে, যা আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে।”

ভবিষ্যতের জন্য প্রীতি পরিকল্পনা করছেন নিয়মিত অভিনয়, ফ্যাশন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন তিনটিতেই এগিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, “আমি চাই নিয়মিত অভিনয় করব, তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমার ব্র্যান্ডও চলবে। এই তিনটি ক্ষেত্রই আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করে।”

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখার এই যাত্রা প্রীতি সরকারের জন্য এক নতুন অধ্যায়। ‘পরিণীতা’ হিন্দি রিমেকে টুসু চরিত্রে অভিনয় কেবল নতুন অভিজ্ঞতা নয়, বরং তার ক্যারিয়ারের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা। ভক্তদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং পরিচালকের দিকনির্দেশনা প্রীতি সরকারের এই যাত্রাকে আরও সুন্দর করে তুলেছে।

প্রীতির উদাহরণ আমাদের শেখায়, কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা সামাজিক মিডিয়ার জনপ্রিয়তা একা যথেষ্ট নয়। প্রয়াস, অধ্যবসায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতাই সত্যিকারের সাফল্য নিয়ে আসে। এখন দেখার বিষয়, প্রীতি এই নতুন অভিজ্ঞতা কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে নিশ্চিত এক কথা—টুসু চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলবে।

Preview image