মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্যের শিশুস্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত। শিশু সাথী প্রকল্প এর আওতায় এখন থেকে বিনামূল্যে হার্ট অপারেশনের পাশাপাশি একাধিক জটিল রোগের চিকিৎসাও করা হবে রাজ্য সরকারের খরচে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু গরিব পরিবারের শিশু নতুন জীবনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের শিশুদের জন্য এক বড় উপহার নিয়ে এল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নবান্ন থেকে ঘোষণা করেন, ‘শিশু সাথী প্রকল্প’-এর মাধ্যমে এখন থেকে রাজ্যের শিশুদের বিনামূল্যে হার্ট অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত রাজ্যের বহু অসহায় শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছে, তবে এবার যুক্ত হলো আরও কিছু বিশেষ সুবিধা—বিশেষ করে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান,
“আমাদের শিশুদের যেন টাকার অভাবে জীবন হারাতে না হয়, তাই রাজ্য সরকার সব খরচ বহন করবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে এই প্রকল্পে কাজ হবে।”
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু হার্ট অপারেশন নয়, লিভার ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, স্পাইনাল সার্জারি, এবং জটিল নিউরো চিকিৎসাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘শিশু সাথী প্রকল্পে’।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রায় ১.৫ লক্ষ শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। এবার এই নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় আরও হাজার হাজার শিশু উপকৃত হবে।
রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতাল ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা মিলবে। সরকার প্রতিটি অপারেশনের জন্য পূর্ণ আর্থিক সহায়তা দেবে এবং কোনো রকম প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই সরাসরি চিকিৎসা শুরু করা যাবে।
রাজ্যের নাগরিকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ। শিশুদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এখন আর টাকার উপর নির্ভর করবে না। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের অভিভাবকরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ‘শিশু সাথী প্রকল্প’-এর নতুন ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ চালু হবে, যেখানে অভিভাবকরা সহজেই আবেদন করতে পারবেন এবং অপারেশনের অনুমোদন, হাসপাতাল নির্বাচন ও চিকিৎসা ট্র্যাক করতে পারবেন অনলাইনে।