বিহারের কাটিহারে ভাই-বোনকে রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে বসে থাকতে দেখে পুলিশের তাণ্ডব! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। জনতার দাবি— পুলিশের এই অসভ্য আচরণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিহারের কাটিহারে এক রেস্তোরাঁয় ভাই-বোনকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখে পুলিশের অমানবিক আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা রাজ্য। ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে, যখন দুই তরুণ-তরুণী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎই স্থানীয় থানার এক পুলিশ অফিসার রেস্তোরাঁয় ঢুকে তাদের জেরা শুরু করেন— “তোমাদের সম্পর্ক কী?”, “তোমরা এখানে একসঙ্গে কেন এসেছো?”— এই ধরনের প্রশ্নের পর পুলিশ তাঁদের অপমান করতে শুরু করে।
এই পুরো ঘটনাটি রেস্তোরাঁর এক কর্মী ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অফিসার তাঁদের চিৎকার করে অপমান করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। পরে জানা যায়, ওই তরুণ-তরুণী আসলে ভাই-বোন, যারা পড়াশোনার ফাঁকে খাবার খেতে গিয়েছিলেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই কাটিহার এবং আশেপাশের এলাকায় প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনরা পুলিশের এই বর্বর আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— “একজন নাগরিক কি এখন নিজের পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও বাইরে যেতে পারবে না?”
বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনায় সরব হয়েছে। তাঁরা বলছেন, “বিহারে আইনের শাসন নয়, পুলিশের শাসন চলছে।” মানবাধিকার সংগঠনগুলিও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার (SP) জানিয়েছেন, “যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই পুলিশকর্মী সীমা লঙ্ঘন করেছেন, তবে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর কাটিহার জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, পুলিশের এই আচরণ সমাজের নৈতিকতার উপর আঘাত। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্রশ্ন এখন জ্বলছে— “বিহারে ভাই-বোনও কি একসঙ্গে বসে খাবার খেতে পারে না?”