ভেন্টিলেশনে রিঙ্কুর বাবা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে কি ফিরবেন ভারতীয় ক্রিকেটার? জানিয়ে দিলেন ব্যাটিং কোচচলতি বিশ্বকাপে কি আর খেলতে দেখা যাবে রিঙ্কু সিংহকে? পরিবারের কঠিন সময়ে কি সকলকে ছেড়ে মাঠে ফিরতে পারবেন রিঙ্কু? বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের সুপার এইটে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামবে ভারত। তার আগে পারিবারিক কারণে দল ছেড়ে বাড়ি গিয়েছেন তিনি। তবে জানা গিয়েছে, জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে আবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটার।
বুধবার চিপকে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রিঙ্কু কবে ফিরবেন? জবাবে কোটাক বলেন, “আজ সন্ধ্যায় ফিরছে রিঙ্কু। ওর বাবা ভাল নেই। তাই ও গিয়েছিল। কিন্তু যত দূর জানি, আজই দলের সঙ্গে ও যোগ দেবে।” কোটাকের কথা থেকে পরিষ্কার, বাবাকে দেখেই আবার বিশ্বকাপ খেলতে ফিরবেন রিঙ্কু।
জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ দল ছেড়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। ভারতীয় দল সূত্রে খবর, গুরুতর অসুস্থ রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ সিংহ। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে। ভেন্টিলেটরে রেখে চিকিৎসা চলছে তাঁর। খবর পাওয়ার পর কোচ গৌতম গম্ভীরের অনুমতি নিয়ে বাবাকে দেখতে যান রিঙ্কু।
ভারতীয় ক্রিকেট দলে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বুধবার চিপকে সাংবাদিক বৈঠকের পর। ভারতের ব্যাটিং কোচ Sitanshu Kotak-কে প্রশ্ন করা হয়—রিঙ্কু কবে ফিরবেন? জবাবে কোটাক জানান, “আজ সন্ধ্যায় ফিরছে রিঙ্কু। ওর বাবা ভাল নেই। তাই ও গিয়েছিল। কিন্তু যত দূর জানি, আজই দলের সঙ্গে ও যোগ দেবে।” এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ব্যক্তিগত সংকটের মাঝেও দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দিয়ে আবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত হচ্ছেন রিঙ্কু সিংহ।
চেন্নাইয়ে জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ দল ছেড়ে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ভারতীয় দল সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাবা খানচন্দ সিংহ গুরুতর অসুস্থ। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রেখে চিকিৎসা চলছে। এই খবর পাওয়ার পরই কোচ Gautam Gambhir-এর অনুমতি নিয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন রিঙ্কু।
খানচন্দ সিংহের অসুস্থতার খবর ক্রিকেটমহলে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। রিঙ্কুর ক্রিকেটযাত্রায় তাঁর বাবার অবদান ছিল অপরিসীম। আর্থিক কষ্ট, সীমিত সুযোগ—সব বাধা পেরিয়ে ছেলেকে ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি। বহু সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু নিজেই বলেছেন, তাঁর বাবার ত্যাগ না থাকলে আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন না। তাই বাবার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক শুনেই তিনি সব কিছু ছেড়ে ছুটে যান।
গ্রেটার নয়ডার হাসপাতালে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয়, বিশেষত যখন রোগ অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবুও পরিবার আশা ছাড়েনি। রিঙ্কুর উপস্থিতি খানচন্দ সিংহের মানসিক শক্তি বাড়িয়েছে বলেই ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার দায়িত্ব সামলানো অত্যন্ত কঠিন। তবুও রিঙ্কু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাবাকে দেখে, পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবার দলে ফিরবেন। কোচ কোটাকের কথায় স্পষ্ট—দলের দরজা তাঁর জন্য খোলা ছিল এবং থাকবে। এই সমর্থন একজন ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলের ভেতরেও রিঙ্কুর প্রতি সহমর্মিতা দেখা গেছে। সতীর্থরা নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবার আগে—ক্রিকেট পরে। তবে যখন তিনি ফিরবেন, তাঁকে স্বাগত জানাতেই প্রস্তুত গোটা দল।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ক্রিকেটাররা শুধু পেশাদার ক্রীড়াবিদ নন—তাঁরা সন্তান, ভাই, স্বামীও। মাঠের বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও থাকে আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম। রিঙ্কুর জীবনে এই মুহূর্তটি তেমনই এক আবেগঘন অধ্যায়।
চেন্নাইয়ে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে দল। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। রিঙ্কু সিংহ তাঁর ফিনিশিং দক্ষতার জন্য ইতিমধ্যেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় খেলার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে দেয়। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু আবেগের দিক থেকে নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বাবার অসুস্থতার মাঝেও দায়িত্ববোধের উদাহরণ তৈরি করলেন রিঙ্কু। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবার দেশের জার্সিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রার্থনা করছেন, তাঁর বাবা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এবং রিঙ্কু আবার হাসিমুখে ব্যাট হাতে মাঠ কাঁপান।
রিঙ্কু সিংহের এই কঠিন সময় শুধু একটি পারিবারিক সংকটের গল্প নয়, বরং একজন ক্রীড়াবিদের মানসিক দৃঢ়তা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো প্রতিটি ক্রিকেটারের কাছেই গর্বের, কিন্তু সেই গর্বের আড়ালেও থাকে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সম্পর্ক—যেগুলো কখনও কখনও পেশার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। রিঙ্কুর ক্ষেত্রেও সেটাই দেখা গেল।
Rinku Singh ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের মধ্যে বড় হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা করে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর বাবা খানচন্দ সিংহ জীবিকার জন্য সিলিন্ডার ডেলিভারির কাজ করতেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের ক্রিকেটের স্বপ্ন ভাঙতে দেননি। ব্যাট, কিট, ট্রেনিং—সব কিছুর জন্যই তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে। সেই কারণেই বাবার সঙ্গে রিঙ্কুর আবেগের বন্ধন অত্যন্ত গভীর।
পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কথায়, হাসপাতালে পৌঁছে বাবার শয্যার পাশে দীর্ঘ সময় বসেছিলেন রিঙ্কু। ভেন্টিলেটরে থাকা বাবার হাত ধরে চুপচাপ বসে থাকা—এই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগপ্রবণ করে তোলে। চিকিৎসকেরা জানান, রোগীর মানসিক শক্তি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়, আর ছেলেকে সামনে পেয়ে খানচন্দ সিংহের শরীরী প্রতিক্রিয়াতেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
এমন আবেগঘন পরিস্থিতিতেও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি রিঙ্কু। কোচ Gautam Gambhir-এর সঙ্গে কথা বলে, পরিবারের অনুমতি নিয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—বাবাকে দেখে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। গম্ভীর নাকি তাঁকে স্পষ্টই বলেন, “পরিবার আগে, তুমি সময় নাও।” এই মানবিক সমর্থন টিম ম্যানেজমেন্টের সংস্কৃতিরই প্রতিফলন।
ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ Sitanshu Kotak সাংবাদিক বৈঠকে রিঙ্কুর ফেরার খবর জানালে স্বস্তি ফেরে সমর্থকদের মধ্যে। কারণ, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিঙ্কুর মতো ফিনিশার—যিনি শেষ ওভারগুলোতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় সতীর্থরাও। অনুশীলন সেশনে তাঁর অনুপস্থিতি চোখে পড়লেও, সকলেই জানতেন পরিস্থিতির গুরুত্ব। দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দিচ্ছিলেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত দুঃসময় কাটিয়ে মাঠে নামা অনেক সময় খেলোয়াড়কে আরও দৃঢ় করে তোলে। আবেগ, যন্ত্রণা, দায়বদ্ধতা—সব মিলিয়ে পারফরম্যান্সে এক অন্য তীব্রতা দেখা যায়। অতীতে বহু ক্রিকেটার এমন পরিস্থিতি সামলে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। রিঙ্কুর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু দেখার আশায় ভক্তরা।
রিঙ্কুর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, চাপের মুহূর্তই তাঁকে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল করেছে। আইপিএল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট—সব জায়গাতেই তিনি প্রমাণ করেছেন, শেষ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথা ধরে রাখতে পারেন। তাই বিশ্বকাপ মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে গ্রেটার নয়ডার হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, খানচন্দ সিংহের চিকিৎসা বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে চলছে। অনকোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং রেসপিরেটরি বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে চিকিৎসা করছেন। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও চিকিৎসকেরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
রিঙ্কুর পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাসপাতালে উপস্থিত আছেন। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পরিবারের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, “রিঙ্কু এসেছিল, বাবাকে দেখে গেছে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।”
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ক্রিকেটভক্তরা শুধু তাঁর খেলা নয়, তাঁর মানবিক দিকটিকেও কুর্নিশ জানিয়েছেন। বহুজন লিখেছেন—“দেশের জন্য খেলে, আবার পরিবারের দায়িত্বও পালন করে—এই তো সত্যিকারের হিরো।”
ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং সাপোর্টও দেওয়া হয়।
রিঙ্কুর ফেরার খবর দলের ড্রেসিংরুমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বকাপের চাপ, ম্যাচের গুরুত্ব—সব কিছুর মাঝেও একজন সতীর্থের ফিরে আসা দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি তিনি দ্রুত মানসিক ভারসাম্য ফিরে পান, তবে মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সে বাড়তি আগ্রাসন ও আবেগ দেখা যেতে পারে। অনেক সময় ব্যক্তিগত আবেগ খেলোয়াড়কে বাড়তি প্রেরণা দেয়।
সবশেষে বলা যায়, রিঙ্কু সিংহ এখন জীবনের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে বাবার জীবন-মৃত্যুর লড়াই, অন্যদিকে দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের দায়িত্ব। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন দু’টি প্রার্থনা করছেন—
এক, খানচন্দ সিংহ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
দুই, রিঙ্কু সিংহ শক্ত মানসিকতা নিয়ে মাঠে ফিরে আবার ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলুন।
মানুষ হিসেবে দায়িত্ব আর দেশের হয়ে খেলার গর্ব—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ। রিঙ্কু সিংহ সেই পথেই হেঁটে চলেছেন।