কলকাতায় লিওনেল মেসির GOAT India Tour এর প্রথম দিনই শুরু হল তীব্র বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভের মধ্যে। শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত টিকিটেড অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণ, গেট ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে অনেকেই অভিযোগ করেন মাঠে বা বড় পর্দায় তাঁরা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি। প্রত্যাশার তুলনায় মেসির উপস্থিতিও ছিল খুব অল্প সময়; খবর অনুযায়ী তিনি প্রায় ২০ মিনিটের মতো সেখানে ছিলেন, ফলে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায় কিছু দর্শক ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে,চেয়ার উপড়ে ফেলে ও নানা জিনিস ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক হেফাজতে নেয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, একইদিন মেসি কলকাতায় ভার্চুয়ালি একটি বিশাল মূর্তি উন্মোচনও করেন এবং সফরের পরবর্তী সূচিতে অন্য শহরও রয়েছে।
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫। তারিখটি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার কথা ছিল—কারণ এই দিনেই ভারতের ফুটবল রাজধানী হিসেবে পরিচিত শহরটিতে পদার্পণ করার কথা ছিল 'ফুটবলের রাজপুত্র' লিওনেল মেসির, যার ডাকনাম 'দ্য জি.ও.এ.টি' (G.O.A.T: Greatest Of All Time)। সেইমতো, ‘G.O.A.T India Tour 2025’-এর সূচনা হয়েছিল সল্টলেকের ঐতিহ্যবাহী যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (Salt Lake Stadium)-এ আয়োজিত একটি বিশেষ টিকিটেড অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু উৎসবের এই সন্ধ্যাটি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত রূপ নিল তীব্র উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক প্রকট চিত্রে।
কলকাতার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রধান এই ইভেন্টটি কেন এত বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো? এক আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট আয়োজনে কোথায় ছিল গলদ? এই ঘটনা থেকে জননিরাপত্তা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং শহরের ভাবমূর্তির উপর কী কী প্রশ্ন উঠে এলো—সেই বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
কলকাতায় মেসির আগমনকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল এককথায় আকাশছোঁয়া। ফুটবলপ্রেমীরা, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে টেলিভিশনের পর্দায় মেসিকে দেখে এসেছেন, তাঁদের কাছে এই সুযোগ ছিল 'এক ঝলক দেখব'—এই স্বপ্ন পূরণ করার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্টের অংশ হতে বহু মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রধান অনুঘটক ছিল দর্শকদের মনে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। ইভেন্ট শেষে স্টেডিয়ামে উপস্থিত বহু দর্শকের অভিযোগ ছিল—
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি: সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেসি স্টেডিয়ামে ছিলেন মাত্র ২০ মিনিটের মতো বা তার চেয়ে সামান্য বেশি সময়। এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
অদৃশ্য মেসি: অধিকাংশ দর্শকের দাবি, কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী, অতিরিক্ত ভিআইপি (VIP) এবং ভিভিআইপি (VVIP) ঘেরাটোপের কারণে গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ দর্শকেরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মূল মাঠ থেকে দূরত্ব এবং নিরাপত্তা বলয়, দুই-ই তাঁর দর্শনকে কঠিন করে তুলেছিল।
দুর্বল দৃশ্যমানতার ব্যবস্থা: যারা দূরে বসেছিলেন, তাঁদের জন্য স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিন বা এলইডি ডিসপ্লে-তে তারকাকে ভালোভাবে দেখানোর কথা ছিল। কিন্তু দর্শকদের অভিযোগ, সেই স্ক্রিনগুলির মান ভালো ছিল না অথবা দৃশ্যমানতার ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
"এক ঝলক দেখব"—এই স্বপ্ন যখন চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তখন সেই হতাশা দ্রুত ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়।
অসন্তোষ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন পরিস্থিতি দ্রুত আয়োজকদের এবং নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশের হিংসাত্মক আচরণ, যা যেকোনো জননিরাপত্তা নীতির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
ভাঙচুর ও নিক্ষেপ: উত্তেজিত জনতা স্টেডিয়ামের সম্পত্তি নষ্ট করা শুরু করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা গ্যালারির চেয়ার উপড়ে ফেলে, মাঠের দিকে বোতল-সহ নানা বস্তু ছোড়ে। এই ধরনের আচরণ স্টেডিয়ামের অন্যান্য দর্শকের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
মাঠে অনুপ্রবেশের চেষ্টা: উত্তেজিত জনতা স্টেডিয়ামের ব্যারিকেড বা বাধা টপকে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কাঠামোটিই ভেঙে পড়েছিল। যদি তারা মাঠে প্রবেশ করতে সফল হতো, তাহলে তা একটি 'স্ট্যাম্পিড'-এর মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারত।
নিরাপত্তারক্ষীদের অসহায়তা: পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীরা হিমশিম খায়। বিশৃঙ্খলার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা জনবল, কোনটিই উপস্থিত ছিল না বলে প্রতীয়মান হয়।
জানা যায়, মেসি স্টেডিয়াম ছাড়ার পরই এই বিশৃঙ্খলা আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা আরও একবার প্রমাণ করে যে, দর্শকদের মূল ফোকাস ছিল শুধুমাত্র তাঁর দর্শন।
একটি ইভেন্ট সফল করার জন্য তিনটি স্তম্ভ প্রয়োজন—সঠিক পরিকল্পনা, যথাযথ ব্যবস্থাপনা, এবং দর্শকদের নিরাপত্তা। যুবভারতীর এই ঘটনায় দেখা গেল, তিনটি স্তম্ভেই গুরুতর ত্রুটি ছিল।
এই ইভেন্টের ব্যর্থতার মূল দায় সরাসরি আয়োজক সংস্থার উপর বর্তায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ইভেন্টের টিকিট মূল্য ছিল অত্যন্ত চড়া। দর্শকদের মধ্যে কেউ কেউ প্রায় $১৩০ (প্রায় ১০,৮০০ টাকা) বা তারও বেশি খরচ করেছিলেন। স্থানীয় রিপোর্টেও টিকিটের দাম কয়েক হাজার থেকে আরও বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
চড়া দাম বনাম নিম্নমানের পরিষেবা: এত বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করার পর দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা। কিন্তু যখন সেই অর্থ ব্যয় করেও প্রিয় তারকাকে দেখা গেল না বা স্ক্রিনের দৃশ্যমানতাও ঠিকমতো কাজ করল না, তখন সেই ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো—টিকিটের দাম অনুযায়ী ‘দর্শক অভিজ্ঞতা’ (Audience Experience) নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কি ছিল?
সময় ও উপস্থিতি: মেসি ২০ মিনিটের জন্য উপস্থিত থাকবেন—এই তথ্য কি টিকিট বিক্রির আগে স্পষ্ট করা হয়েছিল? যদি না হয়, তবে এটি দর্শকদের প্রতারিত করার শামিল। যদি বলাও হয়ে থাকে, তবে কেন দর্শকদের ভিড় এত বেশি ছিল এবং কেনই বা ক্ষোভ এত তীব্র হলো?
যুবভারতীর ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি হলেও, এই ইভেন্টে আসা দর্শকদের ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত অভাব পরিলক্ষিত হয়।
ঝুঁকি মূল্যায়ন (Risk Assessment): মেসির মতো একজন বিশ্বখ্যাত আইকনের উপস্থিতি যে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করবে, এই ঝুঁকি আয়োজকদের আগে থেকে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। অতিরিক্ত ভিড়, আবেগপ্রবণতা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মী এবং কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রয়োজন ছিল।
জরুরী বহির্গমন ও প্রবেশপথ: ভাঙচুর এবং মাঠে ঢোকার চেষ্টার সময় যদি কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত, তাহলে দ্রুত দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে নিরাপদে বের করার ব্যবস্থা কী ছিল? ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জরুরী বহির্গমন পথ (Emergency Exits) এবং প্রবেশপথের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অত্যাবশ্যক। এই ঘটনায় জননিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে।
বিশাল এই বিশৃঙ্খলার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই ঘটনা কেবল একটি ইভেন্ট ব্যর্থতা নয়, বরং এটি আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে জবাবদিহির মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের প্রধান বা মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে পুলিশ আটক বা হেফাজতে নেয়।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—যে অব্যবস্থাপনার কারণে এই বিশৃঙ্খলা ঘটেছে, তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিতে হবে। এই আটক ঘটনাটি গোটা বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়েছে। এই আটকের ফলে তদন্তের মাধ্যমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা, অর্থের লেনদেন এবং নিরাপত্তা চুক্তির খুঁটিনাটি বেরিয়ে আসতে পারে।
একটি এত বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের ব্যর্থতায় সরকার এবং প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চান বলে রিপোর্ট।
মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তিনি এই ঘটনায় "disturbed and shocked" অর্থাৎ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত।
তিনি একইসঙ্গে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান।
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এই ঘটনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি জোরদার হবে।
এই ঘটনার প্রভাব শুধু একটি ইভেন্টের ব্যর্থতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে কলকাতার ভাবমূর্তির উপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
মেসির আগমনকে ঘিরে যে বিপুল আবেগের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, তা অনুমান করতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে জননিরাপত্তার মূল নীতিগুলি লঙ্ঘিত হয়েছে।
জরুরী পরিস্থিতি সামাল: যখন দর্শকরা মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন বা গ্যালারি থেকে জিনিস ছোড়েন, তখন বড়সড় দুর্ঘটনায় বদলে যেতে পারার ঝুঁকি ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (SOP) দরকার ছিল।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি: প্রশাসন এখন কেবল দোষী খোঁজা নয়, ভবিষ্যতে এমন ভিড় সামলাতে এবং বড় ইভেন্ট সফল করতে আরও কড়া ও পেশাদার SOP তৈরির আলোচনা শুরু করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী, জরুরি বহির্গমন, ও মেডিক্যাল সাপোর্টের মতো বিষয়গুলিকে আর 'সাইড ইস্যু' হিসেবে দেখলে চলবে না।
কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের ঐতিহাসিক শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরেই বড় বড় ম্যাচ, ডার্বি, এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলি সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে। ২০১১ সালে মেসি স্বয়ং এই যুবভারতীতে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলেছিলেন, এবং সেই সময় এমন কোনো বড় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
মেসির মতো একজন বৈশ্বিক আইকনের সামনে এমন বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায়, এটি নিঃসন্দেহে শহরের ভাবমূর্তিতে আঘাত করে। প্রশ্ন উঠেছে—বড় ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি কতটা পেশাদার এবং আন্তর্জাতিক মানের? এই ঘটনা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজকদের কাছে কলকাতার ভাবমূর্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
কলকাতার ঘটনা মেসির ভারত সফরের শুরুটাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে, কিন্তু অন্যান্য শহর এবং কর্মসূচী কী হবে, সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে।
রিপোর্টে ইঙ্গিত, সফরের পরবর্তী অংশে ভারতের অন্য শহরগুলিতেও কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচির মধ্যে যুব ক্লিনিক, ইভেন্ট, এবং দাতব্য কার্যক্রম-এর মতো পরিকল্পনা রয়েছে।
কলকাতার এই বিপর্যয়ের পর এটা স্বাভাবিক যে, পরবর্তী ইভেন্টগুলির জন্য নিরাপত্তা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাকে অনেক বেশি জোরদার করা হবে। এই সফরের বাকি অংশ কীভাবে এগোয়, তা এখন আয়োজক সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে।
এখন সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি হলো—
দায় নির্ধারণ: কার গাফিলতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হলো? টিকিট বিক্রি, প্রবেশপথ, বসার জায়গা, স্ক্রিন-ভিউ—সবকিছুর পরিকল্পনায় কোথায় ভুল ছিল?
আইনি ব্যবস্থা: যারা ভাঙচুর করেছে—তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? স্টেডিয়ামের সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ কারা দেবে?
ক্ষতিপূরণ: দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি?
সংবাদমাধ্যমের কিছু রিপোর্টে টাকা ফেরতের কথাও উঠে এসেছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে কোন শ্রেণির টিকিটে, কীভাবে, এবং কবে তা করা হবে—এইসব বিষয় একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে। তদন্ত কমিটি বা পুলিশের রিপোর্ট প্রকাশ পেলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে।
মেসির কলকাতা সফরের প্রথম দিনটি যে স্বপ্নের মতো হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে—এটাই বাস্তব এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—একটি সফল ইভেন্ট আয়োজন শুধু তারকা উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, দর্শক-অভিজ্ঞতা এবং সুচারু ব্যবস্থাপনার একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
মেসির 'মূর্তি উন্মোচন'-এর মতো কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও, স্টেডিয়ামের মূল ইভেন্টের অব্যবস্থাপনা সেই উৎসবের মুহূর্তগুলোকেও ছাপিয়ে যায়।
শিক্ষণীয় বিষয়: ভিড় ও আবেগকে কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক মানের তারকাদের ইভেন্টের জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ কৌশল এবং দর্শকদের প্রতি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
জনতার প্রত্যাশা: প্রশাসনিক তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত দায় নির্ধারণ করা হোক। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে, টিকিট কেটে প্রতারিত হওয়া দর্শকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।
এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভবিষ্যতে যেন কলকাতা তার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শহরের মর্যাদা বজায় রেখে, আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে একটি পেশাদার ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারে—এটাই এখন সাধারণ মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীদের একমাত্র প্রত্যাশা।