সোমবার রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বরযাত্রী বোঝাই একটি বাস উল্টে গিয়ে জখম হল বেশ কয়েকজন যাত্রী। আনন্দের বিয়ের যাত্রা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় আতঙ্কে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ একটি টোটো বাসের সামনে চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার রাতের অন্ধকারে আচমকাই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বরযাত্রী বোঝাই একটি বাস উল্টে গিয়ে জখম হল বেশ কয়েকজন যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামে। আনন্দের বিয়ের যাত্রা মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় আতঙ্ক ও কান্নায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি টোটোকে বাঁচাতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ বিকট শব্দ, মানুষের চিৎকার এবং আহতদের আর্তনাদে সাহেবগঞ্জ গ্রামের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধার কাজে হাত লাগান।
ঘটনাটি ঘটে সাহেবগঞ্জ গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা নির্মল ঘোষের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বরযাত্রীদের নিয়ে বাসটি রওনা দিয়েছিল গোলসি থানার অন্তর্গত আদ্রাহাটি গ্রামের উদ্দেশ্যে। বাসটিতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশী মিলিয়ে বহু মানুষ ছিলেন। যাত্রাপথে আচমকা একটি টোটো সামনে চলে এলে চালক দ্রুত ব্রেক কষেন এবং টোটোটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বাসের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ বাসের জানলা ভেঙে আহতদের বাইরে বের করেন, কেউ আবার জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাস উল্টে যাওয়ার ফলে অনেক যাত্রী মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত পান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাতার থানার পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার কাজ আরও দ্রুত হয়। আহতদের একাংশকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাঁদের আঘাত গুরুতর ছিল, তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এই দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই বিয়েবাড়িতে নেমে আসে উদ্বেগের ছায়া। আনন্দের অনুষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায়। বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহতদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে ছুটে যান। অনেকেই এখনও সেই ভয়াবহ মুহূর্তের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাস চালকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং টোটো চালকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। রাস্তাটির অবস্থা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এই দুর্ঘটনা ফের একবার গ্রামীণ এলাকায় পথ নিরাপত্তা ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা নির্মল ঘোষের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বরযাত্রীদের নিয়ে একটি বাস রওনা দিয়েছিল গোলসি থানার অন্তর্গত আদ্রাহাটি গ্রামের উদ্দেশ্যে। বরযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্যরা। সবাই আনন্দ-উল্লাসে বিয়েবাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন।
কিন্তু সাহেবগঞ্জ গ্রামের একটি সংকীর্ণ রাস্তার কাছে পৌঁছতেই আচমকা একটি টোটো বাসের সামনে চলে আসে। চালক সেই টোটোটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা একে অপরের উপর আছড়ে পড়েন। বাসের কাঁচ ভেঙে যায়, আসন খুলে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর চারিদিকে শুধু কান্না আর চিৎকার। অনেকেই বাসের ভিতরে আটকে পড়েন। কেউ কেউ মাথায়, কেউ হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত পান। বাস উল্টে যাওয়ার কারণে ভিতর থেকে বেরোতে অসুবিধা হচ্ছিল অনেকেরই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। দেখতে পান রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে রয়েছে বরযাত্রী বোঝাই বাসটি। কোনওরকম সময় নষ্ট না করে তাঁরা আহতদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ বাসের জানলা ভেঙে যাত্রীদের বের করেন, কেউ আবার আহতদের জল দেন ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাতার থানার পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে আসে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মীরাও। তাঁদের তৎপরতায় উদ্ধার কাজ আরও দ্রুত এগোয়। বাসের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে বাইরে বের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাঁদের আঘাত গুরুতর ছিল, তাঁদের তড়িঘড়ি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছেন, কেউ হাতে-পায়ে চোট পেয়েছেন। কয়েকজনের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত লেগেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকা কয়েকজনের অবস্থা এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
যাঁরা এই বাসে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখনও সেই মুহূর্তের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এক বরযাত্রী বলেন, “সবাই গান-বাজনা করছিলাম, খুব আনন্দ ছিল। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি, তারপর মনে হল যেন সবকিছু উল্টে গেল। চোখের সামনে শুধু মানুষ পড়ে যাচ্ছে আর চিৎকার।”
আরেক যাত্রী বলেন, “বাসটা যখন উল্টে গেল, তখন আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বুঝলাম আমরা দুর্ঘটনায় পড়েছি।”
এই দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই বিয়েবাড়িতে নেমে আসে শোক ও উদ্বেগের ছায়া। বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ছুটে যান হাসপাতালে আহতদের খোঁজ নিতে। আনন্দের অনুষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “সবাই খুব চিন্তায় আছি। এখন একটাই কামনা, সবাই যেন সুস্থ হয়ে ওঠে।”
ভাতার থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসের চালকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং টোটো চালকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাস্তাটির অবস্থা, আলো ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রাস্তার সংকীর্ণতা ও হঠাৎ টোটোর সামনে চলে আসাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনা ফের একবার গ্রামীণ এলাকায় পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই রাস্তায় প্রায়ই টোটো ও বড় গাড়ির যাতায়াতে সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত আলো ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তায় আগেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের আরও নজর দেওয়া উচিত।”
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামে বরযাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনা এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। আনন্দের বিয়ের যাত্রা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল আতঙ্ক ও যন্ত্রণায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই দুর্ঘটনা ফের একবার আমাদের মনে করিয়ে দিল—সামান্য অসতর্কতাই কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এখন সবার একটাই প্রার্থনা—আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এবং এমন ঘটনা আর যেন না ঘটে।