Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সংসার খরচ না দেওয়ায় গ্যারেজে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে স্বামীর গাড়ি ভাঙলেন দ্বিতীয় স্ত্রী ভাইরাল ভিডিওতে হইচই

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার শুরু দম্পতির বিবাদকে কেন্দ্র করে জানা যায় বিজনৌরের ধর্মেন্দ্র নামে এক যুবক তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিমানীকে সংসার খরচ দিতে রাজি হননি এই অভিযোগ থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়

উত্তরপ্রদেশের নাজিবাবাদ থানার অন্তর্গত বিজনৌর অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাটি স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে অনলাইন দর্শক সকলের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে কারণ ঘটনাটি সাধারণ পারিবারিক ঝামেলা থেকে শুরু হলেও দ্রুত এক চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে পরিণত হয়েছে যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় স্বামী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বিবাদের সূত্র ধরে যে ধ্বংসলীলা ঘটেছে তা শুধু স্থানীয়দের অবাক করেনি বরং অনেককেই ভাবিয়েছে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন কিভাবে একটি সাধারণ মুহূর্তে বিস্ফোরণের মতো আচরণ সৃষ্টি করতে পারে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায় যে বিজনৌরের ধর্মেন্দ্র নামে একজন যুবক তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিমানীর সঙ্গে কিছুদিন ধরেই দাম্পত্য সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। সম্পর্কের মধ্যে আর্থিক টানাপোড়েনও ছিল বলে জানা যায়। হিমানীর অভিযোগ ছিল যে সংসার খরচ দিতে স্বামী নানাভাবে এড়িয়ে চলতেন এবং এতে সংসারের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। ধর্মেন্দ্র নাকি হিমানীকে জানিয়ে দেন যে তিনি আপাতত সংসার খরচ দিতে পারবেন না কারণ তার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে এবং গাড়ি সারানোর জন্য বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন যে গাড়ি ঠিক করা এখন তার কাছে অনেক বেশি জরুরি এবং এ কারণে তিনি হিমানীর হাতে কোনও খরচ দিতে পারবেন না।

এই কথোপকথন থেকেই শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। দুইজনের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। প্রতিবেশীদের দাবি তারা আগেও কয়েকবার এই দম্পতির বিবাদ টের পেয়েছিলেন কিন্তু কখনোই ভাবেননি যে এই ঘটনা এত বড় আকার নেবে। তর্কাতর্কির মাঝেই ধর্মেন্দ্র গাড়ি নিয়ে একটি স্থানীয় গ্যারেজে যান এবং সেখানে গাড়ি সারানোর উদ্যোগ নিতে শুরু করেন। কিন্তু হিমানী এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি স্বামীকে এভাবে দায়িত্বহীন আচরণ চালিয়ে যেতে দেবেন না।

এরপর হিমানী একটি হাতুড়ি হাতে নিয়ে সোজা সেই গ্যারেজে উপস্থিত হন যেখানে ধর্মেন্দ্র গাড়ি সারাতে গিয়েছিলেন। তিনি প্রবেশ করেই গাড়ির দিকে এগিয়ে যান এবং কোনও কথা না বলেই হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচে আঘাত করতে শুরু করেন। গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন থেকে শুরু করে সাইড গ্লাস সবকিছুতেই বার বার জোরে জোরে আঘাত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান তার মধ্যে ছিল প্রচণ্ড রাগ হতাশা এবং আক্ষেপের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তিনি থামার কোনও লক্ষণই দেখাননি এবং একের পর এক আঘাতে গাড়ির প্রায় সব কাচ চুরমার হয়ে যায়।

গ্যারেজের কর্মীরা দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন কিন্তু হিমানীর রাগ এতটাই প্রবল ছিল যে তিনি কিছুতেই থামতে চাইছিলেন না। পরিস্থিতি চরম অরাজক হয়ে ওঠে এবং রাস্তাজুড়ে মানুষের ভিড় জমে যায়। কেউ ভিডিও তুলতে শুরু করেন কেউ মন্তব্য করেন আর কেউ আবার স্বামী স্ত্রীর এই আচরণ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কিছু মানুষ বলেন হিমানী তার ক্ষোভ বহুদিন ধরে জমা করেছিলেন এবং আজ সেটাই বিস্ফোরণের আকারে দেখা গেল। অন্যরা বলেন এমন ঘটনা দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও ভেঙে দেয় এবং এর ফলে দুই পক্ষেরই মানসিক ক্ষতি ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায় হিমানী প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে আঘাত করছেন এবং পাশে উপস্থিত কর্মী ও স্থানীয়রা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে এভাবে ক্ষতি করলে সমস্যার সমাধান হবে না কিন্তু তিনি কারও কথা শুনতে রাজি নন। ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মন্তব্য উঠে আসে। কেউ বলেন এটি এক ধরনের প্রতিবাদ আবার কেউ বলেন এটি অবিবেচক এবং আইনবহির্ভূত আচরণ। অনেকেই বলেন গাড়ি ভাঙার মধ্য দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা কখনোই সঠিক উপায় নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোই একমাত্র সমাধান হতে পারে।

পুলিশও এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা জানায় যে ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনও পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেন তবে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। যদিও এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে আর্থিক বিবাদকে দায়ী করা হয়েছে তবে মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাস আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং যোগাযোগহীনতা প্রায়শই এমন বিস্ফোরক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেখানে একজন ব্যক্তি আর নিজের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

news image
আরও খবর

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন হলে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি এবং সমস্যা জমতে দেওয়া উচিত নয়। আর্থিক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সম্পর্ককে সুস্থ রাখে। এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজের কাছে একটি বড় শিক্ষা পাওয়া যায় যে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানোই শ্রেয় নাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে যেমনটি বিজনৌরের এই ঘটনায় দেখা গেল।

মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন অনেক সময় এমনভাবে সামনে আসে যে তা আর শুধুমাত্র পরিবারের সীমার মধ্যে আটকে থাকে না বরং সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তা সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। ব্যক্তিগত বিরোধ বা দাম্পত্য বিবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয় মুহূর্তের মধ্যে জনসমক্ষে চলে আসে এবং তখন ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্তিগত কষ্ট এবং পারিবারিক পরিস্থিতি সবই জনমতের বিচারে় পরিণত হয়। বর্তমান যুগে স্মার্টফোন হাতে থাকা প্রত্যেক মানুষই এক ধরনের চলমান প্রতিবেদক এবং তারা যখন কোনও অস্বাভাবিক ঘটনাকে চোখের সামনে দেখতে পান তখন খুব সহজেই তা ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এই কারণে বহু ব্যক্তিগত ঘটনা খুব দ্রুত ভাইরাল হয় এবং শর্ট ভিডিওর যুগে মানুষের কৌতূহল ঘটনাকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

বিজনৌরের ধর্মেন্দ্র এবং হিমানীকে ঘিরে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে তা এমনই এক বাস্তব উদাহরণ যেখানে এক দম্পতির ব্যক্তিগত বিবাদ কিছুক্ষণের মধ্যে জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। দাম্পত্য সম্পর্কের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা সাধারণত পরিবারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে কিন্তু যখন সেই ব্যক্তিগত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তা প্রকাশ্যে আসে তখন সমাজমাধ্যম সেই ঘটনাকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন কেউ ঘটনাটিকে হিমানীর ক্ষোভের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন আবার কেউ বলেন যে কোনও পরিস্থিতিতেই সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং গাড়ি ভাঙার মতো কাজ কখনোই দাম্পত্য সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

এই ধরনের ভাইরাল ভিডিও পরিবারকে কীভাবে মানসিকভাবে আঘাত করে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে কারণ ব্যক্তিগত লড়াই যখন জনসমক্ষে চলে আসে তখন পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে সন্তান থাকলে তারা সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়ে। সমাজের নানা মন্তব্য এবং সমালোচনা শিশুদের মনস্তত্ত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের ভবিষ্যৎ আচরণ ও মানসিক শক্তিকেও প্রভাবিত করে। পারিবারিক পরিবেশ যখন অশান্ত হয়ে পড়ে তখন সেই অস্থিরতা তার আশেপাশের সবাইকে প্রভাবিত করে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বোঝাতে চান যে দাম্পত্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতবিরোধ থাকতেই পারে কিন্তু তা সমাধানের উপায় অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত এবং সর্বাগ্রে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ধর্মেন্দ্র এবং হিমানীর এই ঘটনা সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা তৈরি করেছে কারণ এটি শুধুমাত্র একটি দাম্পত্য বিবাদ নয় বরং আধুনিক সম্পর্কের ভিতরে থাকা চাপ মানসিক অবস্থার পরিবর্তন আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং যোগাযোগহীনতার মতো বিষয়কে সামনে এনেছে। অনেকেই বলেছেন যে সম্পর্ক ভাঙনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো পরস্পরের সঙ্গে কথা না বলা এবং নিজের কষ্ট প্রকাশ না করা। যখন জমে থাকা রাগ আক্রোশ হতাশা একসময় আর নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তখন মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

আজকের সমাজে ধৈর্য বোঝাপড়া এবং সহনশীলতা ভীষণ প্রয়োজন কারণ দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত বিশ্বাস সম্মান এবং দায়িত্ববোধের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যক্তিগত সমস্যা যখন সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে তখন সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ে এবং সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। বিজনৌরের এই ঘটনা সেই কারণেই মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি করেছে যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মনের কথাকে মন থেকে শোনার উপর এবং একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করার উপর।

Preview image