Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতায় ১৫ ডিগ্রিতে ওঠেছে তাপমাত্রা কিন্তু শীত কমার আভাস উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য কি অপেক্ষা করছে

দক্ষিণবঙ্গে কুয়াশার সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী তিন দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ এলাকাতেই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা বিরাজ করবে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে।

কলকাতার তাপমাত্রা এক ধাক্কায় আরও খানিকটা বেড়ে গেছে। গত বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, পারদ ১১ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল, যা ছিল মরসুমের শীতলতম দিন। সেই দিনটি ছিল বছরের শেষ দিন এবং তাপমাত্রা এতটা কমে যাওয়ার পর সবার মনে এক ধরনের শীতের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই অনুভূতি শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং শহরের পরিবেশও বেশ ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। কলকাতা শহর, যেখানে সাধারণত শীতের তীব্রতা তেমন থাকে না, সেখানে পারদ ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল এবং তা এক ধরনের শীতল আবহাওয়ার সিগন্যাল দেয়।

তবে, পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি একটু বদলেছে। তার পর থেকেই কলকাতার তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে এবং মাত্র চার দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির ঘরে চলে এসেছে। এটি অবশ্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। সাধারণত শীতের সময় কলকাতায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির আশেপাশে উঠলেই শীত অনুভূত হয়। তবে গত কয়েক দিনেই তা পৌঁছে গেছে এবং শহরের পরিবেশে কিছুটা গরম অনুভূতি দেখা দিয়েছে, যদিও ঠাণ্ডার অনুভূতি এখনও পুরোপুরি চলে যায়নি।

কলকাতায় এই তাপমাত্রার ওঠানামার মধ্যে স্বাভাবিক শীতের অনুভূতি এখনো পুরোপুরি স্থায়ী হয়নি। রোববার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। এদিন দিনের বেলা, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। এই পরিবর্তনগুলি আরও স্পষ্টতর হতে শুরু করেছে। তাপমাত্রার এই ওঠানামার মধ্য দিয়ে শহরের শীতের অনুভূতি পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে এক দিক দিয়ে, বিশেষত রাতের সময়, ঠাণ্ডা অনুভূতি কমে যাচ্ছে।

এছাড়া, কলকাতা শহরে আকাশ পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত থাকতে পারে। সকালের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা থাকতে পারে, যা শীতকালীন আবহাওয়ার একটা পরিচিত চিত্র। এই ধরনের কুয়াশা শহরের বিভিন্ন এলাকার ওপরিভাগে সকালের সময় কিছুটা শীতলতা অনুভূতি প্রদান করতে পারে। সাধারণত এই ধরনের কুয়াশা দেখা গেলেই শীতের অনুভূতি আরও বেশি প্রকট হয়, এবং ঠাণ্ডা আরও অনুভূত হতে থাকে।

এদিকে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী অন্তত তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ এলাকাতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে যেতে পারে, যার ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কুয়াশার কারণে নদী বা জলাশয়গুলোতে ভ্রমণ বা নৌকা চালানোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে রবিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলার কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা অন্যান্য দিনের তুলনায় সুরক্ষার জন্য আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় হালকা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে। দার্জিলিং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে। উত্তরের এসব অঞ্চলে কুয়াশা এবং তুষারপাতের কারণে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এই ধরনের আবহাওয়ার মধ্যে সঠিক প্রস্তুতি না নিলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, বিশেষত রাস্তায় চলাচলের সময়।

এখন আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে যে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে তার পরের তিন দিন তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমে যেতে পারে। এই পরবর্তী দিনগুলিতে শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হতে পারে, কিন্তু পারদ সেইভাবে কমবে না। উত্তরে, তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা একদম একই রকম থাকবে, কিন্তু পরবর্তী তিন দিনে পারদ দুই ডিগ্রি কমে যেতে পারে।

এছাড়া, দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জায়গাতেও রবিবার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির উপরে উঠে গিয়েছে। কৃষ্ণনগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল দক্ষিণবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ছিল ১০.৪ ডিগ্রি, বহরমপুরে ১০ ডিগ্রি, সিউড়িতে ১০.২ ডিগ্রি, কল্যাণীতে ১১ ডিগ্রি, বর্ধমানে ১১ ডিগ্রি, এবং বাঁকুড়ায় ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল পারদ। কলকাতার উপকণ্ঠে দমদমে রবিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সল্টলেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখনও শহরের শীতের অনুভূতি পুরোপুরি কমে যায়নি, তবে কুয়াশার আগমন এবং তাপমাত্রার বৃদ্ধি শীতের অনুভূতিকে কিছুটা আলগা করেছে। তাপমাত্রার পরিবর্তন, কুয়াশা এবং বৃষ্টির মিশ্রণে, কলকাতায় এবং পশ্চিমবঙ্গে শীতের এই পালা, আরও কিছু দিন ধরে চলতে পারে।

news image
আরও খবর

রবিবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। এর মানে, কলকাতায় বর্তমানে শীতের অনুভূতি খানিকটা কমেছে, তবে তারপরেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি কম। এই মুহূর্তে শহরের আকাশ পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত রয়েছে, যা শীতকালীন আবহাওয়ার জন্য সাধারণত খুবই উপযোগী। যদিও, সকালে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে, যা শীতের মধ্যে এক ধরনের বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি করে।

এদিকে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে কুয়াশার সতর্কতা জারি করেছে। আগামী অন্তত তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, এই কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে রবিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলায় কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যা স্থানীয় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ এলাকায় আপাতত শুকনো আবহাওয়া বিরাজমান থাকবে। তবে, আগামী তিন দিন এই কুয়াশা অব্যাহত থাকবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও কিছুটা ঠান্ডা অনুভূতি থাকবে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের মাটির জেলা, যেমন নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান ইত্যাদি এলাকায় এই কুয়াশা আরও প্রকট হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

উত্তরবঙ্গে এই কুয়াশার সতর্কতা আরও ঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দার্জিলিঙে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং কিছু কিছু জেলায় হালকা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। দার্জিলিং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে, যা এখানকার বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি সতর্কতার ব্যাপার। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় তুষারপাতের কারণে পর্যটকদের জন্য আরও সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রায় বড়সড় কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে পরবর্তী তিন দিন তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমে যেতে পারে। এটি শীতকালীন আবহাওয়ার জন্য একটা স্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে, তবে এই তাপমাত্রা এখনও খুব কম নয়, এবং শীতের অনুভূতি দীর্ঘসময় ধরে থাকবে না।

উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রার পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গের থেকে কিছুটা আলাদা হবে। উত্তরের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা একই রকম থাকবে। তবে পরবর্তী তিন দিনে উত্তরের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি কমে যেতে পারে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকায় এখানে আরও ঠান্ডা অনুভূতি থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গাতেই রবিবার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির উপরে উঠে গিয়েছে। কৃষ্ণনগর ছিল দক্ষিণবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ছিল ১০.৪, বহরমপুরে ১০, সিউড়িতে ১০.২, কল্যাণীতে ১১, বর্ধমানে ১১, বাঁকুড়ায় ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল পারদ। কলকাতার উপকণ্ঠে দমদমে রবিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং সল্টলেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে, বেশ কিছু অঞ্চল শীতের তীব্রতা অনুভব না করে মাঝারি শীতের অনুভূতি পাচ্ছে। তবে, কুয়াশা ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সকাল এবং সন্ধ্যাবেলা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অতএব, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য আগামী কিছু দিন বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার উপসর্গ দেখা দিতে পারে, বিশেষত শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ইত্যাদি। তাই শীতকালীন সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করাটাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

Preview image