Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হঠাৎ ঠান্ডার কামড় কলকাতায় ফের তাপমাত্রা কমল শীত কি আবার জাঁকিয়ে বসছে বাংলায়

মাঘের শুরুতে কলকাতায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকলেও ফের পারদ পতন শুরু হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা কমছে, ফলে আবার শীতের অনুভূতি বাড়ছে।

কলকাতায় ফের ঠান্ডার কামব্যাক? সরস্বতী পুজোর পর পারদ পতনে শীতের দ্বিতীয় ইনিংসের ইঙ্গিত

শীত যেন বিদায় নিয়েছিল আগেই। মাঘ মাসের শুরুতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়ে গিয়েছিল। দিনের বেলায় উষ্ণতা বাড়ছিল, রাতের দিকে ঠান্ডার তীব্রতা কমছিল, আর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন—এবার বুঝি শীতের শেষ অধ্যায় এসে গেছে। কিন্তু প্রকৃতি যেন আবার নতুন করে চমক দিতে শুরু করেছে। সরস্বতী পুজোর সময় থেকেই ফের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায়। টানা কয়েকদিন পারদ নিম্নমুখী হওয়ায় ফের প্রশ্ন উঠছে—রাজ্যে কি শুরু হতে চলেছে শীতের দ্বিতীয় ইনিংস?

সরস্বতী পুজোর দিন থেকেই বদল আবহাওয়ায়

সরস্বতী পুজোর দিন শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৪ ডিগ্রির ঘরে। শনিবার আরও খানিকটা কমে পারদ পৌঁছেছে প্রায় ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কয়েকদিন আগেও যেখানে রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে, সেখানে আচমকা এমন পতন অনেককেই চমকে দিয়েছে। শীত কমে যাওয়ার যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা যেন আবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়কালে উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। যদিও আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনও নিশ্চিতভাবে শীতের দ্বিতীয় দফা নিয়ে কোনও ঘোষণা করেনি, তবে পারদের এই ধারাবাহিক পতনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

মাঘের শুরুতে অস্বাভাবিক উষ্ণতা

মাঘ মাসের শুরুতেই কলকাতায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সাধারণত এই সময় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ১৩-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কিন্তু চলতি বছরে তা উঠে গিয়েছিল ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার শীতের মেয়াদ কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে শীতের প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ বাতাসও তাপমাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু সরস্বতী পুজোর সময় হঠাৎ করে উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

কলকাতার তাপমাত্রার বিস্তারিত চিত্র

শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা প্রায় স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি। অন্যদিকে, শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার শহরের আকাশ মেঘমুক্ত থাকবে। তবে সকালের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা থাকতে পারে। সারাদিনের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে প্রায় ১৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

রাজ্য জুড়ে কুয়াশার সতর্কতা

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাজ্য জুড়ে আগামী তিন থেকে চার দিন কুয়াশার প্রভাব থাকতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যাবে। সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে কুয়াশার প্রকোপ বেশি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চার জেলায় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে ৫০ মিটার পর্যন্ত। তাই ওই এলাকাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

উত্তরবঙ্গে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি

উত্তরবঙ্গে ঠান্ডার তীব্রতা এখনও বেশি। শনিবার দার্জিলিঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাহাড়ি অঞ্চলে রাতের ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

এছাড়া রাজ্যে আরও একটি জায়গায় পারদ ১০ ডিগ্রির নীচে নেমেছে। নদিয়ার কল্যাণীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ঠান্ডার বিচারে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কালিম্পং এবং কোচবিহারে তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

দক্ষিণবঙ্গেও ঠান্ডার প্রভাব

দক্ষিণবঙ্গেও তাপমাত্রা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শনিবার বিভিন্ন জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল—

  • বাঁকুড়া: ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

  • শ্রীনিকেতন: ১১.৫ ডিগ্রি

  • বহরমপুর: ১১.৬ ডিগ্রি

  • ক্যানিং: ১১ ডিগ্রি

  • পানাগড়: ১১.২ ডিগ্রি

  • আসানসোল: ১১.৩ ডিগ্রি

  • ব্যারাকপুর: ১১ ডিগ্রি

  • ঝাড়গ্রাম: ১১.৫ ডিগ্রি

কলকাতার উপকণ্ঠে দমদমে তাপমাত্রা নেমেছে ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সল্টলেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, শুধু কলকাতা নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গেই তাপমাত্রা কমছে।

আগামী দিনের আবহাওয়া কী বলছে?

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ছয় দিনে রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ পারদ খুব বেশি কমবে না, আবার হঠাৎ করে বাড়বেও না। তবে সকালের দিকে শীতের আমেজ বজায় থাকবে।

news image
আরও খবর

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কমে গেলে আবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আপাতত কয়েকদিন ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের দ্বিতীয় ইনিংস—কতটা বাস্তব?

প্রশ্ন উঠছে—এটা কি সত্যিই শীতের দ্বিতীয় ইনিংস, নাকি সাময়িক আবহাওয়ার পরিবর্তন?

আবহাওয়াবিদদের মতে, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাঝে মাঝে এমন তাপমাত্রা পতন দেখা যায়। একে পুরোপুরি ‘শীতের দ্বিতীয় ইনিংস’ বলা না গেলেও, এটি শীতের শেষ দফার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

তবে সাধারণ মানুষের কাছে এই পরিবর্তন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েকদিন আগেই যখন সবাই গরমের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন, তখন হঠাৎ করে আবার ঠান্ডার ফিরে আসা অনেকের কাছেই চমক।

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব

তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সকাল ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়ায় অনেকেই আবার উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের জন্যও সকালের ঠান্ডা বাড়তি সমস্যা তৈরি করছে।

এছাড়া কুয়াশার কারণে যান চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ট্রেন ও সড়ক পথে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কৃষি ও পরিবেশের উপর প্রভাব

ঠান্ডা আবহাওয়া কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শীতকালীন ফসলের জন্য এই তাপমাত্রা কিছুটা উপকারী হলেও, কুয়াশার কারণে কিছু ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আবহাওয়ার এই ধরনের অস্থিরতা বাড়ছে। কখনও হঠাৎ গরম, কখনও আবার আচমকা ঠান্ডা—এই প্রবণতা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হতে পারে।

শীতের দ্বিতীয় ইনিংস—বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

শীতের দ্বিতীয় ইনিংস বলতে আসলে কী বোঝায়? আবহাওয়াবিদদের মতে, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাঝে মাঝে তাপমাত্রা আবার কমে যায়। একে পুরোপুরি নতুন শীত বলা না গেলেও, এটি শীতের শেষ দফার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, বাতাসের দিক পরিবর্তন এবং উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

যখন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কমে যায় এবং উত্তর দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করে। এই কারণেই সরস্বতী পুজোর সময় থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা কমেছে।


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

পরিবেশবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আবহাওয়ার এই ধরনের অস্থিরতা বাড়ছে। কখনও হঠাৎ গরম, কখনও আবার আচমকা ঠান্ডা—এই প্রবণতা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হতে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। ফলে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময়কালেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অস্বাভাবিক আবহাওয়া আরও বাড়তে পারে।


দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব

তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সকাল ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়ায় অনেকেই আবার উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের জন্য সকালের ঠান্ডা বাড়তি সমস্যা তৈরি করছে। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ক্ষেত্রে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এছাড়া কুয়াশার কারণে যান চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ট্রেন ও সড়ক পথে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস: কতদিন থাকবে ঠান্ডা?

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ছয় দিনে রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ পারদ খুব বেশি কমবে না, আবার হঠাৎ করে বাড়বেও না।

তবে সকালের দিকে শীতের আমেজ বজায় থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত মাঝে মাঝে ঠান্ডার অনুভূতি থাকতে পারে।


উপসংহার: শীত এখনও শেষ হয়নি

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়া আবার নতুন করে বদলাতে শুরু করেছে। মাঘের শুরুতে যেখানে উষ্ণতার দাপট ছিল, সেখানে এখন ফের ঠান্ডার অনুভূতি ফিরে এসেছে।

যদিও আবহাওয়া দফতর এখনও নিশ্চিতভাবে শীতের দ্বিতীয় দফা নিয়ে কোনও ঘোষণা করেনি, তবুও টানা পারদ পতন সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শীত কি আবার ফিরছে?

আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া এই প্রশ্নের উত্তর দেবে। তবে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, শীত এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফের ঠান্ডার কামড় অনুভূত হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের দ্বিতীয় ইনিংস নিয়ে জল্পনা।

শীত হয়তো বিদায় নেয়নি—সে কেবল অপেক্ষায় ছিল। আর এখন আবার নতুন করে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বাংলার আকাশে, বাতাসে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

Preview image