ওটিটি ও বড়পর্দায় সাফল্যের পর আবারও টেলিভিশনে ফিরছেন অলিভিয়া সরকার। স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক মিলন হবে কতদিনে তে দেখা যাবে তাঁকে। গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও শোলাঙ্কি রায় থাকছেন প্রধান ভূমিকায়, সঙ্গে কৌশিক রায়ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। প্রেম ও বাস্তবতার সংঘর্ষে গড়ে উঠবে এই গল্প।
বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় পর্দায় আবারও ফিরছেন একসময়ের দর্শকপ্রিয় মুখ অলিভিয়া সরকার। বহুদিন পর তাঁকে দেখা যাবে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘মিলন হবে কতদিনে’-তে। এই ধারাবাহিকটি প্রযোজনা করছে অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট, যারা এর আগে ‘গাঁটছড়া’, ‘খেলাঘর’, ‘মোহর’ বা ‘ফেলনা’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক দর্শকদের উপহার দিয়েছে।
এই নতুন সিরিজে অভিনয় করছেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়, শোলাঙ্কি রায় ও কৌশিক রায়—তিনজনই বর্তমান টেলিভিশন দুনিয়ার পরিচিত নাম। আর তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকছেন অলিভিয়া সরকার, যাঁর চরিত্রটি এই গল্পের এক বিশেষ বাঁক তৈরি করবে।
অলিভিয়া সরকার বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই প্রিয় এক নাম। তাঁর শুরু হয়েছিল টেলিভিশন থেকেই, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বড়পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সাফল্য অর্জন করেছেন। অভিনয়ের বহুমুখী দক্ষতা, স্বাভাবিক সংলাপপ্রদানের ধরণ ও শক্তিশালী উপস্থিতির জন্য তিনি আলাদা করে নজর কেড়েছেন।
‘অশ্লীলতা’, ‘বাকচোতরান’, ‘বিনি সুতোয়’, ‘হোয়াই নট?’ কিংবা সাম্প্রতিক কিছু শর্ট ফিল্মে তাঁর অভিনয় দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেই অলিভিয়া এবার টেলিভিশনে ফিরছেন একটু আলাদা মেজাজের চরিত্রে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ‘মিলন হবে কতদিনে’-তে তাঁর চরিত্রটি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়, বরং ধূসর ছোঁয়াযুক্ত। মানে, চরিত্রটির মধ্যে থাকবে দ্বন্দ্ব, বাস্তবতা ও মানবিকতার মিশ্রণ—যা গল্পে জটিলতা ও গভীরতা যোগ করবে। অনেকেই মনে করছেন, এই চরিত্রের মাধ্যমেই আবারও অলিভিয়াকে দর্শক এক নতুন আলোয় দেখতে পাবেন।
বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও শোলাঙ্কি রায়কে একসঙ্গে দেখলে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত হন। তাঁদের জুটি আগেও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল ‘গাঁটছড়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। সেই সিরিজে তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, ভক্তরা এখনও তাঁদের নাম একসঙ্গে উচ্চারণ করেন।
‘মিলন হবে কতদিনে’ এই জনপ্রিয় জুটিকে আবারও একত্রে ফিরিয়ে আনছে। এবারও তাঁদের চরিত্র দুটির মধ্যে থাকবে স্পষ্ট পার্থক্য—একজন বাস্তববাদী, অন্যজন আবেগপ্রবণ; একজন ভালোবাসাকে সময়ের অপচয় মনে করে, অন্যজন ভালোবাসাকেই জীবনের অর্থ হিসেবে দেখে।
গৌরব অভিনয় করছেন ‘গোরা’ চরিত্রে—একজন গম্ভীর, যুক্তিবাদী, বাস্তবচিন্তক মানুষ, যিনি জীবনের প্রতিটি বিষয়ে লজিক খোঁজেন। তাঁর কাছে প্রেম, সম্পর্ক, রোম্যান্স—সবই এক ধরনের বিলাসিতা, যার বাস্তব জীবনে বিশেষ প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, শোলাঙ্কির চরিত্র ‘এলা’ সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এক প্রাণবন্ত, সঙ্গীতপ্রেমী মেয়ে, যার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ভালোবাসা, অনুভব আর সুর।
এই বিপরীত দুই মনের মানুষের মিলনই গড়ে তুলবে ধারাবাহিকের মূল গল্প—একটি মানসিক যাত্রা, যেখানে ভালোবাসা ও বাস্তবতার সংঘর্ষে তৈরি হবে এক আবেগময় সম্পর্কের কাহিনি।
ধারাবাহিকটির অন্যতম আকর্ষণ হবে অভিনেতা কৌশিক রায়। তিনি বর্তমানে টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তবে এই ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্রটি নায়কোচিত নয়—বরং ধূসর, জটিল এবং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করবে।
গৌরব ও শোলাঙ্কির চরিত্রের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন, সেখানে কৌশিকের চরিত্র এসে সেই ভারসাম্য ভেঙে দেবে। এই ধূসর চরিত্রটিই গল্পের আবেগময় বাঁকগুলিকে তীব্র করে তুলবে। সূত্রের খবর, কৌশিকের এই চরিত্রে একাধিক স্তর থাকবে—প্রথমে যাকে দর্শক একভাবে দেখবেন, কিন্তু কাহিনির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্তরাল উন্মোচিত হবে।
বাংলা টেলিভিশনের প্রযোজনা সংস্থা অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট সবসময়ই নতুন গল্প, নতুন প্রজন্মের ভাবনা আর সংবেদনশীল উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। তাঁদের প্রযোজিত ধারাবাহিকগুলোয় দেখা যায় বাস্তব জীবনের প্রতিফলন, আধুনিক যুগের সম্পর্কের জটিলতা, এবং নারী-পুরুষের মানসিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
‘মিলন হবে কতদিনে’ সেই ধারাবাহিকতারই সম্প্রসারণ। এখানে তারা দর্শককে এমন এক গল্প দিতে চলেছে যা শুধুমাত্র প্রেমের গল্প নয়—বরং আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং মানবিক সংঘাতের গল্পও বটে।
অ্যাক্রোপলিসের ক্রিয়েটিভ টিম জানিয়েছে, তাঁরা চাইছেন এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকরা নিজেদের জীবনের কোনো না কোনো অংশ খুঁজে নিন। তাই এর সংলাপ, সেট ডিজাইন, সঙ্গীত—সব কিছুতেই থাকছে বাস্তবের ছোঁয়া।
‘মিলন হবে কতদিনে’-র গল্পের সূচনা এক শহুরে প্রেক্ষাপটে, যেখানে দুই ভিন্ন মানসিকতার মানুষের দেখা হয় এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে। গোরা—যিনি যুক্তির মানুষ, এবং এলা—যিনি অনুভূতির মানুষ, দু’জনের জীবন একে অপরের বিপরীতে চলতে থাকে।
গোরা কাজ করেন এক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনে সফল হতে হলে আবেগের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে, এলা হলেন এক তরুণ সঙ্গীতশিল্পী, যিনি মনে করেন—প্রেম ও আবেগ ছাড়া জীবন মানেই শূন্যতা।
গল্পের প্রথম দিকে দেখা যাবে এই দুই চরিত্রের সংঘাত, মতবিরোধ এবং ক্রমে একে অপরের প্রতি আকর্ষণ। কিন্তু এই সম্পর্কের মাঝখানেই এসে পড়বে কিছু অজানা মানুষ, কিছু অসম্পূর্ণ অতীত এবং কিছু লুকোনো সত্য—যা তাঁদের সম্পর্ককে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এখানেই আসবে অলিভিয়ার চরিত্র। তিনি গল্পে এমন এক ব্যক্তিত্বের প্রতীক, যিনি একদিকে বাস্তববাদী, অন্যদিকে আবেগপ্রবণ। তাঁর চরিত্রটি গোরা ও এলার জীবনে ছায়া ফেলবে, কিন্তু একই সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককেও নতুন দিশা দেখাবে।
গোরা (গৌরব চট্টোপাধ্যায়): শীতল মস্তিষ্কের, যুক্তিবাদী, একাকী মানুষ। জীবনে সাফল্যই তাঁর লক্ষ্য, সম্পর্ক নয়। কিন্তু এলার উপস্থিতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে শুরু করে।
এলা (শোলাঙ্কি রায়): এক সঙ্গীতপ্রেমী, উদ্যমী মেয়ে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি খুঁজে পান ভালোবাসার মানে। গোরার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর এক মানসিক যাত্রা।
অলিভিয়া (চরিত্রের নাম গোপন রাখা হয়েছে): গল্পের ধূসর চরিত্র, যার উপস্থিতি ভালোবাসা ও বাস্তবতার সীমারেখাকে ঘোলাটে করে দেয়। তাঁর চরিত্রের ভেতরে রয়েছে অতীতের রহস্য।
কৌশিক রায়ের চরিত্র: গল্পের অন্য প্রান্তের নায়ক-অ্যান্টিহিরো। তাঁর আগমনই ঘটায় এক বড় মোড়, যা সব চরিত্রের জীবনে প্রভাব ফেলে।
ধারাবাহিকটির নামই যেন প্রতীকী—‘মিলন হবে কতদিনে’। এখানে ‘মিলন’ শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন নয়; বরং ভাবনা ও বাস্তবতার, আবেগ ও যুক্তির মিলন। আধুনিক সমাজে যেখানে সম্পর্কগুলো দ্রুত গড়ে ওঠে ও ভেঙে যায়, সেখানে এই গল্প সেই তাড়াহুড়োর মধ্যে একটু থেমে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
গোরা ও এলার মধ্যে সম্পর্ক শুধু প্রেমের নয়—এটা একে অপরকে বোঝার, মানিয়ে নেওয়ার এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার এক প্রক্রিয়া।
অ্যাক্রোপলিসের ধারাবাহিক মানেই মন ছুঁয়ে যাওয়া সংলাপ ও সুরেলা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। ‘মিলন হবে কতদিনে’-তেও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে। এলার চরিত্র যেহেতু সঙ্গীতনির্ভর, তাই এই ধারাবাহিকে থাকবে বেশ কিছু নতুন গান, যা গল্পের আবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
গানগুলোর কথা ও সুর নিয়ে কাজ করছেন টলিউডের নামী কিছু শিল্পী। জানা গেছে, ধারাবাহিকের টাইটেল ট্র্যাকটি বিশেষভাবে রোম্যান্টিক ও মেলোডিয়াস হবে, যা দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবে প্রথম থেকেই।
গৌরব ও শোলাঙ্কির পুনর্মিলন, অলিভিয়ার প্রত্যাবর্তন, এবং অ্যাক্রোপলিসের সুনাম—এই তিনটি উপাদানই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে ধারাবাহিকটিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ধারাবাহিক নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ভক্তরা বলছেন, “গাঁটছড়া”-এর মতো আবেগঘন রসায়ন আবারও ফিরে আসুক নতুন গল্পে।
অন্যদিকে, অলিভিয়ার ভক্তরাও অপেক্ষা করছেন তাঁকে নতুন চরিত্রে দেখতে। অনেকেই বলছেন, তাঁকে এই সিরিজের মাধ্যমে আবারও ছোটপর্দায় দেখতে পাওয়া মানে যেন এক নস্টালজিক ফিরে আসা।
গত কয়েক বছরে বাংলা টেলিভিশন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। একসময়ের একরকম গল্পের জায়গা এখন নিয়েছে বাস্তবসম্মত ও মনস্তাত্ত্বিক উপস্থাপনা। তরুণ প্রজন্মও এখন টেলিভিশনের ধারাবাহিকের দিকে ফিরে আসছে, যদি গল্পে থাকে আধুনিক সংবেদন ও মানসিক গভীরতা।
‘মিলন হবে কতদিনে’ সেই প্রয়াসেরই অংশ। এখানে সম্পর্কের জটিলতাকে কেবল রোম্যান্স নয়, বরং আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দফার শুটিং ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শহরের বিভিন্ন লোকেশনে। পরিচালক ও কাস্টরা জানিয়েছেন, তাঁরা চান গল্পটিকে যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত করে তুলতে। পোশাক, সেট, সংলাপ—সব কিছুতেই তাই থাকছে একটি আধুনিক অথচ ঘরোয়া টাচ।
অলিভিয়া বলেছেন এক সাক্ষাৎকারে,
“এই চরিত্রটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। এখানে আমি একধরনের দ্বৈততার মধ্যে আছি—ভালোবাসা আর বাস্তবতার টানাপোড়েন। টেলিভিশনে ফিরে আসা মানেই আবার দর্শকের ঘরে ঢুকে পড়া, সেটা ভীষণ আনন্দের।”
গৌরবও জানিয়েছেন,
“এলা ও গোরার সম্পর্ক খুব বাস্তব। আজকের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ভালোবাসাকে বোঝেন যুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে, আবার কেউ কেউ একে জীবনের একমাত্র সত্য মনে করেন। এই গল্প সেই দু’দিকের সংঘাতকেই ফুটিয়ে তুলবে।”
বাংলা টেলিভিশন বর্তমানে এক নতুন যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সেখানে ‘মিলন হবে কতদিনে’ কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং আত্মপরিচয়ের, আবেগের ও বাস্তবতার মিশ্রণ।
অলিভিয়া সরকারের প্রত্যাবর্তন, গৌরব-শোলাঙ্কির অনস্ক্রিন রসায়ন এবং অ্যাক্রোপলিসের ভাবনাসমৃদ্ধ নির্মাণ—এই তিনটি উপাদানই ধারাবাহিকটিকে দর্শকদের জন্য বিশেষ করে তুলছে।
প্রশ্ন একটাই—মিলন হবে কতদিনে?
উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে স্টার জলসার পর্দায়, যেখানে শুরু হবে ভালোবাসা ও বাস্তবতার এক অনন্য যাত্রা।