Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জাতীয় সংঘে গাছের রঙিন জগৎ জানুয়ারিতে গাছ গ্রুপের গাছ মেলা

জাতীয় সংঘের ভলিবল মাঠ, খোশবাগান, বর্ধমানে আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাছ গ্রুপের বার্ষিক গাছ মেলা। এটি উদ্ভিদপ্রেমী, সমাজ সচেতন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ভালোবাসা ব্যক্তিদের জন্য এক বিশেষ উৎসব হিসেবে ধরা হচ্ছে। চারদিনব্যাপী এই মেলায় সাধারণ দর্শনার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গাছ গ্রুপের সক্রিয় সদস্যরা একত্রিত হবেন, যা মেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত এবং শিক্ষণীয় করে তুলবে। মেলার মূল আকর্ষণ হবে নানা ধরনের গাছ ও উদ্ভিদ প্রদর্শনী। এতে ফলবাহী, বনজ, বাগান ও দৃষ্টিনন্দন ফ্লাওয়ার গাছগুলো স্থান পাবে। প্রায়শই সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেসব গাছের সঙ্গে পরিচিত, মেলায় তারা দেখতে পাবেন আরও বিরল ও অদ্বিতীয় প্রজাতির উদ্ভিদ। এই ধরনের প্রদর্শনী শুধু দর্শনীয়ই নয়, বরং শিক্ষামূলকও, কারণ এটি উদ্ভিদ চাষ, পরিচর্যা এবং পরিবেশ সচেতনতার প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলে। মেলার প্রতিটি দিনেই থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান। জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গ দর্শনার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভাগ করবেন। গাছ গ্রুপের কর্ণধার এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক অরূপ চৌধুরী মহাশয়ও মেলায় উপস্থিত থাকবেন। তিনি উদ্ভিদ এবং পরিবেশ সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে বক্তৃতা করবেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় অংশ নেবেন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাতীয় সংঘের ভলিবল মাঠ, খোশবাগান, বর্ধমানে জানুয়ারির ১১ থেকে ১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাছ গ্রুপের বার্ষিক গাছ মেলা, যা এই অঞ্চলের উদ্ভিদপ্রেমী এবং পরিবেশ সচেতন জনগণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চারদিনব্যাপী এই মেলায় শুধুমাত্র সাধারণ দর্শনার্থীরাই নয়, বরং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জ্ঞানীগুণী শিক্ষক এবং পরিবেশ সচেতন বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত থাকবেন। গাছ গ্রুপের কর্ণধার এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক অরূপ চৌধুরী মহাশয় এই মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করবেন। মেলাটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে উদ্ভিদপ্রেমী, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে উদ্ভিদ ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতি আগ্রহী হতে পারেন।

মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো নানা প্রজাতির গাছের প্রদর্শনী। এখানে থাকবে ফলবাহী গাছ, বনজ উদ্ভিদ, ফুলের গাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন গাছ। দর্শনার্থীরা এখানে এমন অনেক প্রজাতির গাছ দেখতে পাবেন যেগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কম পরিচিত। প্রতিটি গাছের সঙ্গে থাকবে বিস্তারিত তথ্য এবং পরিচর্যার নির্দেশনা, যা নতুন উদ্ভিদচাষী বা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় হবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাগানী ও উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী গাছ চাষ ও পরিচর্যার পদ্ধতি প্রদর্শন করবেন। ফলে দর্শনার্থীরা শুধু গাছ দেখবেন না, বরং শিখবেন কিভাবে গাছের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা এবং সৌন্দর্য বাড়ানো যায়।

মেলার প্রতিটি দিনেই থাকবে বিশেষ কর্মশালা এবং আলোচনা সভা। যেখানে পরিবেশবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করবেন। তারা উদ্ভিদ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশ বান্ধব জীবনধারা, শহুরে ও গ্রামীণ পরিবেশে সবুজায়নের গুরুত্ব এবং স্থায়ী কৃষি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের প্রায়োগিক জ্ঞান বৃদ্ধি করবে এবং পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিশুদের জন্যও বিশেষ ক্রিয়াকলাপ এবং গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানতে পারে এবং গাছের প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

মেলার সামাজিক দিকও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল গাছ প্রদর্শনের মেলা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা। এখানে মানুষ একত্রিত হয়, অভিজ্ঞতা ভাগ করে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করে। গাছ গ্রুপের সদস্যরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্ভিদচর্চা ও সমাজসেবায় যুক্ত, তারা দর্শনার্থীদের সঙ্গে তাদের জ্ঞান শেয়ার করবেন। এছাড়াও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করতে পারবেন এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। মেলাটি দর্শনার্থীদেরকে শুধুমাত্র বিনোদন দিচ্ছে না, বরং তাদেরকে পরিবেশ, সমাজ এবং জীববৈচিত্র্যের প্রতি সচেতন করছে।

গাছ গ্রুপের মেলায় উদ্ভিদ প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে অন্যান্য আকর্ষণীয় কার্যক্রম যেমন গাছ লাগানোর প্রতিযোগিতা, গাছ পরিচর্যা বিষয়ক ডেমো এবং শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক শিক্ষামূলক খেলাধুলা। এই ধরনের কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে উদ্ভিদ এবং পরিবেশ সচেতনতার মানসিকতা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেলার প্রতিটি স্থানকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা সহজে বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং কর্মশালায় অংশ নিতে পারেন এবং গাছ সম্পর্কিত নতুন তথ্য জানতে পারেন।                                                                                                          

এই মেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য এটি উন্মুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে শিক্ষার্থী, গৃহিণী, প্রকৃতি প্রেমী, উদ্যোক্তা এবং গবেষকরা একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবেন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও এটি নতুন উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।                                                         

গাছ গ্রুপের কর্ণধার এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক অরূপ চৌধুরী মহাশয় মেলায় উপস্থিত থাকবেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করবেন। তিনি উদ্ভিদ এবং পরিবেশ সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরবেন এবং দর্শনার্থীদের জীবনে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝাবেন। গাছ গ্রুপের অন্যান্য সদস্য এবং অভিজ্ঞ উদ্ভিদচাষীরাও অংশগ্রহণ করবেন, যা মেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত এবং শিক্ষণীয় করে তুলবে।

মেলার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা শিখবেন কিভাবে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা যায়, কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা অবলম্বন করা যায় এবং কীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখা যায়। এখানে মানুষ কেবল গাছের সৌন্দর্য উপভোগ করবে না, বরং শিখবে যে প্রতিটি উদ্ভিদ এবং গাছের জীবন আমাদের সমাজ ও পরিবেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষামূলক দিকটি মেলাটিকে সাধারণ প্রদর্শনীর তুলনায় অনেক বেশি গভীর এবং অর্থবহ করে তুলেছে। 

news image

মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণা এবং গাছচাষ সম্পর্কিত নতুন পদ্ধতি প্রদর্শন করতে পারবেন। এটি শুধু ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নয়, বরং শিক্ষামূলক বিনিময়ের সুযোগও তৈরি করছে। দর্শনার্থীরা নতুন ধরনের উদ্ভিদ, বাগান এবং প্রাকৃতিক সজ্জা সম্পর্কে জানবেন এবং নিজেদের জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারবেন। শিশুদের জন্য আলাদা শিক্ষামূলক কার্যক্রম থাকায় তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং উদ্ভিদচর্চার সঙ্গে পরিচিত হবে।

গাছ মেলার সামাজিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে, নতুন বন্ধু তৈরি করবে এবং পরিবেশ ও উদ্ভিদচর্চা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি শিক্ষারও একটি উৎসব, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উদ্ভিদচর্চা এবং সামাজিক মিলনের সংমিশ্রণ ঘটছে। দর্শনার্থীরা নতুন ধারণা, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার সুযোগ পাবেন, যা তাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে প্রয়োগ করতে সক্ষম

গাছ মেলা শুধু একটি প্রদর্শনী নয় এটি প্রকৃতি ও সমাজের মিলনের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে মানুষ শুধু গাছ দেখবে না, বরং শিখবে কিভাবে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করা যায়, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা অবলম্বন করা যায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা যায়। শিশুদের জন্য আলাদা ক্রিয়াকলাপ ও গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা থাকায় তারা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারবে।

গাছ গ্রুপের গাছ মেলা ২০২৬ একটি সামাজিক, শিক্ষামূলক এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সমন্বয়। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উদ্ভিদচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করবে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী এখানে শুধু আনন্দই পাবেন না, বরং নতুন অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং পরিবেশ বান্ধব জীবনধারার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন।

অতিথিদের উপস্থিতি মেলাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। জ্ঞানী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি শুধুমাত্র সম্মানজনক নয়, বরং এটি দর্শনার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করে। তারা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপের মাধ্যমে গাছচর্চা, পরিবেশ রক্ষা এবং সমাজ সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। গাছ গ্রুপের কর্ণধার অরূপ চৌধুরী মহাশয় এই মেলার মূল আকর্ষণ। তিনি তার অভিজ্ঞতা এবং গাছের প্রতি ভালোবাসা ভাগ করে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্বুদ্ধ করবেন।

মেলা দর্শনার্থীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে মানুষ শুধুমাত্র গাছ দেখবে না, বরং শিখবে কিভাবে পরিবেশের সুরক্ষা করা যায়, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা অনুসরণ করা যায়। এটি একটি শিক্ষামূলক, সামাজিক এবং বিনোদনমূলক মিলনমেলা, যা উদ্ভিদপ্রেমী এবং সমাজ সচেতন মানুষদের জন্য এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। মেলায় অংশগ্রহণ করে দর্শনার্থীরা নতুন ধারণা, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা অর্জন করবেন, যা তাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে প্রয়োগ করতে পারবেন।

সংক্ষেপে, গাছ গ্রুপের গাছ মেলা ২০২৬ একটি বিশেষ সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোগ, যা উদ্ভিদপ্রেমী এবং সাধারণ জনগণকে একত্রিত করে। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উদ্ভিদচর্চা, পরিবেশ সচেতনতা এবং সামাজিক সমন্বয়কে উৎসাহিত করবে। প্রতিটি দর্শনার্থী মেলার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে আরও গভীর সংযোগ অনুভব করবেন, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও সচেতনতা বাড়াতে সক্ষম হবেন। এটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং একটি শিক্ষামূলক ও সামাজিক মিলনমেলার উদাহরণ, যেখানে মানুষ এবং প্রকৃতি একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করবে।

Preview image