ব্রাজ়িলের আটলান্টিক অরণ্যে বিজ্ঞানীরা ১৭১৪টি মশার উপর পরীক্ষা চালান। ১৪৫টি স্ত্রী মশার মধ্যে ২৪টির রক্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায় তারা মূলত মানুষকেই কামড়েছিল।
শান্তিতে খোলা জায়গায় বসার উপায় আজ প্রায় নেই বললেই চলে। একটু অসতর্ক হলেই কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ তুলে হানা দেয় মশা। মুহূর্তের মধ্যেই ত্বকে বসিয়ে দেয় হুল, শুষে নেয় রক্ত। ধূপ, কয়েল, স্প্রে—প্রতিরোধের একের পর এক পদ্ধতি ব্যবহার করেও পুরোপুরি রেহাই মিলছে না। ঘরের মধ্যে কোনও মতে নিজেদের আড়াল করা গেলেও বাইরে বেরোলেই মশার দাপট স্পষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন হল—এই মশারাই কি বরাবর মানুষের রক্তে এতটা আসক্ত ছিল?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্ভবত নয়। বহু হাজার বছর আগে মানুষ দেখলেই যে মশা ঝাঁপিয়ে পড়ত, এমন প্রমাণ মেলে না। বরং সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মানুষেরই একাধিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে মশাদের খাদ্যাভ্যাস বদলে দিয়েছে। আজ তারা মানুষকেই সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে স্থায়ী রক্তের উৎস হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রাজ়িলের আটলান্টিক অরণ্যে (Atlantic Forest) চালানো এক বিশদ গবেষণায়।
ব্রাজ়িলের আটলান্টিক অরণ্য শুধু একটি বনভূমি নয়, বরং পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য অঞ্চল। এই অরণ্য ব্রাজ়িল ছাড়াও প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। হাজার হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর এবং অসংখ্য কীটপতঙ্গের আবাস এই বন।
এক সময় এই অরণ্যভূমি দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। কিন্তু শিল্পায়ন, শহরায়ণ, কৃষি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনের কারণে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অরণ্য ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, অতীতে যতটা এলাকা জুড়ে আটলান্টিক অরণ্য ছিল, বর্তমানে তার মাত্র ৩০ শতাংশের মতো অংশ টিকে রয়েছে।
এই বিপুল বনধ্বংসের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সেখানে বসবাসকারী প্রাণীকুলের উপর। বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে, আবার অনেক প্রজাতির সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। খাদ্যশৃঙ্খলে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যহীনতা। আর এই পরিবর্তনের ঢেউ এসে লেগেছে মশাদের জীবনযাপনেও।
এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন—
ব্রাজ়িলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা
অলওয়াল্ডো ক্রুজ ইনস্টিটিউট (Oswaldo Cruz Institute)
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘Frontiers in Ecology and Evolution’-এ, যা পরিবেশ ও বিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বীকৃত একটি প্রকাশনা।
বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক অরণ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে মোট ১,৭১৪টি মশা সংগ্রহ করেন। এই মশাগুলি ছিল ৫২টি ভিন্ন প্রজাতির। সংগ্রহ করা মশাদের মধ্যে—
১৪৫টি ছিল স্ত্রী মশা
স্ত্রী মশাদের মধ্যেই রক্ত শোষণের প্রবণতা থাকে, কারণ ডিম পাড়ার জন্য তাদের প্রোটিন প্রয়োজন
এই ১৪৫টি স্ত্রী মশার মধ্যে থেকে বিজ্ঞানীরা ২৪টির পেটে থাকা রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। অত্যাধুনিক জেনেটিক ও বায়োমলিকিউলার প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করে জানা হয়—এই মশাগুলি শেষবার কাদের কামড়েছিল।
পরীক্ষার ফলাফল ছিল বিস্ময়কর—
২৪টি স্ত্রী মশার মধ্যে
১৮টির পেটে পাওয়া যায় মানুষের রক্ত
বাকি ৬টির পেটে পাওয়া যায়
ইঁদুর
পাখি
উভচর (Amphibian)
কুকুর শ্রেণির প্রাণী (Canidae)-এর রক্ত
এই পরিসংখ্যান থেকেই বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত—
মশাদের মধ্যে মানুষের রক্তের প্রতি স্পষ্ট ঝোঁক তৈরি হয়েছে।
এমনকি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অরণ্যভূমিতে থেকেও তারা অন্যান্য প্রাণীর পরিবর্তে মানুষকেই বেশি কামড়াচ্ছে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে—
অরণ্য কমে যাওয়ায় বহু বন্যপ্রাণী হয় বিলুপ্ত হয়েছে, নয়তো সংখ্যায় এতটাই কমে গিয়েছে যে মশাদের কাছে তারা আর সহজলভ্য নয়।
এক সময় মশারা বিভিন্ন প্রাণীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারত। এতে তাদের খাদ্যে বৈচিত্র্য ছিল। এখন সেই সুযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছে।
বনভূমির আশেপাশে ও ভিতরে মানুষের বসতি বেড়েছে। ফলে মানুষ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে সহজলভ্য “হোস্ট”।
বেঁচে থাকার তাগিদে মশারা নিজেদের খাদ্যাভ্যাস বদলাতে বাধ্য হয়েছে। মানুষের রক্ত নিয়মিত ও সহজে পাওয়া যায়—এই উপলব্ধি থেকেই তারা মানুষের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
ব্রাজ়িলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সার্জিয়ো মাচাদো এই প্রসঙ্গে মানুষকে বলেছেন
“Prevalent Host”, অর্থাৎ এমন এক আয়োজক যার উপস্থিতি সর্বত্র ও ধারাবাহিক।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।
যদি কোনও মশা ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, জিকা বা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তিকে কামড়ায় এবং পরে অন্য একজন সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তবে খুব সহজেই রোগ ছড়াতে পারে।
যত বেশি মশা মানুষের উপর নির্ভরশীল হবে, ততই মানুষের শরীরে রোগজীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়বে।
গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।
এই পরিস্থিতির জন্য বিজ্ঞানীরা সরাসরি মানুষকেই দায়ী করছেন।
জঙ্গল কেটেছে মানুষ
প্রাণীকুল ধ্বংস হয়েছে
বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে
ফলে মশাদের প্রাকৃতিক খাদ্যসূত্রে টান পড়েছে। বাধ্য হয়েই তারা মানুষের আরও কাছাকাছি এসেছে।
সার্জিয়ো মাচাদোর বক্তব্য অনুযায়ী,
“মশারা স্বেচ্ছায় মানুষকে বেছে নেয়নি। তারা বাধ্য হয়েছে। প্রকৃতির দেওয়া বিকল্পগুলি মানুষের কর্মকাণ্ডে হারিয়ে যাওয়ায় মানুষই তাদের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে।”
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে—
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে
রোগ সংক্রমণের রুট বোঝাতে
বন সংরক্ষণ নীতিতে পরিবর্তন আনতে
জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনায় নতুন কৌশল তৈরিতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
যদি অরণ্য সংরক্ষণ করা যায়, জীববৈচিত্র ফিরিয়ে আনা যায়, তবে হয়তো মশাদের মানুষের উপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
মানবসভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এক সময় মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাস করত। বন, নদী, পাহাড়, পশুপাখি—সবকিছু মিলেই ছিল জীবনচক্র। মানুষ প্রয়োজনের বেশি কিছু নেয়নি। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলাতে শুরু করে।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকে প্রকৃতিকে দেখা হতে লাগল সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে। বন মানে কাঠ, জমি মানে বসতি, নদী মানে জলবিদ্যুৎ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শুরু হয় লাগাতার বন উজাড়, পাহাড় কাটা, জলাভূমি ভরাট। উন্নয়নের নামে প্রকৃতির শরীর থেকে একের পর এক অঙ্গ ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে।
এর ফল যে একদিন ভয়াবহ আকার নেবে, তা বিজ্ঞানীরা বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হয়েছে বারবার।
বিশ্বজুড়ে অরণ্য ধ্বংস আজ এক মারাত্মক সমস্যা। ব্রাজ়িলের আমাজ়ন, ইন্দোনেশিয়ার রেইনফরেস্ট, আফ্রিকার বনভূমি কিংবা ভারতের পশ্চিমঘাট—সব জায়গাতেই একই ছবি। অরণ্য সঙ্কুচিত হচ্ছে, প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ছে।
ব্রাজ়িলের আটলান্টিক অরণ্য তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এক সময় এই অরণ্য ছিল জীববৈচিত্র্যের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু আজ তার মাত্র ৩০ শতাংশ টিকে রয়েছে। এই বন ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে অসংখ্য পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, উভচর ও সরীসৃপ।
জীববৈচিত্র্য কমে গেলে শুধু একটি প্রজাতি নয়, পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। আর সেই ভাঙনের সবচেয়ে নীরব কিন্তু ভয়ংকর প্রভাব পড়ে কীটপতঙ্গের আচরণে—বিশেষ করে মশার ক্ষেত্রে।
মশা আকারে ক্ষুদ্র হলেও মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
কিন্তু মশা নিজে কোনও শত্রু নয়। প্রকৃতির ভারসাম্যে তারও ভূমিকা আছে। প্রশ্ন হল—কেন আজ মশা এত আক্রমণাত্মক? কেন তারা মানুষকেই বেশি কামড়াচ্ছে?
বিজ্ঞানীদের উত্তর স্পষ্ট—মশারা বদলাচ্ছে কারণ তাদের চারপাশের পৃথিবী বদলে গেছে।
এক সময় অরণ্যে মশাদের সামনে খাদ্যের অভাব ছিল না। বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, উভচর—সব মিলিয়ে তাদের কাছে ছিল বহু বিকল্প। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তশোষণ করত, খাদ্যে বৈচিত্র্য বজায় রাখত।
কিন্তু বন ধ্বংসের ফলে সেই বিকল্পগুলি ক্রমশ কমে গেছে। বহু প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে, অনেকের সংখ্যা নেমে এসেছে বিপজ্জনক স্তরে। ফলে মশাদের সামনে তৈরি হয়েছে খাদ্য সংকট।
এই পরিস্থিতিতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। বন কেটে গড়ে উঠেছে বসতি, রাস্তা, শিল্পাঞ্চল। মানুষ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সর্বত্র উপস্থিত প্রাণী। স্বাভাবিকভাবেই, বেঁচে থাকার তাগিদে মশারা মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এটি কোনও আচরণগত বিচ্যুতি নয়, এটি একেবারে খাঁটি বিবর্তনগত অভিযোজন।
বিজ্ঞানীরা মানুষকে এই প্রেক্ষিতে আখ্যা দিয়েছেন “Prevalent Host” হিসেবে—অর্থাৎ এমন এক আয়োজক, যাকে সর্বত্র পাওয়া যায় এবং যার উপর নির্ভর করা সবচেয়ে সহজ।
মানুষের শরীর উষ্ণ, ত্বক উন্মুক্ত, বসবাস স্থায়ী—সব মিলিয়ে মশার জন্য আদর্শ লক্ষ্য। বন কমেছে, প্রাণী কমেছে, কিন্তু মানুষ বেড়েছে। ফলে মশার খাদ্যচক্রে মানুষই হয়ে উঠেছে কেন্দ্রবিন্দু।
এটি শুধু ব্রাজ়িলের ঘটনা নয়। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা—সব জায়গাতেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মানুষের উপর মশার নির্ভরতা বাড়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল রোগ সংক্রমণ।
মশা একাধিক মানুষের রক্ত শোষণ করে। যদি সে কোনও ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বহন করে, তবে খুব সহজেই তা এক দেহ থেকে অন্য দেহে পৌঁছে যায়। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জিকা—এই রোগগুলির বিস্তার তারই ফল।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আরও নতুন মশাবাহিত রোগের উদ্ভব হতে পারে, যার বিরুদ্ধে মানুষের কোনও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ থাকবে না।
বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করছেন—
প্রকৃতিকে আঘাত করলে তার প্রতিঘাত মানুষকেই সহ্য করতে হয়।
এই প্রতিঘাত সব সময় হঠাৎ আসে না। কখনও তা আসে নীরবে, ধীরে ধীরে। মশার কামড় সেই নীরব প্রতিঘাতের এক প্রতীক।
আমরা বন কেটেছি, প্রাণী ধ্বংস করেছি, প্রকৃতির ভারসাম্য ভেঙেছি। তার ফল আজ আমাদের রক্তেই ফিরে আসছে।
এই গবেষণা শুধু সমস্যার ছবি তুলে ধরেনি, সম্ভাব্য সমাধানের দিকও দেখিয়েছে।
অরণ্য সংরক্ষণ
জীববৈচিত্র্য রক্ষা
পরিকল্পিত নগরায়ণ
পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা
এই সব কিছুর সমন্বয় ঘটাতে পারলেই মানুষের উপর মশার এই অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
মশার কামড় আর শুধুই বিরক্তিকর একটি দৈনন্দিন সমস্যা নয়। এটি আজ মানবসভ্যতার আয়না। এই ক্ষুদ্র প্রাণী আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, আমরা প্রকৃতির সঙ্গে কী করেছি এবং তার ফল কীভাবে আমাদের শরীরেই ফিরে আসছে।
এই গবেষণা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক কঠিন সত্য—
প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষ কখনও জিততে পারে না।