তপ্রায় এক বছর ধরে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের দায়িত্ব নিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। ছোট ফরম্যাটে যেমন তিনি সফলতা দেখিয়েছেন, তার সাপেক্ষে টেস্টে দল কতটা এগিয়েছে এটাই মূল বিষয়। ইংরেজি নিবন্ধে বলা হয়েছে, যদিও কোচ হিসেবে গম্ভীর ‘ফল’ পেয়েছেন বলেই তাঁর নিয়োগ হয়েছে, কাট‑ছাঁট করলে দেখা যায় তাঁর টেস্ট কোচিংয়ের রেকর্ড তেমন উজ্জ্বল নয়। সফলতা ও ছোট ফরম্যাটে কাজ গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতের স্মৃতি রাখতে পারার মতো সাফল্য এসেছে ছোট ফরম্যাটে — যেমন ICC Champions Trophy ও Asia Cup‑এ। এই সাফল্য দৃষ্টিনন্দন হলেও টেস্ট ক্রিকেটে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংরেজি নিবন্ধে বলা হয়েছে: “When you don’t play well, this is what happens.” এই মন্তব্য উল্লেখ করেছে গম্ভীরও, যে টেস্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দল ভালো খেলতে পারেনি।
তপ্রায় এক বছর ধরে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের দায়িত্ব নিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। ছোট ফরম্যাটে যেমন তিনি সফলতা দেখিয়েছেন, তার সাপেক্ষে টেস্টে দল কতটা এগিয়েছে
এটাই মূল বিষয়। ইংরেজি নিবন্ধে বলা হয়েছে, যদিও কোচ হিসেবে গম্ভীর ‘ফল’ পেয়েছেন বলেই তাঁর নিয়োগ হয়েছে, কাট‑ছাঁট করলে দেখা যায় তাঁর টেস্ট কোচিংয়ের রেকর্ড তেমন উজ্জ্বল নয়।
সফলতা ও ছোট ফরম্যাটে কাজ
গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতের স্মৃতি রাখতে পারার মতো সাফল্য এসেছে ছোট ফরম্যাটে — যেমন ICC Champions Trophy ও Asia Cup‑এ। এই সাফল্য দৃষ্টিনন্দন হলেও টেস্ট ক্রিকেটে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংরেজি নিবন্ধে বলা হয়েছে:
“When you don’t play well, this is what happens.” এই মন্তব্য উল্লেখ করেছে গম্ভীরও, যে টেস্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দল ভালো খেলতে পারেনি।
টেস্ট টি‑ফর্ম্যাটে বেধেই পড়া
নিবন্ধে বলা হয়েছে — টেস্ট ক্রিকেটে গম্ভীরের অধীনে ভারতের দল প্রায়ই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে গত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) চক্রে ভারত শুরুতে সম্ভাবনাময় অবস্থায় ছিল, কিন্তু কয়েকটি সিরিজ হেরে পরিকল্পনার বিপরীতে ফল দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঘরোয়া ভ্যানে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ এবং বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হার।
সমস্যা ১: পিচ নির্বাচন
একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পিচ নির্বাচন। নিবন্ধ অনুসারে, গম্ভীর ঘরোয়া টেস্টে এমন পিচ বেছে নিয়েছেন যা ‘খেলোয়াড়দের জন্য অর্থহীন’ হয়ে উঠেছে। যেমন, কলকাতার Eden Gardens-এ একটি টেস্ট মাত্র দুই‑আড়াই দিনে শেষ হয়ে যায় — যা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন রাজনৈতিক।
প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয়ভাবে একটি “ট্র্যাডিশনাল টার্নার” পিচ বানানো উচিত যেখানে ব্যাটার এবং বোলার উভয়ে চ্যালেঞ্জ পান। গম্ভীরকে অভিযোগ করা হয়েছে — তিনি এমন পিচ বেছে নিয়েছেন যাতে Toss বা পিচের সপক্ষে সুবিধা কম হয়, কিন্তু বাস্তবে তা বিপরীতে কাজ করেছে।
সমস্যা ২: ধারাবাহিকতা ও স্থিতিস্থাপকতা
টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা খুব জরুরি। কিন্তু গম্ভীরের অধীনে ভারতের দলে পজিশন‑ই ও ঢের পরিবর্তন হয়েছে — বিশেষ করে No.3 ব্যাটিং পজিশনে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে:
“No.3 spot has become a game of musical chairs.”
ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন ধরেছে — যেমন Shubman Gill, Devdutt Padikkal, KL Rahul, Karun Nair, Sai Sudharsan, Washington Sundar – সবাই অস্থায়ীভাবে সেই জায়গায় জায়গা নিয়েছেন।
এটি ব্যাটারদের জন্য সময় ও সান্নিধ্য কম দিয়েছে — যা টেস্টে সফলতা আনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন একজন বলেছিলেন:
“If Gambhir believes Washington is his man for the No. 3 slot, he should be allowed to settle in.”
ফলাফলের বাস্তবতা
নিবন্ধে কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে — গম্ভীরের অধীনে ভারতের টেস্ট রেজাল্টগুলি সন্তোষজনক নয়। ঘরোয়া সিরিজে ভারতের হার ও বেসব্লে অনুপ্রেরণা কম। ঘরোয়া সিরিজে পিচের কারণে হার ও বাইরে সিরিজে হার — দুটোই চিন্তার বিষয়।
উল্লেখযোগ্য যে: ভারতের WTC র্যাঙ্কিং চার নম্বরে রয়েছে, এবং ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ ও ভাবনা
টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে — যেমন বিদেশি সিরিজে ভালো ফল, ঘরোয়া স্তরে ঘাটতি কমিয়ে আনা ও পিচ‑পরিকল্পনায় সুশৃঙ্খলতা আনা। গম্ভীরের জন্য বড় সম্ভাবনা রয়েছে যদি তিনি নিচের বিষয়গুলো ঠিক করেন:
ভারতের ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীরের অবদান অবিস্মরণীয়। ছোট ফরম্যাটে তার অসাধারণ সাফল্য, বিশেষত ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়, তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে, তার টেস্ট ক্রিকেটে নেতৃত্ব এবং তার অধীনে ভারতীয় দলের অগ্রগতি এক ভিন্ন মাত্রার গল্প। গত এক বছর ধরে গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে, তার কৌশল, পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পায়।
গম্ভীরের নেতৃত্বের সূচনা
গৌতম গম্ভীরকে ভারতের টেস্ট ক্রিকেট দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল একটি কঠিন সময়ে। দলের মধ্যে কিছু পরিবর্তন ও তরুণ ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি ছিল, এবং তাদের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গম্ভীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম লক্ষ্য ছিল টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তিনি জানতেন যে, শুধুমাত্র একটি সফল সিরিজ জয় নয়, বরং দলের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করতে হবে।
সাফল্যের সূচনা
গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় টেস্ট দলের সাফল্যের প্রথম বড় দিক ছিল দলের ব্যাটিং আক্রমণের উন্নতি। গম্ভীর একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাটিং লাইন-আপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যেখানে রোহিত শর্মা, পূজারা, বিরাট কোহলি, রাহানে এবং অজিঙ্কা রাহানে সকলেই বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ব্যাটসম্যানদের আরও আত্মবিশ্বাসী হতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতের ব্যাটিং ইউনিট অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বলিং আক্রমণের উন্নয়ন
গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট বলিং আক্রমণও সমৃদ্ধ হয়েছে। তার অধীনে ভারতের স্পিন বিভাগের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। বিশেষত, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজার নেতৃত্বে স্পিন বিভাগ ভারতের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জেতাতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া, মোহাম্মদ শামি এবং ইশান্ত শর্মির নেতৃত্বে ভারতের পেস আক্রমণও মজবুত হয়েছে। গম্ভীর স্পিনারদের আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং পেস বোলারদের কোণঠাসা করার কৌশল কাজে লাগিয়েছিলেন।
সিরিজ জয় এবং পরিসংখ্যান
গম্ভীরের অধীনে ভারত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জিতেছে। বিশেষত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলা সিরিজগুলিতে ভারতীয় দলের অবিশ্বাস্য সাফল্য ছিল। গম্ভীর দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী মনোবল তৈরি করেছিলেন, যার ফলে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের সেরা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিল। ভারতীয় দলের টেস্ট র্যাংকিংও গম্ভীরের নেতৃত্বে অনেক উপরে উঠেছিল, যা তার নেতৃত্বের সফলতার প্রমাণ।
নেতৃত্বের স্টাইল
গম্ভীরের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও দৃঢ়তা। তিনি জানতেন যে, টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার জন্য শুধু সঠিক কৌশলই যথেষ্ট নয়, বরং দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিতেন। তার বিশ্বাস ছিল যে, ম্যাচ জেতার জন্য শুধু স্কিল নয়, মনোবলও দরকার।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
যদিও গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের সাফল্য ছিল, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জও ছিল। টেস্ট ক্রিকেটে খেলার সময় দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলে যাওয়া এবং দলকে প্রতি ম্যাচে সুসংগত রাখা একটি বড় কাজ। বিশেষ করে, বিদেশী মাটিতে খেলতে গিয়ে ভারতীয় দলের কৌশল পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তবে, গম্ভীরের দৃঢ় নেতৃত্ব এবং ধৈর্যের মাধ্যমে দলের এই চ্যালেঞ্জগুলো জয় করার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
শেষ কথা
গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতের টেস্ট ক্রিকেট দল একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার নেতৃত্বে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট আরও শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তার কৌশল, পরিকল্পনা এবং দল পরিচালনার দক্ষতা তাকে একজন সফল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনগুলোতে, তার নেতৃত্বের ছায়ায় ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট আরও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা।
গৌতম গম্ভীর ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন — বিশেষ করে ছোট ফরম্যাটে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর কোচিংয়ের পরিমাপ এখনো অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি ফল আনেছেন, তা সত্য — তবে লাল বলের ক্রিকেটে ভারত আজ যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে কোচিংয়ের দিক থেকে বেশ কিছু সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সময় বলবে, তিনি কি সেই পরিবর্তন আনতে পারবেন