প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও গরমের ছুটিতে নদিয়ার মায়াপুর ইসকন ও নবদ্বীপে বেড়াতে আসছেন বহু মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে গঙ্গাস্নান, ইসকন মন্দির দর্শন এবং নবদ্বীপের সোনার গৌরাঙ্গ দেখতে প্রতিদিন বাড়ছে ভিড় সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যেই এই ভ্রমণ হওয়ায় ছুটির মরশুমে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মায়াপুর ও নবদ্বীপ।
প্রচণ্ড গরমে যখন রাজ্যের সাধারণ মানুষ কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় গরমের ছুটি পড়তেই একটু স্বস্তি ও মানসিক শান্তির খোঁজে বহু মানুষ পাড়ি দিচ্ছেন নদিয়ার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুর ইসকন এবং নবদ্বীপে। ভোট পর্ব শেষ হয়েছে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যস্ততার আবহাওয়াও কিছুটা স্তিমিত। আর সেই সুযোগেই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে একদিনের ছোট সফরে বেরিয়ে পড়ছেন বহু মানুষ।
বিশেষ করে সকাল সকাল ট্রেন, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বহু পর্যটক এসে পৌঁছচ্ছেন নদিয়ার মায়াপুর ও নবদ্বীপে। সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় চোখে পড়ছে মানুষের ঢল। কেউ গঙ্গা পেরিয়ে নৌকায় চেপে মায়াপুরে পৌঁছচ্ছেন, আবার কেউ গঙ্গাস্নান সেরে সরাসরি ইসকন মন্দিরে প্রার্থনা করতে যাচ্ছেন। ধর্মীয় আবহ, শান্ত পরিবেশ এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতির জন্য এই সময়েও মায়াপুরে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
মায়াপুর ইসকন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও অত্যন্ত পরিচিত একটি স্থান। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত প্রতিদিন এখানে আসেন। বিশাল মন্দির চত্বর, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কীর্তনের ধ্বনি এবং আধ্যাত্মিক আবহ মানুষকে এক অন্যরকম মানসিক শান্তি দেয়। তাই গরমকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন কিছুটা শান্তি ও প্রশান্তির আশায়।
অন্যদিকে নবদ্বীপেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সোনার গৌরাঙ্গ মন্দিরে দর্শনার্থীদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, নবদ্বীপে এসে পূজা দিলে ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর দর্শন করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। ফলে গরমের ছুটিতে বহু পরিবার নবদ্বীপকে তাঁদের পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠছে। শনিবার ও রবিবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছে ঘাট এলাকায়। নৌকা পারাপারের জন্য লম্বা লাইন পড়ছে। শিশু থেকে প্রবীণ— সব বয়সের মানুষকেই দেখা যাচ্ছে এই ধর্মীয় সফরে অংশ নিতে। অনেকেই সকালে এসে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ হোটেল বা লজে থেকে এক-দু’দিন সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। ফুল, প্রসাদ, ঠান্ডা পানীয়, খাবারের দোকান থেকে শুরু করে টোটো চালক— সকলের ব্যবসাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গরমের মধ্যেও মানুষের ভিড় বাড়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতা বা দূরের বড় পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার তুলনায় মায়াপুর ও নবদ্বীপে খুব কম খরচে ঘুরে আসা যায়। ট্রেনে বা বাসে সহজ যোগাযোগ, কম খরচে খাওয়া-দাওয়া এবং ধর্মীয় পরিবেশ— সব মিলিয়ে এই সফর সাধারণ মানুষের বাজেটের মধ্যেই হয়ে যায়। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই দুই জায়গা এখন অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
অনেক পর্যটকই জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে কাজের চাপ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ থেকে কিছুটা দূরে সরে মানসিক শান্তির জন্য তাঁরা মায়াপুর বা নবদ্বীপে আসছেন। এখানে এসে কীর্তন শোনা, গঙ্গার ধারে বসা কিংবা মন্দির দর্শন করার মধ্যে এক আলাদা প্রশান্তি রয়েছে বলে মত তাঁদের।
তবে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘাট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। যাতে পর্যটকদের কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও বার্তা দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের পর্যাপ্ত জল পান করা, রোদে বেশি সময় না থাকা এবং শিশু ও প্রবীণদের বিশেষভাবে সতর্ক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও ঠান্ডা পানীয় জল বিতরণ করছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।
প্রচণ্ড গরমে যখন রাজ্যের সাধারণ মানুষ কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই গরমের ছুটিকে কেন্দ্র করে নদিয়ার মায়াপুর ইসকন ও নবদ্বীপে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। ভোট পর্ব শেষ হয়েছে, নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই মানুষ এখন একটু মানসিক শান্তি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজছেন। আর সেই কারণেই বহু মানুষ সকাল সকাল পরিবার, আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন নদিয়ার এই দুই জনপ্রিয় ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রে।
বিশেষ করে মায়াপুর ইসকনের শান্ত পরিবেশ, বিশাল মন্দির চত্বর, পরিচ্ছন্নতা এবং আধ্যাত্মিক আবহ বহু মানুষের মনকে আকর্ষণ করছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য অনেকেই এখন মায়াপুরকে বেছে নিচ্ছেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, রাজ্যের বাইর থেকেও বহু পর্যটক ও ভক্ত এখানে আসছেন। সকাল থেকেই স্টেশন, ঘাট ও মন্দির চত্বরে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। কেউ পূজো দিচ্ছেন, কেউ কীর্তনে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ শুধুই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মনকে একটু হালকা করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে নবদ্বীপেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। গঙ্গার পবিত্র তীর, প্রাচীন মন্দির এবং ধর্মীয় আবেগের কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। গরমকে উপেক্ষা করেই বহু মানুষ নবদ্বীপের অলিগলি ঘুরে দেখছেন। কেউ গঙ্গাস্নান করছেন, কেউ বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমে গিয়ে প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে গরমের ছুটিতে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনেক পরিবারই এখানে কয়েকদিন কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। কম খরচে ধর্মীয় পরিবেশে ঘুরে আসার সুযোগ থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেও এই জায়গাগুলি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গত কয়েকদিনে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। হোটেল, লজ, রেস্তোরাঁ, টোটো চালক, নৌকা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছোট দোকানদার— সকলের ব্যবসাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে এবং ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও ভিড়পূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক হোটেলেই আগাম বুকিং ছাড়া ঘর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
শুধু ধর্মীয় কারণেই নয়, অনেকেই মানসিক শান্তির খোঁজে মায়াপুর ও নবদ্বীপে আসছেন। বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও নানান পারিবারিক সমস্যার মধ্যে মানুষ এখন কিছুটা প্রশান্তি খুঁজছেন। সেই কারণে আধ্যাত্মিক পরিবেশের প্রতি আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। কীর্তনের শব্দ, গঙ্গার হাওয়া, মন্দিরের শান্ত পরিবেশ এবং নিরিবিলি আবহ মানুষকে নতুন করে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে বলেই মত অনেকের।
এদিকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় প্রশাসনের তরফেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। স্টেশন, ঘাট ও মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে পর্যটকদের সুবিধার জন্য পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গরমের কারণে যাতে কেউ অসুস্থ না হয়ে পড়েন, সেই বিষয়েও সচেতনতা প্রচার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনে ভিড় আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনও গরমের ছুটি পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিনই বহু মানুষ এখানে আসার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে মায়াপুর ও নবদ্বীপে পর্যটকের ঢল নামতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনও সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গরমের তীব্রতা থাকলেও মানুষের ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিক টান কোনওভাবেই কমেনি। বরং ছুটির সুযোগে নদিয়ার মায়াপুর ইসকন ও নবদ্বীপ এখন হয়ে উঠেছে মানুষের মানসিক শান্তি ও স্বল্প খরচে ঘুরে আসার অন্যতম ভরসার জায়গা। ধর্মীয় আবেগ, গঙ্গার পবিত্রতা, মন্দিরের পরিবেশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। আগামী দিনেও গরমের ছুটি চলাকালীন এই ভিড় আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্তারা। তাই পর্যটকদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।