Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

উত্তরাখণ্ডে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ, আহত কমপক্ষে ৬০

উত্তরাখণ্ডে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল কর্তৃপক্ষের জরুরি দল।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সংঘর্ষের শব্দ ছিল অত্যন্ত বিকট এবং মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং বেশ কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের মধ্যে নারী শিশু ও বয়স্ক যাত্রীও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের চিৎকার কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।   স্থানীয় মানুষজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আহতদের সাহায্য করেন। পরে পুলিশ দমকল বাহিনী এবং রেল সুরক্ষা কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।   রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।   রাজ্য সরকার আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   এই দুর্ঘটনা আবারও রেল নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের ওপর নির্ভর করে যাতায়াত করেন। এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ বাড়ালে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।   দেশবাসী এখন আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে এবং আশা করছে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ সামনে আসবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।  

উত্তরাখণ্ডে সংঘটিত ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা গোটা দেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি ব্যস্ত রেলপথে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ষাট জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। এই দুর্ঘটনা শুধু একটি যান্ত্রিক ব্যর্থতার ঘটনা নয় বরং দেশের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার কাজ চিকিৎসা পরিষেবা এবং তদন্ত ঘিরে তৎপরতা চলছে পুরোদমে।

ঘটনাটি ঘটে উত্তরাখণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেকশনে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। সকালে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী একটি ট্রেন গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল অন্যদিকে বিপরীত দিক থেকে আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আসছিল। হঠাৎ করেই দুটি ট্রেন একই লাইনে চলে আসে এবং প্রচণ্ড গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং বহু যাত্রী ভেতরে আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সংঘর্ষের মুহূর্তে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। অনেক যাত্রী প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের ভেতরে চিৎকার কান্না আর বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন আবার অনেকে আতঙ্কে জানালা দরজা ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। আহতদের মধ্যে নারী শিশু বৃদ্ধ সকলেই রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসেন সাহায্যের জন্য। অনেকেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা বগির ভেতরে ঢুকে আহতদের বের করে আনেন। স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দারা পানি খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ দমকল বাহিনী রেল সুরক্ষা কর্মী এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

উদ্ধার কাজ শুরু হয় দ্রুতগতিতে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিকৃত বগিগুলো কেটে আহত যাত্রীদের বের করা হয়। অনেক আহত যাত্রীকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় যাতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টার ও বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রীর আঘাত গুরুতর হলেও অধিকাংশ আহত এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তবে মানসিক আঘাত অনেকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা যাত্রীদের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই জানিয়েছেন জীবনে এমন অভিজ্ঞতা তারা আগে কখনও পাননি।

রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি অথবা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা সিগন্যাল রেকর্ড ট্রেনের গতি চালকদের বক্তব্য এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য খতিয়ে দেখবে।

দুর্ঘটনার পর ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে বহু ট্রেন বাতিল ও অনেক ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়। যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমান যাত্রীদের জন্য খাবার পানি এবং অস্থায়ী বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করে।

রাজ্য সরকার দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘোষণা দেন যে আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে। পাশাপাশি মৃত বা গুরুতর আহত যাত্রীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সরকারও ঘটনার উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা নতুন করে রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশের বহু রেলপথ এখনও পুরনো সিগন্যালিং ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

রেল কর্মীদের কাজের চাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘ শিফট এবং মানসিক চাপ অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুলের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে মানবিক ভুল কমাতে স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। আধুনিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করলে একই লাইনে দুটি ট্রেন আসার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে রেল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন আবার অনেকে উদ্ধারকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা শুধু উত্তরাখণ্ডের নয় গোটা দেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। রেল ভারতের প্রাণরেখা। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই পরিবহনের উপর নির্ভর করে। তাই নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা যায় না। প্রতিটি দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অবহেলা বা ত্রুটির মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

দেশবাসী এখন আহতদের সুস্থতা কামনা করছে। পরিবার পরিজনের উৎকণ্ঠা এখনও কাটেনি। হাসপাতালের বাইরে প্রিয়জনের অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। সকলের একটাই আশা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।

এই ঘটনার পর রেল নিরাপত্তা সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন আধুনিক প্রযুক্তি মানবিক দায়িত্ববোধ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সময় এসেছে রেল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ আরও মানবিক এবং আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার।

উত্তরাখণ্ডের এই ট্রেন দুর্ঘটনা ইতিহাসে একটি দুঃখজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে যদি এই ঘটনার শিক্ষা নিয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনা যায় তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে। দেশবাসীর প্রত্যাশা এই দুর্ঘটনা যেন শুধু খবরের শিরোনাম হয়ে না থাকে বরং একটি নিরাপদ রেল ব্যবস্থার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সূচনা করে।

দুর্ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে দুর্ঘটনার পরপরই পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধকারে আটকে ছিলেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান যে জানালা ভেঙে বাতাস নেওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছিল।

news image
আরও খবর

রেল কর্মীদের কেউ কেউ সাহসিকতার সঙ্গে যাত্রীদের উদ্ধার করলেও সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখে। অনেকেই নিজেদের গাড়িতে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালগুলোতে তখন জরুরি অবস্থা তৈরি হয়। চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করেন। রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে স্থানীয় যুবকরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এই মানবিক সহযোগিতা অনেক আহতের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন দুর্ঘটনার পর মানসিক আঘাত অনেক যাত্রীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভয় আতঙ্ক দুঃস্বপ্ন এবং ট্রেনে উঠতে অনীহা দেখা দিতে পারে। এজন্য আহত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। কিছু হাসপাতালে ইতিমধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা শুরু হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর গণমাধ্যম ভারতের রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন ভারতের মতো বড় রেল নেটওয়ার্কে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উন্নত দেশগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহু আগেই চালু হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সমালোচনা করেছে। তারা সংসদে রেল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ রেল আধুনিকীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজের গতি খুবই ধীর। তবে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নিরাপত্তা উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং এই দুর্ঘটনার পর সেগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

রেল বিশেষজ্ঞদের মতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ব্ল্যাক বক্স তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনের গতিবিধি সিগন্যালের অবস্থা এবং চালকদের সিদ্ধান্ত সবকিছু বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যদি অবহেলা প্রমাণিত হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও বগি মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে। রেল কর্মীরা দিনরাত কাজ করে লাইন সচল করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু করা। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো না করার কথাও জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই ট্রেনে যাত্রা বাতিল করেছেন। বিকল্প পরিবহনে ভিড় বেড়ে গেছে। পর্যটন নির্ভর এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। উত্তরাখণ্ডে ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

তবুও এই অন্ধকার সময়ের মধ্যেও মানবিকতার আলো দেখা গেছে। অচেনা মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো খাবার পানি ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহায্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঐক্যই সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই দুর্ঘটনাকে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা উচিত। শুধু তদন্ত করেই থেমে গেলে চলবে না। সুপারিশগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন এবং নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

ভবিষ্যতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি অবস্থায় কীভাবে আচরণ করতে হবে সে বিষয়ে যাত্রীদের প্রশিক্ষণ বা নির্দেশনা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব। ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদর্শনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডের এই ট্রেন দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয় এটি একটি মৌলিক অধিকার। প্রতিটি যাত্রী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিরাপদে ফিরে আসার আশায় থাকে। সেই বিশ্বাস রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

এই ঘটনার শিক্ষা যদি যথাযথভাবে নেওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে বহু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয় তদন্ত রিপোর্টের পর বাস্তব পদক্ষেপ কতটা কার্যকরভাবে নেওয়া হয়। দেশবাসী অপেক্ষা করছে একটি নিরাপদ শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য রেল ব্যবস্থার জন্য।

 

 

 

 

Preview image