Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জয়তী চক্রবর্তীর কণ্ঠে ১০টি গান—সৃজিতের লহ গৌরাঙ্গের নাম রে-তে রেকর্ডের অঙ্গীকার

রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাইরে সব ধরনের গানেই স্বাচ্ছন্দ্য প্রকাশ করেছেন জয়তী চক্রবর্তী।সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের লহ গৌরাঙ্গের নাম রে তে তিনি একসঙ্গে ১০টি গান গেয়েছেন।ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান ও পাঁচটি সংলাপধর্মী গান রয়েছে ছবিতে।প্রথম প্রকাশিত গান দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।ঐতিহাসিক কীর্তন হরি মন মজায়ে লুকালি কোথায় এর পরিবেশনায় শিক্ষার্থী শুচিস্মিতার প্রতিভা প্রসংশা করেছেন জয়তী।

জয়তী চক্রবর্তী: রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাইরে সব ধরনের গানে স্বাচ্ছন্দ্য

গান-বাজনার জগতে জয়তী চক্রবর্তীর নাম অনস্বীকার্য। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ এবং পারদর্শিতা বহু শ্রোতার মনে জায়গা করে নিয়েছে। বহু বছর ধরে শ্রোতারা জয়তীর কণ্ঠকে শুধুই রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে গায়িকা নিজে বলেছেন, “শ্রোতার কাছে আমার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত বেশি জনপ্রিয় হলেও তার মানে এই নয় যে আমি অন্য গান গাই না। সঙ্গীত আমার পড়াশোনার বিষয় ছিল, তাই সব ধরনের গানই শিখেছি।”

এইবার সেই বৈচিত্র্যকে আরও একবার প্রমাণ করলেন জয়তী। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে তিনি একসঙ্গে ১০টি গান গেয়েছেন। এটি বাংলা ছবিতে তাঁর কণ্ঠে এতগুলি গান প্রথমবারের মতো ধরা দিয়েছে। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান থাকায় ছবিতে সঙ্গীতের বৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ।

গানগুলোর প্রেক্ষাপট

ছবির প্রথম প্রকাশিত গান ‘দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে’ ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মন জয় করেছে। নটী বিনোদিনীরূপী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঠোঁটে এই গানটি ধরা দিয়েছে জয়তীর কণ্ঠে। গানটির মধ্যে থাকা মৃদু আবেগ, সূক্ষ্ম সুরের ছন্দ এবং কণ্ঠের গভীরতা শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। জয়তী জানান, গানটি গাওয়ার আগে তিনি পুরো কম্পোজিশনটি পড়েছেন, মেলোডি বোঝার পরই কণ্ঠে আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ছবিতে রয়েছে ঐতিহাসিক কীর্তন ‘হরি মন মজায়ে লুকালি কোথায়’, যা বহু বছর ধরে বাংলা গানের পাঠে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। এটি প্রথম গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, পরে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরের শুরুতেই একই গান গেয়েছেন জয়তীর শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা চক্রবর্তী। জয়তী এ বিষয়ে বলেছেন, “শুচিস্মিতা আমার ছাত্রী। ওকে নিয়ে আমি গর্ব করি। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে তুলনা বা প্রতিযোগিতা নেই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, গানটি গাওয়ার আগে তিনি একাধিক শিল্পীর রেকর্ডিং শুনেছেন, যার মধ্যে ছাত্রী শুচিস্মিতার পারফরম্যান্সও ছিল।

রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে কীর্তন: সঙ্গীতের বৈচিত্র্য

জয়তীর কণ্ঠের বিশেষত্ব শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বহু বছর ধরে আধুনিক বাংলা গান, নজরুলগীতি, কীর্তন, ভক্তিমূলক গান, এমনকি বিভিন্ন লোকসঙ্গীতেও দক্ষ। তাঁর সঙ্গীত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। জয়তী জানিয়েছেন, “সঙ্গীত আমার পড়াশোনার বিষয় ছিল। শুধু গাইতে শিখিনি, ব্যাকগ্রাউন্ড, থিওরি, মেলোডি, এবং তাল—সবই শিখেছি। এজন্য সব ধরনের গানেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র জন্য তিনি কীর্তন পরিবেশনায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজাড় করে দিয়েছেন। গানগুলো ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ায় দায়বদ্ধতাও অনেক বেশি ছিল। জয়তী বলেন, “যে গানগুলো প্রথম থেকে অনেক নামী শিল্পী গেয়েছেন, সেই সুর এবং আবেগের ভার বহন করা সহজ নয়। তাই আমি চেষ্টা করেছি সবসময় শ্রোতার কাছে সত্যনিষ্ঠা রেখে গানটি উপস্থাপন করতে।”

চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের সমন্বয়

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে সঙ্গীতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শুধু কণ্ঠ নয়, ছবির আবহ, চরিত্রের আবেগ এবং গল্পের ধারা—সব মিলিয়ে গানগুলো দর্শকের মনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। জয়তীর কণ্ঠ সেই সংযোগকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি জানান, “প্রতিটি গান গাওয়ার আগে আমি চরিত্রের মনোভাব, আবহ এবং গল্পের প্রসঙ্গ বুঝে নিই। তখনই কণ্ঠে সেই আবেগ ফুটে ওঠে।”

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরসঙ্গীত এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান শোনা যাবে ছবিতে। সংলাপধর্মী গানগুলো কেবল গানের মতো নয়, এগুলো গল্পের অংশ হিসেবে দর্শককে প্রভাবিত করে। জয়তী বলেছেন, “সংলাপধর্মী গান গাওয়ার সময় কণ্ঠে আবেগের ভারবহন করতে হয়, সাধারণ গানের মতো নয়। এটি আরও চ্যালেঞ্জিং কিন্তু চমৎকার অভিজ্ঞতা।”

শিক্ষার্থী ও শিল্পীর সম্পর্ক

জয়তীর শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা চক্রবর্তীর প্রসঙ্গও ছবিতে এসেছে। শিষ্য-শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জয়তী খুবই ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। তিনি বলেছেন, “আমি চাই আমার ছাত্রী যেন তার প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে। তুলনা বা প্রতিযোগিতা আমাদের মধ্যে নেই। আমি শুধু গর্বিত যে আমার শিক্ষার্থী এভাবে কাজ করছে।” এটি বাংলার সঙ্গীত শিক্ষার একটি সুস্থ দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা যেতে পারে।

দর্শক প্রতিক্রিয়া

প্রথম গান ‘দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে’-র প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে দর্শকরা প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, জয়তীর কণ্ঠের মাধুর্য ও আবেগ ছবির দৃশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে। অনেকে মনে করছেন, জয়তী আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধুমাত্র রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়, সমস্ত ধরণের বাংলা সঙ্গীতে সমানভাবে দক্ষ।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

জয়তী চক্রবর্তী বলেন, তিনি সব ধরনের সঙ্গীতে কাজ করতে চান। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, আধুনিক গান, ভক্তিমূলক গান—সবই তার আগ্রহের মধ্যে। তিনি আরও জানান, তিনি নতুন শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, বিশেষত যারা ঐতিহাসিক গান ও কীর্তনের প্রতি আগ্রহী।

সম্প্রতি সেই বৈচিত্র্যকেই আরও একবার প্রমাণ করেছেন জয়তী। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে তিনি একসঙ্গে ১০টি গান গেয়েছেন। এটি বাংলা ছবিতে তাঁর কণ্ঠে এতগুলি গান প্রথমবারের মতো ধরা দিয়েছে। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান রয়েছে, যা পুরো ছবির সঙ্গীত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

গানগুলোর গুরুত্ব ও বৈচিত্র্য

ছবির প্রথম প্রকাশিত গান ‘দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছে। নটী বিনোদিনীরূপী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঠোঁটে ধরা এই গানটি জয়তীর কণ্ঠের মাধুর্য এবং সূক্ষ্ম আবেগকে ফুটিয়ে তুলেছে। গানটির মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম সুর এবং আবেগপূর্ণ লয়ের সংমিশ্রণ দর্শককে এক নতুন অনুভূতি দিয়েছে। জয়তী জানিয়েছেন, গানটি গাওয়ার আগে তিনি পুরো কম্পোজিশনটি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, সুর এবং কথার অর্থ উপলব্ধি করার পরই কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলেছেন।

news image
আরও খবর

ছবিতে রয়েছে ঐতিহাসিক কীর্তন ‘হরি মন মজায়ে লুকালি কোথায়’, যা বাংলা গানের পাঠে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। এই গানটি প্রথম গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, পরে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরের শুরুতেই একই গান গেয়েছেন জয়তীর শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা চক্রবর্তী। জয়তী এ বিষয়ে বলেছেন, “শুচিস্মিতা আমার ছাত্রী। ওকে নিয়ে আমি গর্ব করি। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে তুলনা বা প্রতিযোগিতা নেই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, গানটি গাওয়ার আগে তিনি একাধিক শিল্পীর রেকর্ডিং শুনেছেন, যার মধ্যে তার শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্সও ছিল।

রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে কীর্তন: কণ্ঠের বৈচিত্র্য

জয়তীর কণ্ঠের বিশেষত্ব শুধুমাত্র রবীন্দ্রসঙ্গীতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বহু বছর ধরে আধুনিক বাংলা গান, নজরুলগীতি, কীর্তন, ভক্তিমূলক গান এবং বিভিন্ন লোকসঙ্গীতেও দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁর সঙ্গীত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। জয়তী বলেছেন, “সঙ্গীত আমার পড়াশোনার বিষয় ছিল। শুধু গাইতে শিখিনি, ব্যাকগ্রাউন্ড, থিওরি, মেলোডি, এবং তাল—সবই শিখেছি। এজন্য সব ধরনের গানেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে কীর্তন পরিবেশনায় তিনি নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন। গানগুলো ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ায় দায়বদ্ধতাও ছিল অনেক। জয়তী বলেছেন, “যে গানগুলো প্রথম থেকেই বহু শিল্পী গেয়েছেন, সেই সুর এবং আবেগের ভার বহন করা সহজ নয়। তাই আমি চেষ্টা করেছি শ্রোতার কাছে সত্যনিষ্ঠা রেখে গানটি উপস্থাপন করতে।”

চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের সমন্বয়

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে সঙ্গীতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কেবল কণ্ঠ নয়, ছবির আবহ, চরিত্রের আবেগ এবং গল্পের ধারা—সব মিলিয়ে গানগুলো দর্শকের মনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। জয়তীর কণ্ঠ সেই সংযোগকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি জানান, “প্রতিটি গান গাওয়ার আগে আমি চরিত্রের মনোভাব, আবহ এবং গল্পের প্রসঙ্গ বুঝে নিই। তখনই কণ্ঠে সেই আবেগ ফুটে ওঠে।”

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরসঙ্গীত এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান ছবিতে শোনা যাবে। সংলাপধর্মী গানগুলো কেবল গানের মতো নয়, এগুলো গল্পের অংশ হিসেবে দর্শককে প্রভাবিত করে। জয়তী বলেন, “সংলাপধর্মী গান গাওয়ার সময় কণ্ঠে আবেগের ভারবহন করতে হয়, সাধারণ গানের মতো নয়। এটি আরও চ্যালেঞ্জিং কিন্তু চমৎকার অভিজ্ঞতা।”

শিক্ষার্থী ও শিল্পীর সম্পর্ক

জয়তীর শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা চক্রবর্তীর প্রসঙ্গও উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জয়তী খুবই ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। তিনি বলেছেন, “আমি চাই আমার ছাত্রী যেন তার প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে। তুলনা বা প্রতিযোগিতা আমাদের মধ্যে নেই। আমি শুধু গর্বিত যে আমার শিক্ষার্থী এভাবে কাজ করছে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা সঙ্গীত শিক্ষার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

দর্শক প্রতিক্রিয়া

প্রথম গান ‘দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে’-র প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে শ্রোতারা প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, জয়তীর কণ্ঠের মাধুর্য এবং আবেগ ছবির দৃশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে। অনেকে মনে করছেন, জয়তী আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধুমাত্র রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়, সমস্ত ধরণের বাংলা সঙ্গীতে সমানভাবে দক্ষ।

নতুন ধারার বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত

বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের ধারা ক্রমে পরিবর্তিত হচ্ছে। আধুনিক ছবিগুলোতে গান শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, গল্পের আবহ এবং চরিত্রের আবেগের অংশ। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে জয়তীর কণ্ঠ সেই পরিবর্তনের এক নিখুঁত উদাহরণ। পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান পুরো ছবির আবহকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রতিটি গান এমনভাবে সাজানো যে, শ্রোতা গল্পের সঙ্গে সহজেই আবদ্ধ হয়ে যায়।

জয়তীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জয়তী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনি সব ধরনের সঙ্গীতে কাজ করতে চান। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, আধুনিক গান, ভক্তিমূলক গান—সবই তার আগ্রহের মধ্যে। তিনি নতুন শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, বিশেষত যারা ঐতিহাসিক গান ও কীর্তনের প্রতি আগ্রহী। জয়তী বলেন, “আমি চাই নতুন প্রজন্ম জানতে পারুক এই গানগুলোর গভীরতা, সৌন্দর্য এবং ইতিহাস। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি তাদের পথ দেখাতে চাই।”

সঙ্গীত ও ইতিহাসের সংযোগ

‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র গানগুলো কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, এগুলো বাংলা সঙ্গীত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জয়তীর কণ্ঠ সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। পাঁচটি ঐতিহাসিক গান এবং পাঁচটি সংলাপধর্মী গান বাংলার সঙ্গীতের ঐতিহ্য ও আধুনিকতা একত্রিত করেছে।

উপসংহার

জয়তী চক্রবর্তীর এই নতুন প্রয়াস শুধুই একটি চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার কাজ নয়। এটি বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাস, বৈচিত্র্য এবং নতুন প্রজন্মের সাথে সংযোগের একটি উদাহরণ। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে একসঙ্গে ১০টি গান গাওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীতের জাদু যেমন আছে, তেমনি আধুনিক, নজরুলগীতি এবং কীর্তনেও সমান দক্ষতা।

শ্রোতাদের কাছে তাঁর এই বৈচিত্র্যময় সঙ্গীতযাত্রা নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে। জয়তী চক্রবর্তীর কণ্ঠের প্রতিটি নোট, প্রতিটি সুরে লেগেছে ইতিহাসের ছোঁয়া, শিক্ষার প্রতিফলন এবং শিল্পীর নিখুঁত শ্রম। এটি শুধু একটি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত নয়, বাংলা সঙ্গীতের একটি সমৃদ্ধ উপহার, যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

Preview image