Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বোটক্সের যুগে সৌন্দর্যের নতুন দৃষ্টিকোণ নায়িকা কোয়েল কেন ট্রিটমেন্ট থেকে দূরে?

বোটক্স এখন কেবল তারকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং জনসাধারণের একাংশের জন্যও সহজলভ্য। তবে এমন ট্রেন্ডের মধ্যে কোয়েল মল্লিক কেন বোটক্সের মতো ত্বক ট্রিটমেন্টে আগ্রহী নন? কোয়েল নিজেই শেয়ার করেছেন কেন তিনি এ পথে হাঁটতে চান না, তাঁর সৌন্দর্য সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং সততার বিষয়ে।

বোটক্সের যুগে সৌন্দর্যবোধের পরিবর্তন: কোয়েল মল্লিকের দৃষ্টিভঙ্গি

সৌন্দর্যের ধারণা সময়ের সঙ্গে পাল্টে যায়, আর তা রূপের চর্চায় নতুনত্ব নিয়ে আসে। কৃত্রিম সৌন্দর্য চর্চার জনপ্রিয়তার সঙ্গে একে একে বোটক্স, ফিলার, এবং অন্যান্য স্কিন ট্রিটমেন্টের যুগ শুরু হয়েছে। এক সময় যেখানে সৌন্দর্য ছিল প্রাকৃতিক, আজ তা প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনের হাত ধরে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এ যুগে, মানুষ তার নিজস্ব সৌন্দর্যকে আরও ‘নিখুঁত’ করতে বেছে নেয় কৃত্রিম পদ্ধতি, যেখানে বোটক্স অন্যতম জনপ্রিয় ট্রিটমেন্ট। তবে এই ট্রিটমেন্টের ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

কোয়েল মল্লিক তার সৌন্দর্যবোধ সম্পর্কে যা বলেন তা, এক দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ের সৌন্দর্য সংস্কৃতির বিরোধিতা করে। তিনি বলেন, "ছোট ছোট খুঁত নিয়েই তো মানুষ সুন্দর হয়। প্রতিটি মানুষ নিজের মতো করে সুন্দর। সৌন্দর্যের যে একটা মাপকাঠি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে আমি সহমত নই।" কোয়েল স্বীকার করেছেন যে, গায়ের রং, চোখ, নাক, ঠোঁট, থুতনি, ভ্রু ইত্যাদি নির্দিষ্ট রকমের হলে তা সুন্দর বলেই মনে করা হয়, কিন্তু তিনি এই ধারণাকে ঠিক বলে মনে করেন না।

কোয়েল মল্লিকের সৌন্দর্যবোধ আধুনিক ট্রিটমেন্টের থেকে অনেক আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সৌন্দর্যের কোনো একক মাপকাঠি নেই। কোয়েল নিজের সৌন্দর্যকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন, যেখানে কোনও ধরনের কৃত্রিমতার কোনো জায়গা নেই। একদিকে যেখানে সৌন্দর্য সংশোধনের জন্য মানুষ বোটক্স, ফিলার, এবং চিরস্থায়ী স্কিন ট্রিটমেন্টে আশ্রয় নিচ্ছে, সেখানে কোয়েল মল্লিক নিজের সৌন্দর্যকে প্রাকৃতিকভাবে ধরে রাখতে চান।

তিনি আরও বলেন, "নিখুঁত হওয়ার সংজ্ঞাই যেখানে স্পষ্ট নয়, সেখানে 'নিখুঁত' হওয়ার দিকে ছোটার কোনও অর্থ খুঁজে পান না তিনি।" কোয়েলের মতে, সৌন্দর্য শুধুমাত্র বাহ্যিক উপাদান নয়, এটি ব্যক্তিত্বের, আচার-ব্যবহারের, এবং একজনের নিজস্বতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, সৌন্দর্যের কোনও ‘নির্দিষ্ট’ মাপকাঠি থাকা উচিত নয়, এবং একে পরিমাপ করার কোনো কারণও নেই।

তবে তিনি এও বলেছেন যে, যাদের বোটক্স করাতে ইচ্ছে হয় বা যারা ইতিমধ্যেই করেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, "নিজেদের শরীর এবং মুখ নিয়ে কে কী করবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। আমি তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।" কোয়েল সম্মান জানানোর মধ্যে দিয়ে এড়িয়ে যান অন্যদের সৌন্দর্য বিষয়ক ব্যক্তিগত পছন্দের কথা।

বোটক্সের জনপ্রিয়তা এবং কোয়েল মল্লিকের বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি

বোটক্স এবং ত্বকের অন্যান্য ট্রিটমেন্ট এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে। আগে যা শুধুমাত্র তারকাদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন হয়ে উঠেছে একটি জনপ্রিয় চর্চা। অনেকেই নিজেদের বয়স বা ত্বকের মাধুর্য ধরে রাখতে কৃত্রিম উপায়ে ত্বকের রূপ পরিবর্তন করে ফেলেন। বোটক্সের ট্রিটমেন্টে ঠোঁট মোটা করা, নাকের আকার পরিবর্তন, চামড়া টানটান করার মতো অপারেশনগুলি সবার জন্যই সহজলভ্য। এবং এটি এখন প্রায় ‘জলভাত’-এর মতো হয়ে গিয়েছে। ত্বকের এই ট্রিটমেন্টগুলি এমনভাবে জনপ্রিয় হয়েছে যে, সেলিব্রিটি বা সাধারণ মানুষ, কেউই আর পিছিয়ে নেই। এমনকি অনেক অভিনেত্রীও বিভিন্ন স্কিন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে তাদের সৌন্দর্য পরিবর্তন করেছেন।

যদিও অনেক অভিনেত্রী তাদের স্কিন ট্রিটমেন্টের কথা স্বীকার করেছেন, তবে কিছু অভিনেত্রী গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অনুষ্কা শর্মা, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, মৌনী রায়—এই তারকারা মুখে পরিবর্তন এনে সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। কিন্তু টলিউডের কোয়েল মল্লিক তার সৌন্দর্য নিয়ে এমন কোনো পরিবর্তন করতে রাজি নন, বা যে পথ সে নিচ্ছেন তা কৃত্রিম নয়।

কোয়েল মল্লিকের মতে, সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক নয়, এটি একজনের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। "ছোট খুঁত নিয়েই তো মানুষ সুন্দর হয়," এমন মনোভাব কোয়েলের সৌন্দর্য দর্শনের মূল বিষয়। তার জন্য সৌন্দর্য হল ব্যক্তিত্বের অংশ, যা কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলানো সম্ভব নয়। এবং এজন্যই তিনি বোটক্সের মতো আধুনিক সৌন্দর্যচর্চাকে অগ্রাহ্য করেন।

news image
আরও খবর

নখ সাজানোর ট্রেন্ড এবং কোয়েলের চয়েস

সৌন্দর্যচর্চার অন্য এক জনপ্রিয় ক্ষেত্র হল নখ সাজানো বা নেল আর্ট। এখন, রাস্তার ধারে, পার্লারে এমনকি শপিং মলে পর্যন্ত নেল আর্টের স্টল পাওয়া যায়। নানা ডিজাইন ও রঙে সাজানো নখের জন্য মানুষ এখন নিয়মিত পার্লারে ভিড় করছেন। তবে কোয়েল মল্লিক এমন কোনো ট্রেন্ডে পা দেননি। তিনি মায়ের দায়িত্ব পালন করার কারণে নখ সাজানোর এই ট্রেন্ড থেকে সরে এসেছেন।

কোয়েল একসময় নেল আর্ট করিয়েছেন, কিন্তু এখন তার মনে হয়, নখ সাজানোর শখ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা উচিত। কোয়েল বলেন, "মা হওয়ার পর সন্তানদের কথা ভেবে কৃত্রিম নখ বসাতে নারাজ আমি।" তবে তার আগে তিনি একাধিকবার নেল আর্ট করিয়েছিলেন। তাঁর সৌন্দর্যচর্চা এবং তার জীবনের পরিবর্তনের এই দৃষ্টিভঙ্গি জানায় যে, কোয়েল একজন সচেতন এবং নিজের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তি।

উপসংহার

বোটক্স এবং আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার যুগে কোয়েল মল্লিকের বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়, যা শুধুমাত্র সৌন্দর্য ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং আমাদের সৌন্দর্যবোধের প্রকৃত মাপকাঠি সম্পর্কে নতুন ধারণা প্রদান করে। কোয়েল মল্লিক বিশ্বাস করেন, সৌন্দর্য কোনও নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা বাহ্যিক গুণাবলীর সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং নিজস্বতার সাথে সম্পর্কিত। তার মতে, সৌন্দর্য কেবল ত্বক বা মুখের আকারের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি আমাদের ভাবনা, আচার-ব্যবহার এবং নিজস্বতার প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ।

কোয়েলের সৌন্দর্যবোধের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সৌন্দর্য একেবারে স্বাভাবিক এবং নিখুঁতভাবে গ্রহণযোগ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, "ছোট ছোট খুঁত নিয়েই মানুষ সুন্দর হয়," এই ধারণা প্রমাণ করে যে সৌন্দর্য কোনও নির্দিষ্ট আদর্শের মধ্যে আবদ্ধ নয়। একটি নির্দিষ্ট রঙ, আকৃতি, অথবা গড়ন কোনভাবেই সৌন্দর্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। কোয়েল মল্লিকের মতে, সৌন্দর্য সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। একে নির্দিষ্ট কোনো রূপে ফেলে দেওয়া উচিত নয়, বরং মানুষ নিজেকে যে রূপে, যে অবস্থায় ভালো বোধ করেন, সেটাই আসল সৌন্দর্য।

বর্তমান সময়ে, সৌন্দর্যচর্চার একটি ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বোটক্স এবং অন্যান্য কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চার পদ্ধতি সহজলভ্য হওয়ায়, মানুষ নিজের সৌন্দর্যকে আরও নিখুঁত করার জন্য এগুলি ব্যবহার করছেন। কিন্তু কোয়েল মল্লিক এই পরিবর্তনের বিপরীতে নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছেন। তার সৌন্দর্য ধারণা একেবারেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেয়, এবং তিনি মনে করেন যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের সৌন্দর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যত বেশি মানুষ কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চা গ্রহণ করছেন, তত বেশি প্রশ্ন উঠছে সৌন্দর্য মানদণ্ড নিয়ে। কোয়েল মল্লিক নিজেকে পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন মনে করেননি, এবং নিজের সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, "নিজেদের শরীর এবং মুখ নিয়ে কে কী করবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার," এই মতামতটি তাকে বোটক্স বা অন্যান্য সৌন্দর্যচর্চার বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়।

কোয়েলের মতামত একটি গূঢ় বার্তা দেয় যে, সৌন্দর্য হলো আত্মবিশ্বাস এবং নিজের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়। যখন কেউ তার প্রকৃত সৌন্দর্যকে গ্রহণ করে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়, তখন সে সত্যিকার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায় যে, বাহ্যিক সৌন্দর্য কোনোভাবেই জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে না, বরং আত্মবিশ্বাস, ভেতরের শান্তি এবং ব্যক্তিত্বই সেই আসল সৌন্দর্য যা সমাজে এবং জীবনে সত্যিকারের মূল্য বহন করে।

এটাই প্রমাণ করে যে, সৌন্দর্যের প্রতিটি ধাপ এবং এর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে একজনের নিজস্ব মনোভাবের উপর নির্ভরশীল। সমাজে সৌন্দর্যের ধারণা পরিবর্তন হচ্ছে, এবং কোয়েল মল্লিকের মতামত আমাদের এই পরিবর্তনের পথে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দেয়। যেখানে সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক নয়, বরং তা আমাদের ভেতরের আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। তাই, সৌন্দর্য শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক গুণ নয়, বরং এটি অন্তরের গুণের প্রকাশ।

Preview image