Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিয়ে নয়, এখন কেরিয়ারই অগ্রাধিকার—প্রজাপতি ২-এর মঞ্চে দেবের মজাদার জবাব

বিয়ের প্রশ্নে ফের আলোচনায় দেব। প্রজাপতি ২ এর প্রমোশনে রসিক জবাবে হাসির রোল, সঙ্গে রুক্মিণী মিত্রের খুনসুটি। আপাতত বিয়ে নয়, দেবের একমাত্র ফোকাস কেরিয়ার ও আগামী বড় প্রজেক্ট।

এই মুহূর্তে টলিউডে যদি একটি প্রশ্ন সবথেকে বেশি ঘোরাফেরা করে, তা হল—দেব কবে বিয়ে করছেন? একের পর এক সুপারহিট ছবি, রাজনৈতিক ব্যস্ততা, প্রযোজনা সংস্থার কাজ, নতুন নতুন চরিত্রের প্রস্তুতি—সব কিছুর মাঝেই যেন এই একটি প্রশ্নই তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সহকর্মী থেকে সাংবাদিক, অনুরাগী থেকে নেটিজেন—সবার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু এখন দেবের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর বিয়ে। তবে এই প্রশ্নে দেব বরাবরই একই রকম শান্ত, সংযত এবং স্পষ্ট। তিনি বিয়ে করবেন ঠিকই, কিন্তু এখনই নয়। আপাতত তাঁর জীবনের একমাত্র অগ্রাধিকার কেরিয়ার।

সম্প্রতি ‘প্রজাপতি ২’ ছবির প্রমোশন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেব। সেখানেই আবারও উঠে আসে সেই চেনা প্রশ্ন। তবে এইবার প্রশ্নটি করা হয় একেবারেই মজার ছলে। দেবকে উদ্দেশ করে জিজ্ঞেস করা হয়, “এবার কি হাটি হাটি পা পা করে প্রজাপতি এসে বসছে?” প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেলেন অভিনেতা। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর রসিক জবাব, “না না, একেবারে লাফিয়ে লাফিয়ে বসছে!” দেবের এই এক লাইনের উত্তরেই পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়। সাংবাদিক থেকে উপস্থিত দর্শক—সবাই বুঝে যান, বিয়ের প্রশ্নে আপাতত হালকা মেজাজেই থাকতে চান তিনি।

সহকর্মী থেকে সাংবাদিক, অনুরাগী থেকে নেটিজেন—সবাই যেন এই একটি প্রশ্নেই আটকে আছেন। দেবের প্রতিটি পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স, প্রতিটি প্রোমোশন, প্রতিটি ইন্টারভিউতেই ঘুরে ফিরে আসে বিয়ের প্রসঙ্গ। কিন্তু দেব বরাবরের মতোই নিজের জবাবে অনড়। তিনি বিয়ে করবেন, এ কথা তিনি কখনও অস্বীকার করেননি। আবার কখনও তাড়াহুড়ো করেও কোনও ইঙ্গিত দেননি। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—এখন নয়। আপাতত কেরিয়ারই তাঁর একমাত্র ফোকাস।

সম্প্রতি ‘প্রজাপতি ২’ ছবির প্রমোশন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে এসে ফের সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অভিনেতাকে। তবে প্রশ্নটি ছিল একটু অন্যরকম, একটু মজার মোড়কে। দেবকে জিজ্ঞেস করা হয়, “এবার কি হাটি হাটি পা পা করে প্রজাপতি এসে বসছে?” প্রশ্নের ইঙ্গিত বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই দেব হেসে ওঠেন। তাঁর উত্তর আরও বেশি রসিক—“না না, একেবারে লাফিয়ে লাফিয়ে বসছে!” এই এক লাইনের জবাবেই গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়।

দেবের এই উত্তর আসলে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ স্টাইলেরই প্রতিফলন। তিনি বিতর্ক এড়াতে জানেন, আবার প্রশ্নকে হালকাভাবে সামলাতেও ওস্তাদ। বিয়ের মতো ব্যক্তিগত বিষয়েও তিনি কখনও বিরক্ত হন না, আবার কোনও অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেন না। হাসি, রসিকতা আর সংযম—এই তিন অস্ত্রেই তিনি বারবার পরিস্থিতি সামলে নেন।

এই অনুষ্ঠানে দেবের পাশেই উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মিত্র। দেব–রুক্মিণী জুটি মানেই আলোচনার পারদ চড়ে যাওয়া। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ, পর্দার বাইরে সাবলীল বোঝাপড়া—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই টলিউডে চর্চার বিষয়। ফলে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই রুক্মিণীও যে চুপ করে থাকবেন না, তা আন্দাজ করা কঠিন ছিল না।

মজার সুরে দেবকে উদ্দেশ করে রুক্মিণী বলেন, “কবে বিয়ে করছো একটু বলো না! আমায় ফোন করে জানিও, নিমন্ত্রণ যেন পেতে ভুল না হয়।” তাঁর এই মন্তব্যে ফের একবার হাসিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত দর্শক ও সাংবাদিকরা। দেবও পরিস্থিতি উপভোগ করতে ছাড়েননি। হাসতে হাসতে পাল্টা জবাব দেন, “খুব ভালো মজা পেয়েছো, তাই না?” এই খুনসুটির মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এই মুহূর্তে বিয়ে তাঁদের কারও কাছেই সিরিয়াস আলোচনার বিষয় নয়।

দেবের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অবশ্য আজকের নয়। কেরিয়ারের শুরুর দিন থেকেই তাঁকে ঘিরে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। কিন্তু দেব বরাবরই এই সব বিষয়কে পাশ কাটিয়ে গেছেন। খুব কম সময়ই তিনি নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার কাজই হওয়া উচিত তাঁর পরিচয়।

এই মনোভাবই হয়তো তাঁকে টলিউডের ভিড় থেকে আলাদা করে তুলেছে। যেখানে অনেক তারকা ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলোয় এনে আলোচনায় থাকতে চান, দেব সেখানে কাজকে সামনে রেখেই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। বাণিজ্যিক হিট থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক ছবি—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের স্টারডমকে ব্যবহার করেছেন গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে।

‘প্রজাপতি’ ছবিটি তারই অন্যতম উদাহরণ। পারিবারিক আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রজন্মের ফারাক—এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি ছবিটি দর্শকের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। সেই ছবির সাফল্যের পরেই আসে ‘প্রজাপতি ২’। স্বাভাবিকভাবেই ছবির প্রোমোশনের সময় দেবকে নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। আর সেই আগ্রহের বড় অংশ জুড়েই রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন।

তবে দেব শুধু অভিনেতাই নন, তিনি একজন সফল প্রযোজকও। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার হাত ধরে টলিউড পেয়েছে একাধিক ভিন্ন স্বাদের ছবি। নতুন পরিচালকদের সুযোগ দেওয়া, বিষয়ভিত্তিক সিনেমায় বিনিয়োগ—এই সব ক্ষেত্রেই দেবের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, স্টার হয়েও ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা যায়।

এই ব্যস্ততার মাঝেই দেব ঘোষণা করেছেন তাঁর আগামী বড় প্রজেক্টের কথা। জন্মদিনের আগেই তিনি জানিয়ে দেন, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাবে তাঁর নতুন ছবি। এই ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে বাস্তব জীবনের এক অনুপ্রেরণামূলক মানুষের চরিত্রে—‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ করিমুল হক। এই চরিত্রটি দেবের কেরিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।

করিমুল হক এমন একজন মানুষ, যিনি কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই নিজের উদ্যোগে অসংখ্য মানুষকে বিপদের সময় হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত—নিজের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তিনি ছুটে গেছেন মানুষের ডাকে। এই চরিত্রে অভিনয় করা মানে শুধুই সংলাপ বলা বা অভিনয় নয়, বরং একটি জীবনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।

দেব নিজেও জানিয়েছেন, এই চরিত্রের জন্য তাঁকে আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়, মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। একজন বাস্তব মানুষের গল্পকে সম্মানের সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি ভালভাবেই বোঝেন। এই কারণেই আপাতত তাঁর সমস্ত মনোযোগ এই ধরনের কাজের দিকেই।

অনুরাগীদের একাংশ অবশ্য এখনও আশা ছাড়েননি। তাঁদের বিশ্বাস, দেব একদিন না একদিন বিয়ের সুখবর দেবেনই। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই এই নিয়ে নানা পোস্ট, মিম, মন্তব্য চোখে পড়ে। কেউ লেখেন, “দেবের বিয়ে হলে টলিউডে উৎসব হবে”, কেউ আবার মজা করে বলেন, “আমন্ত্রণপত্র কবে আসবে?” দেব এই সব মন্তব্যকে হালকাভাবেই নেন। তাঁর কাছে এগুলো জনপ্রিয়তারই অংশ।

news image
আরও খবর

রুক্মিণী মিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা থেমে নেই। একসঙ্গে কাজ করার ফলে তাঁদের রসায়ন বারবার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তবে তাঁরা দু’জনেই বারবার বলেছেন, তাঁদের সম্পর্ক পেশাদার এবং বন্ধুত্বের। প্রোমোশনের মঞ্চে সেই খুনসুটি এবং স্বচ্ছন্দ আচরণ সেই কথাকেই আরও একবার প্রমাণ করল।

দেবের আরেকটি বড় পরিচয়—তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্বও তিনি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন। এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সমস্যা শোনা, সংসদের কাজ—সব মিলিয়ে তাঁর সময়ের একটা বড় অংশ সেখানেই চলে যায়। এত দায়িত্বের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যে যথেষ্ট ভাবনা ও সময় দরকার, তা বলাই বাহুল্য।

অনেকের কাছেই দেবের এই জীবনদর্শন অনুপ্রেরণার। সমাজের চাপে নয়, নিজের প্রস্তুতির ওপর ভরসা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এই বার্তাই যেন তিনি বারবার দিয়ে চলেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে দেব শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং একজন রোল মডেল।

এই অনুষ্ঠানে দেব একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মিত্র, যিনি শুধু সহকর্মীই নন, বরং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেও পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই, দেবকে নিয়ে যখন বিয়ের প্রসঙ্গ ওঠে, তখন রুক্মিণীও সুযোগ ছাড়েননি। মজার সুরে দেবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কবে বিয়ে করছো একটু বলো না! আমায় ফোন করে জানিও, নিমন্ত্রণ যেন পেতে ভুল না হয়।” রুক্মিণীর এই মন্তব্যে আরও এক দফা হাসিতে ফেটে পড়ে গোটা অনুষ্ঠানস্থল। দেবও হাসি চেপে রাখতে না পেরে পাল্টা বলেন, “খুব ভালো মজা পেয়েছো, তাই না?” এই বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটিতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিষয়টিকে তাঁরা কেউই সিরিয়াসভাবে নিতে চাইছেন না।

দেবের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। কেরিয়ারের শুরুর দিক থেকেই তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা গেছে। কখনও সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে, কখনও আবার সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। কিন্তু প্রতিবারই দেব নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন। তিনি কখনও অকারণে বিতর্কে জড়াননি, আবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অতিরিক্ত প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তাঁর মতে, কাজই একজন অভিনেতার আসল পরিচয়।

এই মনোভাবই হয়তো তাঁকে টলিউডের অন্যান্য তারকাদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। যেখানে অনেক তারকা ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলোয় এনে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চেষ্টা করেন, দেব সেখানে বরাবরই নিজের কাজকে সামনে রেখেছেন। বিয়ে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি একাধিকবার বলেছেন, “যখন সময় হবে, সবাই জানতে পারবে। তার আগে কিছু বলার নেই।” এই স্পষ্ট অথচ সংযত জবাবই অনুরাগীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে শুধু বিয়ে নয়, দেবের কেরিয়ারও এই মুহূর্তে চরম গতিতে এগোচ্ছে। অভিনেতা হিসেবে তো বটেই, প্রযোজক হিসেবেও তিনি নিজেকে বারবার নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক সিনেমা—সব ধরনের কাজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছেন দেব। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার হাত ধরে টলিউড পেয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবি, যা শুধু বক্স অফিসেই নয়, সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

এর মধ্যেই দেব ঘোষণা করেছেন তাঁর আগামী বড় প্রজেক্টের কথা। জন্মদিনের আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাবে তাঁর নতুন ছবি, যেখানে তাঁকে দেখা যাবে ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ করিমুল হকের চরিত্রে। এই চরিত্রটি একেবারেই অন্যরকম। বাস্তব জীবনের এক অনুপ্রেরণামূলক মানুষের গল্প বড় পর্দায় তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন দেব। এই ছবির জন্য তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

করিমুল হক একজন সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ কাজ করে দেখিয়েছেন। নিজের অ্যাম্বুলেন্সে করে বিনা পারিশ্রমিকে অসংখ্য মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয় করা যে কতটা দায়িত্বের, তা দেব নিজেও স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “এটা শুধুই একটা চরিত্র নয়, এটা একটা মানুষের জীবনের গল্প। এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার আগে নিজেকে অনেকটা ভেঙে নতুন করে গড়তে হয়।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, কেন আপাতত বিয়ে বা ব্যক্তিগত জীবনের পরিকল্পনা পিছিয়ে রাখতে চান তিনি।

অনুরাগীদের একটা বড় অংশ অবশ্য মনে করেন, দেবের বিয়ে হলেই টলিউডে এক নতুন উৎসবের আমেজ তৈরি হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই এই নিয়ে নানা মিম, পোস্ট, মন্তব্য দেখা যায়। কেউ মজা করে লেখেন, “দেবের বিয়ে হলে ছুটি চাই”, কেউ আবার ভবিষ্যতের কনের কল্পনায় ব্যস্ত। তবে এই সব কিছুই দেবের কাছে বিনোদনের অংশ মাত্র। তিনি জানেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে এই ধরনের কৌতূহল আসেই।

রুক্মিণী মিত্রের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করা, প্রোমোশনে একসঙ্গে উপস্থিত থাকা—সব মিলিয়ে তাঁদের রসায়ন বরাবরই নজর কেড়েছে। তবে এই সম্পর্ককে তাঁরা দু’জনেই বরাবরই বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চে রুক্মিণীর মন্তব্য এবং দেবের প্রতিক্রিয়া সেই বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে দিল।

টলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, দেব এই মুহূর্তে নিজের কাজ নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। নতুন ছবির স্ক্রিপ্ট পড়া, চরিত্র নিয়ে গবেষণা, প্রযোজনার নানা দিক সামলানো—সব মিলিয়ে তাঁর দিন প্রায় পুরোপুরি কাজেই ভরা। এর পাশাপাশি সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্বও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছেন। এত ব্যস্ততার মধ্যে বিয়ে যে আপাতত তাঁর প্রাধান্য তালিকায় নেই, তা সহজেই বোঝা যায়।

দেবের এই মনোভাব অনেক তরুণ অনুরাগীর কাছেই অনুপ্রেরণার। তিনি বারবার দেখিয়েছেন, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজের সময় অনুযায়ী নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের চাপ বা মানুষের প্রত্যাশার কাছে মাথা নত না করে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর দর্শন। হয়তো এই কারণেই তাঁর অনুরাগীরা শুধু অভিনেতা দেবকে নয়, মানুষ দেবকেও এতটা ভালোবাসেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেবের বিয়ে নিয়ে রহস্য এখনও কাটেনি। প্রশ্ন উঠছে, উঠবে। মজার উত্তর আসবে, হাসি হবে। কিন্তু তার মধ্যেই দেব নিজের কাজের পথে অবিচল। ‘প্রজাপতি ২’-এর প্রোমোশন থেকে শুরু করে ২০২৬-এর বড় প্রজেক্ট—সবেতেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। বিয়ে কবে হবে, তা ভবিষ্যতের হাতে। আপাতত টলিউডের এই সুপারস্টার প্রমাণ করে দিচ্ছেন, কেরিয়ার যদি লক্ষ্য হয়, তবে গতি থামানোর কোনও কারণ নেই।

Preview image