Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডুয়ার্সের পাহাড়ে ভয়-হাসির রহস্য: টিজারেই শিরদাঁড়া জমিয়ে দিল ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’

ডুয়ার্সের এক পাহাড়ি হোটেলে শুটিং করতে গিয়ে ভয়ংকর ও রহস্যময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন মিমি চক্রবর্তী-সহ ছবির কলাকুশলীরা। টিজার মুক্তির পর থেকেই আতঙ্ক ও হাসির মিশেলে তৈরি ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে।

টলিপাড়ায় ভূত, রহস্য আর শুটিংয়ের অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্প নতুন নয়। বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এমন সব অভিজ্ঞতা, যা কখনও নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়, আবার কখনও গা ছমছমে অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। সেই তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হল আসন্ন বাংলা ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। ডুয়ার্সের পাহাড়ঘেরা এক নির্জন হোটেলে শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। আর টিজার মুক্তির পর সেই কৌতূহল যে কয়েকগুণ বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

ডুয়ার্স— সবুজে মোড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল, কুয়াশায় ঢাকা সকাল আর নিস্তব্ধ রাত। পর্যটকদের কাছে যেমন এই জায়গা স্বর্গসম, তেমনই রহস্যপ্রিয় মানুষের কাছেও এই অঞ্চলের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বহু পুরনো বাংলো, ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত স্থাপনা আর লোককথা মিলিয়ে ডুয়ার্সকে ঘিরে নানা গল্প প্রচলিত। ঠিক এমনই এক পরিবেশে ছবির শুটিং করতে গিয়ে যে অদ্ভুত সব ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা হয়তো আগে থেকে কেউ কল্পনাও করেননি।

ছবির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের দাবি অনুযায়ী, শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই হোটেলের পরিবেশ যেন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। কখনও সেটে রাখা মাছের প্লেট চোখের সামনে থেকেই উধাও হয়ে যাচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর অন্য জায়গায় গিয়ে মিলছে সেই প্লেট। কোথাও কোনও মানুষের উপস্থিতি নেই, অথচ খেলনা গাড়ি একা একাই গড়িয়ে আসছে লম্বা করিডোর পেরিয়ে। সবচেয়ে ভয় ধরানো ঘটনা— একটি বাথটব ভরা রক্তের মতো লাল তরল, যা দেখে প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন সেটেরই কোনও অংশ। পরে জানা যায়, সেই দৃশ্যের জন্য আদৌ কোনও শুটিং হওয়ার কথা ছিল না।

শুধু সেটের ভেতরেই নয়, হোটেলের বাইরেও ঘটেছে অস্বাভাবিক ঘটনা। লনের একটি অংশ থেকে হঠাৎ করেই মাটি ফুঁড়ে উঠে আসে একটি কঙ্কালের মতো অবয়ব। যদিও পরে বিষয়টি প্রপস না বাস্তব— তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়। এই সব ঘটনাকে কেউ যুক্তির আলোয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ নিছক কাকতালীয় বলে মেনে নিতে চেয়েছেন। তবে এক বিষয়ে সবাই একমত— এমন অভিজ্ঞতা তাঁরা আগে কখনও পাননি।

এই রহস্যময় পরিবেশেই শুটিং করেছেন মিমি চক্রবর্তী, বনি সেনগুপ্ত, সোহম মজুমদার ও স্বস্তিকা দত্ত। প্রত্যেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কেউ সরাসরি ‘ভূত’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও, তাঁদের কথায় স্পষ্ট— কিছু একটা অস্বাভাবিক তো ছিলই। বিশেষ করে রাতের শুটিংয়ের সময় নাকি অদ্ভুত আওয়াজ, অচেনা ছায়া আর হঠাৎ হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা সকলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

এই সব ঘটনার মধ্যেই এগিয়েছে ছবির কাজ। পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় শুরু থেকেই ছবিটিকে শুধুমাত্র একটি হরর ফিল্ম হিসেবে নয়, বরং ভয় আর হাসির মিশেলে তৈরি একটি সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক ছবি হিসেবে ভাবতে চেয়েছেন। সেই ভাবনাই চিত্রনাট্যে রূপ দিয়েছেন লেখিকা জিনিয়া সেন। তাঁর লেখা গল্প এগোচ্ছে দুই ভিন্ন সময়কালের প্রেক্ষাপটে— অতীত আর বর্তমানের মধ্যে যাতায়াত করে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে রহস্যের জাল।

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রযোজিত এই ছবি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। প্রথম পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পোস্টারে একদিকে যেমন রহস্যের ইঙ্গিত ছিল, তেমনই ছিল হালকা কৌতুকের ছোঁয়া। এরপর থিম সং প্রকাশ্যে আসতেই সেই কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। সুর, কথা আর ভিজ্যুয়ালের মেলবন্ধনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে— এই ছবি শুধুই ভয় দেখাবে না, বরং দর্শকদের হাসাতেও সমানভাবে প্রস্তুত।

শনিবার মুক্তি পাওয়া টিজার সেই প্রত্যাশাকেই আরও জোরালো করেছে। টিজারে একের পর এক রোমহর্ষক দৃশ্য দ্রুত কাটে— কখনও অন্ধকার করিডোর, কখনও হঠাৎ নিভে যাওয়া আলো, আবার কখনও অদ্ভুত সব মুখভঙ্গি। তার মধ্যেই ঢুকে পড়ে হাসির মুহূর্ত, যা গোটা পরিবেশকে আরও অপ্রত্যাশিত করে তোলে। টিজার দেখে বোঝা যায়, পরিচালক ভয় আর কৌতুকের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন, যা বাংলা ছবিতে সব সময় সহজ হয়ে ওঠে না।

বিশেষ করে দুই সময়কালের গল্প বলার ধরন ছবির রহস্যকে আরও গভীর করেছে। অতীতের কোনও ঘটনা কীভাবে বর্তমানকে প্রভাবিত করছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দর্শককে টেনে নিয়ে যাবে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। এই হোটেল যেন নিজেই একটি চরিত্র— যার প্রতিটি দেওয়াল, প্রতিটি ঘর লুকিয়ে রেখেছে অজানা গল্প। সেই গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের লোভ, ভয়, কৌতূহল আর হাস্যরস।

প্রথমে বড়দিনে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও, একাধিক বড় বাজেট ও বহু প্রতীক্ষিত বাংলা ছবির ভিড়ে জায়গা করে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মুক্তির তারিখ পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতারা। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়, নতুন বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে আসবে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। যদিও তার আগে টিজার মুক্তি দিয়ে দর্শকদের অপেক্ষার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুটিং ইউনিটের সদস্যদের একাংশের দাবি, হোটেলের ভেতরে পা রাখার পর থেকেই যেন অদ্ভুত এক চাপা অনুভূতি কাজ করছিল। প্রথমে ছোটখাটো ব্যাপার— কখনও জিনিসপত্রের জায়গা বদলে যাওয়া, কখনও দরজা-জানালা নিজে থেকেই খুলে যাওয়া। এসবকে প্রথমে সকলে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুরু হতেই তৈরি হয় অস্বস্তি। একদিন শুটিংয়ের ফাঁকে খাবারের টেবিলে রাখা মাছের প্লেট চোখের সামনেই উধাও হয়ে যায়। গোটা ঘর খুঁজেও পাওয়া যায়নি সেটি। কিছুক্ষণ পরে সম্পূর্ণ অন্য জায়গায় গিয়ে সেই প্লেট পাওয়া যায়, যেখানে কেউ যাওয়ার কথাই নয়।

news image
আরও খবর

এরপর ঘটে আরও ভয় ধরানো ঘটনা। শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা একটি বাথরুমে হঠাৎ দেখা যায়, বাথটব ভর্তি লালচে তরল, যা দূর থেকে রক্তের মতোই দেখাচ্ছিল। ইউনিটের সদস্যদের অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও দৃশ্যের জন্য প্রপস ব্যবহার করা হয়েছে। পরে জানা যায়, সেই দিন বা পরের দিন কোনও দৃশ্যেই এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল না। এই ঘটনা শোনার পর অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হোটেলের করিডোরে রাখা একটি খেলনা গাড়ি একা একাই গড়িয়ে আসার ঘটনাও কম চর্চিত হয়নি। রাতের শুটিং শেষ করে যখন ইউনিটের বেশিরভাগ সদস্য নিজেদের ঘরে ফিরছিলেন, তখনই এই দৃশ্য নাকি একাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ করেন। কেউ কেউ এটিকে বাতাসের ধাক্কা বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও, বন্ধ করিডোরে এমন ঘটনা কীভাবে সম্ভব— তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে হোটেলের লনে। শুটিংয়ের প্রস্তুতির সময় মাটির নিচ থেকে উঠে আসে একটি কঙ্কালের মতো অবয়ব। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি ছবির কোনও প্রপস। কিন্তু পরে জানা যায়, সেট ডিপার্টমেন্টের কেউই এমন কিছু ব্যবহার করেননি। যদিও বিষয়টি পরে আর বেশি ঘাঁটা হয়নি, তবু সেই ঘটনার কথা আজও ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় ফিরে আসে।

এই সব ঘটনার মাঝেই কাজ চালিয়ে গেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। মিমি চক্রবর্তী, বনি সেনগুপ্ত, সোহম মজুমদার ও স্বস্তিকা দত্ত— প্রত্যেকেই তাঁদের অভিনয়ের পাশাপাশি এই অদ্ভুত পরিবেশের সাক্ষী হয়েছেন। প্রকাশ্যে তাঁরা খুব বেশি কিছু না বললেও, তাঁদের কথাবার্তায় ইঙ্গিত স্পষ্ট। রাতের শুটিংয়ে অজানা আওয়াজ, হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার অনুভূতি, কিংবা অদ্ভুত ছায়া চোখে পড়ার কথা কেউ কেউ ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করেছেন।

এই বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলি যেন ছবির গল্পের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে গেছে। পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় শুরু থেকেই ছবিটিকে নিছক হরর হিসেবে ভাবেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভয় আর হাসির মিশেলে এমন একটি গল্প বলা, যা দর্শককে একদিকে আতঙ্কিত করবে, আবার পরমুহূর্তেই হাসাবে। এই কঠিন সমীকরণকে চিত্রনাট্যে রূপ দিয়েছেন লেখিকা জিনিয়া সেন। তাঁর লেখায় গল্প এগিয়েছে দুই ভিন্ন সময়কালের মধ্যে— অতীতের এক রহস্যময় অধ্যায় আর বর্তমানের ঘটনাপ্রবাহ ধীরে ধীরে জড়িয়ে যাচ্ছে একে অপরের সঙ্গে।

‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ নামটাই ইঙ্গিত দেয়, এখানে হোটেলটি শুধুই একটি লোকেশন নয়, বরং গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। হোটেলের প্রতিটি ঘর, প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি দরজা যেন লুকিয়ে রেখেছে কোনও না কোনও স্মৃতি, কোনও না কোনও রহস্য। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা আজও হোটেলটিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে— এমনই এক ধারণা ধীরে ধীরে দর্শকের মনে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থা এই অপেক্ষাকে একেবারেই নিষ্ফলা হতে দেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে ছবিকে ঘিরে নানা প্রচার, পর্দার আড়ালের গল্প, অভিনেতাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া ভিডিও। এর ফলে ধীরে ধীরে ছবিটি নিয়ে একটি আলাদা আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শীতের মরশুমে ভয় আর হাসির এমন মিশেল দেখতে তাঁরা মুখিয়ে আছেন।

বাংলা সিনেমায় হরর-কমেডি ঘরানা খুব বেশি দেখা যায় না। যে ক’টি ছবি এই ঘরানায় তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে কিছু দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছে, আবার কিছু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। তবে অভিজ্ঞ প্রযোজক জুটি, পরিণত পরিচালক ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবির প্রতি আশা বাড়াচ্ছে।

মিমি চক্রবর্তীর চরিত্রটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি কি অতীতের কোনও রহস্যের সঙ্গে যুক্ত, নাকি বর্তমানের কোনও চরিত্র যার চোখ দিয়ে দর্শক পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়। একইভাবে বনি সেনগুপ্ত, সোহম মজুমদার ও স্বস্তিকা দত্তের চরিত্রগুলিও রহস্যে মোড়া। টিজারে তাঁদের প্রত্যেকের ঝলক মিললেও, পূর্ণ রূপ এখনও অধরা।

সব মিলিয়ে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ শুধু একটি ছবি নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনাগুলি সত্যিই অতিপ্রাকৃত কি না, তা হয়তো কখনও জানা যাবে না। তবে সেই সব গল্প ছবির প্রচারে যে বাড়তি রসদ জুগিয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

এখন দর্শকদের সামনে একটাই প্রশ্ন— পর্দায় দেখানো ভয় আর হাসির এই মিশেল কতটা কার্যকর হয়? ডুয়ার্সের পাহাড়ি হোটেলের রহস্য কি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের শিরদাঁড়া ঠান্ডা করতে পারবে, নাকি হাসির রোলেই সব ভয় চাপা পড়ে যাবে? উত্তর মিলবে ২৩ জানুয়ারি, যখন শীতের শহরে আছড়ে পড়বে একঝাঁক ভূত, রহস্য আর বিনোদনের ঢেউ।

Preview image