টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেড (TRSL): রেল ও মেট্রো প্রকল্পে ₹৩০,০০০ কোটি টাকার নতুন দিগন্ত ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নের ধারায় রেলওয়ে খাত এখন সবচেয়ে আলোচিত ক্ষেত্রগুলির একটি। এরই মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেড (Titagarh Rail Systems Ltd – TRSL)। সংস্থার হাতে রয়েছে প্রায় ₹৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল অর্ডারবুক, যার মধ্যে মেট্রো কোচ, ওয়াগন, ট্রেন সেট এবং রেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। TRSL বর্তমানে ভারতের একমাত্র সংস্থা যা যাত্রীবাহী মেট্রো কোচ ও মালবাহী ওয়াগন উভয়ই তৈরি করে। FY25-এ কোম্পানি ১২,০০০ ওয়াগন ও ৩০০ কোচ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। মুম্বাই মেট্রো লাইন ৫-এর জন্য তারা ₹২,৪৮১ কোটি টাকার চুক্তি পেয়েছে, যেখানে ডিজাইন থেকে শুরু করে ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু TRSL করবে। FY26-এর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির রাজস্ব ২৫% হ্রাস পেয়ে ₹৬৭৯ কোটি এবং মুনাফা ৫৪% কমে ₹৩১ কোটিতে দাঁড়ালেও, তাদের অর্ডারবুকের আকার ভবিষ্যতের স্থায়িত্ব প্রমাণ করে। TRSL বর্তমানে ভারতীয় ওয়াগন বাজারের প্রায় ২৫% অংশীদারিত্ব দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের “মেক ইন ইন্ডিয়া” এবং “ইনফ্রা পুশ” নীতির জোরে TRSL আগামী দশকে দেশের অন্যতম প্রধান রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেড (TRSL): ₹৩০,০০০ কোটি টাকার রেল ও মেট্রো প্রকল্পে ভারতের রেল শিল্পের নতুন গতি
ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে রেলওয়ে খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এই খাতেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেড (Titagarh Rail Systems Ltd - TRSL), যাদের হাতে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ₹৩০,০০০ কোটি টাকার অর্ডারবুক। এই বিশাল প্রকল্প তালিকায় রয়েছে মেট্রো রেল, ওয়াগন, কোচ, ও বিভিন্ন উচ্চ প্রযুক্তির রেলওয়ে সরঞ্জাম নির্মাণের চুক্তি।
TRSL বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যারা মেট্রো কোচ এবং মালবাহী ওয়াগন—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করছে। সংস্থাটি মুম্বাই মেট্রো লাইন ৫-এর জন্য ₹২,৪৮১ কোটি টাকার বড়সড় চুক্তি পেয়েছে, যা অন্তর্ভুক্ত করে কোচ ডিজাইন, উৎপাদন, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভারতের মেট্রো অবকাঠামোতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
এছাড়া বেঙ্গালুরু, পুনে, নাগপুর ও কলকাতার মেট্রো প্রকল্পের জন্যও TRSL ইতিমধ্যেই কোচ সরবরাহ করছে। তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, FY25-এ ১২০টি মেট্রো কোচ সরবরাহ করবে, FY26-এ ২২০টি এবং FY28-এর মধ্যে ২৫০টিরও বেশি কোচ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
FY25 অর্থবর্ষে ভারতের ওয়াগন উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১,৯২৯ ইউনিটে, যা গত বছরের ৩৭,৬৫০ ইউনিট থেকে ১২% বেশি। টিটাগড় রেল সিস্টেমস বর্তমানে বছরে ১২,০০০ ওয়াগন ও ৩০০ মেট্রো কোচ উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে। দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা একই সঙ্গে যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন উৎপাদন করছে—যা তাদের প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করেছে।
এই মুহূর্তে TRSL ভারতীয় ওয়াগন মার্কেটের প্রায় ২৫% মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে। শুধু তাই নয়, সংস্থাটি রপ্তানি ক্ষেত্রেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে—আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে রেলওয়ে সরঞ্জাম রপ্তানি শুরু হয়েছে।
FY26-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে TRSL-এর রাজস্ব ২৫% হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ₹৬৭৯ কোটি, যা আগের বছরের ₹৯০৩ কোটি ছিল। নিট মুনাফা কমেছে ৫৪%—₹৬৭ কোটি থেকে নেমে এসেছে ₹৩১ কোটিতে।
তবে, এই পতনের কারণ হিসেবে কোম্পানি উল্লেখ করেছে “প্রকল্প ডেলিভারিতে বিলম্ব” এবং “নতুন উৎপাদন ইউনিট সম্প্রসারণে খরচ বৃদ্ধি”।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক মন্দা TRSL-এর দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে না। কারণ সংস্থার অর্ডারবুকের বিশালতা ও প্রকল্প বৈচিত্র্য ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।
ভারত সরকারের “মেক ইন ইন্ডিয়া” ও “বুলেট ট্রেন” উদ্যোগের ফলে রেল খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় ওয়াগন ও মেট্রো বাজারের আকার ₹১২,০০০–১৪,০০০ কোটি টাকার মধ্যে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ₹২৫,০০০–৩০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার মাঝেই TRSL তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছে।
TRSL ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কোচ ও ওয়াগন নির্মাণে ISO ও EN সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে তারা অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে।
ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে TRSL-কে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, TRSL স্টক এখন ভারতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন-নির্ভর বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প। সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দিতে পারে, কারণ তাদের প্রকল্পের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সরকারি সমর্থন—সবই ইতিবাচক সূচক।
তবে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন বিলম্ব ও রেভিনিউ হ্রাস বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।