Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিনয় থেকে রাজনীতি, লোকসভা ভোটে লড়াই! স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে কত সম্পত্তি ঊর্মিলার?

২০১৯ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন ঊর্মিলা। কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়েওছিলেন। তবে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।বলিউডের ‘রঙ্গিলা’ তিনি। অভিনয়ে ও নাচে একসময়ে সাড়া ফেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎই বলিউড থেকে ক্রমশ সরে যান। রাজনীতিতে যোগ দেন। সেই ঊর্মিলা মাতন্ডকরের ৫২ বছরের জন্মদিন বুধবার। এখন তিনি কত সম্পত্তির মালিক?

২০১৯ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন ঊর্মিলা। কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়েওছিলেন। তবে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। পরে কংগ্রেস ছেড়ে শিবসেনায় যোগ দেন। এখন তিনি শিবসেনারই সদস্য।

শোনা যায়, মোট ৬৮.২৮ কোটি টাকার সম্পত্তি ঊর্মিলার। এর মধ্যে ৪০.৯৩ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ও ২৭.৩৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি। বিভিন্ন বন্ডে, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে অভিনেত্রীর। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। উর্মিলার হাতে রয়েছে ১.২৭ কোটি টাকার একটি হিরের আংটি। গাড়ির সম্ভারও চোখে পড়ার মতো। রয়েছে মার্সিডিজ় বেন্জ। তবে সেই সঙ্গে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য একটি আই২০ গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ‘মাসুম’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম বলিউডে পা। লাস্যময়ী ঊর্মিলাকে জহুরির চোখে চিনেছিলেন রামগোপাল বর্মা। আমির খান, জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে ‘রঙ্গিলা’ ছবির সাফল্যের পর তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘জুদাই’, ‘সত্য’, ‘কৌন’, ‘পিঞ্জর’, ‘পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া’— একের পর এক হিট ছবিতে লাস্যের পাশাপাশি অভিনয়েও নজর কেড়েছিলেন তৎকালীন বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী। ২০১৪ সালের পরে বলিউড থেকে অদৃশ্যই হয়ে যান অভিনেত্রী। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। নারীদের উন্নয়নের জন্যও সমাজমাধ্যমে নিয়মিত বার্তা দেন তিনি।

শিশুশিল্পী থেকে কোটিপতি অভিনেত্রী

ঊর্মিলা মাতণ্ডকর: লাস্য, সাহস ও নিজস্ব পথে হাঁটার গল্প

বলিউডে এমন কিছু অভিনেত্রী আছেন, যাঁদের কেরিয়ার শুধুমাত্র হিট ছবির তালিকায় আটকে থাকে না। তাঁদের ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার ক্ষমতা আলাদা করে নজর কাড়ে। ঊর্মিলা মাতণ্ডকর সেই বিরল অভিনেত্রীদেরই একজন। একদিকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক সাফল্য যেমন চর্চার বিষয়, অন্য দিকে অভিনয়, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় তাঁর অবস্থানও তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

শোনা যায়, ঊর্মিলার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬৮.২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪০.৯৩ কোটি টাকা অস্থাবর সম্পত্তি এবং ২৭.৩৪ কোটি টাকা স্থাবর সম্পত্তি। বিভিন্ন বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডে তাঁর বিনিয়োগের অঙ্কই প্রায় ২৮ কোটি টাকা। শুধুমাত্র অভিনয় নয়, বরং সচেতন আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমেও তিনি নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করেছেন—এ কথা তাঁর সম্পত্তির হিসাবেই স্পষ্ট।


সম্পত্তির খুঁটিনাটি: বিলাস ও বাস্তবের ভারসাম্য

ঊর্মিলার স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে তিনটি ফ্ল্যাট। এগুলি শুধুমাত্র বসবাসের জায়গা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। বলিউডের অনেক তারকা যেখানে শুধুই বিলাসী সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেন, ঊর্মিলা সেখানে তুলনামূলকভাবে হিসেবি পথেই এগিয়েছেন।

তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে অন্যতম আলোচিত হল ১.২৭ কোটি টাকার একটি হিরের আংটি। এই আংটিটি শুধু দামী গয়না নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত রুচি ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়। গাড়ির ক্ষেত্রেও একই রকম ভারসাম্য দেখা যায়। একদিকে রয়েছে মার্সিডিজ় বেঞ্জ—যা বলিউড তারকাদের বিলাসের প্রতীক—অন্যদিকে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য তিনি ব্যবহার করেন একটি হিউন্ডাই আই২০। এই নির্বাচনই বলে দেয়, ঊর্মিলা শুধুই গ্ল্যামারের পিছনে ছোটেন না; প্রয়োজন আর বাস্তবতার কথাও মাথায় রাখেন।


‘মাসুম’ থেকে বলিউডে প্রথম পা

ঊর্মিলা মাতণ্ডকরের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। ‘মাসুম’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয় আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। সেই সময় থেকেই তাঁর চোখে-মুখে যে স্বাভাবিকতা ও আবেগের ছাপ দেখা গিয়েছিল, তা ভবিষ্যতের বড় অভিনেত্রীর ইঙ্গিত দিয়েছিল।

তবে শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করলেও, অনেকের মতো হারিয়ে যাননি তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছেন, সময় নিয়েছেন এবং উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষা করেছেন। এই ধৈর্যই পরবর্তী সময়ে তাঁর কেরিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।


রামগোপাল বর্মার ‘জহুরির চোখ’

ঊর্মিলার কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় মোড় আসে পরিচালক রামগোপাল বর্মার হাত ধরে। বর্মাই প্রথম ঊর্মিলার মধ্যে লাস্য ও অভিনয়ক্ষমতার এক অনন্য মিশ্রণ দেখতে পান। ‘রঙ্গিলা’ ছবিতে আমির খান ও জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে তাঁর অভিনয় বলিউডে নতুন এক ঊর্মিলাকে পরিচিত করে দেয়।

‘রঙ্গিলা’-র সাফল্যের পর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি শুধু গ্ল্যামার নন, বরং চরিত্রের গভীরতায়ও সমান পারদর্শী—এই বার্তাই ছড়িয়ে পড়ে ইন্ডাস্ট্রিতে।


হিট ছবির পর হিট: লাস্যের বাইরে অভিনয়ের জোর

‘রঙ্গিলা’-র পর একের পর এক ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ঊর্মিলা।
‘জুদাই’, ‘সত্য’, ‘কৌন’, ‘পিঞ্জর’, ‘পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া’—প্রতিটি ছবিতেই আলাদা আলাদা চরিত্রে ধরা দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ‘সত্য’ ও ‘কৌন’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেখানে তিনি শুধুই নায়িকা নন, বরং গল্পের চালিকাশক্তি। ‘পিঞ্জর’-এ সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন নারীর যন্ত্রণা ও লড়াই ফুটিয়ে তুলে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে গ্ল্যামার ছাড়াও তিনি সমান শক্তিশালী।

এই সময়েই তিনি বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল—দু’ধরনের ছবিতেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।

news image
আরও খবর

হঠাৎ আড়ালে চলে যাওয়া

২০১৪ সালের পর থেকে বলিউডে ঊর্মিলার উপস্থিতি ক্রমশ কমে যায়। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়ের ছিল। যখন কেরিয়ার এখনও সক্রিয়, তখনই কেন এমন সিদ্ধান্ত?

ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ সচেতন সিদ্ধান্ত। ঊর্মিলা এমন চরিত্রে কাজ করতে চাননি, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব বা বিশ্বাসের সঙ্গে খাপ খায় না। বলিউডে বয়সভিত্তিক সুযোগ কমে আসা, একই ধরনের চরিত্রে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা—এই সব কারণ মিলিয়েই তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে আড়ালে সরিয়ে নেন।


রাজনীতিতে পদার্পণ

অভিনয়ের পর নতুন পরিচয়—রাজনীতিক ঊর্মিলা মাতণ্ডকর। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং সক্রিয় ভাবে জনজীবনের নানা বিষয়ে মত প্রকাশ করতে শুরু করেন। বিশেষ করে নারীদের অধিকার, শিক্ষা, সামাজিক সমতা—এই বিষয়গুলিতে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেন।

সমাজমাধ্যমে তিনি নিয়মিত নারীদের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা ও সচেতনতার বার্তা দেন। তাঁর পোস্টে গ্ল্যামারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় বাস্তব সমস্যা ও সমাধানের কথা।


নারীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে ঊর্মিলা

ঊর্মিলা মাতণ্ডকর নিজেকে শুধুই অভিনেত্রী বা রাজনীতিক হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন সচেতন নারী কণ্ঠস্বর হিসেবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সম্মানের প্রশ্নে তিনি বরাবরই সরব।

তাঁর মতে, আর্থিক স্বাধীনতাই নারীর প্রকৃত শক্তি। সম্ভবত সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের আর্থিক পরিকল্পনাতেও এতটা সচেতন। অভিনয়ের আয়কে শুধু ভোগে নয়, বিনিয়োগে রূপান্তর করেছেন।


ব্যক্তিত্বের আরেক দিক: হিসেবি ও আত্মসম্মানী

ঊর্মিলার জীবনযাপন দেখলে বোঝা যায়, তিনি চরম বিলাস ও চরম সংযম—দুটোর মাঝামাঝি একটি পথ বেছে নিয়েছেন। মার্সিডিজ় যেমন আছে, তেমনই আই২০-ও আছে। কোটি টাকার গয়না যেমন আছে, তেমনই সামাজিক কাজেও তিনি যুক্ত।

এই ভারসাম্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্য মানে শুধুই আলোয় থাকা নয়; বরং নিজের শর্তে বাঁচাও এক ধরনের সাফল্য।


উপসংহার: নিজের শর্তে গড়া জীবন

শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে বলিউডের লাস্যময়ী নায়িকা, সেখান থেকে রাজনীতিক ও সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব—ঊর্মিলা মাতণ্ডকরের যাত্রাপথ বহুস্তরীয়। প্রায় ৬৮ কোটি টাকার সম্পত্তি তাঁর সাফল্যের এক দিকমাত্র। তার থেকেও বড় তাঁর স্বাধীন চিন্তা, স্পষ্ট অবস্থান এবং নিজের শর্তে জীবন বেছে নেওয়ার সাহস

আজও তিনি আলোচনায় আসেন—কখনও তাঁর সম্পত্তির জন্য, কখনও তাঁর বক্তব্যের জন্য, আবার কখনও তাঁর অতীত ছবির স্মৃতির জন্য। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি থেকে যান একজন নারী, যিনি নিজেকে বারবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে জানেন।

আর হয়তো সেই কারণেই, ঊর্মিলা মাতণ্ডকর শুধু একটি নাম নয়—একটি যাত্রার গল্প।

শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে বলিউডের লাস্যময়ী নায়িকা, সেখান থেকে রাজনীতিক ও সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব—ঊর্মিলা মাতণ্ডকরের যাত্রাপথ বহুস্তরীয়। প্রায় ৬৮ কোটি টাকার সম্পত্তি তাঁর সাফল্যের এক দিকমাত্র। তার থেকেও বড় তাঁর স্বাধীন চিন্তা, স্পষ্ট অবস্থান এবং নিজের শর্তে জীবন বেছে নেওয়ার সাহস

আজও তিনি আলোচনায় আসেন—কখনও তাঁর সম্পত্তির জন্য, কখনও তাঁর বক্তব্যের জন্য, আবার কখনও তাঁর অতীত ছবির স্মৃতির জন্য। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি থেকে যান একজন নারী, যিনি নিজেকে বারবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে জানেন।

আর হয়তো সেই কারণেই, ঊর্মিলা মাতণ্ডকর শুধু একটি নাম নয়—একটি যাত্রার গল্প।

Preview image