Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মস্কো কাঁপিয়ে ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলা! এক বছরে সবচেয়ে বড় আঘাত, রাশিয়ায় মৃত বহুজন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ভয়াবহ ৫০০ ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে একাধিক মানুষের, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু জায়গা। পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

মস্কো কাঁপিয়ে ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলা! এক বছরে সবচেয়ে বড় আঘাত, রাশিয়ায় মৃত বহুজন
আন্তর্জাতিক সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের একবার আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়ে নিল মস্কোর আকাশ। ইউক্রেনের তরফে চালানো ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে রাশিয়ার রাজধানীর উপকণ্ঠ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, একসঙ্গে প্রায় ৫০০ ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুধু মস্কো নয়, আশপাশের একাধিক অঞ্চলও এই হামলার প্রভাবের মুখে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ, আগুনের লেলিহান শিখা, আতঙ্কে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষ— গোটা পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

রাশিয়ার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই একের পর এক ড্রোন রাশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করতে শুরু করে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে বহু ড্রোন ভূপাতিত করলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। বিশেষ করে মস্কোর উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আবাসন, গাড়ি এবং বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো। প্রাথমিকভাবে কয়েক জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

এই হামলার পর রাশিয়ার প্রশাসন জরুরি বৈঠক ডাকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে রাজধানী এবং আশপাশের এলাকায়। বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের এই হামলা শুধুমাত্র সামরিক কৌশলের অংশ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। কিন্তু রাজধানীর এত কাছে একসঙ্গে এত বড় ড্রোন হামলা রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কারণ, বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও এমন বড় আক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই হামলা ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিরও ইঙ্গিত বহন করছে। বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কম খরচে এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানার জন্য ড্রোন এখন অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনও সেই কৌশলই ব্যবহার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে যেখানে মূলত স্থল এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উপর জোর ছিল, এখন সেখানে ড্রোন যুদ্ধই নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।

এই হামলার পরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে। ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন মহল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। কারণ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তা বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম, খাদ্য সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— সব ক্ষেত্রেই এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। তার উপর রাজধানী মস্কোর এত কাছে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাশিয়ার তরফে এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। রুশ প্রশাসনের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে “উসকানিমূলক পদক্ষেপ” নেওয়ার অভিযোগও করেছে মস্কো। যদিও ইউক্রেনের তরফে এই হামলা নিয়ে সরাসরি বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি, তবে রাশিয়ার সামরিক কাঠামোর উপর চাপ বাড়ানোই যে তাদের প্রধান লক্ষ্য, তা স্পষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ সেই রাতের অভিজ্ঞতা। অনেকেই জানিয়েছেন, গভীর রাতে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। জানলার কাচ কেঁপে ওঠে, বাইরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। কেউ কেউ আবার মোবাইলে সেই বিস্ফোরণের ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেই ভিডিওগুলিতে রাতের আকাশে আগুনের ঝলকানি এবং বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়।

এই হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় রাশিয়া এবং ইউক্রেন— দুই দেশের মানুষই মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই ঘরছাড়া হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে এত বড় হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

news image
আরও খবর

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে পশ্চিমি দেশগুলি ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে রাশিয়াও নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে সংঘাত থামার বদলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার শান্তি আলোচনার আহ্বান জানালেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করছেন, কেউ আবার ইউক্রেনের সামরিক কৌশল নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। কারণ, যুদ্ধের এত দীর্ঘ সময় পরও পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, এই হামলা যেন সেই আশঙ্কাকেই আরও বাস্তব করে তুলল।

রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, রাজধানীর এত কাছে হামলা হওয়া মানে যুদ্ধের প্রভাব এখন আর সীমান্তে আটকে নেই। যুদ্ধ যেন ধীরে ধীরে দেশের অভ্যন্তরেও প্রবেশ করছে। এই মানসিক চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে রাশিয়া তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দেবে। একই সঙ্গে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতেও বাড়তি বিনিয়োগ হতে পারে। কারণ, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র এখন বড় সামরিক শক্তিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে, মস্কোর কাছে ইউক্রেনের এই ৫০০ ড্রোন হামলা শুধুমাত্র একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার এক বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে। মৃত্যু, ধ্বংস, আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন নজর রাশিয়ার পাল্টা পদক্ষেপ এবং বিশ্ব কূটনীতির পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।

এই হামলার পরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রুশ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী মস্কোকে ঘিরে এত বড় আক্রমণ শুধুমাত্র সামরিক দিক থেকেই নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এতদিন যুদ্ধের মূল প্রভাব সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে বেশি দেখা গেলেও এবার রাজধানীর খুব কাছেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও এই হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ধরনের হামলা আরও বাড়তে থাকে, তবে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। এখন আর শুধু বড় মিসাইল বা ট্যাঙ্ক নয়, ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ড্রোনও বড় ক্ষতি করতে সক্ষম হচ্ছে। ইউক্রেন সেই কৌশলকে আরও সংগঠিতভাবে ব্যবহার করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই হামলা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। রাজধানীর আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে আরও উন্নত প্রযুক্তি, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের দীর্ঘ প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও গভীর ছাপ ফেলছে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যবৃদ্ধি, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক উদ্বেগ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। বহু মানুষ এখন শান্তি আলোচনার দাবি তুলছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমার বদলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

Preview image