মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবার বাড়ল গ্যাসের দাম ১ মার্চ বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পর এ বার গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ানো হল।
দেশজুড়ে আবারও বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এর আগে গত ১ মার্চ বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও এ বার এক ধাক্কায় বাড়ানো হল দুই ধরনের গ্যাসের দামই।
নতুন দামে ১৪.২ কেজি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। ফলে আগের ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে এখন প্রতি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ১৯ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। আগে যার দাম ছিল ১,৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা, তা বেড়ে এখন হয়েছে ১,৯৯০ টাকা।
অর্থাৎ বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে এক লাফে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ, ছোট খাবারের দোকান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উপরও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে চলেছে।
গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি ধাক্কার কারণ হয়েছে সময়ের ব্যবধানের জন্য। মাত্র পাঁচ দিন আগে অর্থাৎ ১ মার্চ বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩১ টাকা। তখন গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
সেই সিদ্ধান্তের পাঁচ দিনের মাথায় আবারও মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে। সাধারণত গ্যাসের দাম মাসের শুরুতে সংশোধন করা হয়। কিন্তু এত কম সময়ের ব্যবধানে দুইবার দাম বাড়া বিরল বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হল হরমুজ প্রণালী। এই সমুদ্রপথ দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে ভারতসহ বহু জ্বালানি আমদানিকারক দেশের উপর।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতাও দেশের জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর কেন্দ্র সরকার জানিয়েছিল, আপাতত দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সেই মজুত দিয়ে কিছু সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সমস্যা বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি সংস্থাগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে গত কয়েক বছরে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে।
বর্তমান সংকটের সময়েও রাশিয়া ভারতকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ভারতের নীতি নির্ধারকদের।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে এক মাসের জন্য ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা।
এই অনুমতি জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি গৃহস্থালি গ্যাস কেনার পুরনো নিয়ম আবার চালু করা হয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক ২১ দিনের মধ্যে মাত্র একটি সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।
এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অযথা মজুতদারি রোধ করা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্যাসের দাম বাড়া মানেই সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। রান্নার গ্যাস গৃহস্থালির নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। ফলে এর দাম বাড়লে মাসিক বাজেটে চাপ বাড়ে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হয়। অনেকেই ইতিমধ্যে রান্নার খরচ কমানোর জন্য বিকল্প পদ্ধতি ভাবতে শুরু করেছেন।
বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন ব্যবসার উপরও। হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং ব্যবসা এবং ছোট খাবারের দোকানগুলিতে গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
গ্যাসের খরচ বেড়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। ফলে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ পড়ে সাধারণ গ্রাহকের উপরই।
বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব এলপিজির দামেও পড়ে।
তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রান্নার গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গৃহস্থালির দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি এখন একটি অপরিহার্য উপাদান। শহর হোক বা গ্রাম, অধিকাংশ পরিবারই রান্নার জন্য গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের দাম বাড়া মানেই সরাসরি প্রভাব পড়ে সংসারের মাসিক বাজেটে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির ক্ষেত্রে এই চাপ আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় বেড়েছে ৬০ টাকা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারই আবার নতুন করে খরচের হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগেই বেড়েছে বিভিন্ন সময়ে। তার উপর গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। ইরান, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আবহে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের উপর চাপ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভারতের মতো একটি দেশের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। কারণ দেশের জ্বালানির চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় দেশের জ্বালানি বাজারে। ফলে এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল— সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন জ্বালানি সংস্থা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, দেশে আপাতত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।
জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়টি বর্তমানে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নিজেদের খরচের হিসাব নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বিকল্প রান্নার পদ্ধতির কথাও ভাবছেন, যদিও শহুরে জীবনে তা সব সময় সহজ নয়। ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন খাবারের দোকানে গ্যাস একটি প্রধান জ্বালানি। গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীদের খরচও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই সেই অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে খাবারের দাম বাড়াতে হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের উপরই সেই চাপ পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তবে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে এলপিজির দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যদি উত্তেজনা কমে, তাহলে জ্বালানি পরিবহন আবার স্বাভাবিক হতে পারে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের জ্বালানি বাজারেও।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রান্নার গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবারকেই নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। সরকার এবং জ্বালানি সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে আপাতত সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলেই চলতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল থাকে, তার উপরই নির্ভর করবে গ্যাসের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ। সেই কারণেই এখন অনেকেই অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতির উন্নতির জন্য।