Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শিশুর ত্বকে হঠাৎ লালচে উঁচু দাগ হতে পারে হেমানজিয়োমার লক্ষণ কীভাবে সাবধান হবেন

হেমানজিয়োমা শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে, তবে এটি সাধারণত মুখ, মাথার ত্বক, বুক বা পিঠে বেশি দেখা যায়। এই রোগটি রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে হয়, যা সাধারণত জন্মের পরেই দেখা যায়।

শিশুদের ত্বকে মাঝেমধ্যে লালচে ছোপ দেখা যায়, যা উঁচু হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় হেমানজিয়োমা। এটি এক ধরনের রক্তনালির টিউমার, যার কারণে ত্বকে লালচে বা গা dark রঙের দাগ বা স্ফীতি দেখা দেয়। এই সমস্যা শিশুর জন্মের পরই দেখা দিতে পারে, এবং এটি সাধারণত কোনও ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াই হয়। যদিও এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্বকের উপর নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়, হেমানজিয়োমা শরীরের অন্য কোনও অংশেও হতে পারে, যেমন মুখ, মাথার ত্বক, বুক বা পিঠে। এটি সাধারণত নির্দিষ্ট অঞ্চলের ছোট বা বড় হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর আকার পরিবর্তিত হতে পারে।

হেমানজিয়োমা কেন হয়?

হেমানজিয়োমা বা রক্তনালির টিউমারের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে চিকিৎসকরা মনে করেন এটি রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলস্বরূপ হয়। অনেক সময় এই রোগটি জন্মের পরপরই দেখা যায়, যদিও কখনও কখনও এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে ১ বছর বয়সের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি আকারে ধরা পড়ে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময়ের সাথে নিজে থেকেই কমে যায় বা সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর আকার বাড়তে থাকে এবং চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুদের মধ্যে হেমানজিয়োমার কারণ

শিশুর ত্বকে হেমানজিয়োমা হওয়ার বেশ কিছু কারণ হতে পারে। শিশুদের এই সমস্যার জন্য মূলত জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতা দায়ী। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মায়ের কোনও বিশেষ ক্রিয়া বা আচরণের কারণে এই রোগটি হয় না, অর্থাৎ এটি একটি জেনেটিক সমস্যা এবং জন্মের পরেই সাধারণত দেখা যায়।

হেমানজিয়োমার লক্ষণ

হেমানজিয়োমার প্রাথমিক লক্ষণ হলো ত্বকে এক ধরনের লালচে দাগ বা স্ফীতি দেখা দেওয়া। এই দাগের আকার এবং রঙের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটি একটি লাল বা গা dark রঙের দাগ হতে পারে, যা সময়ের সাথে সাথে এর আকার বা অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। হেমানজিয়োমা সাধারণত ত্বকের ওপর উপস্থিত থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ত্বকের গভীর স্তরের মধ্যে অবস্থান করে, যার কারণে বাইরের দিকে তা দেখা যায় না।

হেমানজিয়োমার আকৃতিও পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অনেক ছোট থাকে, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় হয়ে যায় এবং তার স্ফীতির কারণে কিছু শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

চিকিৎসক অর্পণ সাহার পরামর্শ

শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহা এই বিষয়ে বলেন, হেমানজিয়োমার প্রধান কারণ হলো রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি সাধারণত জন্মের পরই দেখা দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা শিশুদের ত্বকে উঁচু লালচে ছোপ হিসেবে দেখা যায়। চিকিৎসক অর্পণ আরও বলেন, ‘‘হেমানজিয়োমার দু’টি পরিণতি হতে পারে। এক, এটা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, এবং দুই, এটা আস্তে আস্তে কমতে পারে।’’ তবে, এই রক্তনালির টিউমারের স্থান বা আকার যদি বেশি হয় এবং ছোটখাটো আঁচড় পড়লে যদি রক্ত বেরোতে থাকে, তবে তা সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে। এর জন্য পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে জায়গাটি চেপে ধরে রাখা উচিত এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

হেমানজিয়োমার বিকাশের কারণ

হেমানজিয়োমার বিকাশের বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং কিছু প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতা। এটি এমন একটি সমস্যা যা সাধারণত একবার দেখা দিলেই শিশুর জীবনের বাকি অংশে সেটি কমে যেতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে যদি এটির আকার বাড়ে, তবে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

চিকিৎসা

হেমানজিয়োমার চিকিৎসা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা বা জটিলতার উপর নির্ভর করে। এর চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয় আকার, অবস্থান এবং এর বৃদ্ধি সংক্রান্ত সম্ভাব্য জটিলতার ওপর ভিত্তি করে। একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, চিকিৎসকরা সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে এই রোগটি ধীরে ধীরে সেরে যেতে পারে। তবে যদি সমস্যা বা জটিলতা দেখা দেয়, যেমন রক্তপাত বা মারাত্মক আকার ধারণ করা, তখন লেসার থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

যদিও হেমানজিয়োমা সাধারণত ক্যানসারের মতো মারাত্মক নয়, তবে একে পুরোপুরি ফেলে রাখা বা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে এর অবস্থা অনেক উন্নতি করতে পারে।

উপসংহার

news image
আরও খবর

হেমানজিয়োমা একটি সাধারণ, তবে চিকিৎসাযোগ্য রোগ, যা শিশুদের ত্বকে দেখা যায়। এটি মূলত ত্বকের নিচে রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে হয়। এই সমস্যা শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে হেমানজিয়োমা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং তখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগটি অনেক ক্ষেত্রে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

হেমানজিয়োমা সাধারণত জন্মের পর প্রথম কিছু মাসের মধ্যে দেখা দেয় এবং এটি ত্বকের যে কোনো স্থানে, বিশেষত মুখ, মাথার ত্বক, বুক, বা পিঠে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ছোট আকারে থাকে এবং ক্রমশ সেরে যায়, তবে কখনো কখনো এর আকার বাড়ে এবং জটিলতা সৃষ্টি করে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হলো ত্বকে লালচে বা গা dark রঙের একটি দাগ বা স্ফীতি, যা সাধারণত উঁচু হয়ে থাকে।

এ রোগের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে চিকিৎসকরা এর পিছনে কিছু সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন, রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। এটি মূলত জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতার কারণে হতে পারে। এটি গর্ভাবস্থায় মায়ের আচরণ বা ক্রিয়াকলাপের কারণে হয় না, যা কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এই রোগটি গুরুতর নয় এবং সাধারণত ক্যানসারের মতো কোনো ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে না, তবে এর প্রতি অবহেলা না করাই শ্রেয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, হেমানজিয়োমার দু'টি পরিণতি হতে পারে। এক, এটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, এবং দুই, এটি সময়ের সাথে সাথে কমে যেতে পারে। যেহেতু এটি একটি সাধারণ কিন্তু অস্থায়ী সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রেই এটি বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায় এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে, যদি হেমানজিয়োমার আকার বেড়ে যায় এবং রক্তপাতসহ অন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তবে তখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হেমানজিয়োমার চিকিৎসা পদ্ধতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগের আকার, অবস্থান এবং অন্যান্য উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগটি অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়। তবে, যদি রোগটির কোনো জটিলতা দেখা দেয়, যেমন রক্তপাত বা মারাত্মক আকার ধারণ করা, তখন লেসার থেরাপি বা অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ‘‘হেমানজিয়োমা সাধারণত বিনাইন, অর্থাৎ ক্যানসারের লক্ষণ নয়। তবে একে যদি অবহেলা করা হয়, তা হলে পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যার জন্য চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।’’

যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়। চিকিৎসকরা শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং এই রোগের চিকিত্সায় কোন ধরনের দেরি না করতে বলছেন। এক্ষেত্রে শিশুর স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যখন ছোট থাকে, তখন তাদের ত্বকের উপর কোনো ধরনের স্ফীতি বা দাগ হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এছাড়া, চিকিৎসা শুরু করার পর নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শিশুর অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ কোনো খাবার বা পরিবেশের কারণে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, তবে যদি কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দেয়, যেমন গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

হেমানজিয়োমা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এই রোগটি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এটি অস্থায়ী সমস্যা হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটির কোনো গুরুতর পরিণতি হয় না। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর ত্বক থেকে এই দাগ বা স্ফীতি নির্মূল করা সম্ভব, এবং শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

এছাড়া, এই রোগের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশুদের ত্বকের প্রতি মনোযোগী থাকা parents এবং caregivers এর দায়িত্ব। ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকে না।

Preview image