প্রথম টেস্টে ২৫ ওভারে মাত্র ১ উইকেট—কুলদীপ যাদবের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় নিষ্প্রভ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ভারতীয় শিবিরে তৈরি হয়েছিল সামান্য উদ্বেগ। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব বা SSC মাঠে ভারতীয় দলের অনুশীলনে দেখা যায়নি কেএল রাহুল এবং কুলদীপ যাদবকে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে দলের দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মনে প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে ভারতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা রাহুল এবং স্পিন আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কুলদীপকে অনুশীলনে না দেখে তাঁদের চোট পাওয়ার জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাহুল কিংবা কুলদীপ—কারও কোনও চোট নেই। তাঁদের অনুশীলনে না থাকার কারণ শুধুই বিশ্রাম। ফলে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে আপাতত কোনও উদ্বেগ নেই ভারতীয় শিবিরে।
গলে প্রথম টেস্টে দারুণ জয় পাওয়ার পর দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে জয় কিংবা ড্র করলেই সিরিজ নিজেদের দখলে নিতে পারবে টিম ইন্ডিয়া। এই পরিস্থিতিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ম্যানেজমেন্ট। সেই কারণেই রাহুল এবং কুলদীপকে অনুশীলন থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কলম্বোর SSC মাঠে ভারতীয় দলের অনুশীলন ছিল। দ্বিতীয় টেস্টের আগে এই অনুশীলনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ছিল বাড়তি আগ্রহ। কিন্তু সেখানে কেএল রাহুল ও কুলদীপ যাদবকে দেখা না যাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে চোটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষ করে রাহুলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ প্রথম টেস্টে তাঁর ব্যাটিং ভারতকে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিয়েছিল। অন্যদিকে কুলদীপ ভারতীয় দলের স্পিন আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যদিও প্রথম টেস্টে তাঁর পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো হয়নি, তবুও দলের পরিকল্পনায় তিনি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দু'জনকে অনুশীলনে না দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো কোনও শারীরিক সমস্যা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।
ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে জানিয়েছেন, রাহুল এবং কুলদীপ দু'জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ। তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ কুলদীপ ও কেএল রাহুল বিশ্রামে রয়েছে। তাঁদের চোট নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই।”
এই বক্তব্যের পরই দুই ক্রিকেটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্টের আগে রাহুল এবং কুলদীপকে নিয়ে কোনও চোটজনিত সমস্যা নেই বলেই স্পষ্ট।
টেস্ট সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ক্রিকেটারদের workload management এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ টেস্ট ম্যাচের পর পরবর্তী ম্যাচের আগে কোনও কোনও ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়ে থাকে। রাহুল ও কুলদীপের ক্ষেত্রেও সেই পরিকল্পনাই করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম টেস্টে ভারত ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ফলে সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে দলের মূল ক্রিকেটারদের সতেজ রাখাই ম্যানেজমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
গলে প্রথম টেস্টে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্যাটিং, বোলিং এবং সামগ্রিক দলগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত বেশ দাপট দেখিয়েছে। সেই ম্যাচে কেএল রাহুলও দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে রাহুলের উপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে বাড়তি স্থিরতা এনে দেয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তুলেছে।
তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাঁর অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছিল। তবে চোট না থাকার খবর ভারতীয় দলের জন্য বড় স্বস্তির। অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে রাহুলকে দেখা যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন মূলত টিম কম্বিনেশন এবং পিচের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
প্রথম টেস্টে কুলদীপ যাদবের পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না। তিনি ২৫ ওভার বল করে মাত্র একটি উইকেট পান। পাশাপাশি কিছুটা বেশি রানও খরচ করেন। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর জায়গা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে কুলদীপের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। বরং তিনি জানিয়েছেন, কুলদীপ ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং গলের ম্যাচে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের বোলিংয়ে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন।
বাহুতুলের বক্তব্য অনুযায়ী, গলের পরিস্থিতিতে কুলদীপের ভূমিকা কিছুটা আলাদা ছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বলের গতি এবং ফ্লাইটে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
কোচের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শুধু উইকেট সংখ্যার ভিত্তিতে কুলদীপের পারফরম্যান্স বিচার করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। টেস্ট ক্রিকেটে একজন স্পিনারের ভূমিকা সবসময় শুধু উইকেট নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনও রান আটকে রাখা, কখনও ব্যাটারকে চাপে রাখা এবং কখনও নির্দিষ্ট প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সেই দিক থেকে কুলদীপ এখনও ভারতীয় দলের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাহুতুলে।
প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পরেও দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের প্রথম একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পিচের চরিত্রের উপর নির্ভর করে স্পিন বিভাগে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সারাংশ জৈনের নামও সামনে এসেছে। দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর টেস্ট অভিষেক হতে পারে কি না, তা নিয়েও ক্রিকেটমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। সাইরাজ বাহুতুলে জানিয়েছেন, পিচ দেখার পরেই প্রথম একাদশ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “পিচ দেখার পরই আমরা প্রথম একাদশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। সারাংশ জৈনকে নিয়ে তখনই আলোচনা হবে। সব কিছুই পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।”
অর্থাৎ সারাংশ জৈনের অভিষেক এখনই নিশ্চিত নয়। কলম্বোর SSC মাঠের উইকেট ম্যাচের আগে কী রকম আচরণ করছে, সেটাই দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিন বোলিং বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দ্বিতীয় টেস্টে ভারত কতজন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
কুলদীপ যাদবের পাশাপাশি ভারতীয় দলে অন্য স্পিন বিকল্পও রয়েছে। ফলে পিচ যদি বেশি স্পিন সহায়ক হয়, তাহলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট একাধিক স্পিনার খেলানোর কথা ভাবতে পারে। আবার উইকেটের চরিত্র যদি ব্যাটিং কিংবা পেস বোলিংয়ের পক্ষে থাকে, তাহলে দল নির্বাচনেও অন্যরকম পরিকল্পনা দেখা যেতে পারে।
এই কারণেই বাহুতুলের বক্তব্য অনুযায়ী, পিচ না দেখে প্রথম একাদশ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।
গলে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানের জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। দুই ম্যাচের সিরিজে এখন ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেলে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেবে ভারত।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সামনে সিরিজ বাঁচানোর শেষ সুযোগ। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে দুই দলের কাছ থেকেই বড় লড়াই আশা করা হচ্ছে।
ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হল দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ফিট থাকা। রাহুল এবং কুলদীপের চোট নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত দূর হয়েছে। বিশ্রামের পর তাঁরা ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে দ্বিতীয় টেস্টে ভারতীয় একাদশের দিকে। রাহুল কি ফের প্রথম একাদশে থাকবেন? কুলদীপ কি আরও একটি সুযোগ পাবেন? নাকি পিচের চরিত্র দেখে নতুন কোনও কম্বিনেশন বেছে নেবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট? একই সঙ্গে সারাংশ জৈনের টেস্ট অভিষেক হয় কি না, সেটিও হবে নজর রাখার মতো বিষয়।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের আগে রাহুল ও কুলদীপকে অনুশীলনে না দেখা গেলেও ভারতীয় সমর্থকদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর—চোট নয়, বিশ্রামের কারণেই বৃহস্পতিবার অনুশীলনে ছিলেন না দুই ক্রিকেটার।