Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ১৫ বছর পূর্ণ, ল্যারি ইঁদুর ধরায় অবিচল

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের জনপ্রিয় বিঘি ল্যারি ইঁদুর ধরার কাজ করে ১৫ বছর পূর্ণ করেছে। ব্রিটেনে পাঁচ বার প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও, ল্যারি তার কাজের প্রতি অবিচল থেকে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ১৫ বছর পূর্ণ, ল্যারি ইঁদুর ধরায় অবিচল
International News

ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়ি, যা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অফিসের ঠিকানা, সেখানে এক অদ্ভুত ও অনন্য প্রার্থী রয়েছেল্যারি, যিনি ১৫ বছর ধরে ইঁদুর ধরার কাজ করছেন। ল্যারি একসময় ছিল একটি সাধারণ পোষা বিঘি, তবে তার কাজের দক্ষতা এবং অদ্ভুত জনপ্রিয়তার কারণে তিনি ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি চিরন্তন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। ব্রিটেনের পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী বদলালেও, ল্যারি তার কাজে অবিচল, এবং তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারের কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাঁর ১৫ বছরের সাফল্যময় কর্মজীবন শুধুমাত্র একটি মজার গল্প নয়, বরং এটি ব্রিটেনের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশে বিশেষ একটি স্থান দখল করেছে।

 ল্যারি কীভাবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেন?

ল্যারি ছিল একটি সাধারণ পোষা বিঘি, কিন্তু তাকে ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বরে আনা হয়েছিল ২০১১ সালে। তখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাকে একটি চাকরি প্রদান করেন। উদ্দেশ্য ছিল, তার কাজ হবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা এবং পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখা। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তার জন্য একটি নতুন দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু তার জন্য এই কাজটি ছিল কিছুটা অবিচ্ছিন্ন। এরপরে, ল্যারি তার দায়িত্বে এমন দক্ষতা প্রদর্শন করেন যে, তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের প্রিয় সদস্যে পরিণত হন।

 ১৫ বছরের অদ্ভুত কর্মজীবন

ল্যারি তার প্রথম দিন থেকেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কাজে নিযুক্ত হন এবং শুরু থেকেই তার কার্যক্ষমতা বেশ প্রশংসিত হয়। তাকে প্রধানত ইঁদুর ধরার কাজে নিযুক্ত করা হলেও, সে সময় তাঁর একাধিক কাজে প্রবল দক্ষতা দেখা যায়। ল্যারি মাঝে মাঝে তার কাজের বাইরে গিয়ে, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চারপাশে তার অঞ্চল গড়ে তোলে এবং একেকটি সস্তা, কিউট মূহুর্ত তৈরি করতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, তার উপস্থিতি এবং আচরণ এমন ছিল যে, তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের অফিশিয়াল মুখ হয়ে ওঠেন। তবে, তার প্রধান কাজ ছিল ইঁদুর ধরার মাধ্যমে সেখানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা।

 প্রধানমন্ত্রীর বদল এবং ল্যারি

ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীদের বদল ১৫ বছরে একাধিকবার হয়েছে, তবে ল্যারি তার কাজের জন্য কখনোই অবিচল ছিলেন না। ২০১১ সালে ডেভিড ক্যামেরন, ২০১৬ সালে থেরেসা মে, এবং ২০১৯ সালে বরিস জনসন সহ একাধিক প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও ল্যারি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে অবিচল থেকে কাজ করেছেন। এমনকি তাঁর নামকে পত্রপত্রিকায় এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ল্যারি প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করেও রাজনৈতিক অবস্থা থেকে অনেক দূরে ছিল, কিন্তু তার কাজ এবং উক্তি ব্রিটেনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলেছিল।

 ল্যারি এবং তার অদ্ভুত জনপ্রিয়তা

ল্যারি ইঁদুর ধরায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিল, তবে তার কাছে যে আরো কিছু গুণ ছিল তা নিয়ে সবার মধ্যে আগ্রহ বেড়ে যায়। তার উপস্থাপনা, কার্যকলাপ এবং আচার-ব্যবহার তাকে রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু সময়ের জন্য একটি আইকন বানিয়ে ফেলেছিল। একদিকে, তিনি কাজের জন্য যে তার দায়িত্ববোধ দেখিয়েছিলেন, অন্যদিকে তার মিষ্টি মনোভাব এবং তার বুদ্ধিমত্তা তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তোলে। তার জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামাজিক মিডিয়া এবং জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী তাকে চেনে।

 ল্যারি এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ঘটনা

ল্যারি তার কর্মজীবনে অনেক ঘটনা সৃষ্টি করেছে। কখনো কখনো, তার উপস্থিতি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে অন্যধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালে, ল্যারি শ্রীলঙ্কান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে যোগ দেন, যা ব্রিটেনের মিডিয়াতে অনেক আলোচিত ছিল। এছাড়া, ল্যারি কখনো কখনো রাস্তায় বেড়াতে বেরিয়ে আসত, যা সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যেত।

একটা সময় এমন ছিল, যখন ল্যারি রাজনৈতিক আলাপচারিতার মাঝে প্রবেশ করেছিল। তার উপস্থিতি এবং সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া সবসময় একটি আলোচনার বিষয় ছিল।

 ল্যারি এবং ব্রিটেনের পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ

ল্যারি একদিকে যেমন তার নিজস্ব কাজ এবং দায়িত্বে ছিলেন, অন্যদিকে তার উপস্থিতি কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে ল্যারি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ছিল, এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বহুবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ঐতিহ্য, যেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি বসে থাকেন, সেখানে ল্যারি একধরনের নতুন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তার কর্মজীবন শুধুমাত্র একটি চাকরির গল্প ছিল না, বরং তা ব্রিটেনের জনগণের কাছে একটি প্রিয় এবং পরিচিত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

news image
আরও খবর

 ল্যারি এবং তার ভবিষ্যৎ

ল্যারি এখন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কাজ করছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে তাকে কীভাবে দেখা হবে তার কাজ এবং জনপ্রিয়তা দিয়ে, তিনি যে কোনো সময় বিদায় নিতে পারেন, কিন্তু তিনি যে কাজটা করেছেন তা অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্রিটেনের মানুষের কাছে তার নাম একটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।

২০১১ সালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের পর থেকেই ল্যারি ব্রিটেনের জনগণের প্রিয় এক চরিত্রে পরিণত হয়েছে। শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত একটি বিঘি, ল্যারি, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এককভাবে একটি দায়িত্ব পালন করে আসছে, আর তা হলো ইঁদুর ধরা। ১৫ বছর ধরে অবিচলভাবে এই কাজ করে যাচ্ছে ল্যারি, যে কাজটি কখনোই সাধারণ ছিল না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে পাঁচ বার, কিন্তু ল্যারি তার দায়িত্বে অবিচল থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে তার দায়িত্ব পালন করে এসেছে। ব্রিটেনের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বদল হলেও ল্যারি তার নিজস্ব দ্যুতি ছড়িয়েছে এবং একটি দেশব্যাপী আইকন হয়ে উঠেছে। তার উপস্থিতি যেন এক ধরনের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সঙ্গেই সম্পর্কিত হয়ে গেছে। আজকের দিনেও ল্যারি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কাজ করছে, এবং সে শুধু একটি বিঘি নয়, বরং ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে

ল্যারি প্রথম ২০১১ সালে ডাউনিং স্ট্রিটে আসেন। ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাকে আনা শুরু করেন। মূলত, তার দায়িত্ব ছিল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ইঁদুর ধরার কাজ করা এবং এই কাজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং বাসভবন পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখা। অন্যান্য বিঘির তুলনায় ল্যারি একটু বেশি স্মার্ট এবং সক্রিয়, এবং তার প্রাকৃতিক শিকারী ক্ষমতা তাকে এই কাজের জন্য আদর্শ করে তুলেছিল।

তবে, ল্যারি শুধুমাত্র একটি বিঘি ছিল না তার কাজের ক্ষেত্র ছিল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট, এবং সেখানে রাজনৈতিক শক্তি ও অবস্থা বদল হলেও তার গুরুত্ব কমেনি। ল্যারি তার কাজের প্রতি যত্নবান এবং নিবেদিত ছিল, এবং এটি ব্রিটেনের সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের প্রবেশপথে সবার আগে দেখা যেত ল্যারি, যিনি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন।

ল্যারি যখন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। তার পর থেকে থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, এবং এখন রিশি সুনাক, ব্রিটেনে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও ল্যারি তার দায়িত্বে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনেনি। তিনি কখনো কোনো সরকারের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করেননি এবং তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা বজায় রেখেছেন। তাঁর এমন অবিচল কাজের কারণে, ল্যারি ব্রিটেনের জনগণের জন্য এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীরা যখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেত, তখন ল্যারি তার নিজস্ব পথে অবিচল ছিল। শ্রীলঙ্কা থেকে ব্রিটেনে আসা এক বিঘি, যাকে ডাউনিং স্ট্রিটে আনা হয়েছিল শুধুমাত্র ইঁদুর ধরার কাজের জন্য, আজ সেই ল্যারি একটি জাতীয় চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 ল্যারি এবং তার জনপ্রিয়তা

ল্যারি যতটা জনপ্রিয়, ততটাই অদ্ভুত। প্রথমে তাকে ইঁদুর ধরার কাজে আনা হলেও, তিনি দ্রুত ব্রিটেনের জনগণের কাছে একটি সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত হন। তার পোষাক, তার আচরণ, এমনকি তার খেলার সময়ও সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটেনের রাজনীতি বা প্রধানমন্ত্রীদের কোনো আলোচনা না হলেও, ল্যারি যে কেবল ইঁদুরই ধরছে না, বরং একটি অস্থির রাজনীতির মাঝে মানুষের হৃদয় জয় করেছে, তা সত্যিই এক অদ্ভুত ঘটনা। ব্রিটেনের মানুষ ল্যারি সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করতে শুরু করেছিল যে, তার কর্মজীবন আর সাধারণ কোনো বিষয় হয়ে উঠেছিল না।

ল্যারি বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও প্রশংসা লাভ করেছে। তার ছোট ছোট ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেসব ভিডিওতে তাকে ইঁদুর ধরতে দেখা যায় অথবা সোজা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বিখ্যাত প্রাঙ্গণে বসে থাকতে। এই ছবিগুলো ব্রিটেনের জনগণের মাঝে হাস্যরস ও আনন্দ সৃষ্টি করেছে এবং তার মধ্যে এক ধরনের সংযোগ স্থাপন করেছে।

Preview image