Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ধুরন্ধর চরিত্রের নেশায় মুগ্ধ অক্ষয় খন্না ১৬৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি ও তার পরিশীলিত জীবনের অন্তরালে”ধুরন্ধর চরিত্রের নেশায় মুগ্ধ অক্ষয় খন্না ১৬৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি ও তার পরিশীলিত জীবনের অন্তরালে

সিনেমার পর্দায় ধুরন্ধর, পরিশীলিত ও রহস্যময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন অক্ষয় খন্না। তাঁর অভিনয়ের গভীরতা, সংযমী অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্বে অসাধারণ দখল তাঁকে বলিউডে এক আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সম্প্রতি তাঁর ‘ধুরন্ধর’-এর মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চরিত্রে ডুবে থাকার অভ্যাস এবং অভিনয়ের প্রতি অদম্য নিষ্ঠা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। কিন্তু আলোচনার ঝড় শুধু অভিনয়েই নয়সঙ্গী হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিলাসময় অধ্যায়ও। মুম্বইয়ের প্রিমিয়াম এলাকায় অবস্থিত অক্ষয় খন্নার ১৬৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর রুচি, পরিশীলন এবং গোপনীয় জীবনযাপনের একটি অনন্য প্রতিফলন। আলো-ছায়ার খেলা, মিনিমালিস্ট ইন্টেরিয়র, আর্টওয়ার্কে ভরপুর দেয়াল এবং আধুনিক স্থাপত্যের অনবদ্য সমন্বয় এই বাড়িকে শুধু একটা থাকার জায়গা নয়বরং অক্ষয়ের ব্যক্তিত্বের সম্প্রসারণ হিসেবে তুলে ধরে। অভিনয়ের বাইরে তিনি সাধারণত প্রচারের আলো এড়িয়ে চলেন, শান্ত ও ব্যক্তিগত একটি জগতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন। এই বাসভবন সেই নির্জন জগতেরই প্রতিচ্ছবি। অক্ষয়ের বাড়ির প্রতিটি কোণেই যেন ফুটে ওঠে তাঁর পরিশীলিত রুচি বিশাল লিভিং স্পেস, কাচে মোড়ানো উন্মুক্ততা, সবুজের স্পর্শে ঘেরা আউটডোর লাউঞ্জ, আর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট হোম সেটআপ। তাঁর সিনেমার চরিত্রের মতোই এই বাড়িও সরলতার আড়ালে লুকিয়ে রাখে রহস্যময় রাজকীয়তা। কাজের ফাঁকে অক্ষয় নাকি বেশিরভাগ সময় কাটান পাঠাগার-সদৃশ তাঁর স্টাডির ঘরে, যেখানে রয়েছে বিরল বই, সিনেমার স্ক্রিপ্ট এবং শিল্পকর্মের সংগ্রহ।

বলিউডের গ্ল্যামারের ভিড়ে যেখানে প্রতিটি অভিনেতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চায়, সেখানে অক্ষয় খন্না যেন সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের একজন। তাঁর সংযমী উপস্থিতি, চাপাহীন ব্যক্তিত্ব এবং গভীর অভিনয়শৈলী তাঁকে অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা করে রাখে। অক্ষয়ের জীবন যেন এমন এক পরিশীলিত নীরবতা, যা প্রচারের আলোয় নয়, বরং নিজস্ব গম্ভীর ছন্দে বয়ে চলে। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যেও সেই নীরব গভীরতা বারবার ফুটে ওঠে। বিশেষ করে ধুরন্ধধর্মী চরিত্র, যেখানে বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, কৌতূহল এবং রহস্যময় আচরণ মিলেমিশে তৈরি হয় এক বিশেষ ধরনের আকর্ষণ অক্ষয় যেন নিজেই সেই চরিত্রে বসবাস করেন। বাস্তব জীবনে তাঁর শৌখিনতা, রুচি, এবং সৃজনশীলতার যে নিরবচ্ছিন্ন ধারা, তা খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর বিলাসবহুল বাড়ির প্রতিটি কোণায়। অক্ষয় খন্নার এই বাসভবন শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং তাঁর অন্তর্গত আবেগের পরিমিত প্রকাশ, এক ব্যক্তিগত রাজপ্রাসাদ যেখানে তিনি নিজেকে খুঁজে পান এবং নতুন চরিত্রের ভুবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন।

মুম্বইয়ের প্রিমিয়াম অঞ্চলের ব্যস্ত শহুরে জীবনের সরবতা থেকে খানিকটা দূরে, তবু সুবিধা ও আধুনিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বাড়িটি যেন এক রহস্যময় দুর্গের মতো। বাইরের দুনিয়ার চোখে এটি বিলাসিতা ও আধুনিকতার প্রতীক, কিন্তু অক্ষয়ের কাছে এটি মানসিক প্রশান্তির এক নিরবচ্ছিন্ন আবাসস্থল। এই বাড়ির স্থাপত্যশৈলী মিনিমালিজম ও ক্ল্যাসিক ইন্ডিয়ান কনটেম্পোরারির মিশ্রণ। বিশাল কাচের দেয়াল, স্নিগ্ধ রং, প্রকৃতির আলোয় উজ্জ্বলতা, ছায়ার আড়ালে বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা সব মিলিয়ে এই বাড়ি যেন এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিটি কোণেই চিন্তার জায়গা তৈরি হয়। অক্ষয় যেমন তাঁর চরিত্রগুলোর খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসেন, তেমনি বাড়ির প্রতিটি অংশেও রয়েছে তাঁর চিন্তা-ভাবনার ছাপ। তিনি যে ব্যক্তিত্বে পরিমিতিবোধ, সংযম, নীরবতা এবং বুদ্ধির মূল্য অপরিসীম, তার প্রতিফলন যেমন ব্যক্তিত্বে দেখা যায়, তেমনি বাড়ির ইন্টেরিয়রেও।

লিভিং রুমে প্রবেশ করলেই যেন চোখে পড়ে এক নতুন জগত। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত কাচের দেওয়াল দিয়ে দিনের আলো ভিতরে এসে পড়ে, আর সন্ধ্যার পরে শহরের আলোয় বাড়ির ভেতরকার নরম আলোকসজ্জা এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। বড় মাপের আর্ট ইনস্টলেশন, ক্ল্যাসিক পেইন্টিং, সযত্নে বাছাই করা আসবাব, আর প্রকৃত কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট শেলফ সব কিছু এতটাই সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো যে মনে হয় কোনও বড় শিল্পীর গ্যালারিতে প্রবেশ করা হয়েছে। প্রচারের আলো থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখেন বলেই হয়তো বাড়ির সাজসজ্জায় চোখে পড়ে না অতিরিক্ত চাকচিক্য বা অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর। তাঁর রুচিবোধ স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয়, যা অস্ফুটে পরিশীলনের গল্প বলে।

এই বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ হলো বিশাল লাইব্রেরি বা স্টাডি রুম। এখানে অক্ষয় নাকি বেশিরভাগ সময় কাটান যখন তিনি নতুন কোনও চরিত্রের প্রস্তুতি নেন। শেলফভর্তি বইমনস্তত্ত্ব, ইতিহাস, পুরাণ, আধুনিক নাট্যশাস্ত্র, ফিল্ম থিওরি, ক্লাসিক সাহিত্যসব ধরনের বইয়েরই এক অসাধারণ সংগ্রহ রয়েছে। প্রতিটি বই তাঁর বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের সাক্ষী। অনেক বইয়ের পাতায় নিজ হাতে লেখা নোট, আন্ডারলাইন, মন্তব্য দেখা যায় যা থেকে বোঝা যায় অভিনয়ের জগতে তাঁর নিমগ্নতা কতটা গভীর। শুধু পড়াশোনা নয়, এখানে রয়েছে একটি ছোট্ট লেখার টেবিল, আধুনিক বাদ্যযন্ত্র, আর্ট স্কেচিং বুক সব মিলিয়ে এটি এমন একটি জায়গা যেখানে অক্ষয় নিজের সৃজনশীলতার একান্ত সঙ্গী হয়ে ওঠেন।

বাড়ির আরেক কোণে অবস্থিত শান্ত, সবুজে ঘেরা একটি আউটডোর লাউঞ্জ। এখানে তিনি দিনশেষে বসে চা বা কফি নিয়ে নিশ্চুপভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। উচ্চ জনমানসে প্রচারের ঝলকানি থেকে দূরে তাঁর এই অভ্যাস অনেককে অবাক করে। ব্যস্ত শহরের মধ্যে এমন একটি শান্তির পরিবেশ তৈরি করা সহজ নয়, কিন্তু অক্ষয়ের বাড়িটি যেন প্রতিটি স্তরে সেই শান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। এখানে বাতাসের শব্দ, পাতার দোল, দূরের ট্রাফিকের অস্পষ্ট আওয়াজ সব মিলিয়ে তৈরি হয় মনকে শিথিল করা এক স্বর্গীয় পরিবেশ। এই নির্জনতাই অক্ষয়কে নতুন চরিত্রে ডুবে যাওয়ার শক্তি দেয়, আবার তাঁকে বাস্তবতার মাটিতেও ধরে রাখে।

অভিনেতা হিসেবে অক্ষয় খন্না সব সময়ই চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে ভালোবাসেন। কোনও চরিত্রের মনস্তত্ত্বকে বোঝার জন্য তিনি নিজের মতো করে সময় নেন। তাঁর বাড়ির নিরবচ্ছিন্ন নীরবতা ও অসাধারণ পরিবেশ সেই চর্চাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে। তিনি যেন তাঁর বাড়িকে শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়, বরং শিল্পীর ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করেন। এখানে তিনি মানুষের আচরণ, চরিত্রের দ্বন্দ্ব ও আবেগের বিভিন্ন স্তর নিয়ে চিন্তা করেন। তাঁর অভিনীত ধুরন্ধরদের মতো চরিত্রগুলোও যেন জন্ম নেয় এই নিরিবিলি পরিবেশেই।

news image
আরও খবর

এই বিশাল বাড়ির আরও একটি সৌন্দর্য হলো এর আধুনিক স্থাপত্য। কাচ ও কাঠের দারুণ সমন্বয়, বেডরুমের প্রশস্ততা, নরম আলো, স্মার্ট হোম সিস্টেমের সুবিধা সব মিলিয়ে এটি অনেকটা আধুনিক রাজপ্রাসাদের মতো। কিন্তু রাজকীয়তা থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে নেই কোনও অতি উজ্জ্বলতা; বরং এর সরলতাই বাড়ির আসল সৌন্দর্য। অক্ষয় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত খুবই ব্যক্তিগত। খুব কম মানুষ জানেন তাঁর দিনযাপনের একান্ত দিক, আর সেই গোপনীয়তার পরিসর বাড়ির পরিবেশেও ঠিক একইভাবে মিশে আছে। কোনও অতিথি এখানে এলে তিনি কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং অক্ষয়ের জীবনের গভীরতা বোঝেন, বুঝতে পারেন তিনি কতটা পরিমিতবোধসম্পন্ন, সংযমী ও অন্তর্মুখী।

বাড়িটির রান্নাঘর ও ডাইনিং স্পেসও অসাধারণ রুচির প্রতিফলন। তিনি বাহিরে খাওয়ার চাইতে ঘরোয়া পরিবেশে খাবার পছন্দ করেন। কখনও কখনও তিনি নিজেই রান্না করেন, বিশেষ করে সিম্পল হেলদি খাবার। তাঁর বাড়ির কর্মীরা জানান, অক্ষয় নিয়মিতভাবে নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করেন এবং বাড়ির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায়ও শান্ত, পরিমিত এক ধারা বজায় রাখেন। অতিথিদের আপ্যায়নেও একই ধরনের উষ্ণতা দেখা যায়; শোরগোল নয়, বরং নিস্তব্ধতা ও আন্তরিকতার প্রতি তাঁর আলাদা টান।

বাড়ির ভেতরে একটি ছোট জিম ও যোগব্যায়ামের জায়গাও রয়েছে। তাঁর লাইফস্টাইলের অন্যতম অংশ হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা। অক্ষয় বিশ্বাস করেন সত্যিকারের শক্তি আসে মনের শান্তি থেকে, আর সেই কারণে তাঁর বাড়ির পরিবেশে রয়েছে ধ্যান, শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং বিশ্রামের বিশেষ জায়গা। তাঁর ব্যায়ামের রুটিন খুবই ব্যক্তিগত, শোরগোলহীন, এবং একান্ততার ওপর নির্ভরশীল।
 অক্ষয়ের বাড়ির প্রতিটি কোণেই যেন ফুটে ওঠে তাঁর পরিশীলিত রুচি বিশাল লিভিং স্পেস, কাচে মোড়ানো উন্মুক্ততা, সবুজের স্পর্শে ঘেরা আউটডোর লাউঞ্জ, আর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট হোম সেটআপ। তাঁর সিনেমার চরিত্রের মতোই এই বাড়িও সরলতার আড়ালে লুকিয়ে রাখে রহস্যময় রাজকীয়তা। কাজের ফাঁকে অক্ষয় নাকি বেশিরভাগ সময় কাটান পাঠাগারসদৃশ তাঁর স্টাডির ঘরে, যেখানে রয়েছে বিরল বই, সিনেমার স্ক্রিপ্ট এবং শিল্পকর্মের সংগ্রহ।

বাড়ির শেষ অংশে রয়েছে একটি বিশেষ কক্ষ, যাকে তিনি মিউজিক রুম বলে ডাকেন। এখানে ছড়িয়ে আছে পুরনো ভিনাইল রেকর্ড, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, গিটার এবং কয়েকটি বিরল বাদ্যযন্ত্র। কাজের ক্লান্তি কাটাতে বা নতুন কোনও চরিত্রের আবেগ উপলব্ধি করতে তিনি এই ঘরে গিয়ে সঙ্গীতে হারিয়ে যান। অক্ষয়ের মতে, সংগীত শিল্পীর ভেতরের স্তরগুলো খুলে দেয়। এই মিউজিক রুমও তাঁর সৃজনশীলতার অন্যতম উৎস।

সব মিলিয়ে অক্ষয় খন্নার বিলাসবহুল বাড়ি শুধু একটি থাকার জায়গা নয় এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁর মনের পরিশীলন ও নীরবতার প্রতিচ্ছবি। বাড়িটি তাঁর কল্পনা, তাঁর নিভৃতচর্চা, তাঁর চিন্তার রাস্তাগুলোকে আলোকিত করে। তাঁর অভিনয় যেমন সংযমী, গভীর এবং তীক্ষ্ণ, ঠিক তেমনই তাঁর বাড়িও পরিমিত পরিশীলনের মহিমায় ভরপুর। প্রচারের বাইরে, বলিউডের কোলাহলের বাইরে, অক্ষয় তাঁর জীবনের সেই নির্জন রাজ্যে নিজেকে খুঁজে পান, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় তাঁর অভিনয়ের অনন্য জগৎধুরন্ধরের মতো বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র থেকে শুরু করে অন্তর্মুখী মানুষটির নিজস্ব ছায়া।

Preview image