Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বাজারে আনল আন্তর্জাতিক টেক সংস্থা, বদলাতে পারে কাজের ধরণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নতুন সংস্করণ বাজারে আনল একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অফিসের কাজ, কনটেন্ট তৈরি, ডেটা বিশ্লেষণ ও গ্রাহক পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দুনিয়ায় আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা সম্প্রতি তাদের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বাজারে এনেছে, যা কাজের ধরণ, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্রুতগতিতে উন্নত হয়েছে। প্রথমদিকে যেখানে AI শুধুমাত্র ডেটা বিশ্লেষণ বা স্বয়ংক্রিয় কিছু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে বর্তমানে এই প্রযুক্তি লেখালেখি, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, গ্রাহক পরিষেবা এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নতুন এই AI প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্নত শেখার ক্ষমতা। এটি খুব দ্রুত ব্যবহারকারীর কাজের ধরন বুঝে নিতে পারে এবং সেই অনুযায়ী পরামর্শ বা আউটপুট দিতে সক্ষম। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি অফিসের একঘেয়ে ও সময়সাপেক্ষ কাজ অনেকটাই সহজ করে দেবে।

বিশেষ করে কর্পোরেট সেক্টরে এই নতুন AI প্রযুক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। রিপোর্ট তৈরি, ইমেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন বানানো, ডেটা অ্যানালাইসিস—এই সব কাজ এখন অনেক কম সময়ে এবং বেশি নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে। এর ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েশন ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সংবাদ লেখা, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরি, স্ক্রিপ্ট রাইটিং কিংবা মার্কেটিং কনটেন্ট—সব ক্ষেত্রেই AI এখন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবিক চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক হিসেবেই এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা উচিত।

গ্রাহক পরিষেবার ক্ষেত্রেও নতুন AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সংস্থাগুলির খরচ কমছে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিও বাড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেকের আশঙ্কা, AI ব্যবহারের ফলে কিছু পেশায় চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কাজ অটোমেটেড হলেও নতুন ধরনের চাকরির সুযোগও তৈরি হবে, যেখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই প্রযুক্তির প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইটি সেক্টর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে AI বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক স্টার্টআপ ইতিমধ্যেই AI-ভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন AI প্রযুক্তি ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের শেখার গতি ও দক্ষতা অনুযায়ী পাঠ্যসূচি তৈরি করা সম্ভব হবে। অনলাইন শিক্ষার মানও এর মাধ্যমে আরও উন্নত হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। রোগ নির্ণয়, মেডিক্যাল রিপোর্ট বিশ্লেষণ এবং রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় AI বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলতে পারে।

তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। তাই AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মকানুন ও নীতিমালা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

নতুন এই AI প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। স্মার্টফোন, স্মার্ট হোম ডিভাইস, অনলাইন সার্ভিস—সব জায়গাতেই AI-এর উপস্থিতি বাড়ছে। এর ফলে জীবন আরও সহজ হলেও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলেও মত অনেকের।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে কাজের ধরণে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই পরিবর্তন কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর। মানবিক বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির এই অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে নীতি নির্ধারকদের ভূমিকাও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই AI ব্যবহারের জন্য আলাদা আইন ও নীতিমালা তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই নিয়মকানুন প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

news image
আরও খবর

বিশেষ করে ডেটা সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। AI প্রযুক্তি মূলত বিপুল পরিমাণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। এই তথ্য যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে। তাই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পাশাপাশি সরকারকেও কঠোর নজরদারি রাখতে হবে বলে মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের।

কর্মক্ষেত্রে AI ব্যবহারের ফলে কাজের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসছে। আগে যেখানে একটি কাজ করতে একাধিক কর্মীর প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন AI সহায়তায় অনেক কাজ এক বা দুই জনেই সামলাতে পারছেন। এর ফলে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর বাড়ছে। নতুন যুগে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সমন্বয় জরুরি হয়ে উঠছে।

ভারতের আইটি সেক্টরে এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। বহু সংস্থা ইতিমধ্যেই কর্মীদের AI প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স—এই ক্ষেত্রগুলিতে AI দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে AI-সম্পর্কিত চাকরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমেও AI প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় ছোট সংস্থাগুলিও এখন বড় বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও ফিনটেক—প্রায় সব ক্ষেত্রেই AI-ভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে উঠছে।

কৃষি ক্ষেত্রে AI ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সেচ ব্যবস্থাপনা—এই সব ক্ষেত্রে AI কৃষকদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের মতো কৃষিনির্ভর দেশে এই প্রযুক্তি কৃষকদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে AI প্রযুক্তির প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ভার্চুয়াল টিউটর—এই সবই শিক্ষার মান উন্নত করতে সাহায্য করছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকের মানবিক ভূমিকার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক হিসেবে AI ব্যবহার করা উচিত।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় AI প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রোগ নির্ণয়ে ভুল কমানো, দ্রুত রিপোর্ট বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরিতে AI চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক প্রশ্নও উঠে আসছে। AI দ্বারা তৈরি তথ্য বা সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভরযোগ্য, সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভুল তথ্য ছড়ানো বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমাতে মানবিক নজরদারি অপরিহার্য বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও AI প্রযুক্তির প্রভাব বাড়ছে। স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট, অনলাইন শপিংয়ের সুপারিশ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই AI ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে জীবন যেমন সহজ হচ্ছে, তেমনই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে।

অনেক সমাজবিজ্ঞানীর মতে, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমাজকে মানসিকভাবেও প্রস্তুত হতে হবে। প্রযুক্তি মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে—এই ভয় দূর করতে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

আন্তর্জাতিক স্তরে AI প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। উন্নত দেশগুলি এই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকা যায়। এই প্রতিযোগিতার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন উন্নয়নের সুযোগ এনে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, নীতিগত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি মানব সভ্যতাকে এক নতুন যুগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই যুগে সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তি ও মানবিক বুদ্ধিমত্তার সঠিক সমন্বয়ের ওপর। সঠিক পথে ব্যবহার করা গেলে AI হতে পারে উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার।

ভবিষ্যতে কাজের ধরণ, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক কাঠামো—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির প্রভাব আরও গভীর হবে। তাই এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের মানসিকতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যাত্রা মানবকল্যাণের দিকে এগিয়ে যাক—এই প্রত্যাশাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Preview image