Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্টেশনে রেলযাত্রীদের টার্গেট করে নতুন প্রতারণা ইউপিআই ফাঁদে পড়ে মিলছে নকল টাকা

স্টেশনে যাত্রীর সঙ্গে আলাপ জমিয়ে প্রতারকরা বলছে নিকট আত্মীয় অসুস্থ বা জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে তৎক্ষণাৎ টাকা পাঠাতে হবে। বিশ্বাস অর্জন করে ইউপিআই ট্রান্সফারের ফাঁদে ফেলে রেলযাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে দিচ্ছে নকল নোট, যার ফলে বাড়ছে প্রতারণার ঘটনা ও পুলিশের উদ্বেগ।

রেলস্টেশনে ইউপিআই ফাঁদ! নকল টাকার বান্ডিল দেখিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটছে প্রতারক চক্র, আতঙ্কে রেল পুলিশ

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা:
রেলস্টেশন—যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড়, যাত্রার ব্যস্ততা, তাড়াহুড়ো আর অচেনা মানুষের আনাগোনা। এই ভিড়কেই পুঁজি করে নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতছে জালিয়াত চক্র। ইউপিআই প্রযুক্তির সুবিধাকে হাতিয়ার করে তারা এখন রেলযাত্রীদের ঠকানোর অভিনব কৌশল বের করেছে। নগদের বদলে মিলছে নকল টাকা কিংবা কাগজের বান্ডিল—আর মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা।

ঘটনার শুরুটা হয় খুব সাধারণভাবে। স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ জমায় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি। কখনও তারা নিজেদের পরিচয় দেয় সেনাবাহিনীর কর্মী হিসেবে, কখনও ভিন রাজ্য থেকে আসা সাধারণ যাত্রী হিসেবে। কথাবার্তার মাঝেই তারা টেনে আনে আবেগঘন গল্প—বাড়িতে কেউ অসুস্থ, হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো জরুরি, অথবা সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তাৎক্ষণিক অর্থ দরকার।

এরপর আসে আসল নাটক। প্রতারক জানায়, তার মোবাইলে ইউপিআই সুবিধা নেই। ফলে অনলাইনে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য পরিচিত যাত্রীর কাছে অনুরোধ জানায়—যদি তিনি তাঁর ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা পাঠিয়ে দেন, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নগদে টাকা ফিরিয়ে দেবেন। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ব্যাগ খুলে দেখানো হয় মোটা অঙ্কের টাকার বান্ডিল।

অনেক যাত্রীই এই দৃশ্য দেখে বিশ্বাস করে ফেলেন। মানবিকতার বশে কিংবা সাহায্য করার মানসিকতা থেকে তারা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তখনই ঘটে ভয়ংকর প্রতারণা। প্রতারক হাতে ধরিয়ে দেয়所谓 টাকার বান্ডিল—যার ভেতরে আসলে থাকে নকল নোট বা সাধারণ কাগজের স্তূপ। আর সেই মুহূর্তেই ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন বড় রেল স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে বলে জানিয়েছে রেল পুলিশ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও এই ধরনের অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে ভিন রাজ্য থেকে আসা যাত্রী, সেনাবাহিনীর কর্মী, প্রবীণ নাগরিক এবং তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

রেল পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তারা কয়েকদিন একটি স্টেশনে সক্রিয় থাকে, তারপর অন্য স্টেশনে গিয়ে একই কৌশল প্রয়োগ করে। অধিকাংশ অভিযুক্তই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছবি ধরা পড়লেও, নির্দিষ্ট পরিচয় বা মোবাইল নম্বর না থাকায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানাচ্ছে, এই প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমাজে ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করছে। মানুষ এখন অচেনা কাউকে সাহায্য করতে ভয় পাচ্ছে। মানবিকতার জায়গাটাই ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে।

রেল পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রতারকরা মানুষের আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে। কেউ যদি হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে এবং ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করে, তাহলে যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনও অবস্থাতেই অচেনা ব্যক্তির জন্য অনলাইনে টাকা পাঠানো উচিত নয়।”

পুলিশের মতে, এই ধরনের প্রতারণা রুখতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা। যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে—
যদি কেউ নগদের বদলে অনলাইনে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করে, তাহলে সরাসরি ‘না’ বলতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেল পুলিশ বা স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে।
রেল স্টেশনে কোনও সন্দেহজনক আচরণ চোখে পড়লে তা অবহেলা না করে কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়ছে, প্রতারণার ধরনও তত আধুনিক হচ্ছে। ইউপিআইয়ের সুবিধা যেমন সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনই তা প্রতারকদের হাতেও শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

আজ রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু কয়েকজন যাত্রীর আর্থিক ক্ষতির গল্প নয়। এটি একটি বড় সামাজিক সতর্কবার্তা। যদি মানুষ সচেতন না হয়, তবে এই ধরনের প্রতারণা আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

রেল পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। বিভিন্ন স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে টহল এবং সিসিটিভি নজরদারি। পাশাপাশি যাত্রীদের সতর্ক করতে স্টেশনে ঘোষণা এবং পোস্টার লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রেলস্টেশনে ইউপিআই প্রতারণার এই নতুন কৌশল শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং ডিজিটাল যুগের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতনতা, সতর্কতা এবং দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপই পারে এই ধরনের জালিয়াতি রুখতে।

news image
আরও খবর

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়ছে, প্রতারণার ধরনও তত আধুনিক হচ্ছে। ইউপিআইয়ের সুবিধা যেমন সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনই তা প্রতারকদের হাতেও শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

আজ রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু কয়েকজন যাত্রীর আর্থিক ক্ষতির গল্প নয়। এটি একটি বড় সামাজিক সতর্কবার্তা। যদি মানুষ সচেতন না হয়, তবে এই ধরনের প্রতারণা আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

রেল পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। বিভিন্ন স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে টহল এবং সিসিটিভি নজরদারি। পাশাপাশি যাত্রীদের সতর্ক করতে স্টেশনে ঘোষণা এবং পোস্টার লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রেলস্টেশনে ইউপিআই প্রতারণার এই নতুন কৌশল শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং ডিজিটাল যুগের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতনতা, সতর্কতা এবং দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপই পারে এই ধরনের জালিয়াতি রুখতে।

ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে ভারত আজ বিশ্ব দরবারে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। নগদ লেনদেনের জায়গা ক্রমশ দখল করছে ইউপিআই, মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অপরাধের নতুন নতুন রূপ। প্রতারকরা এখন আর শুধু পকেটমারি বা সরাসরি ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে না, তারা প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে আরও সূক্ষ্ম এবং পরিকল্পিত অপরাধ ঘটাচ্ছে।

রেলস্টেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অচেনা মানুষদের সমাগম ঘটে। ভিড়, ব্যস্ততা, তাড়াহুড়ো এবং মানসিক চাপ—এই সবকিছু মিলিয়ে মানুষ অনেক সময় সতর্কতা হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। তারা জানে, এই পরিবেশে মানুষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং অচেনা ব্যক্তির কথায় সহজেই বিশ্বাস করে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, প্রতারকরা মানুষের আবেগকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অসুস্থ আত্মীয়, পরিবারের জরুরি প্রয়োজন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ—এই ধরনের বিষয় মানুষকে দ্রুত আবেগপ্রবণ করে তোলে। সেই আবেগের সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা ধীরে ধীরে বিশ্বাস তৈরি করে এবং শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

রেল পুলিশের একাধিক আধিকারিকের মতে, এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও ধাক্কা দিচ্ছে। অনেক যাত্রী প্রতারণার শিকার হওয়ার পর দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার সাহসও হারিয়ে ফেলেন। ফলে সমাজে মানবিকতার জায়গাটাও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রেল পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতারক চক্র সাধারণত একা কাজ করে না। তারা দলগতভাবে কাজ করে এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকে। কেউ যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ জমায়, কেউ নজর রাখে পরিস্থিতির ওপর, কেউ আবার টাকা লেনদেনের দায়িত্ব নেয়। প্রয়োজনে তারা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে অন্য স্টেশনে গিয়ে একই কৌশল প্রয়োগ করে।

এই ধরনের অপরাধ দমনে শুধু পুলিশের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। স্কুল, কলেজ, অফিস এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক এবং নতুন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নয় এমন মানুষদের জন্য আলাদা সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজন।

সরকারি স্তরেও এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ইউপিআই এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে।

রেলস্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। যেমন—স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সতর্কবার্তা বোর্ড বসানো, নিয়মিত সচেতনতামূলক ঘোষণা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনে যাত্রীদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউপিআই প্রতারণার এই নতুন কৌশল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। যদি আমরা সময় থাকতে সতর্ক না হই, তবে এই ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আজ রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধের গল্প নয়, বরং এটি ডিজিটাল যুগে আমাদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হলো—নিজে সতর্ক থাকা এবং অন্যকেও সতর্ক করা। কারণ সচেতনতা ছাড়া প্রযুক্তির উন্নতি কখনওই সমাজকে নিরাপদ করতে পারে না।

Preview image