যুক্তরাষ্ট্রে বৃহৎ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে Alaska Airlines তাদের সমস্ত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। FAA প্রায় এক ঘণ্টার জন্য ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এটি কোনও সাইবার আক্রমণ নয় বরং আইটি সিস্টেম ব্যর্থতার ফল। যাত্রী পরিষেবা পুনরুদ্ধারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তা করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৃহস্পতিবার ভোররাতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের কারণে Alaska Airlines-এর সমস্ত ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। দেশব্যাপী যাত্রী পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক দেখা দেয়।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ের মূল কারণ একটি আইটি সিস্টেম আউটেজ (IT Outage), যার ফলে ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী তথ্য সংক্রান্ত সমস্ত ডিজিটাল প্রক্রিয়া হঠাৎ থমকে যায়। সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পরপরই Federal Aviation Administration (FAA) কর্তৃপক্ষ এক ঘণ্টার জন্য ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে — অর্থাৎ Alaska Airlines-এর কোনও বিমান উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারেনি।
ঘটনাটি শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৩টার দিকে, যখন সংস্থার প্রধান ডেটা সার্ভারে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, এটি কোনও সাইবার হামলা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ব্যর্থতার কারণে পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। আইটি দল সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আংশিকভাবে পরিষেবা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, দেশজুড়ে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও আরও কয়েকশো ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন। বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের শান্ত থাকতে ও নিজেদের ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চেক করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এই ঘটনায় এয়ারলাইন ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি সতর্ক সংকেত — আধুনিক বিমান চলাচল পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ব্যাকআপ সিস্টেমের শক্তিশালী অবকাঠামো থাকা অপরিহার্য। এর আগেও, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে Alaska Airlines একই ধরনের একটি আইটি ত্রুটির মুখোমুখি হয়েছিল, যা তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন, সমস্ত সিস্টেম পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংস্থা তাদের আইটি নেটওয়ার্ক আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নিচ্ছে।
এই ঘটনার পর বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে এখনই তাদের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও রেসিলিয়েন্ট (resilient) করে তুলতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে এরকম বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
You said: