Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের মারাত্মক অভিযোগ শান্ত শহরকে অশান্ত করার চক্রান্তে সরব তৃণমূল কংগ্রেস

২৯শে এপ্রিল ২০২৬ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম পূর্ব বর্ধমান আজ বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মারাত্মক অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস শান্ত বর্ধমান শহরকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন  

বর্ধমান ২৯শে এপ্রিল ২০২৬

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে এবং এই হাই ভোল্টেজ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদিন নিত্যনতুন ঘটনার সাক্ষী থাকছে পূর্ব বর্ধমান জেলা চৈত্র এবং বৈশাখের এই ভয়াবহ দাবদাহ এবং তাপপ্রবাহকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার যখন তুঙ্গে ঠিক সেই মুহূর্তে আজ বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে গেল এক অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা যা সমগ্র শহরের শান্ত এবং স্বাভাবিক পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়াবহ আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে আজ সকালের দিকে বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের শিওরা এলাকায় টহলদারি করার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করা এবং সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধর করার অত্যন্ত মারাত্মক এবং গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর থেকে সমগ্র শিওরা এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এক চরম থমথমে এবং আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ভীতির সঞ্চার হয়েছে যে বর্ধমান শহর তার শান্ত এবং সংস্কৃতিবান পরিবেশের জন্য সমগ্র রাজ্যে পরিচিত সেই শহরকে নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে

ঘটনার সূত্রপাত আজ সকালবেলা যখন বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের শিওরা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মী এবং সমর্থকরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বসে প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করার পরিকল্পনা করছিলেন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে সেই সময় হঠাৎ করেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এলাকায় রুটমার্চ বা টহলদারি করতে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় দল সেখানে এসে উপস্থিত হয় অভিযোগ যে কোনো রকম প্ররোচনা বা কারণ ছাড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের জমায়েত হঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা যখন তাদের জানান যে তারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দলীয় কাজ করছেন এবং কোনো রকম আইন অমান্য করছেন না তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অভিযোগ যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এরপর কোনো কথা না শুনেই আচমকা তৃণমূল কর্মীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে শুরু করেন এবং তাদের বেধড়ক মারধর করেন এই আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত আক্রমণে সেখানে উপস্থিত কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় প্রাণভয়ে মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করেন এবং অনেকেই মাটিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন

তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং আহত কর্মীদের দাবি যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গুলিহেলনে কেন্দ্রীয় বাহিনী আজ বর্ধমান শহরের এই শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ ভোটাররা ভয় পেয়ে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে না যান ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন বর্ধমান শহর চিরকালই একটি শান্ত এবং সম্প্রীতির শহর আমাদের এই শিওরা এলাকায় কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক হিংসা বা মারামারির ঘটনা ঘটেনি আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে আমাদের দলের প্রচার করছিলাম কিন্তু আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী যেভাবে আমাদের নিরস্ত্র কর্মীদের ওপর লাঠি চালাল তা এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার শামিল তারা আমাদের কর্মীদের গালাগালি করেছে এবং মহিলাদেরও ভয় দেখিয়েছে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দোষী জওয়ানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ধিক্কার মিছিল বের করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় আধিকারিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

এই অভাবনীয় এবং মর্মান্তিক ঘটনার প্রভাব কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং ১২ নম্বর ওয়ার্ড এবং শিওরা এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মনে এক গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে সকালবেলা যখন এই লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে তখন এলাকার রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের যথেষ্ট ভিড় ছিল অনেক মহিলা বাজারে বেরিয়েছিলেন এবং ছাত্রছাত্রীরা প্রাইভেট টিউশন পড়তে যাচ্ছিল হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে আসতে দেখে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে নিজেদের বাড়িঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে দেন এলাকার দোকানপাট এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের শাটার নামিয়ে বন্ধ হয়ে যায় এক আতঙ্কের নিস্তব্ধতা গ্রাস করে পুরো শিওরা এলাকাকে স্থানীয় এক গৃহবধূ যিনি সেই সময় রাস্তায় ছিলেন তিনি অত্যন্ত ভয়ার্ত কণ্ঠে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান আমি সকালে বাজার করতে বেরিয়েছিলাম হঠাৎ দেখি পুলিশ আর সেন্ট্রাল ফোর্স লাঠি নিয়ে তেড়ে আসছে মানুষজন চিৎকার করে ছুটছে আমি কোনোমতে একটা গলির ভেতরে ঢুকে নিজের প্রাণ বাঁচাই আমাদের এই পাড়ায় কোনো দিন এমন ঘটনা ঘটেনি ভোটের সময় পুলিশ আসে ঠিকই কিন্তু এমন বিনা কারণে মানুষকে মারধর করতে আমরা কখনো দেখিনি এই ঘটনার পর থেকে আমরা রীতিমতো ভয়ে আছি যে ভোটের দিন না জানি কী হবে প্রশাসন যদি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে না পারে তবে আমরা ভোট দিতে যাব কী করে

কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ রাজ্যে এই প্রথম নয় বিগত কয়েকটি নির্বাচন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের শাসক দল বারবার অভিযোগ করে আসছে যে কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হাতিয়ার করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তার বিভিন্ন জনসভা থেকে একাধিকবার সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্ররোচনায় পা না দেওয়ার এবং তাদের অত্যাচার রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ যে বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক ময়দানে তাদের সাথে পেরে না উঠে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভয় দেখিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করছে বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি সেই বৃহত্তর চক্রান্তেরই একটি অংশ বলে তারা মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলছেন যে তারা যেন কোনোভাবেই ভয় না পান কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মী সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত তারা নির্বাচন কমিশনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিজেদের এক্তিয়ার ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করে তবে এলাকার মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই তার যোগ্য জবাব দেবে এবং ইভিএম মেশিনে তার প্রতিফলন দেখা যাবে

news image
আরও খবর

অন্যদিকে এই সমগ্র ঘটনার এক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বাস্তব চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে উঠে এসেছে ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে আজ সকালে যখন শিওরা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করছিল তখন এলাকার কিছু অত্যন্ত সাহসী এবং তথ্যপ্রযুক্তি সচেতন তরুণ নিজেদের স্মার্টফোনের ক্যামেরা অন করে পুরো ঘটনার লাইভ ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে এই পুলিশি বর্বরতার ছবি তুলে ধরেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তা লেন্সপিডিয়া এর মতো স্থানীয় ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম এবং ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোতে আপলোড করে দেন আপনারা যারা এই প্রতিবেদন পড়ছেন তারা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছেন যেখানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে তাড়া করছেন এবং এলাকার মানুষ প্রাণভয়ে ছুটছেন এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই সমগ্র রাজ্য জুড়ে এক বিশাল আলোড়ন এবং সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে নেটিজেনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছেন আধুনিক ডিজিটাল যুগে যে কোনো অন্যায় বা অত্যাচারকে আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয় বর্ধমানের এই তরুণদের করা এই ভিডিও সাংবাদিকতা তারই এক অত্যন্ত জ্বলন্ত এবং সফল প্রমাণ

তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বর্তমান নির্বাচনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক অনেক তরুণ যারা আগে মনে করতেন রাজনীতি কেবল বয়স্কদের বিষয় তারা আজ নিজেদের স্মার্টফোনকে হাতিয়ার করে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন এই তরুণরা লেন্সপিডিয়া পেজের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন এবং এলাকার আসল পরিস্থিতি সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা বা গেম খেলার পাশাপাশি সমাজ সচেতনতামূলক কাজেও এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি এই ঘটনার ভিডিও যারা করেছেন সেই তরুণরা অনেকেই আধুনিক কর্পোরেট সংস্থায় রিমোট ওয়ার্ক করেন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে তাদের অত্যন্ত গভীর জ্ঞান রয়েছে তারা এই ভিডিওটিকে অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন লোকাল এবং ন্যাশনাল নিউজ গ্রুপে শেয়ার করেছেন যার ফলে ঘটনাটি এখন আর কেবল বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি এখন জাতীয় স্তরের একটি চর্চিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে তরুণদের এই স্বাধীন এবং নির্ভীক সাংবাদিকতা প্রমাণ করে যে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আসল শক্তি সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোতেই রয়েছে এবং আগামী দিনেও তারা এভাবেই যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালো করবেন

এই রাজনৈতিক সংঘাত এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের ফলে ১২ নম্বর ওয়ার্ড এবং শিওরা এলাকার স্থানীয় অর্থনীতি এবং ছোট ব্যবসায়ীদের এক বিশাল এবং অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বর্ধমান শহর এমনিতেই একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং বাণিজ্যিক শহর শিওরা এলাকাতেও প্রচুর ছোট ছোট মুদির দোকান চায়ের দোকান সবজির বাজার এবং অন্যান্য খুচরো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রতিদিন সকালবেলা এই দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকে এবং এর ওপর নির্ভর করেই এই ছোট ব্যবসায়ীদের সংসারের অন্ন সংস্থান হয় কিন্তু আজ সকালের এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে এলাকার সমস্ত দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় আতঙ্কের কারণে সারাদিন কোনো মানুষ বাড়ি থেকে বেরোননি যার ফলে এই ব্যবসায়ীদের আজকের দিনের উপার্জন সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেছে এক চায়ের দোকানদার अत्यंत আক্ষেপের সাথে জানালেন আমরা সাধারণ গরিব মানুষ রোজগার না করলে আমাদের হাঁড়ি চড়ে না ভোট এলে নেতারা অনেক প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু এই যে আজ আমাদের দোকান বন্ধ থাকল আমাদের লোকসান হলো এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে ভোটের নামে যদি আমাদের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যায় তবে এমন ভোট আমরা চাই না এই ছোট ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং হতাশ তারা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর লড়াই যেন সাধারণ মানুষের পেটে লাথি না মারে এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনা হয়

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এলাকায় মোতায়েন করা হয় মূলত সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জোগানোর জন্য এবং এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রুটমার্চ বা এরিয়া ডমিনেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে এলাকার কোনো দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধী সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে না পারে কিন্তু বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের সেই মূল উদ্দেশ্যের ঠিক বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে যখন রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন সাধারণ মানুষ কার কাছে গিয়ে বিচার চাইবে এই প্রশ্ন আজ সমগ্র শিওরা এলাকার মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় পর্যবেক্ষক এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই ঘটনার পর এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন তারা জানিয়েছেন যে পুরো ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং যদি কোনো জওয়ান বা আধিকারিক দোষী সাব্যস্ত হন তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তবে সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্কের বীজ আজ রোপিত হলো তা মুছে ফেলা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে

বর্ধমানের এই ঘটনাটি আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের জন্যও এক গভীর সতর্কবার্তা বহন করে আনছে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত এবং উত্তেজনার পারদ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন পুলিশ প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সকলকে অত্যন্ত সংযত এবং নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে গণতন্ত্রের এই বিশাল উৎসবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানুষ যদি ভয় পেয়ে ভোটকেন্দ্রে না যান তবে সেই নির্বাচনের কোনো মূল্য থাকে না তাই সব পক্ষের উচিত এমন কোনো কাজ না করা যা মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে বর্ধমান শহর তার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত এখানকার মানুষ শান্তি ভালোবাসেন এবং তারা হিংসার রাজনীতিকে কখনোই সমর্থন করেন না আমরা আশা করব প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি দেবে এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ড সহ সমগ্র বর্ধমান শহরে আবার সেই আগের শান্ত এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে আগামী নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষ যাতে অত্যন্ত নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার জন্য প্রশাসনকে সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই ঘটনার সম্পূর্ণ লাইভ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন

Preview image