৬ই মে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল জয়লাভের পর আজ পূর্ব বর্ধমান শহরে যখন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা জয় শ্রীরাম স্লোগান এবং আবির খেলায় মেতে উঠেছেন ঠিক সেই সময় বর্ধমান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সামনের দোকানগুলোতে একদল দুষ্কৃতী ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এই অপ্রত্যাশিত এবং মর্মান্তিক তাণ্ডবের জেরে গরিব ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উৎসবের আবহে শহরে এক ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে
বর্ধমান ৬ই মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং যুগান্তকারী পালাবদলের সাক্ষী হওয়ার ঠিক পরের দিনই পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর শহর বর্ধমানের বুকে ঘটে গেল এক অত্যন্ত অনভিপ্রেত মর্মান্তিক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা যা সমগ্র শহরের শান্ত এবং সংস্কৃতিবান পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়াবহ আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ পনেরো বছরের শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে এই ঐতিহাসিক জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই সমগ্র রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে এক বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে আজ সকাল থেকেই বর্ধমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির স্থানীয় কর্মী সমর্থক এবং নেতারা রাস্তায় নেমে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন শহরের কার্জন গেট বীরহাটা তিনকোনিয়া থেকে শুরু করে জিটি রোডের বিস্তীর্ণ এলাকা গেরুয়া পতাকায় ঢেকে যায় হাজার হাজার মানুষ একে অপরকে গেরুয়া আবির মাখিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে এবং ঢাক ঢোল বাজিয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগানে কিন্তু এই অনাবিল আনন্দ এবং গণতান্ত্রিক উৎসবের আবহের মাঝেই বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় এমন এক ভয়ানক এবং ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটে গেল যা এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দকে কালিমালিপ্ত করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ভীতির সঞ্চার করেছে
বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশন হলো সমগ্র পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি জংশন প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের রুজি রুটির সন্ধানে পড়াশোনার জন্য বা চিকিৎসার কারণে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বাইরে এবং স্টেশন রোডের দুই ধারে প্রচুর ছোট ছোট দোকানপাট রয়েছে এই দোকানগুলোতে মূলত চা বিস্কুট ফাস্ট ফুড খবরের কাগজ ফলের রস এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হয় এই ছোট দোকানদার এবং হকাররা অত্যন্ত গরিব এবং তারা প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের সংসার চালান আজ সকালের দিকে যখন শহরের অন্যান্য প্রান্তে বিজয় মিছিল চলছিল তখন বর্ধমান স্টেশনের সামনের এই এলাকাটি মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিল সাধারণ যাত্রীরা নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন এবং দোকানদাররা নিজেদের দৈনন্দিন বেচাকেনায় ব্যস্ত ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী বেলা এগারোটা নাগাদ স্টেশনের দিক থেকে একটি বিশাল বিজয় মিছিল জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে দিতে প্ল্যাটফর্মের সামনের রাস্তায় এসে পৌঁছায় মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিশাল বিশাল দলীয় পতাকা এবং তাদের সারা শরীর গেরুয়া আবিরে রাঙানো ছিল মিছিলটি যখন স্টেশনের সামনের রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছিল তখন হঠাৎ করেই মিছিলের পেছন দিক থেকে বেশ কিছু মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী আচমকা রাস্তার ধারের এই গরিব দোকানদারদের ওপর হামলা চালায়
এই আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত আক্রমণে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় দুষ্কৃতীদের হাতে ছিল বাঁশ লাঠি এবং লোহার রড তারা কোনো রকম প্ররোচনা বা কারণ ছাড়াই একের পর এক দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালাতে শুরু করে চায়ের দোকানের কাঁচের বয়াম ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় ফাস্ট ফুডের দোকানের সাজিয়ে রাখা খাবার এবং কাঁচামাল রাস্তায় ফেলে পায়ের তলায় পিষে দেওয়া হয় ফলের দোকানগুলোর ফলের ঝুড়ি উল্টে দিয়ে সমস্ত ফল নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় এই তাণ্ডবের সময় দুষ্কৃতীরা ক্রমাগত অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছিল গরিব দোকানদাররা নিজেদের চোখের সামনে নিজেদের রুটিরুজি এবং বহু কষ্টের জমানো পুঁজি এইভাবে ধ্বংস হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে দোকান ছেড়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ভেতরে বা আশেপাশের গলিতে ছুটে পালিয়ে যান কয়েকজন ব্যবসায়ী যখন নিজেদের দোকান বাঁচানোর জন্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তখন তাদেরও অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে চোখের পলকে স্টেশনের সামনের ব্যস্ত রাস্তা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চারদিকে কেবল ভাঙা কাঁচ নষ্ট হওয়া খাবার এবং গরিব মানুষের হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক পালাবদলের আনন্দ যখন কিছু সমাজবিরোধী এবং দুষ্কৃতীর হাতে পড়ে তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ভয়ংকর এবং ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে
এই অভাবনীয় তাণ্ডবের খবর পেয়ে যখন বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় তখন দুষ্কৃতীরা ততক্ষণে নিজেদের কাজ হাসিল করে ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে পালিয়ে গেছে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্টেশনের সামনের রাস্তায় যানজট পরিষ্কার করে কিন্তু পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এবং ব্যবসায়ীদের মনে এক বিশাল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন যখন শহরে এত বড় একটি রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে এবং চারদিকে বিজয় মিছিল বেরোচ্ছে তখন কেন স্টেশনের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় আগে থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি যদি পুলিশের টহলদারি থাকত তবে হয়তো এই গরিব মানুষগুলোর দোকান এইভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেত না স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা আরও দাবি করেছেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর এই হিংসার কারণে গরিব মানুষের যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হলো তার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রদান করতে হবে কারণ এই ক্ষতিপূরণ না পেলে অনেক ব্যবসায়ীর পক্ষেই আর নতুন করে দোকান চালু করা এবং সংসার চালানো সম্ভব হবে না
এই ভাঙচুর এবং তাণ্ডবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে এক তীব্র চাপানউতোর এবং দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করা হয়েছে তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই তাদের আসল রূপ দেখাতে শুরু করেছে এবং বাংলার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাস চালাচ্ছে তারা বলেন বিজেপির এই বিজয় মিছিল থেকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা হয়েছে যা প্রমাণ করে যে এরা সাধারণ মানুষের বন্ধু নয় এরা কেবল ক্ষমতা দখল করে লুঠতরাজ চালাতে চায় অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি যে এই ভাঙচুরের সাথে তাদের দলের কোনো কর্মী বা সমর্থক যুক্ত নয় তাদের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের হার মেনে নিতে না পেরে এবং বিজেপির ঐতিহাসিক জয়কে কালিমালিপ্ত করার জন্য নিজেদের গুন্ডা বাহিনীকে বিজেপির মিছিলে ঢুকিয়ে দিয়ে এই তাণ্ডব চালিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের চোখে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয় বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলে আসল সত্য মানুষের সামনে চলে আসবে
রাজনৈতিক দলগুলোর এই কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবং অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মাঝে আসল চরম মূল্য চোকাচ্ছেন সেই গরিব দিনমজুর এবং হকাররা যাদের রাজনীতির সাথে কোনো প্রত্যক্ষ যোগ নেই এক বয়স্ক চায়ের দোকানদার কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের বলেন আমি গত কুড়ি বছর ধরে এই স্টেশনের সামনে চা বিক্রি করে সংসার চালাই আমার কোনো দলের সাথে কোনো শত্রুতা নেই আজ যারা আমার দোকানের কেটলি এবং চেয়ার টেবিল ভেঙে দিল তারা কি জানে কাল আমার পরিবারের হাঁড়ি কীভাবে চড়বে নেতারা তো বড় বড় কথা বলে চলে যাবেন কিন্তু আমাদের এই ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে এই প্রশ্ন আজ সমগ্র বর্ধমান শহরের সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে গণতন্ত্রের আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর যদি এইভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ নেমে আসে তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে গিয়ে বিচার চাইবে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা বা পোস্ট পোল ভায়োলেন্স এক অত্যন্ত কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং এইবারের নির্বাচনের পরও যে সেই একই রীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং হতাশাজনক
আজকের এই ডিজিটাল যুগে কোনো ঘটনাই আর চাপা থাকে না এবং বর্ধমান স্টেশনের সামনের এই তাণ্ডবের দৃশ্যও স্থানীয় তরুণ এবং সাধারণ যাত্রীদের স্মার্টফোনের ক্যামেরায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে গেছে মুহূর্তের মধ্যে সেই ভাঙচুরের ভিডিওগুলো লেন্সপিডিয়া এর মতো স্থানীয় ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম এবং ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন অনেকেই লিখেছেন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন গরিব মানুষের পেটে লাথি মারার অধিকার কারও নেই জয় শ্রীরাম স্লোগান হলো ভক্তি এবং শান্তির প্রতীক তাকে এইভাবে ভাঙচুর এবং সন্ত্রাসের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হিন্দু ধর্মেরও চরম অপমান তরুণ প্রজন্ম যারা এই নির্বাচনের পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল তারা এই ঘটনায় অত্যন্ত হতাশ তারা চাইছেন নতুন সরকার যেন ক্ষমতায় এসেই সবার আগে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করে এবং দলবাজি ও হিংসার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে ডিজিটাল মিডিয়ার এই লাইভ কভারেজ এবং ভাইরাল ভিডিওগুলো পুলিশ প্রশাসনের ওপর এক বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে
এই ঘটনা আমাদের সমাজের এক অত্যন্ত গভীর এবং চিন্তাজনক দিকের প্রতি আলোকপাত করে রাজনৈতিক বিজয় মানেই যে বিরোধী বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করার লাইসেন্স পাওয়া নয় এই সাধারণ সত্যটি আমাদের সমাজের কিছু মানুষের মন থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে যখন কোনো দল নির্বাচনে জেতে তখন তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায় তাদের উচিত সমাজের সব স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে চলা এবং অহংকার ত্যাগ করে মানুষের সেবা করা কিন্তু বিজয়ের উন্মাদনায় যখন মানুষ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে তখন তার পরিণতি এই রকম ধ্বংসাত্মক হয় নতুন সরকারকে অবশ্যই এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিতে হবে যে তাদের দলের নাম করে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করে তবে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে শান্তির জন্য শিল্পের জন্য এবং কর্মসংস্থানের জন্য তারা এক গুন্ডার বদলে অন্য গুন্ডাকে ক্ষমতায় বসাতে চায়নি তাই নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং তাদের প্রথম পরীক্ষাই হলো এই নির্বাচন পরবর্তী হিংসা কঠোর হাতে দমন করা
বর্ধমানের মতো একটি শান্ত এবং সংস্কৃতিকেন্দ্রিক শহরে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছে শহরের মেয়েরা এবং মহিলারা যারা প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন তারা আজ এই তাণ্ডবের পর থেকে অত্যন্ত ভীত এবং সন্ত্রস্ত অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন কাজ বাতিল করে বাড়িতে ফিরে গেছেন শহরের স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা যারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে তাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন প্রশাসন যদি দ্রুত এই আতঙ্কের পরিবেশ দূর করতে না পারে তবে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে স্টেশনের আশেপাশের এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে যতক্ষণ না তারা প্রশাসনের তরফ থেকে নিরাপত্তার সম্পূর্ণ আশ্বাস পাচ্ছেন এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ততক্ষণ তারা নিজেদের দোকান খুলবেন না এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে
আমরা আশা করব বর্ধমান জেলা পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে কোনো রকম রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করে আসল দোষীদের অবিলম্বে শ্রীঘরে পাঠাতে হবে এবং গরিব ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও তাদের স্থানীয় কর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিতে হবে যাতে বিজয়ের আনন্দ কোনোভাবেই অহংকার এবং হিংসায় পরিণত না হয় গণতন্ত্রের এই উৎসবে সাধারণ মানুষের জীবন এবং সম্পত্তির সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে বর্ধমান শহর আবার তার পুরনো শান্ত ছন্দে ফিরে আসুক এবং গরিব মানুষগুলো আবার নিজেদের রুটিরুজির সন্ধানে নিশ্চিন্তে কাজে যোগ দিক এটাই আজ আমাদের সকলের একান্ত কাম্য বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই ঘটনার ভাইরাল ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন